Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:21

[1] হে সদাপ্রভু, আমি তোমায় ভালোবাসি, তুমি আমার শক্তি।

[2] সদাপ্রভু আমার শৈল, আমার উচ্চদুর্গ, আমার উদ্ধারকর্তা; আমার ঈশ্বর আমার শৈল, আমি তাঁর শরণাগত, আমার ঢাল, আমার পরিত্রাণের শিং, আমার আশ্রয় দুর্গ।

[3] আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম, যিনি প্রশংসার যোগ্য, এবং আমি শত্রুদের হাত থেকে উদ্ধার পেয়েছি।

[4] মৃত্যুর বাঁধন আমাকে আবদ্ধ করেছিল; ধ্বংসের বন্যা আমাকে বিধ্বস্ত করেছিল।

[5] পাতালের বাঁধন আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল; মৃত্যুর ফাঁদ আমার মোকাবিলা করেছিল।

[6] আমার সঙ্কটে আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম; আমার ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য কেঁদে উঠলাম। তাঁর মন্দির থেকে তিনি আমার গলার স্বর শুনলেন, আমার আর্তনাদ তাঁর সম্মুখে এল, তাঁর কানে পৌঁছাল।

[7] তখন পৃথিবী টলে উঠল, কেঁপে উঠল, এবং পর্বতের ভিত কেঁপে উঠল; কেঁপে উঠল তাঁর ক্রোধের কারণে।

[8] তাঁর নাক থেকে ধোঁয়া উঠল; মুখ থেকে গ্রাসকারী আগুন বেরিয়ে এল, জ্বলন্ত কয়লা প্রজ্বলিত হল।

[9] তিনি আকাশমণ্ডল ভেদ করলেন ও নেমে এলেন; তাঁর পায়ের তলায় অন্ধকার মেঘ ছিল।

[10] করূবের পিঠে চড়ে তিনি উড়ে গেলেন; বাতাসের ডানায় তিনি উড়ে এলেন।

[11] তিনি অন্ধকারকে তাঁর আবরণ করলেন, তাঁর চারপাশের আচ্ছাদন করলেন; আকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘ চতুর্দিকে ঘিরে রাখল তাঁকে।

[12] তাঁর উপস্থিতির উজ্জ্বলতা থেকে মেঘের ঘনঘটা সরে গেল, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ নেমে এল।

[13] আকাশ থেকে সদাপ্রভু বজ্রনাদ করলেন; শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের মাঝে প্রতিধ্বনিত হল পরাৎপরের কণ্ঠস্বর।

[14] তিনি আপন তির ছুঁড়লেন ও শত্রুদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিলেন, বজ্রবিদ্যুতের সাথে তাদের ছত্রভঙ্গ করলেন।

[15] তোমার আদেশে, হে সদাপ্রভু, তোমার নাকের নিঃশ্বাসের বিস্ফোরণে, সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হল, আর পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হল।

[16] তিনি আকাশ থেকে হাত বাড়ালেন ও আমাকে ধারণ করলেন, গভীর জলরাশি থেকে আমাকে টেনে তুললেন।

[17] আমার শক্তিশালী শত্রুর কবল থেকে তিনি আমাকে রক্ষা করলেন, যারা আমাকে ঘৃণা করত তাদের হাত থেকে, আর তারা আমার জন্য অতীব শক্তিশালী ছিল।

[18] আমার বিপদের দিনে তারা আমার মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু সদাপ্রভু আমার সহায় ছিলেন।

[19] তিনি আমায় মুক্ত করে এক প্রশস্ত স্থানে আনলেন, তিনি আমায় উদ্ধার করলেন, কারণ তিনি আমাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।

[20] আমার ধার্মিকতা অনুযায়ী সদাপ্রভু আমায় ফল দিলেন, আমার হাতের পরিচ্ছন্নতা অনুযায়ী আমাকে পুরস্কৃত করলেন।

[21] কারণ আমি সদাপ্রভুর নির্দেশিত পথে চলেছি, আমার ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করার অপরাধী আমি নই।

[22] তাঁর সব বিধান আমার সম্মুখে রয়েছে, তাঁর আদেশ থেকে আমি কখনও দূরে সরে যাইনি।

[23] তাঁর সম্মুখে আমি নিজেকে নির্দোষ রেখেছি আর পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি।

[24] যা ন্যায়পরায়ণ তা পালন করার জন্য সদাপ্রভু আমায় পুরস্কার দিয়েছেন, এবং আমার নির্মল হাতের সততায় দিয়েছেন।

[25] যারা বিশ্বস্ত, তাদের প্রতি তুমি বিশ্বস্ত, যারা নির্দোষ, তাদের প্রতি তুমি সিদ্ধ।

[26] যারা শুদ্ধ, তাদের প্রতি তুমি শুদ্ধ, কিন্তু যারা কুটিল, তাদের প্রতি তুমি চতুরের আচরণ করো।

[27] তুমি নম্রকে উদ্ধার করে থাকো কিন্তু যাদের দৃষ্টি উদ্ধত তাদের তুমি নত করে থাকো।

[28] তুমি, হে সদাপ্রভু, আমার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখো; আমার ঈশ্বর আমার অন্ধকার আলো করে।

[29] তোমার সাহায্যে আমি বিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে পারি, আমার ঈশ্বর সহায় হলে আমি প্রাচীর অতিক্রম করতে পারি।

[30] ঈশ্বরের সকল পথ সিদ্ধ: সদাপ্রভুর বাক্য নিখুঁত; যারা তাতে শরণ নেয় তিনি তাদের ঢাল।

[31] কারণ সদাপ্রভু ছাড়া আর ঈশ্বর কে আছে? আমাদের ঈশ্বর ছাড়া আর শৈল কে আছে?

[32] ঈশ্বর আমায় শক্তি জোগান আর আমার পথ রাখেন সুরক্ষিত।

[33] তিনি আমার পা হরিণের চরণের মতো করেন; উঁচু স্থানে দাঁড়াতে আমাকে সক্ষম করেন।

[34] তিনি আমার হাত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত করেন; আমার বাহু পিতলের ধনুক বাঁকাতে পারে।

[35] তুমি আমাকে তোমার বিজয়ের ঢাল দিয়েছ, তোমার ডান হাত আমায় সহায়তা করে; তোমার সাহায্য আমায় করেছে যে মহান।

[36] তুমি আমার চলার পথ প্রশস্ত করেছ, যেন আমার পা পিছলে না যায়।

[37] আমি শত্রুদের পেছনে ধাওয়া করে তাদের ধরে ফেলেছি; তারা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছু হটিনি।

[38] আমি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করেছি, যেন তারা আর উঠে দাঁড়াতে না পারে; তারা আমার পায়ের তলায় পতিত হয়েছে।

[39] যুদ্ধের জন্য তুমি আমাকে শক্তি দিয়েছ; আমার সম্মুখে আমার বিপক্ষদের তুমি নত করেছ।

[40] তুমি আমার শত্রুদের পালাতে বাধ্য করেছ, আর আমি আমার শত্রুদের ধ্বংস করেছি।

[41] তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছে, কিন্তু কেউ তাদের রক্ষা করেনি, তারা সদাপ্রভুকে ডেকেছে কিন্তু তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেননি।

[42] বাতাসে ওড়া ধুলোর মতো আমি তাদের চূর্ণ করি; রাস্তার কাদার মতো আমি তাদের পদদলিত করি।

[43] তুমি আমাকে লোকেদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছ, তুমি আমাকে জাতিগণের প্রধান নিযুক্ত করেছ। আমার অজানা লোকেরাও এখন আমার সেবা করে।

[44] অইহুদিরা আমার সামনে মাথা নত হয়ে থাকে; যে মুহূর্তে তারা আমার আদেশ শোনে, তা পালন করে।

[45] তারা সবাই সাহস হারায়; কাঁপতে কাঁপতে তারা তাদের দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।

[46] সদাপ্রভু জীবিত! আমার শৈলের প্রশংসা হোক! ঈশ্বর, আমার পরিত্রাতার, গৌরব হোক!

[47] তিনিই সেই ঈশ্বর যিনি আমার হয়ে প্রতিশোধ নেন, তিনি জাতিগণকে আমার অধীনস্থ করেন,

[48] তিনি আমার শত্রুদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেন। তুমি আমাকে আমার বিপক্ষদের থেকে উঁচু করেছ; এক অত্যাচারীর কবল থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করেছ।

[49] তাই, হে সদাপ্রভু, আমি জাতিগণের মাঝে তোমার প্রশংসা করব; আমি তোমার নামের প্রশংসা-গান করব।

[50] তিনি তাঁর রাজাকে মহান বিজয় প্রদান করেন; তাঁর অভিষিক্ত দাউদ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি তিনি চিরকাল তাঁর অবিচল প্রেম প্রদর্শন করেন।

গীত — Chapters