[1] হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। হে সদাপ্রভু আমার ঈশ্বর, তুমি কত মহান; তুমি প্রভা আর পরাক্রমে ভূষিত।
[2] তিনি আলোর পোশাকে সজ্জিত; তিনি আকাশমণ্ডল তাঁবুর মতো প্রসারিত করেন
[3] আর তিনি জলধিতে তাঁর উচ্চকক্ষের কড়িকাঠ স্থাপন করেন। তিনি মেঘরাশিকে তাঁর রথ করেন আর বায়ুর ডানায় চড়ে ভেসে চলেন।
[4] তিনি বায়ুপ্রবাহকে তাঁর দূত করেন, আগুনের শিখাকে নিজের দাস করেন।
[5] তিনি এই জগতকে ভিত্তিমূলের উপর স্থাপন করেন; তা কোনোদিন বিচলিত হবে না।
[6] আচ্ছাদনের মতো অতল জলধি দিয়ে তুমি এই জগৎ আবৃত করেছে; জলপ্রবাহ পর্বতগণের উপর দাঁড়াল।
[7] কিন্তু তোমার তিরস্কারে জলধি পালিয়ে গেল, তোমার গর্জনের শব্দে তা দ্রুত প্রস্থান করল;
[8] জলধি পর্বতগণের উপর দিয়ে প্রবাহিত হল, তা উপত্যকায় নেমে গেল, এবং তার নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত পৌঁছাল।
[9] তুমি জলধির সীমা স্থির করেছ যা তারা অতিক্রম করতে পারে না; আবার কখনও জলধি জগতকে আচ্ছন্ন করবে না।
[10] তুমি গিরিখাতে ঝরনাকে জল ঢালতে দিয়েছ; পর্বতসকলের মধ্য দিয়ে তা প্রবাহিত হয়।
[11] তারা মাঠের সব বন্যপশুকে জল দেয়; বুনো গাধারা নিজেদের তৃষ্ণা মেটায়।
[12] আকাশের পাখিরা জলপ্রবাহের ধারে বাসা বানায়; তারা ডালপালার মধ্যে গান করে।
[13] তাঁর উচ্চকক্ষ থেকে তিনি পর্বতসকলদের জল দেন; তাঁর কাজের ফলাফলে দেশ তৃপ্ত হয়।
[14] তিনি গবাদি পশুদের জন্য ঘাস, আর মানুষের চাষের জন্য চারাগাছ বৃদ্ধি করেন— জমি থেকে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন করেন:
[15] সুরা যা মানুষের হৃদয়কে উৎফুল্ল করে, তেল যা তাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে, এবং খাবার যা মানুষের জীবন বাঁচিয়ে রাখে।
[16] সদাপ্রভুর সকল গাছ পর্যাপ্ত যত্নে আছে, লেবাননের দেবদারুবন যা তিনি লাগিয়েছিলেন।
[17] সেখানে পাখিরা তাদের বাসা বানিয়েছে; সারস পাখি চিরসবুজ গাছে বাস করছে।
[18] উচ্চ পর্বতসকল বুনো ছাগলের; দুর্গম পাহাড় খরগোশের আশ্রয়।
[19] তিনি ঋতুর জন্য চাঁদ নির্মাণ করেছেন, আর সূর্য জানে কখন অস্ত যেতে হয়।
[20] তুমি অন্ধকার নিয়ে আসো, আর রাত্রি হয়, আর জঙ্গলের বন্যজন্তুরা গর্জন করে।
[21] সিংহরা তাদের শিকারের জন্য গর্জন করে আর ঈশ্বরের কাছ থেকে তাদের খাবার খোঁজে।
[22] সূর্য ওঠে, আর তারা লুকিয়ে পড়ে; তারা ফিরে আসে এবং নিজের গুহাতে শুয়ে পরে।
[23] তারপর মানুষ তাদের কাজের জন্য বাইরে যায় সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রমে রত থাকে।
[24] হে সদাপ্রভু, তোমার কাজ কত বিচিত্র! প্রজ্ঞায় তুমি তাদের সব তৈরি করেছ; জগৎ তোমার জীবজন্তুতে পূর্ণ।
[25] ঐ দেখো সুবিশাল, বিস্তীর্ণ জলধি, অগণিত কত প্রাণীতে পরিপূর্ণ— ক্ষুদ্র ও বৃহৎ বহু জীব।
[26] তার উপর দিয়ে জাহাজ যাতায়াত করে, আর সেখানে খেলার জন্য তুমি লিবিয়াথনদের সৃষ্টি করেছ।
[27] উপযুক্ত সময়ে তাদের খাবার পাওয়ার জন্য সকল জীবজন্তু তোমার দিকে চেয়ে থাকে।
[28] যখন তুমি তাদের খাবার দাও তারা তা সংগ্রহ করে; যখন তুমি তোমার হাত খুলে দাও, তারা উত্তম দ্রব্যে পরিতৃপ্ত হয়।
[29] যখন তুমি তোমার মুখ ঢেকে দাও, তারা আতঙ্কিত হয়; যখন তুমি তাদের শ্বাস নিয়ে নাও, তাদের মৃত্যু হয় আর ধুলোতে ফিরে যায়।
[30] যখন তুমি তোমার আত্মা পাঠাও, তারা সৃষ্ট হয়, আর তুমি জগতের মুখমণ্ডল নতুন করে তোলো।
[31] সদাপ্রভুর গৌরব চিরকাল স্থায়ী হোক; সদাপ্রভু তাঁর সৃষ্টির কাজে আনন্দিত হোন—
[32] তাঁর দৃষ্টিতে জগৎ কেঁপে ওঠে, তাঁর স্পর্শে পর্বতসকল থেকে ধোঁয়া বের হয়।
[33] আমার সারা জীবন আমি সদাপ্রভুর জয়গান করব; আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি আমার ঈশ্বরের প্রশংসা করব।
[34] আমার ধ্যান তাঁর কাছে যেন সুমধুর হয়, কেননা আমি সদাপ্রভুতে উল্লাস করি।
[35] সকল পাপী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হোক আর দুষ্ট চিরকালের জন্য উধাও হোক। হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।