[1] আন্তিয়খের মণ্ডলীতে কয়েকজন ভাববাদী ও শিক্ষক ছিলেন: বার্ণবা, নিগের নামে আখ্যাত শিমোন, কুরীণ প্রদেশের লুসিয়াস, মনায়েন (ইনি সামন্তরাজ হেরোদের সঙ্গে প্রতিপালিত হয়েছিলেন) ও শৌল।
[2] তাঁরা যখন প্রভুর উপাসনা ও উপবাস করছিলেন, পবিত্র আত্মা বললেন, “বার্ণবা ও শৌলকে আমি যে কাজের জন্য আহ্বান করেছি, সেই কাজের জন্য আমার উদ্দেশে তাদের পৃথক করে দাও।”
[3] এভাবে তাঁরা উপবাস ও প্রার্থনা সমাপ্ত করার পর, তাঁরা তাঁদের উপরে হাত রাখলেন ও তাঁদের বিদায় দিলেন।
[4] তাঁরা দুজন পবিত্র আত্মার দ্বারা তাঁদের পথে প্রেরিত হলে পর তাঁরা সিলুকিয়াতে গেলেন এবং সেখান থেকে জাহাজে সাইপ্রাস গেলেন।
[5] তাঁরা সালামিতে পৌঁছে ইহুদি সমাজভবনগুলিতে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করলেন। যোহন-ও তাঁদের সঙ্গে সাহায্যকারীরূপে ছিলেন।
[6] সম্পূর্ণ দ্বীপটি পরিভ্রমণ করে শেষে তাঁরা পাফোতে পৌঁছালেন। সেখানে তাঁরা বর-যীশু নামে একজন ইহুদি জাদুকর ও ভণ্ড ভাববাদীর সাক্ষাৎ পেলেন।
[7] সে ছিল প্রদেশপাল সের্গীয় পৌলের একজন পরিচারক। প্রদেশপাল ছিলেন একজন বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি বার্ণবা ও শৌলকে ডেকে পাঠালেন, কারণ তিনি ঈশ্বরের বাক্য শুনতে চাইছিলেন।
[8] কিন্তু ইলুমা, সেই জাদুকর (কারণ সেই ছিল তার নামের অর্থ), তাঁদের বিরোধিতা করল এবং প্রদেশপালকে বিশ্বাসচ্যুত করতে চাইল।
[9] তখন শৌল, যাঁকে পৌল নামেও অভিহিত করা হত, পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে ইলুমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বললেন,
[10] “তুমি দিয়াবলের সন্তান এবং সর্বপ্রকার ধার্মিকতার বিপক্ষ! তুমি সর্বপ্রকার ছলনা ও ধূর্ততায় পরিপূর্ণ। প্রভুর প্রকৃত পথকে বিকৃত করতে তুমি কি কখনোই ক্ষান্ত হবে না?
[11] এখন প্রভুর হস্ত তোমার বিপক্ষে রয়েছে। তুমি দৃষ্টিহীন হবে এবং কিছু সময় পর্যন্ত তুমি সূর্যের আলো দেখতে পাবে না।” সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করল। সে হাতড়ে বেড়াতে লাগল, খুঁজতে লাগল, কেউ যেন তার হাত ধরে নিয়ে যায়।
[12] যা ঘটেছে, প্রদেশপাল তা লক্ষ্য করে বিশ্বাস করলেন, কারণ তিনি প্রভুর সম্পর্কিত উপদেশে চমৎকৃত হয়েছিলেন।
[13] পাফো থেকে পৌল ও তাঁর সঙ্গীরা জাহাজে করে পাম্ফুলিয়ার পর্গা নগরে গেলেন। সেখানে যোহন তাঁদের ত্যাগ করে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
[14] পর্গা থেকে তাঁরা গেলেন পিষিদিয়ার আন্তিয়খে। বিশ্রামদিনে তাঁরা সমাজভবনে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করলেন।
[15] বিধান-শাস্ত্র ও ভাববাদী গ্রন্থ পাঠ করা হলে পর, সমাজভবনের অধ্যক্ষেরা তাঁদের কাছে বলে পাঠালেন, “ভাইরা, জনগণের জন্য আপনাদের কাছে যদি কোনও প্রেরণাদায়ী বার্তা থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে বলুন।”
[16] পৌল উঠে দাঁড়িয়ে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন ও বললেন, “ইস্রায়েলী লোকেরা ও ঈশ্বরের উপাসক অইহুদি জনগণ, আমার কথা শুনুন।
[17] ইস্রায়েল জাতির ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন, মিশরে তাঁদের অবস্থিতিকালে তিনিই তাঁদের সমৃদ্ধ করেছিলেন। মহাপরাক্রমের সঙ্গে তিনি সে-দেশ থেকে তাঁদের বের করেও এনেছিলেন।
[18] চল্লিশ বছর পর্যন্ত মরুপ্রান্তরে তিনি তাঁদের আচরণ সহ্য করেছিলেন।
[19] কনানে সাতটি জাতিকে উৎখাত করে তিনি অধিকাররূপে তাদের দেশ তাঁর প্রজাদের দান করেছিলেন।
[20] এসব সম্পন্ন হতে প্রায় চারশো পঞ্চাশ বছর লেগেছিল। “এরপর, ভাববাদী শমূয়েলের আমল পর্যন্ত ঈশ্বর তাঁদের জন্য বিচারকর্তৃগণকে দিলেন।
[21] তারপর প্রজারা একজন রাজা চাইল। তিনি তাদের বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত কীশের পুত্র শৌল-কে দিলেন। তিনি চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
[22] শৌলকে অপসারিত করে, তিনি দাউদকে তাঁদের রাজা করলেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন: ‘আমি আমার মনের মতো মানুষ, যিশয়ের পুত্র দাউদকে পেয়েছি। আমি যা চাই, সে আমার জন্য তাই করবে।’
[23] “তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ঈশ্বর এই মানুষটির বংশধরদের থেকে পরিত্রাতা যীশুকে ইস্রায়েলের কাছে আনয়ন করলেন।
[24] যীশুর আগমনের পূর্বে যোহন ইস্রায়েলী প্রজাদের কাছে মন পরিবর্তন ও বাপ্তিষ্মের কথা প্রচার করলেন।
[25] যোহন তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করার কালে বলেছিলেন, ‘তোমরা কী মনে করো, আমি কে? আমি সেই ব্যক্তি নই। না, তিনি কিন্তু আমার পরে আসছেন, যাঁর চটিজুতোর বাঁধন খোলারও যোগ্যতা আমার নেই।’
[26] “ভাইরা, অব্রাহামের সন্তানেরা এবং ঈশ্বর-ভয়শীল অইহুদি আপনারা, আমাদেরই কাছে পরিত্রাণের এই বাণী প্রেরিত হয়েছে।
[27] জেরুশালেমের লোকেরা ও তাদের অধ্যক্ষেরা যীশুকে চিনতে পারেনি, তবুও তাঁর দণ্ডাদেশ ঘোষণা করে তারা ভাববাদীদের বাণী পূর্ণ করেছে, যা প্রতি বিশ্রামদিনে পঠিত হয়।
[28] যদিও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার জন্য তারা কোনো যথাযথ কারণ খুঁজে পায়নি, তারা পীলাতের কাছে নিবেদন করল, যেন তাঁকে হত্যা করা হয়।
[29] তাঁর সম্পর্কে লিখিত সব কথা তারা সম্পন্ন করলে পর, তারা তাঁকে গাছ থেকে নামিয়ে একটি কবরে সমাহিত করল।
[30] কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করলেন।
[31] যাঁরা তাঁর সঙ্গে গালীল থেকে জেরুশালেমে যাত্রা করেছিলেন, তিনি তাঁদের কাছে প্রত্যক্ষ হয়েছিলেন। তাঁরা এখন আমাদের জাতির কাছে তাঁর সাক্ষী হয়েছেন।
[32] “আমরা আপনাদের এই সুসমাচার বলি: ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
[33] যীশুকে উত্থাপিত করে তিনি তাঁদের বংশধরদের, অর্থাৎ আমাদের কাছে তা পূর্ণ করেছেন। দ্বিতীয় গীতে যেমন লিখিত আছে, “ ‘তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি।’
[34] ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, কবরে পচনের জন্য ছেড়ে দেননি। এই সত্য এসব বচনে ব্যক্ত হয়েছে: “ ‘আমি তোমাকে দান করব দাউদের কাছে প্রতিশ্রুত পবিত্র ও সুনিশ্চিত সব আশীর্বাদ।’
[35] অন্যত্রও এই কথা এভাবে বর্ণিত হয়েছে: “ ‘তুমি তোমার পবিত্রজনকে ক্ষয় দেখতে দেবে না।’
[36] “কারণ দাউদ যখন তাঁর প্রজন্মে ঈশ্বরের অভিপ্রায় পূর্ণ করলেন, তিনি নিদ্রাগত হলেন। তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের সঙ্গে কবরপ্রাপ্ত হলেন ও তাঁর শরীর ক্ষয় পেল।
[37] কিন্তু ঈশ্বর যাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তিনি ক্ষয় দেখেননি।
[38] “সেই কারণে, আমার ভাইসব, আমি চাই আপনারা অবগত হন যে, যীশুর মাধ্যমে পাপসমূহের ক্ষমা হয়, তা আপনাদের কাছে ঘোষিত হচ্ছে। মোশির বিধান যে সমস্ত বিষয় থেকে আপনাদের নির্দোষ করতে পারেনি,
[39] যীশুর মাধ্যমে প্রত্যেকজন, যারা বিশ্বাস করে, তারা সেইসব বিষয় থেকে নির্দোষ গণ্য হয়।
[40] সাবধান হোন, ভাববাদীরা যা বলে গেছেন, আপনাদের ক্ষেত্রে সেইরকম যেন না হয়:
[41] “ ‘ওহে বিদ্রুপকারীর দল, তোমরা বিস্ময়চকিত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হও, কারণ তোমাদের সময়কালে আমি এমন কিছু সাধন করব, সেই কথা যদিও কেউ তোমাদের বলে, তোমরা কখনও তা বিশ্বাস করবে না।’ ”
[42] পৌল ও বার্ণবা সমাজভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়, লোকেরা পরবর্তী বিশ্রামদিনে এ-প্রসঙ্গে আরও কথা বলার জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানাল।
[43] সভা ভঙ্গ হওয়ার পর বহু ইহুদি ও ইহুদি-ধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা পৌল ও বার্ণবাকে অনুসরণ করল। তাঁরা তাদের সঙ্গে কথা বললেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে অবিচল থাকার জন্য তাদের উত্সাহিত করলেন।
[44] পরবর্তী বিশ্রামদিনে নগরের প্রায় সমস্ত মানুষ প্রভুর বাক্য শ্রবণের জন্য একত্র হল।
[45] ইহুদিরা সেই জনসমাগম দেখে ঈর্ষায় পরিপূর্ণ হল। তারা পৌলের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কটূক্তি করতে লাগল।
[46] তখন পৌল ও বার্ণবা সাহসের সঙ্গে উত্তর দিলেন, “প্রথমে আপনাদের কাছে আমাদের ঈশ্বরের বাক্য বলতে হয়েছে। আপনারা যেহেতু তা অগ্রাহ্য করছেন ও নিজেদের শাশ্বত জীবন লাভের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করছেন, আমরা এখন অইহুদিদের কাছেই যাচ্ছি।
[47] কারণ প্রভু আমাদের এই আদেশই দিয়েছেন: “ ‘আমি তোমাকে অইহুদিদের জন্য দীপ্তিস্বরূপ করেছি, যেন পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত তুমি পরিত্রাণ নিয়ে যেতে পারো।’ ”
[48] অইহুদিরা একথা শুনে আনন্দিত হল। তারা প্রভুর বাক্যের সমাদর করল। যারাই শাশ্বত জীবনের জন্য নিরূপিত হয়েছিল, তারা সকলে বিশ্বাস করল।
[49] প্রভুর বাক্য সেই সমস্ত অঞ্চলে পরিব্যাপ্ত হল।
[50] কিন্তু ইহুদিরা সম্ভ্রান্ত ঈশ্বর-ভয়শীল মহিলাদের ও নগরের নেতৃস্থানীয় মানুষদের উত্তেজিত করে তুলল। তারা পৌল ও বার্ণবার প্রতি নিপীড়ন শুরু করল এবং তাদের এলাকা থেকে তাদের বহিষ্কার করল।
[51] তাঁরা তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ তাঁদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ইকনিয়তে চলে গেলেন।
[52] আর শিষ্যেরা আনন্দে ও পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে উঠলেন।