[1] যিহূদিয়া থেকে কয়েকজন ব্যক্তি আন্তিয়খে এসে বিশ্বাসীদের শিক্ষা দিচ্ছিল, “মোশি যে-প্রথার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী সুন্নত না করলে, তোমরা পরিত্রাণ পাবে না।”
[2] এই ঘটনায় পৌল ও বার্ণবার সঙ্গে তাদের তুমুল মতবিরোধ ও তর্কবিতর্ক দেখা দিল। সেই কারণে ঠিক হল, এই প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য পৌল ও বার্ণবা, আরও কয়েকজন বিশ্বাসীর সঙ্গে জেরুশালেমে যাবেন এবং প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের কাছে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
[3] মণ্ডলী তাঁদের যাত্রাপথে প্রেরণ করলেন। ফিনিসিয়া ও শমরিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে অইহুদি মানুষেরা পরিবর্তিত হয়েছিল, তাঁরা সেকথা বর্ণনা করলেন। এই সংবাদে ভ্রাতৃবৃন্দ আনন্দিত হলেন।
[4] তাঁরা যখন জেরুশালেমে এলেন, মণ্ডলী প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের সঙ্গে তাঁদের স্বাগত জানালেন। ঈশ্বর তাঁদের মাধ্যমে যে সমস্ত কর্ম সাধন করেছিলেন, তাঁরা সেকথা তাঁদের জানালেন।
[5] তখন ফরিশী-দলভুক্ত কয়েকজন বিশ্বাসী উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “অইহুদিদের অবশ্যই সুন্নত করতে হবে এবং তাদের মোশির বিধানও পালন করা প্রয়োজন।”
[6] প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনেরা এই প্রশ্নের আলোচনার জন্য মিলিত হলেন।
[7] বহু আলাচনার পর, পিতর উঠে দাঁড়িয়ে, তাঁদের উদ্দেশে বললেন, “ভাইরা, আপনারা জানেন যে, কিছুকাল পূর্বে ঈশ্বর আপনাদের মধ্য থেকে আমাকে মনোনীত করেছিলেন, যেন অইহুদিরা আমার মুখ থেকে সুসমাচারের বার্তা শুনে বিশ্বাস করে।
[8] ঈশ্বর, যিনি অন্তর্যামী, তিনি তাদের গ্রহণ করেছেন প্রমাণ করার জন্য, আমাদের ক্ষেত্রে যেমন করেছিলেন, তেমনই তাদেরও পবিত্র আত্মা দান করলেন।
[9] আমাদের ও তাদের মধ্যে তিনি কোনও প্রভেদ রাখেননি, কারণ তিনি বিশ্বাসের দ্বারা তাদের হৃদয় শুচিশুদ্ধ করেছেন।
[10] তাহলে এখন, কেন আপনারা শিষ্যদের কাঁধে সেই জোয়াল চাপিয়ে দিয়ে, ঈশ্বরকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করছেন, যেটি আমরা বা আমাদের পিতৃপুরুষেরা বহন করতে পারিনি?
[11] না! আমরা বিশ্বাস করি, প্রভু যীশুর অনুগ্রহের মাধ্যমেই আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি, ঠিক যেমন তারাও পেয়েছে।”
[12] সমস্ত মণ্ডলী নীরবে শুনছিল, যখন বার্ণবা ও পৌল অইহুদিদের মধ্যে, তাঁদের মাধ্যমে ঈশ্বর যেসব অলৌকিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর কর্ম সম্পাদন করেছিলেন, সেসব বর্ণনা করছিলেন।
[13] তাঁদের কথা শেষ হলে, যাকোব বলে উঠলেন, “ভাইয়েরা, আমার কথা শুনুন।
[14] শিমোন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ঈশ্বর তাঁর নিজের জন্য অইহুদিদের মধ্য থেকে নিজের প্রজা সংগ্রহের উদ্দেশে কীভাবে প্রথমে তাঁর আগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন।
[15] ভাববাদীদের বাণীর সঙ্গে এর মিল আছে, যেমন লিখিত আছে:
[16] “ ‘এরপর আমি ফিরে আসব ও দাউদের পতিত হওয়া তাঁবু গাঁথব পুনরায়। এর ধ্বংসাবশেষকে আমি করব পুননির্মাণ এবং তা আমি করব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত,
[17] যেন লোকেদের অবশিষ্টাংশ এবং আমার নাম বহনকারী সমস্ত অইহুদি জাতি করতে পারে প্রভুর অন্বেষণ, একথা বলেন প্রভু, যিনি করেন এ সমস্ত সাধন’
[18] বহুকাল আগে যা তিনি করেছেন ব্যক্ত।
[19] “অতএব আমার বিচার এই, যে সমস্ত অইহুদি ঈশ্বরের অভিমুখ হচ্ছে, আমরা তাদের কষ্ট দেব না।
[20] বরং আমরা পত্র লিখে তাদের জানিয়ে দেব, যেন তারা প্রতিমাদের দ্বারা কলুষিত খাদ্যদ্রব্য, অবৈধ যৌন-সংসর্গ, শ্বাসরোধ করে মারা প্রাণীর মাংস ও রক্ত ভোজন করা থেকে বিরত থাকে।
[21] কারণ প্রাচীনকাল থেকে প্রতিটি নগরেই মোশির বিধান প্রচার করা হয় এবং প্রতি বিশ্রামবারে তা সমাজভবনগুলিতে পঠিত হয়।”
[22] তখন প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনেরা, সমস্ত মণ্ডলীর সঙ্গে স্থির করলেন, তাঁদের নিজস্ব কয়েকজন ব্যক্তিকে মনোনীত করে, পৌল ও বার্ণবার সঙ্গে তাঁদের আন্তিয়খে প্রেরণ করবেন। তাঁরা ভ্রাতৃবর্গের মধ্যে নেতৃস্থানীয় দুজনকে (বার্শব্বা নামেও অভিহিত) যিহূদা ও সীলকে মনোনীত করলেন।
[23] তাঁদের মারফত তাঁরা নিম্নলিখিত পত্রটি প্ররণ করলেন: আন্তিয়খ, সিরিয়া ও কিলিকিয়ার অইহুদি বিশ্বাসিগণকে, ভ্রাতৃবৃন্দ, প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনগণ, আমরা আপনাদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
[24] “আমরা শুনলাম যে, আমাদের অনুমোদন ছাড়াই আমাদের মধ্য থেকে কয়েকজন, তাঁদের কথাবার্তার দ্বারা আপনাদের মনকে অস্থির ও বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে।
[25] তাই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকজনকে মনোনীত করে আমাদের প্রিয় বন্ধু বার্ণবা ও পৌলের সঙ্গে আপনাদের কাছে প্রেরণ করছি।
[26] এই ব্যক্তিরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামের জন্য তাঁদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
[27] অতএব, আমরা যা লিখছি, তা মুখে আপনাদের কাছে জ্ঞাপন করার জন্য আমরা যিহূদা ও সীলকে প্রেরণ করছি।
[28] পবিত্র আত্মা ও আমাদের কাছে এ বিষয়ে বিহিত মনে হয়েছে, নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি ছাড়া, আমরা যেন আর কোনো বিষয়েই আপনাদের ভারগ্রস্ত না করি।
[29] আপনারা দেবমূর্তিদের কাছে উত্সর্গীকৃত আহার্য-দ্রব্য, রক্ত, শ্বাসরোধ করে মারা প্রাণীর মাংস এবং অবৈধ যৌন-সংসর্গ থেকে নিবৃত্ত থাকবেন। এই সমস্ত বিষয় এড়িয়ে চললে আপনাদের মঙ্গল হবে। বিদায়।”
[30] সেই ব্যক্তিদের বিদায় দেওয়া হলে তাঁরা আন্তিয়খে উপস্থিত হলেন। তাঁরা সেখানে মণ্ডলীকে সমবেত করে পত্রখানি দিলেন।
[31] লোকেরা তা পাঠ করে তার উৎসাহজনক বার্তার জন্য আনন্দিত হলেন।
[32] যিহূদা ও সীল, যাঁরা নিজেরাও ভাববাদী ছিলেন, বিশ্বাসীদের উৎসাহ দান ও শক্তি সঞ্চার করার জন্য অনেক কথা বললেন।
[33] কিছুকাল সেখানে অতিবাহিত করার পর, বিশ্বাসীরা শান্তিকামনার আশীর্বাদসহ তাঁদের বিদায় দিলেন, যেন যাঁরা তাঁদের পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে তাঁরা ফেরত যান।
[34] কিন্তু সীল সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
[35] কিন্তু পৌল ও বার্ণবা আন্তিয়খে থেকে গেলেন, যেখানে তাঁরা এবং অন্য আরও অনেকে প্রভুর বাক্য শিক্ষাদানে ও প্রচারে ব্যাপৃত থাকলেন।
[36] কিছু দিন পর পৌল বার্ণবাকে বললেন, “যে সমস্ত নগরে আমরা প্রভুর বাক্য প্রচার করেছি, চলো সেখানে ফিরে গিয়ে ভ্রাতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং দেখি, তারা কেমন আছে।”
[37] বার্ণবা চাইলেন যোহনকে, যাকে মার্ক বলেও ডাকা হত, তাঁকে সঙ্গে নিতে।
[38] কিন্তু পৌল তাঁকে নেওয়া উপযুক্ত হবে বলে মনে করলেন না, কারণ তিনি পাম্ফুলিয়ায় তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন, সেই কাজে তাঁদের সহায়তা করেননি।
[39] এতে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ এমন তীব্র আকার ধারণ করল যে, তাঁরা দল পৃথক করলেন। বার্ণবা মার্ককে সঙ্গে নিয়ে জাহাজে সাইপ্রাস অভিমুখে যাত্রা করলেন,
[40] কিন্তু পৌল, সীলকে মনোনীত করে প্রভুর অনুগ্রহে সেখানকার ভ্রাতৃবৃন্দের দ্বারা সমর্পিত হয়ে প্রস্থান করলেন।
[41] তিনি সিরিয়া ও কিলিকিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় মণ্ডলীগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুললেন।