Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:13

[1] তখন আগ্রিপ্প পৌলকে বললেন, “তোমার স্বপক্ষে বক্তব্য পেশ করার জন্য তোমাকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।” তখন পৌল তাঁর হাত প্রসারিত করে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করলেন:

[2] “মহারাজ আগ্রিপ্প, ইহুদিদের সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করার উদ্দেশ্যে, আজ আপনার সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

[3] আর বিশেষ করে এজন্য যে, আপনি ইহুদিদের সমস্ত রীতিনীতি ও মতবিরোধগুলির সঙ্গে সম্যক পরিচিত। সেই কারণে, ধৈর্যের সঙ্গে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আমি আপনাকে অনুরোধ করছি।

[4] “শৈশবকাল থেকে, আমার জীবনের শুরুতে, আমার নিজের নগরে ও জেরুশালেমে, আমি কীভাবে জীবনযাপন করেছি, ইহুদিরা তা সকলই জানে।

[5] দীর্ঘকাল যাবৎ তারা আমাকে জানে ও ইচ্ছা করলে সাক্ষ্যও দিতে পারে যে, আমাদের ধর্মের মধ্যে পরম নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়, একজন ফরিশীরূপে আমি জীবনযাপন করতাম।

[6] আর এখন, ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দান করেছিলেন, তারই উপর আমার প্রত্যাশার জন্য, আজ আমি বিচারের সম্মুখীন হয়েছি।

[7] আমাদের দ্বাদশ-গোষ্ঠী সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশায় আগ্রহভরে দিনরাত ঈশ্বরের সেবা করে আসছে। মহারাজ, এই প্রত্যাশার জন্যই ইহুদিরা আমাকে অভিযুক্ত করেছে।

[8] ঈশ্বর মৃতজনকে উত্থাপিত করেন, কেন একথা বিশ্বাস করা আপনাদের অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়?

[9] “আমারও দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এই যে, নাসরতের যীশুর নামের প্রতিরোধে সম্ভবপর সবকিছু করাই আমার কর্তব্য।

[10] আর জেরুশালেমে ঠিক সেই কাজই আমি করেছিলাম। প্রধান যাজকদের প্রদত্ত অধিকারবলে আমি বহু সন্তজনকে কারাগারে বদ্ধ করেছি। যখন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, তখন আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার মতো দিয়েছি।

[11] অনেক সময় আমি এক সমাজভবন থেকে অন্য সমাজভবনে তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য গিয়েছি, তাদের উপরে বলপ্রয়োগ করেছি, যেন তারা ঈশ্বরনিন্দা করে। তাদের বিরুদ্ধে ক্রোধে উন্মত্ত হওয়াতে, আমি তাদের অত্যাচার করার জন্য, এমনকি, বিজাতীয় নগরগুলিতেও গিয়েছিলাম।

[12] “এই ধরনেরই এক যাত্রাকালে, আমি প্রধান যাজকদের কাছ থেকে কর্তৃত্বাধিকার ও অনুমতিপত্র নিয়ে দামাস্কাসে যাচ্ছিলাম।

[13] মহারাজ, প্রায় মধ্যাহ্নকালে, যখন আমি পথিমধ্যে ছিলাম, আকাশ থেকে এক আলো দেখলাম। তা ছিল সূর্যর চেয়েও উজ্জ্বল, আমার ও আমার সঙ্গীদের চারপাশে তা দীপ্যমান হয়ে উঠেছিল।

[14] আমরা সবাই মাটিতে পড়ে গেলাম। আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনলাম, যা হিব্রু ভাষায় আমাকে বলছিল, ‘শৌল, শৌল, তুমি কেন আমাকে পীড়ন করছ? কাঁটার মুখে লাথি মারা তোমার পক্ষে কঠিন।’

[15] “আমি তখন জিজ্ঞাসা করলাম, ‘প্রভু, আপনি কে?’ “ ‘আমি যীশু, যাঁকে তুমি পীড়ন করছ,’ প্রভু উত্তর দিলেন।

[16] ‘এখন ওঠো ও তোমার পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও। আমি তোমাকে সেবকরূপে নিযুক্ত করার জন্য তোমাকে দর্শন দিয়েছি। আমার বিষয়ে তুমি যা দেখেছ ও আমি তোমাকে যা দেখাব, তুমি তার সাক্ষী হবে।

[17] আমি তোমার স্বজাতি ও অইহুদিদের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করব। আমি তোমাকে তাদের কাছে প্রেরণ করছি,

[18] তুমি তাদের চোখ খুলে দেবে, অন্ধকার থেকে তাদের আলোয় ফিরিয়ে আনবে, শয়তানের পরাক্রম থেকে নিয়ে আসবে ঈশ্বরের কাছে, যেন তারা পাপসমূহের ক্ষমা লাভ করে এবং আমার উপরে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা পবিত্রীকৃত হয়েছে, তাদের মধ্যে স্থান লাভ করতে পারে।’

[19] “সেই কারণে, মহারাজ আগ্রিপ্প, আমি স্বর্গীয় এই দর্শনের অবাধ্য হলাম না।

[20] প্রথমে দামাস্কাসবাসীদের কাছে, পরে জেরুশালেম ও সমগ্র যিহূদিয়ার অধিবাসীদের কাছে এবং অইহুদিদের কাছেও আমি প্রচার করলাম, তারা যেন মন পরিবর্তন করে ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসে ও তাদের কর্মসমূহের মাধ্যমে তাদের অনুতাপের প্রমাণ দেয়।

[21] এই কারণেই ইহুদিরা আমাকে মন্দির-চত্বরে পাকড়াও করে ও আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে।

[22] কিন্তু আজ, এই দিন পর্যন্ত, আমি ঈশ্বরের সহায়তা লাভ করে এসেছি। সেই কারণেই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র-মহান নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি। ভাববাদীরা ও মোশি যা ঘটবার কথা বলে গেছেন, তার বাইরে আমি কোনো কথাই বলছি না।

[23] তাঁরা বলেছেন মশীহকে কষ্টভোগ করতে হবে এবং মৃতলোক থেকে সর্বপ্রথম উত্থাপিত বলে, তিনি তাঁর স্বজাতি ও অইহুদিদেরও কাছে দীপ্তির বার্তা ঘোষণা করবেন।”

[24] এই সময়ে ফীষ্ট পৌলের আত্মপক্ষ সমর্থনে বাধা দিয়ে বললেন, “পৌল, তোমার বুদ্ধিভ্রংশ ঘটেছে। তোমার অত্যধিক বিদ্যাভ্যাসই তোমাকে পাগল করে তুলেছে।”

[25] পৌল উত্তর দিলেন, “মহামহিম ফীষ্ট, আমি পাগল নই। আমি যা বলছি, তা সত্য ও যুক্তিগ্রাহ্য।

[26] রাজা এসব বিষয়ে পরিচিত ও তাঁর কাছে আমি স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারি। আমি দৃঢ়রূপে বিশ্বাস করি, এর কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি, কারণ তা ঘরের কোণে করা হয়নি।

[27] মহারাজ আগ্রিপ্প, আপনি কি ভাববাদীদের বিশ্বাস করেন? আমি জানি, আপনি করেন।”

[28] আগ্রিপ্প তখন পৌলকে বললেন, “তুমি কি মনে করো যে, এই অল্প সময়ের মধ্যেই তুমি আমাকে খ্রীষ্টিয়ান করে তুলবে?”

[29] পৌল উত্তর দিলেন, “অল্প সময়ে হোক, বা বেশি—আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, শুধুমাত্র আপনি নন, কিন্তু যাঁরা আজ আমার কথা শুনছেন, কেবলমাত্র এই শিকলটুকু ছাড়া তাঁরা সবাই যেন আমারই মতো হতে পারেন।”

[30] রাজা উঠে দাঁড়ালেন ও তাঁর সঙ্গে প্রদেশপাল, বার্নিস ও তাঁদের সঙ্গে উপবিষ্ট সকলে উঠলেন।

[31] তাঁরা সেই কক্ষ ত্যাগ করলেন ও পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করার সময়ে বললেন, “এই লোকটি মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ডের যোগ্য কিছুই করেনি।”

[32] আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, “কৈসরের কাছে আপিল না করলে এই লোকটিকে মুক্তি দেওয়া যেত।”

প্রেরিত — Chapters