[1] পাঁচদিন পারে মহাযাজক অননিয় প্রাচীনদের কয়েকজনকে ও তর্তুল্ল নামে একজন উকিলকে সঙ্গে নিয়ে কৈসরিয়ায় গিয়ে পৌঁছালেন। তাঁরা প্রদেশপালের কাছে পৌলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন।
[2] পৌলের ডাক হলে পর, তর্তুল্ল ফীলিক্সের কাছে তাঁর অভিযোগ উপস্থাপন করলেন, “আপনার অধীনে আমরা দীর্ঘকাল শান্তি উপভোগ করে আসছি; আপনার দূরদর্শিতার গুণে এই জাতির বিভিন্ন প্রকার সংস্কার সাধিত হয়েছে।
[3] সর্বত্র এবং সর্বতোভাবে আমরা, মহামান্য ফীলিক্স, এই সত্য গভীর কৃতজ্ঞতাসহ স্বীকার করছি।
[4] কিন্তু বেশি কথা বলে আপনাকে বিরক্ত করতে চাই না বলে, আমি আপনাকে অনুরোধ করি, অনুগ্রহ করে আপনি আমাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শুনুন।
[5] “আমরা দেখেছি, এই লোকটি গণ্ডগোল সৃষ্টি করে, সমস্ত পৃথিবীতে ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধানোর জন্য প্ররোচনা দেয়। সে নাসরতীয় দলের একজন হোতা।
[6] সে এমনকি, মন্দিরও অপবিত্র করতে চেয়েছিল; তাই আমরা তাকে ধরে এনেছি, এবং আমাদের বিধান অনুসারে তার বিচার করতে চেয়েছিলাম।
[7] কিন্তু সেনানায়ক লিসিয়াস এসে প্রবল বলপ্রয়োগ করে আমাদের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিলেন এবং
[8] তার অভিযোগকারীদের কাছে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দিলেন। এই যেসব বিষয়ে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, আপনি স্বয়ং একে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সত্যতা জানতে পারবেন।”
[9] ইহুদিরাও এসব বিষয় সত্য বলে অভিযোগ সমর্থন করল।
[10] প্রদেশপাল পৌলকে তাঁর বক্তব্য জানানোর ইঙ্গিত করলে, পৌল উত্তর দিলেন: “বহু বছর যাবৎ আপনি এই জাতির বিচারক হয়ে আছেন জানতে পেরে আমি সানন্দে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি।
[11] আপনি সহজেই যাচাই করতে পারেন যে, বারোদিনেরও বেশি হয়নি, আমি উপাসনা করার জন্য জেরুশালেমে গিয়েছিলাম।
[12] আমার অভিযোগকারীরা আমাকে মন্দিরে কারও সঙ্গে তর্কবিতর্ক করতে বা সমাজভবনে, কিংবা নগরের অন্যত্র, কোথাও জনগণকে উত্তেজিত করতে দেখেনি।
[13] আর তারা এখন আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উত্থাপন করছে, সেগুলি আপনার সমক্ষে প্রমাণ করতেও পারে না।
[14] তবুও, আমি স্বীকার করছি, এরা যাকে ‘দল’ বলছে, সেই ‘পথের’ অনুসারীরূপে আমি আমার পিতৃপুরুষদের ঈশ্বরের আরাধনা করি। যেসব বিষয় বিধান-সম্মত এবং যে কিছু ভাববাদীদের গ্রন্থে লিখিত আছে, আমি সে সমস্তই বিশ্বাস করি।
[15] আর এসব লোকের মতোই আমারও ঈশ্বরে একই প্রত্যাশা আছে যে, ধার্মিক ও দুর্জন, উভয়েরই পুনরুত্থান হবে।
[16] তাই ঈশ্বর ও মানুষের কাছে আমার বিবেক নির্মল রাখার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করি।
[17] “কয়েক বছর অনুপস্থিত থাকার পর, আমি স্বজাতীয় দরিদ্রদের জন্য কিছু দানসামগ্রী নিয়ে ও নৈবেদ্য উত্সর্গ করার জন্য জেরুশালেমে যাই।
[18] আমি সংস্কারগতভাবে শুচিশুদ্ধ ছিলাম, যখন তারা আমাকে মন্দির-প্রাঙ্গণে এ কাজ করতে দেখেছিল। আমার সঙ্গে কোনো লোকজন ছিল না, কোনো গণ্ডগোলের সঙ্গেও আমি জড়িত ছিলাম না।
[19] কিন্তু এশিয়া প্রদেশ থেকে আগত কিছু ইহুদি সেখানে ছিল। আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে, তা নিয়ে এখানে আপনার কাছে তাদের উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল।
[20] অথবা, এখানে যারা উপস্থিত আছে, তারাই বলুক, যখন আমি বিচার-পরিষদের সামনে দণ্ডায়মান হই, তারা আমার মধ্যে কোন অপরাধ পেয়েছিল—
[21] শুধু একটি ছাড়া? তাদের উপস্থিতিতে আমি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘মৃতদের পুনরুত্থান সম্পর্কে আজ আপনাদের সামনে আমার বিচার হচ্ছে।’ ”
[22] তখন ফীলিক্স, সেই পথ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন বলে, শুনানি মুলতুবি রাখলেন। তিনি বললেন, “যখন সেনানায়ক লিসিয়াস আসবেন, আমি তোমাদের বিচার নিষ্পত্তি করব।”
[23] তিনি শতসেনাপতিকে আদেশ দিলেন পৌলকে প্রহারাধীনে রাখার জন্য, কিন্তু তাঁকে যেন কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া হয় ও তাঁর বন্ধুদেরও তাঁর সেবা করতে আসার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।
[24] বেশ কয়েক দিন পর ফীলিক্স, তাঁর ইহুদি স্ত্রী দ্রুষিল্লাকে সঙ্গে নিয়ে এলেন। তিনি পৌলকে ডেকে পাঠালেন এবং তিনি খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাস স্থাপনের কথা বললে, তিনি তা শুনলেন।
[25] আলোচনাকালে পৌল ন্যায়পরায়ণতা, আত্মসংযম ও সন্নিকট বিচারের কথা বললে, ফীলিক্স ভীত হয়ে বললেন, “এখন এই যথেষ্ট। তুমি যেতে পারো। পরে সুবিধেমতো আমি তোমাকে ডেকে পাঠাব।”
[26] একইসঙ্গে, তিনি পৌলের কাছে কিছু উৎকোচ লাভেরও আশা করেছিলেন, সেই কারণে, তিনি তাঁকে বারবার ডেকে পাঠাতেন ও তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন।
[27] দুই বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল, পর্কীয় ফীষ্ট ফীলিক্সের পদে আসীন হলেন। কিন্তু ফীলিক্স যেহেতু ইহুদিদের সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন, তিনি পৌলকে কারাগারেই রেখে দিলেন।