Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:15

[1] আমি চিরকাল সদাপ্রভুর মহান প্রেমের গান করব; আমার মুখ দিয়ে আমি তোমার বিশ্বস্ততার কথা সকল বংশের কাছে প্রকাশ করব।

[2] আমি ঘোষণা করব যে তোমার প্রেম চিরকাল সুদৃঢ়, তোমার বিশ্বস্ততা তুমি স্বর্গে প্রতিষ্ঠা করেছ।

[3] তুমি বলেছ, “আমি আমার মনোনীত ব্যক্তির সঙ্গে নিয়ম করেছি, আমার দাস দাউদের প্রতি আমি শপথ করেছি,

[4] ‘আমি তোমার বংশ চিরতরে স্থাপন করব এবং বংশের পর বংশ তোমার সিংহাসন সুদৃঢ় করব।’ ”

[5] হে সদাপ্রভু, আকাশমণ্ডল তোমার আশ্চর্য কাজের প্রশংসা করে, পবিত্রজনদের সমাবেশে তোমার বিশ্বস্ততার প্রশংসা করে।

[6] কারণ, হে সদাপ্রভু, আকাশের কার সঙ্গে তোমার তুলনা হয়? স্বর্গীয় সকল স্বত্বার মধ্যে কে সদাপ্রভুর তুল্য?

[7] পবিত্রজনদের পরিষদে সকলে তাঁকে সম্ভ্রম করে; যারা তাঁকে চারিদিকে ঘিরে রেখেছে তিনি তাদের থেকেও ভয়াবহ।

[8] হে সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, কে তোমার তুল্য? তুমি, হে সদাপ্রভু, শক্তিশালী, তোমার বিশ্বস্ততা তোমাকে ঘিরে রেখেছে।

[9] তুমি উত্তাল সমুদ্রের উপর শাসন করো; যখন তার ঢেউ উঁচুতে ওঠে, তুমি তাদের শান্ত করে থাকো।

[10] তুমি রাহবকে চূর্ণ করে এক হত ব্যক্তির সমান করলে; তোমার শক্তিশালী বাহু দিয়ে তুমি তোমার শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করলে।

[11] আকাশমণ্ডল তোমার, এই জগৎও তোমার; পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সমস্ত তোমারই সৃষ্টি।

[12] তুমি উত্তর ও দক্ষিণ সৃষ্টি করেছ; তাবোর ও হর্মোণ তোমার নামে আনন্দগান করে।

[13] তোমার বাহু পরাক্রমে পূর্ণ; তোমার হাত বলবান, তোমার ডান হাত মহিমান্বিত।

[14] ধার্মিকতা আর ন্যায় তোমার সিংহাসনের ভিত্তি; প্রেম আর বিশ্বস্ততা তোমার সম্মুখে যায়।

[15] ধন্য তারা যারা তোমার জয়ধ্বনি করতে শিখেছে, যারা তোমার সান্নিধ্যের আলোতে চলাফেরা করে, হে সদাপ্রভু।

[16] সারাদিন তারা তোমার নামে আনন্দ করে; তোমার ধর্মশীলতায় উল্লাস করে।

[17] কারণ তুমি তাদের মহিমা আর শক্তি, আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাদের শিং বলশালী করেছ।

[18] প্রকৃতপক্ষে, আমাদের সুরক্ষা সদাপ্রভু থেকে আসে, এবং তিনি, ইস্রায়েলের পবিত্রতম, আমাদেরকে রাজা দিয়েছেন।

[19] একবার তুমি দর্শনে কথা বলেছিলে, তোমার ভক্তজনদের প্রতি তুমি বলেছিলে: “আমি এক যোদ্ধাকে শক্তি দিয়েছি; মানুষের মধ্যে থেকে আমি এক যুবককে রাজা হিসেবে মনোনীত করেছি।

[20] আমার দাস দাউদকে আমি খুঁজে পেয়েছি; আমার পবিত্র তেল দিয়ে আমি তাকে অভিষিক্ত করেছি।

[21] আমার হাত তার প্রাণ বাঁচিয়ে রাখবে; নিশ্চয় আমার বাহু তাকে শক্তি দেবে।

[22] তার শত্রুরা তাকে পরাজিত করবে না; দুষ্ট তাকে নির্যাতন করবে না।

[23] তার সম্মুখে আমি তার বিপক্ষদের চূর্ণ করব আর তার প্রতিপক্ষদের আঘাত করব।

[24] আমার বিশ্বস্ত প্রেম তার সঙ্গে রইবে, আর আমার নামের মধ্য দিয়ে তার শিং গৌরবান্বিত হবে।

[25] সমুদ্রের উপরে আমি তার শাসন প্রসারিত করব, তার আধিপত্য নদীর উপরে।

[26] সে আমাকে ডেকে বলবে, ‘তুমি আমার পিতা, আমার ঈশ্বর, শৈল আমার উদ্ধারকর্তা।’

[27] এবং আমি তাকে প্রথমজাত রূপে মনোনীত করব, জগতের বুকে সবচেয়ে পরাক্রমী রাজা।

[28] আমি চিরদিন তাকে ভালোবাসবো আর তার প্রতি দয়া করব, এবং তার প্রতি আমার নিয়ম কোনোদিন ব্যর্থ হবে না।

[29] আমি তার বংশ চিরকাল স্থায়ী করব, যতদিন আকাশমণ্ডল থাকবে ততদিন তার সিংহাসন।

[30] “যদি তার সন্তানেরা আমার বিধিনিয়ম পরিত্যাগ করে আর আমার অনুশাসন পালন না করে,

[31] তারা যদি আমার আজ্ঞা লঙ্ঘন করে আর যদি আমার আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়,

[32] আমি দণ্ড দিয়ে তাদের পাপের শাস্তি দেবো, চাবুকের আঘাত তাদের অপরাধের জন্য;

[33] কিন্তু আমার প্রেম আমি তার কাছ থেকে সরিয়ে নেব না, এবং আমি আমার বিশ্বস্ততা কখনও ভঙ্গ করব না।

[34] আমি আমার নিয়ম লঙ্ঘন করব না অথবা আমার মুখ যা উচ্চারণ করেছে তা পরিবর্তন করব না।

[35] আমার পবিত্রতায় আমি একবারই শপথ করেছি— আর আমি দাউদকে মিথ্যা বলব না—

[36] যে তার বংশ চিরস্থায়ী হবে এবং তার সিংহাসন আমার সম্মুখে সূর্যের মতো স্থির রইবে

[37] আকাশে বিশ্বস্ত সাক্ষী চন্দ্রের মতো চিরকাল তা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

[38] কিন্তু তুমি তাকে পরিত্যাগ করেছ, তুমি তাকে দূর করেছ, তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি তুমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছ।

[39] তোমার দাসের সঙ্গে তোমার নিয়ম তুমি অস্বীকার করেছ এবং তার মুকুট তুমি ধুলোতে মিশিয়ে অপবিত্র করেছ।

[40] তার সুরক্ষার সব প্রাচীর তুমি ভেঙেছ এবং দুর্গ ধ্বংসে পরিণত করেছ।

[41] সকল পথিক তাকে লুট করেছে; সে তার প্রতিবেশীর অবজ্ঞার বস্তু হয়েছে।

[42] তুমি তার বিপক্ষদের শক্তিশালী করেছ; তুমি তার সকল শত্রুদের আনন্দিত করেছ।

[43] বস্তুত, তুমি তার তরোয়ালের ধার নষ্ট করেছ আর যুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছ।

[44] তুমি তার প্রভা শেষ করেছ এবং তার সিংহাসন মাটিতে নিক্ষেপ করেছ।

[45] তুমি তার যৌবনকাল সংক্ষিপ্ত করেছ; তুমি তাকে লজ্জার আচ্ছাদনে আবৃত করেছ।

[46] হে সদাপ্রভু, কত কাল? তুমি কি চিরকাল নিজেকে লুকিয়ে রাখবে? কত কাল তোমার ক্রোধ আগুনের মতো জ্বলবে?

[47] মনে রেখো আমার জীবন কত স্বল্পস্থায়ী। কত শূন্য ও ব্যর্থ এই মনুষ্যজীবন!

[48] কে জীবিত থাকবে অথচ মৃত্যু দেখবে না, অথবা কে পাতালের কবল থেকে পালাতে পারে?

[49] হে প্রভু, তোমার পূর্বকালীন মহান প্রেম কোথায়? তুমি বিশ্বস্ততায় দাউদের প্রতি তা শপথ করেছিলে।

[50] মনে রেখো, প্রভু, কীভাবে তোমার দাস অবজ্ঞার পাত্র হয়েছে, কীভাবে আমি সকল জাতির উপহাস নিজের হৃদয়ে সহ্য করি,

[51] হে সদাপ্রভু, যে সকল উপহাস নিয়ে তোমার শত্রুরা আমাকে বিদ্রুপ করেছে, সেইসব দিয়ে তারা তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রত্যেক পদক্ষেপ বিদ্রুপ করেছে।

[52] চিরকাল সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক! আমেন, আমেন।

গীত — Chapters