[1] তাঁরা পরে অ্যাম্ফিপলি ও অ্যাপল্লোনিয়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে থিষলনিকায় পৌঁছালেন। সেখানে একটি ইহুদি সমাজভবন ছিল।
[2] পৌল তাঁর প্রথা অনুসারে সমাজভবনে গেলেন এবং তিনটি বিশ্রামদিনে যুক্তিসহ তাদের কাছে শাস্ত্রব্যাখ্যা করলেন।
[3] তিনি তাদের কাছে প্রমাণ করে দেখালেন যে, খ্রীষ্টের কষ্টভোগ করা ও মৃতলোক থেকে উত্থাপিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি বললেন, “এই যে যীশুর কথা আমি তোমাদের কাছে প্রচার করছি, তিনি-ই সেই মশীহ।”
[4] এতে কয়েকজন ইহুদি বিশ্বাস করে পৌল ও সীলের সঙ্গে যোগ দিল। সেই সঙ্গে বহুসংখ্যক ঈশ্বর-ভয়শীল গ্রিক ও বেশ কিছু বিশিষ্ট মহিলাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন।
[5] কিন্তু ইহুদিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠল। তাই তারা বাজার-চত্বর থেকে কিছু মন্দ-চরিত্রের লোককে একত্র করে একটি দল গঠন করল এবং তারা নগরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে দিল। তারা পৌল ও সীলের সন্ধানে যাসোনের বাড়ির দিকে ছুটে গেল, যেন তাঁদের সেই জনতার সামনে নিয়ে আসা যায়।
[6] কিন্তু তারা যখন তাঁদের খুঁজে পেল না, তারা যাসোন ও অন্য কয়েকজন বিশ্বাসীকে নগরের প্রশাসকদের কাছে টেনে নিয়ে গেল। তারা চিৎকার করে বলল, “এই লোকেরা সমস্ত জগৎ ওলট-পালট করে দিয়ে এখন এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে,
[7] আর যাসোন তার গৃহে এদের আতিথ্য করেছে। এরা সবাই কৈসরের শাসন অস্বীকার করে, বলে যে, যীশু নামে আর একজন রাজা আছেন।”
[8] তারা যখন একথা শুনল, সেই জনতা ও নগর-প্রশাসকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠল।
[9] তখন যাসোন ও অন্যান্যদের কাছে জামিন আদায় করে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হল।
[10] রাত্রি নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাতৃবৃন্দ পৌল ও সীলকে বিরয়াতে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা ইহুদিদের সমাজভবনে গেলেন।
[11] বিরয়াবাসীরা থিষলনিকার ইহুদিদের চেয়ে উদারচরিত্রের মানুষ ছিল, কারণ তারা ভীষণ আগ্রহের সঙ্গে সুসমাচার গ্রহণ করেছিল। পৌল যা বলছিলেন, তা প্রকৃতই সত্য কি না, তা জানবার জন্য তারা প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করে দেখত।
[12] অতএব, অনেক ইহুদি বিশ্বাস করল, বেশ কিছু বিশিষ্ট গ্রিক মহিলা ও অনেক গ্রিক পুরুষও বিশ্বাস করলেন।
[13] থিষলনিকার ইহুদিরা যখন জানতে পারল যে, পৌল বিরয়াতে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করছেন, তারা সেখানেও গেল। তারা গিয়ে জনতাকে বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তুলল।
[14] ভ্রাতৃবৃন্দ তৎক্ষণাৎ পৌলকে সমুদ্র-উপকূলের দিকে পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু সীল ও তিমথি বিরয়াতে থেকে গেলেন।
[15] পৌলের সঙ্গী যারা ছিল, তারা তাঁকে এথেন্সে নিয়ে এল এবং সীল ও তিমথিকে যত শীঘ্র সম্ভব পৌলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ নিয়ে ফিরে গেল।
[16] পৌল যখন এথেন্সে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন নগরটি প্রতিমায় পরিপূর্ণ দেখে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন।
[17] তাই তিনি সমাজভবনে ইহুদিদের ও ঈশ্বর-ভয়শীল গ্রিকদের সঙ্গে এবং বাজারে যাদের সঙ্গে তাঁর দিনের পর দিন সাক্ষাৎ হত, তাদের কাছে এ নিয়ে আলোচনা করতেন।
[18] একদল এপিকুরীয় ও স্তোয়িকীয় দার্শনিক তাঁর সঙ্গে তর্কবিতর্কে প্রবৃত্ত হল। তাদের মধ্যে কয়েকজন জিজ্ঞাসা করল, “এই বাচাল মানুষটি কী বলতে চাইছে?” অন্যেরা মন্তব্য করল, “একে বিদেশি দেবতাদের প্রচারক বলে মনে হচ্ছে।” তাদের একথা বলার কারণ হল, পৌল যীশুর সুসমাচার ও পুনরুত্থানের কথা প্রচার করছিলেন।
[19] তখন তারা তাঁকে ধরে আরেয়পাগের সভায় নিয়ে গেল। সেখানে তারা তাঁকে বলল, “আমরা কি জানতে পারি, আপনি যে নতুন শিক্ষা প্রচার করছেন, সেটি কী?
[20] আপনি কতগুলি অদ্ভুত ধারণার কথা আমাদের কানে দিচ্ছেন, আমরা সেগুলির অর্থ জানতে চাই।”
[21] (এথেন্সের অধিবাসীরা ও সেখানকার প্রবাসী বিদেশিরা কেবলমাত্র নবতম চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা করা বা শোনা ছাড়া আর কোনো কিছুতে কালক্ষেপ করত না)।
[22] পৌল তখন আরেয়পাগের সভায় উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “এথেন্সের জনগণ! আমি দেখতে পাচ্ছি, আপনারা সর্বতোভাবে অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ।
[23] কারণ আমি যখন চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, আপনাদের উপাস্য মূর্তিগুলি সতর্কভাবে নিরীক্ষণ করছিলাম। তখন আমি এমনও একটি বেদি দেখতে পেলাম, যার উপরে লিখিত ছিল: এক অজ্ঞাত দেবতার উদ্দেশে। এখন, আপনারা যাকে অজ্ঞাতরূপে আরাধনা করেন, তাঁরই কথা আমি আপনাদের কাছে বলতে চাই।
[24] “ঈশ্বর, যিনি এই জগৎ ও তার অন্তর্গত সমস্ত বস্তু রচনা করেছেন, তিনিই স্বর্গ ও মর্ত্যের প্রভু। তিনি হস্তনির্মিত দেবালয়ে বাস করেন না।
[25] তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে বলে মানুষের হাতে তাঁর সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। কারণ তিনি স্বয়ং সমস্ত মানুষকে জীবন ও শ্বাস এবং সবকিছুই দান করেন।
[26] তিনি একজন মানুষ থেকে মানুষদের সব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তারা সমস্ত পৃথিবীতে বসবাস করে। তিনিই পূর্বে তাদের কালসীমা ও বসবাসের জন্য স্থান স্থির করে রেখেছিলেন।
[27] ঈশ্বর এ কাজ করেছেন, যেন মানুষ তাঁর অন্বেষণ করে এবং সম্ভব হলে, পথ অনুসন্ধান করে তাঁর সন্ধান পায়, যদিও তিনি আমাদের কারও কাছ থেকে দূরে থাকেন না।
[28] কারণ তাঁর মধ্যেই নিহিত আছে আমাদের প্রাণ, আমাদের জীবনাচরণ ও আমাদের অস্তিত্ব। যেমন আপনাদেরই কয়েকজন কবি বলেছেন, ‘আমরা তাঁর বংশ।’
[29] “অতএব, আমরা যখন ঈশ্বরের বংশ, আমাদের এরকম চিন্তা করা উচিত নয় যে, ঐশ্বরিক সত্তা মানুষের কলাকুশলতা ও কল্পনা-প্রসূত তৈরি করা সোনা, রুপো বা পাথরের কোনও প্রতিমূর্তি।
[30] অতীতকালে ঈশ্বর এই প্রকার অজ্ঞতাকে উপেক্ষা করেছেন, কিন্তু এখন তিনি সর্বস্থানের সব মানুষকে মন পরিবর্তনের আদেশ দিচ্ছেন।
[31] কারণ তিনি একটি দিন নির্ধারিত করেছেন, যখন তিনি তাঁর নিযুক্ত এক ব্যক্তির দ্বারা ন্যায়ে জগতের বিচার করবেন। মৃত্যু থেকে তাঁকে উত্থাপিত করে সব মানুষের কাছে তিনি তার প্রমাণ দিয়েছেন।”
[32] যখন তারা মৃতদের পুনরুত্থানের কথা শুনল, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন উপহাসসূচক মন্তব্য করল। কিন্তু অন্যেরা বলল, “আমরা আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে আবার শুনতে চাই।”
[33] একথা শুনে পৌল সভা ত্যাগ করে চলে গেলেন।
[34] অল্প কয়েকজন ব্যক্তি পৌলের অনুসারী হলেন ও বিশ্বাস করলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আরেয়পাগের সদস্য দিয়নুষিয়, দামারি নামে এক মহিলা এবং আরও অনেক ব্যক্তি।