Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:08

[1] সেই প্রদেশে উপস্থিত হওয়ার তিনি দিন পর ফীষ্ট কৈসরিয়া থেকে জেরুশালেমে গেলেন।

[2] সেখানে প্রধান যাজকেরা ও ইহুদি নেতৃবৃন্দ তাঁর নিকটে উপস্থিত হয়ে পৌলের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ উপস্থাপিত করলেন।

[3] তাঁরা ফীষ্টের কাছে জরুরি অনুরোধ জানালেন যেন, তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে পৌলকে জেরুশালেমে স্থানান্তরিত করেন, কারণ তাঁরা পথিমধ্যেই পৌলকে হত্যা করার জন্য ওত পাতার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

[4] ফীষ্ট উত্তর দিলেন, “পৌল কৈসরিয়াতে বন্দি আছে, আমিও স্বয়ং শীঘ্রই সেখানে যাচ্ছি।

[5] আপনাদের কয়েকজন নেতা আমার সঙ্গে চলুন, সেই লোকটি কোনো অন্যায় করে থাকলে, আপনারা সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করবেন।”

[6] সেখানে তাঁদের সঙ্গে আট-দশদিন কাটিয়ে, তিনি কৈসরিয়ায় চলে গেলেন। পরের দিন-ই তিনি বিচারসভা আহ্বান করলেন এবং আদেশ দিলেন যেন পৌলকে তাঁর সামনে নিয়ে আসা হয়।

[7] পৌল উপস্থিত হলে, জেরুশালেম থেকে আগত ইহুদিরা তাঁর চারপাশে দাঁড়াল। তারা তাঁর বিরুদ্ধে বহু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করতে লাগল, কিন্তু কোনো প্রমাণ দিতে পারল না।

[8] তখন পৌল আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন: “আমি ইহুদিদের বিধানের বিরুদ্ধে বা মন্দিরের বিরুদ্ধে বা কৈসরের বিরুদ্ধে কোনও অন্যায় করিনি।”

[9] ফীষ্ট ইহুদিদের প্রতি সুবিধা প্রদানের ইচ্ছায় পৌলকে বললেন, “তুমি কি জেরুশালেমে গিয়ে এসব অভিযোগের জন্য আমার সাক্ষাতে বিচারের জন্য দাঁড়াতে চাও?”

[10] পৌল উত্তর দিলেন, “আমি এখন কৈসরের বিচারালয়ে দাঁড়িয়ে আছি, আমার বিচার এখানেই হওয়া উচিত। আপনি স্বয়ং ভালোভাবেই জানেন যে, আমি ইহুদিদের প্রতি কোনও অন্যায় করিনি।

[11] তা সত্ত্বেও, যদি আমি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য কোনও অপরাধ করে থাকি, তাহলে মৃত্যুবরণ করতে অস্বীকার করি না। কিন্তু ইহুদিদের দ্বারা আনীত এসব অভিযোগ যদি সত্যি না হয়, তাহলে আমাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। আমি কৈসরের কাছে আপিল করছি।”

[12] ফীষ্ট তাঁর মন্ত্রণা-পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই রায় ঘোষণা করলেন, “তুমি কৈসরের কাছে আপিল করেছ, তুমি কৈসরের কাছেই যাবে।”

[13] কয়েক দিন পর রাজা আগ্রিপ্প ও বার্নিস, ফীষ্টকে তাঁদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার জন্য কৈসরিয়ায় উপস্থিত হলেন।

[14] সেখানে তাঁরা বেশ কিছু দিন অতিবাহিত করার সময়, ফীষ্ট রাজার সঙ্গে পৌলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “এখানে এক ব্যক্তি আছে, যাকে ফীলিক্স বন্দি রেখে গেছেন।

[15] আমি যখন জেরুশালেমে গেলাম, প্রধান যাজকেরা ও ইহুদিদের প্রাচীনেরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তার দণ্ডাদেশ চেয়েছিল।

[16] “আমি তাদের বললাম যে, কোনো মানুষকে সমর্পণ করা রোমীয়দের প্রথা নয়, যতক্ষণ না সে তার অভিযোগকারীদের সম্মুখীন হয় ও তাদের উত্থাপিত অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করে।

[17] তারা যখন এখানে আমার সঙ্গে এল, আমি মামলাটি নিয়ে কালবিলম্ব করলাম না, কিন্তু পরের দিন-ই বিচারসভা আহ্বান করে সেই মানুষটিকে নিয়ে আসার আদেশ দিলাম।

[18] অভিযোগকারীরা কথা বলতে উঠে দাঁড়ালে, আমি যে-রকম আশা করেছিলাম, তারা সে-ধরনের কোনও অভিযোগ উত্থাপন করল না।

[19] বরং, তারা তাদের নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত বিষয় এবং পৌল যাকে জীবিত বলে দাবি করে, সেই যীশু নামে এক মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে তার সঙ্গে তর্কবিতর্কের প্রসঙ্গ উত্থাপন করল।

[20] এধরনের বিষয়গুলি কীভাবে অনুসন্ধান করতে হবে, তা বুঝতে না-পেরে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এসব অভিযোগের বিচারের জন্য সে জেরুশালেম যেতে ইচ্ছুক কি না।

[21] পৌল যখন সম্রাটের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য আপিল করল, কৈসরের কাছে প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি তাকে আবদ্ধ রাখারই আদেশ দিলাম।”

[22] তখন আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, “আমি নিজে এই লোকটির কথা শুনতে চাই।” তিনি উত্তর দিলেন, “আগামীকাল-ই আপনি তার কথা শুনবেন।”

[23] পরদিন আগ্রিপ্প ও বার্নিস, মহাসমারোহের সঙ্গে সেখানে এলেন ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের ও নগরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সভাকক্ষে প্রবেশ করলেন। ফীষ্টের আদেশে পৌলকে সেখানে নিয়ে আসা হল।

[24] ফীষ্ট বললেন, “মহারাজ আগ্রিপ্প ও আমাদের সঙ্গে উপস্থিত সকলে, আপনারা এই মানুষটিকে দেখতে পাচ্ছেন! সমস্ত ইহুদি সম্প্রদায় জেরুশালেমে ও এখানে এই কৈসরিয়ায় আমার কাছে এর বিরুদ্ধে আবেদন করেছে, চিৎকার করে বলেছে যে, এর আর বেঁচে থাকা উচিত নয়।

[25] আমি দেখেছি, এ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোনও অপরাধ করেনি, কিন্তু যেহেতু সে সম্রাটের কাছে তার আপিল করেছে, আমি তাকে রোমে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

[26] কিন্তু মহামহিমের কাছে তার সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে লেখার কিছু নেই। সেই কারণে, তাকে আমি আপনাদের সকলের কাছে, বিশেষভাবে মহারাজ আগ্রিপ্প, আপনার কাছে নিয়ে এসেছি, যেন এই তদম্তের ফলে আমি তার বিষয়ে লেখার কিছু সূত্র পাই।

[27] কারণ আমি মনে করি, এই যেসব বিষয়ে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, কোনও বন্দির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাকে প্রেরণ করা যুক্তিসম্মত নয়।”

প্রেরিত — Chapters