Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:08

[1] সদাপ্রভুর উদ্দেশে ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।

[2] যারা মুক্ত হয়েছে তারা সদাপ্রভুর কথা বলুক— যাদের তিনি শত্রুদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন,

[3] পূর্ব ও পশ্চিম থেকে, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে, যাদের তিনি অন্যান্য দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন।

[4] তারা বাস করার জন্য নগরের সন্ধান না পেয়ে মরুপ্রান্তরের নির্জন পথে ঘুরে বেড়ালো।

[5] তারা ক্ষুধিত আর তৃষ্ণার্ত হয়েছিল, আর তাদের জীবন প্রায় শেষ হল।

[6] তখন কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, আর তিনি তাদের দুর্দশা থেকে উদ্ধার করলেন।

[7] সোজা পথে তিনি তাদের এক নগরীর উদ্দেশে এগিয়ে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা বসবাস করতে পারে।

[8] তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কার্যাবলীর জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।

[9] কেননা তিনি তৃষ্ণার্তকে তৃপ্ত করেন এবং ক্ষুধার্তকে উত্তম দ্রব্য দিয়ে পূর্ণ করেন।

[10] লোকেরা অন্ধকারে আর মৃত্যুছায়ায় বসেছিল, দুর্দশার লোহার শিকলে বন্দি ছিল,

[11] কারণ তারা ঈশ্বরের আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল আর পরাৎপরের পরিকল্পনা অবমাননা করেছিল।

[12] তাই তিনি তাদের তিক্ত পরিশ্রমের অধীন করেছিলেন; তাদের পতন হল, আর তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না।

[13] তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করেলেন।

[14] তিনি অন্ধকার ও মৃত্যুছায়া থেকে তাদের বের করলেন, এবং তাদের শিকল ভেঙে দিলেন।

[15] তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কার্যাবলীর জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক,

[16] কারণ তিনি পিতলের দরজা ভেঙে দেন এবং লোহার খিল দুভাগ করেন।

[17] কেউ কেউ তাদের বিদ্রোহী ব্যবহারে মূর্খ হয়ে উঠল আর তাদের অপরাধের কারণে কষ্টভোগ করল।

[18] তারা খাদ্যদ্রব্য ঘৃণা করল আর মৃত্যুর দরজা পর্যন্ত পৌঁছাল।

[19] তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করেলেন।

[20] তিনি তাঁর বাক্য পাঠিয়ে তাদের সুস্থ করলেন; তিনি মৃত্যুর কবল থেকে তাদের উদ্ধার করলেন।

[21] তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কার্যাবলীর জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।

[22] তারা ধন্যবাদের নৈবেদ্য উৎসর্গ করুক এবং আনন্দের গানে তাঁর ক্রিয়াকলাপ বলুক।

[23] কেউ কেউ জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা করল; তারা মহা জলধিতে ব্যবসা করল।

[24] তারা সদাপ্রভুর কার্যসকল দেখল, গভীর জলরাশিতে তাঁর আশ্চর্য কার্যসকল।

[25] তিনি কথা বললেন আর প্রচণ্ড ঝড় উঠল যা ঢেউ জাগিয়ে তুলল।

[26] যা আকাশমণ্ডল পর্যন্ত উঠল আর অতল পর্যন্ত নেমে এলো; বিপদে তাদের সাহস ক্ষয় হল।

[27] মাতালের মতো ঘুরপাক খেলো আর টলতে থাকল; তাদের বুদ্ধি বিলুপ্ত হল।

[28] তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করেলেন।

[29] তাঁর আদেশে ঝড় শান্ত হল; সমুদ্রের ঢেউ নিস্তব্ধ হল।

[30] যখন তা শান্ত হল তখন তারা আনন্দ করল, এবং তিনি তাদের আশ্রয়স্থল পর্যন্ত পথ দেখালেন।

[31] তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কার্যাবলীর জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।

[32] তারা লোকেদের সমাবেশে তাঁকে গৌরবান্বিত করুক এবং প্রবীণদের পরিষদে তাঁর প্রশংসা করুক।

[33] তিনি নদীকে মরুভূমিতে পরিণত করেন, প্রবাহমান নদীকে শুষ্ক-ভূমিতে,

[34] আর ফলবান দেশকে লবণ প্রান্তরে, সেখানকার নিবাসীদের দুষ্টতার কারণে।

[35] মরুভূমিকে তিনি জলাশয়ে আর শুকনো জমিকে জলপ্রবাহে পরিণত করেন;

[36] সেখানে তিনি ক্ষুধার্তদের বাস করার জন্য নিয়ে এলেন, এবং তারা এক নগর স্থাপন করল আর সেখানে তারা বসবাস করল।

[37] তারা মাঠে বীজবপন করল আর দ্রাক্ষাক্ষেত্র রোপণ করল যা প্রচুর ফসল উৎপন্ন করল;

[38] তিনি তাদের আশীর্বাদ করলেন আর তাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেল, আর তিনি তাদের পশুপাল কমতে দিলেন না।

[39] তারপর তাদের সংখ্যা হ্রাস পেল এবং নির্যাতন, বিপদ এবং দুঃখে তারা অবনত হল;

[40] যিনি বিশিষ্টদের উপরে অবজ্ঞা ঢেলে দেন তিনি তাদের দিশাহীন প্রান্তরে ভ্রমণ করালেন।

[41] কিন্তু তিনি অভাবীদের কষ্ট থেকে বের করলেন আর তাদের সকল পরিবারদের মেষপালের মতো বৃদ্ধি করলেন।

[42] যারা ন্যায়পরায়ণ তারা দেখে আর আনন্দ করে, কিন্তু সকল দুষ্ট তাদের মুখ বন্ধ করে।

[43] যে জ্ঞানী সে এই সবে মনোযোগ দেবে আর সদাপ্রভুর প্রেমময় কাজ বিবেচনা করবে।

গীত — Chapters