[1] আমি ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করলাম; আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি কর্ণপাত করেন।
[2] যখন আমি দুর্দশায় ছিলাম, আমি প্রভুর খোঁজ করলাম; আমার হাত স্বর্গের দিকে তুলে আমি সারারাত প্রার্থনা করলাম, আর আমার প্রাণ স্বস্তি পেল না।
[3] আমি তোমাকে স্মরণ করলাম, হে ঈশ্বর, আর আমি আর্তনাদ করলাম; আমি ধ্যান করলাম আর আমার আত্মা ক্রমশ ক্ষীণ হল।
[4] তুমি আমার চোখ বন্ধ হতে দিলে না; আমি এতটাই বেদনায় ছিলাম যে প্রার্থনা করতে পারলাম না।
[5] আমি পূর্ববর্তী দিনের কথা চিন্তা করলাম, বহু বছর পূর্বের কথা;
[6] রাত্রিকালে আমার গান আমার মনে এলো। আমার হৃদয় ধ্যান করল আর আমার আত্মা প্রশ্ন করল:
[7] “প্রভু কি চিরকালের জন্য পরিত্যাগ করবেন? তিনি কি তাঁর অনুগ্রহ আর দেখাবেন না?
[8] তাঁর অবিচল প্রেম কি চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়েছে? সর্বকালের জন্য কি তাঁর প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে?
[9] ঈশ্বর কি দয়াশীল হতে ভুলে গেছেন? রাগে কি তিনি তাঁর করুণা দূরে রেখেছেন?”
[10] তখন আমি ভাবলাম, “এই আমার পরিণতি; পরাৎপরের হাত আমার বিরুদ্ধে গিয়েছে।
[11] আমি সদাপ্রভুর ক্রিয়াসকল স্মরণ করব; হ্যাঁ! আমি তোমার পূর্বকালের আশ্চর্য কাজসকল মনে করব।
[12] আমি তোমার সমস্ত কাজ বিবেচনা করব আর তোমার পরাক্রমের সব কার্যাবলীতে ধ্যান করব।”
[13] হে ঈশ্বর, তোমার সকল পথ পবিত্র। আমাদের ঈশ্বরের মতো কোনও দেবতা এত মহান?
[14] তুমি সেই ঈশ্বর যিনি আশ্চর্য কাজ করেন; লোকেদের মাঝে তুমি তোমার শক্তিপ্রদর্শন করে থাকো।
[15] তোমার পরাক্রমের বাহু দিয়ে তুমি তোমার লোকেদের, যাকোব এবং যোষেফের বংশধরদের মুক্ত করেছ।
[16] জলধি তোমাকে দেখল, হে ঈশ্বর, জলধি তোমাকে দেখল আর কুঁকড়ে গেল; মহা অতল কম্পিত হল।
[17] মেঘ বৃষ্টি নিয়ে এলো, আকাশমণ্ডল বজ্রধ্বনি প্রতিধ্বনিত করল; তোমার বিদ্যুতের তির এদিক ওদিক চমকে উঠল।
[18] ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে তোমার বজ্রধ্বনি শোনা গেল, তোমার বিদ্যুৎ পৃথিবী আলোকিত করল; জগৎ কম্পিত হল আর টলমল করে উঠল।
[19] সমুদ্রের মধ্যে তোমার পথ ছিল, মহাজলরাশির মধ্যে তোমার গতিপথ ছিল, যদিও তোমার পায়ের ছাপ দেখা গেল না।
[20] মোশি আর হারোণের হাতের দ্বারা তুমি তোমার লোকেদের মেষপালের মতো পরিচালিত করেছ।