[1] একদিন প্রার্থনার নির্দিষ্ট সময়ে, বেলা তিনটের সময়, পিতর ও যোহন একসঙ্গে মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন।
[2] এমন সময়ে এক জন্মখঞ্জ ব্যক্তিকে মন্দিরের সুন্দর নামক দ্বারের দিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যারা মন্দির-প্রাঙ্গণে যেত, তাদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য তাকে রোজ সেখানে বসিয়ে রাখা হত।
[3] সে যখন পিতর ও যোহনকে মন্দিরে প্রবেশ করতে উদ্যত দেখল, সে তাদের কাছে অর্থ ভিক্ষা করল।
[4] পিতর সোজা তার দিকে তাকালেন, যোহনও তাই করলেন। তখন পিতর বললেন, “আমাদের দিকে তাকাও!”
[5] এতে লোকটি তাঁদের প্রতি দৃষ্টি করল, সে তাঁদের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করছিল।
[6] তখন পিতর বললেন, “সোনা কি রুপো আমার কাছে নেই, কিন্তু আমার কাছে যা আছে, আমি তাই তোমাকে দান করি। তুমি নাসরতের যীশু খ্রীষ্টের নামে হেঁটে বেড়াও।”
[7] তার ডান হাত ধরে তিনি তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন, সঙ্গে সঙ্গে মানুষটির দু পা ও গোড়ালি সবল হয়ে উঠল।
[8] সে তার পায়ে লাফ দিয়ে উঠল ও চলে বেড়াতে লাগল। তারপর সে চলতে চলতে, লাফ দিতে দিতে ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে তাঁদের সঙ্গে মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করল।
[9] সব লোক তাকে যখন চলতে ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে দেখল,
[10] তারা তাকে চিনতে পারল যে, সে সেই মানুষ, যে সুন্দর নামে আখ্যাত মন্দির-দ্বারে বসে ভিক্ষা চাইত। তার প্রতি যা ঘটেছে, তা দেখে তারা চমৎকৃত ও বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ল।
[11] ভিক্ষুকটি পিতর ও যোহনের কাছে ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়েছিল। সব লোক বিস্মিত হল। তারা সবাই শলোমনের অলিন্দ নামক স্থানে তাঁদের কাছে দৌড়ে এল।
[12] পিতর যখন তা দেখলেন, তিনি তাদের বললেন, “ইস্রায়েলী জনগণ, এই ঘটনায় আপনারা বিস্মিত হচ্ছেন কেন? কেনই বা আমাদের দিকে এমন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, যেন আমরা নিজস্ব ক্ষমতায় বা পুণ্যবলে এই মানুষটিকে চলার শক্তি দিয়েছি?
[13] অব্রাহাম, ইস্হাক ও যাকোবের ঈশ্বর, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, তাঁর সেবক সেই যীশুকে গৌরবান্বিত করেছেন। আপনারা তাঁকে হত্যা করার জন্য সমর্পণ করেছিলেন এবং পীলাতের বিচারালয়ের সমক্ষে তাঁকে অস্বীকার করেছিলেন, যদিও তিনি তাঁকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন।
[14] আপনারা সেই পবিত্র ও ধার্মিক জনকে অস্বীকার করে চেয়েছিলেন, যেন এক নরহন্তাকে আপনাদের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়।
[15] যিনি জীবনের স্রষ্টা, আপনারা তাঁকে হত্যা করেছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন। আমরা এই ঘটনার সাক্ষী।
[16] আপনারা এই যে মানুষটিকে দেখছেন ও জানেন, যীশুর নামে বিশ্বাস করেই সে শক্তিমন্ত হয়েছে। যীশুর নাম ও তাঁর মাধ্যমে যে বিশ্বাস দত্ত হয়েছে, তার দ্বারা সে সম্পূর্ণ আরোগ্যতা লাভ করেছে, যেমন আপনারা সবাই দেখছেন।
[17] “এখন ভাইয়েরা, আমি জানি, আপনাদের নেতাদের মতো আপনারাও অজ্ঞতাবশত কাজ করেছিলেন।
[18] কিন্তু ঈশ্বর তা এভাবেই পূর্ণ করেছেন, যা তিনি তাঁর সব ভাববাদীর দ্বারা পূর্বঘোষণা করেছিলেন, বলেছিলেন যে তাঁর মশীহ কষ্টভোগ করবেন।
[19] সুতরাং, এখন আপনারা মন পরিবর্তন করুন ও ঈশ্বরের প্রতি ফিরুন, যেন আপনাদের পাপসমূহ মুছে ফেলা হয় ও প্রভুর কাছ থেকে পুনরুজ্জীবনের সময় আসে।
[20] আর তিনি যেন সেই মশীহকে প্রেরণ করেন, অর্থাৎ যীশুকে, যাঁকে আপনাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে।
[21] তাঁকে সেই সময় পর্যন্ত স্বর্গে থাকতেই হবে, যতক্ষণ না সবকিছু পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য ঈশ্বরের সময় উপস্থিত হয়, যেমন তিনি তাঁর পবিত্র ভাববাদীদের মাধ্যমে বহুকাল আগে প্রতিশ্রুতি দান করেছিলেন।
[22] কারণ মোশি বলেছেন, ‘প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদেরই স্বজাতি থেকে আমার মতো এক ভাববাদীকে উত্থিত করবেন। তিনি তোমাদের যা বলেন, তোমরা অবশ্যই সেইসব কথায় কর্ণপাত কোরো।
[23] কোনো ব্যক্তি তাঁর কথা যদি না শোনে, সে তার আপনজনদের মধ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছিন্ন হবে।’
[24] “প্রকৃতপক্ষে শমূয়েল থেকে শুরু করে যতজন ভাববাদী কথা বলেছেন, তাঁরা এই কালের বিষয়েই পূর্বঘোষণা করেছিলেন।
[25] আর আপনারা হলেন সেই ভাববাদীদের উত্তরাধিকারী এবং আপনাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে কৃত নিয়মের উত্তরাধিকারী। ঈশ্বর অব্রাহামকে বলেছিলেন, ‘তোমার বংশের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত জাতি আশীর্বাদ লাভ করবে।’
[26] যখন ঈশ্বর তাঁর সেবককে উত্থাপিত করলেন, তিনি তাঁকে প্রথমে আপনাদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যেন আপনাদের প্রত্যেকজনকে আপনাদের দুষ্টতার জীবনাচরণ থেকে ফিরিয়ে আশীর্বাদ করতে পারেন।”