[1] এভাবে নিরাপদে তীরে পৌঁছাবার পর, আমরা জানতে পারলাম যে, দ্বীপটির নাম মাল্টা।
[2] সেই দ্বীপবাসীরা আমাদের সঙ্গে অসাধারণ সহানুভূতি প্রদর্শন করল। সেই সময় বৃষ্টি পড়ছিল, শীতপ্রযুক্ত তারা আগুন জ্বেলে আমাদের সবাইকে অভ্যর্থনা জানাল।
[3] পৌল এক বোঝা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে ওই আগুনে দেওয়ামাত্র, আগুনের তাপে একটি বিষধর সাপ বেরিয়ে এসে তাঁর হাত শক্ত করে ধরে রইল।
[4] দ্বীপবাসীরা যখন দেখল, সাপটি তাঁর হাতে ঝুলছে, তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, “এই লোকটি নিশ্চয়ই একজন খুনি। কারণ সমুদ্রের কবল থেকে এ রক্ষা পেলেও দেবীর ন্যায় একে বাঁচতে দিল না।”
[5] কিন্তু পৌল সাপটিকে আগুনে ঝেড়ে ফেলে দিলেন, তাঁর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটল না।
[6] লোকেরা ভাবছিল, তিনি ফুলে উঠবেন বা হঠাৎই মারা গিয়ে পড়ে যাবেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করেও কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা তাঁর প্রতি ঘটতে না দেখে, তারা তাদের মতো বদল করে বলল যে, তিনি একজন দেবতা।
[7] কাছেই ছিল সেই দ্বীপের প্রধান কর্মকর্তা পুব্লিয়ের ভূসম্পত্তি। তিনি আমাদের তাঁর গৃহে স্বাগত জানালেন এবং তিনদিন যাবৎ আমাদের আতিথ্য-আপ্যায়ন করলেন।
[8] তাঁর পিতা জ্বর ও আমাশয়-রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। পৌল তাঁকে দেখতে ভেতরে গেলেন এবং প্রার্থনা করার পর তাঁর উপরে হাত রেখে তাঁকে সুস্থ করলেন।
[9] এ ঘটনা ঘটার পর, দ্বীপের অবশিষ্ট রোগীরাও এসে সুস্থতা লাভ করল।
[10] তারা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের সমাদর করল এবং যখন আমরা সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রস্তুত হলাম, আমাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত দ্রব্যই তারা সরবরাহ করল।
[11] তিন মাস পরে আমরা সেই দ্বীপে শীতকাল যাপনকারী একটি জাহাজে করে যাত্রা শুরু করলাম। এটি ছিল একটি আলেকজান্দ্রীয় জাহাজ, যার সামনে খোদাই করা ছিল ক্যাস্টর ও পোল্লাক্স, দুই যমজ দেবতার মূর্তি।
[12] আমরা সুরাকুষে জাহাজ লাগিয়ে সেখানে তিনদিন অবস্থিতি করলাম।
[13] সেখান থেকে আমরা সমুদ্রযাত্রা করে রিগিয়ামে পৌঁছালাম। পরের দিন দখিনা বায়ু উপস্থিত হল এবং তার পরের দিন আমরা পুতিয়লিতে পৌঁছালাম।
[14] সেখানে আমরা কয়েকজন বিশ্বাসীর সন্ধান পেলাম, তাঁরা তাঁদের সঙ্গে এক সপ্তাহ অতিবাহিত করার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানালেন। এভাবে আমরা রোমে পৌঁছালাম।
[15] সেখানকার ভাইবোনরা আমাদের আগমনবার্তা শুনতে পেয়েছিলেন, আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তাঁরা সুদূর আপ্পিয়ের হাট ও ত্রি-পান্থনিবাস পর্যন্ত এল। এসব মানুষকে দেখে পৌল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন ও উত্সাহিত হলেন।
[16] যখন আমরা রোমে উপস্থিত হলাম, পৌলকে স্বতন্ত্র থাকার অনুমতি দেওয়া হল। একজন সৈন্য তাঁকে প্রহরা দিতেন।
[17] তিনদিন পরে তিনি ইহুদিদের নেতৃবৃন্দকে একত্র হওয়ার জন্য আহ্বান করলেন। তাঁরা সমবেত হলে পৌল তাঁদের বললেন, “হে আমার ভাইসব, যদিও আমাদের জাতির বিরুদ্ধে বা আমাদের পিতৃপুরুষদের রীতিনীতির বিরুদ্ধে আমি কিছুই করিনি, আমাকে জেরুশালেমে গ্রেপ্তার ও রোমীয়দের হাতে সমর্পণ করা হয়েছিল।
[18] তারা আমাকে জেরা করার পর মুক্তি দিতে চেয়েছিল, কারণ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য কোনো অপরাধ-ই আমি করিনি।
[19] কিন্তু ইহুদিরা যখন আপত্তি করল, আমি কৈসরের কাছে অনুরোধ জানাতে বাধ্য হলাম। এমন নয় যে স্বজাতির লোকদের বিরুদ্ধে উত্থাপন করার জন্য আমার কোনও অভিযোগ ছিল।
[20] এই কারণে, আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ও কথা বলতে চেয়েছি। ইস্রায়েলের প্রত্যাশার জন্যই আমি এই শিকলে আবদ্ধ হয়েছি।”
[21] তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা আপনার সম্পর্কে যিহূদিয়া থেকে কোনও পত্র পাইনি। সেখান থেকে আগত কোনও ব্যক্তি আপনার বিষয়ে কোনো মন্দ সংবাদ দেয়নি বা কোনো মন্দ কথা বলেনি।
[22] কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী প্রকার, তা আমরা শুনতে চাই, কারণ আমরা জানি, সর্বত্র লোকেরা এই দলের বিরুদ্ধে কথা বলে।”
[23] পৌলের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাঁরা একটি দিন স্থির করলেন। পৌল যেখানে অবস্থিতি করছিলেন, তাঁরা আরও বেশি সংখ্যায় সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি তাঁদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও প্রচার করলেন। তিনি মোশির বিধান ও ভাববাদীদের গ্রন্থ থেকে যীশুর বিষয়ে তাঁদের বিশ্বাস উৎপাদন করতে সচেষ্ট হলেন।
[24] তিনি যা বললেন, তা শুনে কেউ কেউ বিশ্বাস করলেন, কিন্তু অন্যেরা বিশ্বাস করলেন না।
[25] তাঁদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ায় তাঁরা সেই স্থান ত্যাগ করতে লাগলেন, যখন পৌল তাঁর সর্বশেষ মন্তব্য করলেন, “পবিত্র আত্মা আপনাদের পিতৃপুরুষদের কাছে সত্য ঘোষণা করেছিলেন, যখন তিনি ভাববাদী যিশাইয়-র মাধ্যমে বলেছিলেন,
[26] “ ‘তুমি এই জাতির কাছে যাও ও বলো, “তোমরা সবসময়ই শুনতে থাকবে, কিন্তু কখনও বুঝতে পারবে না; তোমরা দেখতে থাকবে সবসময়ই কিন্তু উপলব্ধি হবে না কখনোই।”
[27] কারণ এই জাতির হৃদয় হয়েছে অসাড়, তারা তাদের কানে অল্পই শুনতে পায়, আর তাদের চোখ তারা করেছে রুদ্ধ। তা না হলে, তারা তাদের চোখে দেখতে পেত, কানেও পেত শুনতে, হৃদয় দিয়ে করত উপলব্ধি, আর আসত ফিরে এবং আমি করতাম তাদের রোগনিরাময়।’
[28] “সেই কারণে, আমি আপনাদের জ্ঞাপন করতে চাই যে, ঈশ্বরের পরিত্রাণ অইহুদিদের কাছে প্রেরিত হয়েছে, আর তারা তা শুনবে।”
[29] তিনি একথা বলার পর, ইহুদিরা নিজেদের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক করতে করতে সেই স্থান ত্যাগ করল।
[30] সম্পূর্ণ দুবছর পৌল সেখানে তাঁর নিজস্ব ভাড়াবাড়িতে রইলেন। যারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসত, তাদের সকলকে তিনি স্বাগত জানাতেন।
[31] সাহসের সঙ্গে তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রচার করতেন এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। কেউ তাঁকে বাধা দিত না।