[1] হে লোকসকল, তোমরা শোনো; সকল পৃথিবীবাসীগণ, কর্ণপাত করো,
[2] উচ্চ এবং নিচু, ধনী এবং দরিদ্র, শোনো:
[3] আমার মুখ প্রজ্ঞার কথা বলবে; আমার হৃদয়ের ধ্যান তোমাকে বোধশক্তি দেবে।
[4] আমি নীতিবাক্যের প্রতি কর্ণপাত করব; বীণা সহযোগে আমি আমার ধাঁধা ব্যাখ্যা করব:
[5] যখন অমঙ্গলের দিন আসে তখন আমি কেন ভীত হব, যখন দুষ্ট ছলনাকারী আমাকে ঘিরে ধরে?
[6] তারা তাদের সম্পত্তিতে আস্থা রাখে আর নিজেদের মহা ঐশ্বর্যে গর্ব করে।
[7] কেউ অপরের জীবন মুক্ত করতে পারে না অথবা তাদের জন্য ঈশ্বরকে মুক্তিপণ দিতে পারে না।
[8] জীবনের মুক্তিপণ বহুমূল্য; চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য
[9] এবং মৃত্যু না দেখার জন্য কেউ যথেষ্ট পারিশ্রমিক দিতে পারে না।
[10] কারণ সকলে দেখে যে জ্ঞানীর মৃত্যু হয়, অচেতন ও মূর্খও বিনষ্ট হয়, তাদের সম্পত্তি অপরের জন্য রেখে যায়।
[11] যদিও তাদের ভূসম্পতি তাদেরই নামে ছিল, তাদের সমাধিই তাদের অনন্ত গৃহ, যেখানে তারা চিরকালের জন্য বাস করবে।
[12] মানুষ, তাদের ধনসম্পত্তি সত্বেও, স্থায়ী হয় না; তারা পশুর মতো বিনষ্ট হয়।
[13] যারা নিজেদের উপর আস্থা রাখে তাদের এই পরিণাম হয়, এবং তাদেরও হয়, যারা তাদের অনুগামী এবং তাদের কথা সমর্থন করে।
[14] তারা মেষের মতো মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত; মৃত্যু তাদের পালক হবে কিন্তু সকালে ন্যায়পরায়ণ তাদের উপর কর্তৃত্ব করবে। আপন রাজকীয় অট্টালিকা থেকে দূরে তাদের দেহ সমাধির মধ্যে ক্ষয় হবে।
[15] কিন্তু ঈশ্বর আমাকে পাতালের গর্ভ থেকে মুক্ত করবেন; আমাকে তিনি নিশ্চয় তাঁর কাছে নিয়ে যাবেন।
[16] যখন দুষ্টরা ধনের প্রাচুর্যে বৃদ্ধি পায় আর তাদের গৃহের শোভা বৃদ্ধি পায়, তখন শঙ্কিত হোয়ো না;
[17] কারণ যখন তাদের মৃত্যু হবে তারা তাদের সাথে কিছুই নিয়ে যাবে না, তাদের ঐশ্বর্য তাদের সঙ্গে সমাধি পর্যন্ত যাবে না।
[18] এই জীবনে তারা নিজেদের ধন্য মনে করে এবং তাদের সাফল্যে তারা অপরের প্রশংসা পায়।
[19] কিন্তু তাদের মৃত্যু হবে, যেমন তাদের পূর্বে সকলের হয়েছে, এবং আর কোনোদিন জীবনের আলো দেখবে না।
[20] যাদের ধনসম্পত্তি আছে কিন্তু বোধশক্তি নেই তারা পশুর মতো, যা বিনষ্ট হয়।