[1] এর মধ্যে শৌল তখনও প্রভুর শিষ্যদের বিরুদ্ধে হত্যা করার ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছিলেন। তিনি মহাযাজকের কাছে গিয়ে
[2] দামাস্কাসের সমাজভবনগুলির উদ্দেশে তাঁর কাছে কয়েকটি পত্র লিখে দিতে অনুরোধ করবেন, যেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেই পথের অনুসারী যদি কাউকে দেখতে পান, তাদেরকে বন্দি করে জেরুশালেমে নিয়ে আসতে পারেন।
[3] যাত্রাপথে, যখন তিনি দামাস্কাসের নিকটবর্তী হলেন, হঠাৎই আকাশ থেকে এক আলো তাঁর চারপাশে দ্যুতিমান হয়ে উঠল।
[4] তিনি ভূমিতে পতিত হলেন ও শুনতে পেলেন, এক কণ্ঠস্বর তাঁকে বলছেন, “শৌল, শৌল, তুমি কেন আমাকে নির্যাতন করছ?”
[5] শৌল জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কে?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি যীশু, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ।
[6] এখন ওঠো, আর নগরের মধ্যে যাও। তোমাকে অবশ্যই যা করতে হবে, তা তোমাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
[7] শৌলের সহযাত্রীরা নির্বাক সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সেই শব্দ শুনলেও কোনো মানুষকে দেখতে পেল না।
[8] শৌল ভূমি থেকে উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি চোখ খুললে পর কিছুই দেখতে পেলেন না। তাই তারা তাঁর হাত ধরে তাঁকে দামাস্কাসে নিয়ে গেল।
[9] তিনদিন যাবৎ তিনি দৃষ্টিহীন রইলেন, অন্ন-জল কিছুই গ্রহণ করলেন না।
[10] দামাস্কাসে অননিয় নামে একজন শিষ্য ছিলেন। প্রভু এক দর্শনের মাধ্যমে তাঁকে ডাক দিলেন, “অননিয়!” তিনি উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ প্রভু, দেখুন, এই আমি!”
[11] প্রভু তাঁকে বললেন, “তুমি সরল নামক রাস্তায় অবস্থিত যিহূদার বাড়িতে যাও এবং তার্ষ নগরের শৌল নামে এক ব্যক্তির সন্ধান করো, কারণ সে প্রার্থনা করছে।
[12] এক দর্শনে সে দেখেছে যে, অননিয় নামে এক ব্যক্তি এসে তার উপরে হাত রাখলেন, যেন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়।”
[13] অননিয় উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমি এই লোকটি সম্পর্কে বহু অভিযোগ এবং জেরুশালেমে তোমার সন্তজনদের যে সমস্ত ক্ষতিসাধন সে করেছে, তা আমি শুনেছি।
[14] আবার এখানেও যারা তোমার নামে ডাকে, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করার জন্য সে প্রধান যাজকদের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে এসেছে।”
[15] কিন্তু প্রভু অননিয়কে বললেন, “তুমি যাও! অইহুদি সব জাতি ও তাদের রাজাদের কাছে এবং ইস্রায়েলী জনগণের কাছে আমার নাম বহন করার জন্য সে আমার মনোনীত পাত্রস্বরূপ।
[16] আমার নামের জন্য তাকে কত কষ্টভোগ করতে হবে, তা আমি তাকে দেখাব।”
[17] অননিয় তখন সেই গৃহের উদ্দেশে চলে গেলেন এবং সেখানে প্রবেশ করলেন। শৌলের উপরে হাত রেখে তিনি বললেন, “ভাই শৌল, প্রভু যীশু, যিনি আপনার এখানে আসার সময় পথে আপনাকে দর্শন দিয়েছেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি দৃষ্টি ফিরে পান ও পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হন।”
[18] সঙ্গে সঙ্গে, আঁশের মতো কোনো বস্তু শৌলের দুচোখ থেকে পড়ে গেল এবং তিনি আবার দেখতে লাগলেন। তিনি উঠে বাপ্তাইজিত হলেন
[19] এবং কিছু খাদ্যগ্রহণ করে তাঁর শক্তি ফিরে পেলেন। শৌল কয়েক দিন দামাস্কাসে শিষ্যদের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করলেন।
[20] অচিরেই তিনি সমাজভবনগুলিতে প্রচার করতে লাগলেন যে, যীশু-ই ঈশ্বরের পুত্র।
[21] যারা তাঁর কথা শুনল, তারা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “এ কি সেই ব্যক্তি নয়, যারা এই নামে ডাকে, তাদের জেরুশালেমে সর্বনাশ করেছিল, আবার তাদের বন্দি করে প্রধান যাজকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যই কি সে এখানে আসেনি?”
[22] তবুও শৌল শক্তিতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগলেন এবং যীশুই যে মশীহ, দামাস্কাসবাসী ইহুদিদের কাছে তা প্রমাণ করে তাদের হতবুদ্ধি করে দিলেন।
[23] বহুদিন অতীত হওয়ার পর ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করল।
[24] কিন্তু শৌল তাদের পরিকল্পনার কথা জানতে পারলেন। তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশে তারা দিনরাত নগরদ্বারগুলিতে সতর্ক প্রহরা দিতে লাগল।
[25] কিন্তু তাঁর অনুগামীরা একটি বড় ঝুড়িতে করে প্রাচীরের একটি ছিদ্রের মধ্য দিয়ে রাত্রিবেলা তাঁকে নামিয়ে দিলেন।
[26] তিনি যখন জেরুশালেমে এলেন, তিনি শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাঁরা সকলেই তাঁর সম্পর্কে ভীত হলেন, বিশ্বাস করতে চাইলেন না যে, তিনি প্রকৃতই শিষ্য হয়েছিলেন।
[27] কিন্তু বার্ণবা তাঁর হাত ধরে তাঁকে প্রেরিতশিষ্যদের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁদের বললেন, শৌল কীভাবে তাঁর যাত্রাপথে প্রভুর দর্শন লাভ করেছেন এবং প্রভু তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার দামাস্কাসে তিনি কেমন নির্ভীকভাবে যীশুর নামে প্রচার করেছেন।
[28] এভাবে শৌল তাদের সঙ্গে থেকে গেলেন। তিনি স্বচ্ছন্দে জেরুশালেমে পরিভ্রমণ করতে লাগলেন, প্রভুর নামে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।
[29] তিনি গ্রিকভাষী ইহুদিদের সঙ্গে কথোপকথন ও তর্কবিতর্কে প্রবৃত্ত হলেন, কিন্তু তারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করল।
[30] ভ্রাতৃবৃন্দ একথা জানতে পেরে তাঁকে কৈসরিয়ায় নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে তার্ষে পাঠিয়ে দিলেন।
[31] এরপরে যিহূদিয়া, গালীল ও শমরিয়ার সর্বত্র মণ্ডলী শান্তি উপভোগ করছিল ও তা শক্তিশালী হচ্ছিল। তারা প্রভুর ভয়ে দিনযাপন করে ও পবিত্র আত্মার দ্বারা প্রেরণা লাভ করে সংখ্যায় বৃদ্ধিলাভ করছিল।
[32] পিতর যখন দেশের সর্বত্র পরিভ্রমণ করছিলেন, তিনি লুদ্দায় সন্তজনেদের পরিদর্শন করতে গেলেন।
[33] সেখানে তিনি ঐনিয় নামে এক ব্যক্তির সন্ধান পেলেন, সে ছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও আট বছর যাবৎ শয্যাশায়ী।
[34] পিতর তাকে বললেন, “ঐনিয়, যীশু খ্রীষ্ট তোমার রোগনিরাময় করছেন। তুমি ওঠো ও তোমার বিছানা গুটিয়ে নাও।” ঐনিয় সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল।
[35] লুদ্দা ও শারোণ-নিবাসী সব মানুষ তাকে সুস্থ দেখতে পেল ও প্রভুর প্রতি ফিরল।
[36] জোপ্পায় টাবিথা নামে এক মহিলা-শিষ্য ছিলেন। (এই নামের অনূদিত অর্থ, দর্কা) তিনি সবসময় সৎকর্ম করতেন ও দরিদ্রদের সাহায্য দিতেন।
[37] সেই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর শরীর ধুয়ে দিয়ে উপরতলার একটি কক্ষে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
[38] লুদ্দা জোপ্পার কাছেই ছিল, তাই শিষ্যেরা যখন শুনল যে, পিতর লুদ্দায় আছেন, তারা তাঁর কাছে দুজন লোককে পাঠিয়ে মিনতি করল, “অনুগ্রহ করে আপনি এখনই চলে আসুন!”
[39] পিতর তাদের সঙ্গে গেলেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে তাঁকে উপরতলার সেই কক্ষে নিয়ে যাওয়া হল। তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়ে বিধবারা কাঁদতে কাঁদতে, দর্কা তাদের সঙ্গে থাকার সময় যে সমস্ত আংরাখা ও অন্যান্য পোশাক তৈরি করেছিলেন, সেসব তাঁকে দেখাতে লাগল।
[40] পিতর তাদের সবাইকে সেই কক্ষ থেকে বের করে দিলেন। তারপর তিনি নতজানু হয়ে প্রার্থনা করলেন। মৃত নারীটির দিকে ফিরে তিনি বললেন, “টাবিথা, ওঠো।” তিনি তাঁর চোখ খুললেন এবং পিতরকে দেখে উঠে বসলেন।
[41] তিনি তাঁর হাত ধরলেন ও তাঁর দুপায়ে ভর দিয়ে তাঁকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন। তারপর তিনি সব বিধবা ও অন্য বিশ্বাসীদের ডেকে তাদের কাছে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উপস্থিত করলেন।
[42] জোপ্পার সর্বত্র একথা প্রকাশ পেল, আর বহু মানুষ প্রভুর উপরে বিশ্বাস করল।
[43] পিতর কিছুকাল জোপ্পায় শিমোন নামে এক চর্মকারের গৃহে অবস্থিতি করলেন।