Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:14

[1] পিতর ও যোহন যখন জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলছিলেন, সেই সময় যাজকেরা, মন্দিরের রক্ষীপ্রধান ও সদ্দূকীরা তাঁদের কাছে এলেন।

[2] তাঁরা অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন, কারণ প্রেরিতশিষ্যেরা লোকদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং যীশুর মাধ্যমেই মৃতলোক থেকে পুনরুত্থানের কথা প্রচার করছিলেন।

[3] তাঁরা পিতর ও যোহনকে গ্রেপ্তার করলেন, আর সন্ধ্যা হয়েছিল বলে তাঁরা পরদিন পর্যন্ত তাঁদের কারাগার আবদ্ধ রাখলেন।

[4] কিন্তু যারা বাণী শুনেছিল, তাদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাস করল এবং পুরুষদের সংখ্যাবৃদ্ধি পেয়ে প্রায় পাঁচ হাজার হল।

[5] পরের দিন শাসকেরা, প্রাচীনবর্গ ও বিধানের শিক্ষকেরা জেরুশালেমে মিলিত হলেন।

[6] মহাযাজক হানন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, আর ছিলেন কায়াফা, যোহন, আলেকজাণ্ডার ও মহাযাজকের পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তিরাও।

[7] তাঁরা পিতর ও যোহনকে তাঁদের কাছে তলব করে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, “কোন শক্তিতে বা কী নামে তোমরা এই কাজ করেছ?”

[8] তখন পিতর, পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁদের বললেন, “শাসকেরা ও সমাজের প্রাচীনবর্গ!

[9] একজন পঙ্গু মানুষের প্রতি করুণা প্রদর্শনের জন্য যদি আজ আমাদের জবাবদিহি করতে বলা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে, সে কীভাবে আরোগ্য লাভ করল,

[10] তাহলে আপনারা ও ইস্রায়েলের সব মানুষ একথা জেনে নিন: যাঁকে আপনারা ক্রুশার্পিত করেছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর যাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত করেছেন, নাসরতের সেই যীশু খ্রীষ্টের নামে এই মানুষটি সুস্থ হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

[11] তিনিই “ ‘সেই প্রস্তর, যাঁকে আপনারা, অর্থাৎ স্থপতিরা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তিনিই হয়ে উঠেছেন কোণের প্রধান প্রস্তর।’

[12] আর অন্য কারও কাছে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না, কারণ আকাশের নিচে, মানবকুলের মধ্যে এমন আর কোনো নাম প্রদত্ত হয়নি, যার দ্বারা আমরা অবশ্য পরিত্রাণ পেতে পারি।”

[13] তাঁরা যখন পিতর ও যোহনের সাহসিকতা দেখলেন ও উপলব্ধি করলেন যে তাঁরা ছিলেন অ-শিক্ষাপ্রাপ্ত, সাধারণ মানুষ, তাঁরা বিস্মিত হলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন যে এই লোকেরা যীশুর সঙ্গে ছিলেন।

[14] কিন্তু যে মানুষটি আরোগ্য লাভ করেছিল, তাকে তাঁদের সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তাঁদের বলার মতো আর কিছুই ছিল না।

[15] সেই কারণে তাঁরা তাঁদের মহাসভা থেকে বাইরে যেতে বললেন এবং তারপর একত্রে শলাপরামর্শ করতে লাগলেন।

[16] তাঁরা প্রশ্ন করলেন, “এই লোকগুলিকে নিয়ে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব? জেরুশালেমে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই জানে যে, তারা এক নজিরবিহীন অলৌকিক চিহ্নকর্ম সম্পন্ন করেছে, আর আমরা তা অস্বীকার করতে পারি না।

[17] কিন্তু এই বিষয় লোকদের মধ্যে যেন আর ছড়িয়ে না পড়ে, আমরা অবশ্যই এই লোকগুলিকে সতর্ক করে দেব, তারা যেন এই নামে আর কারও কাছে আর কোনো কথা না বলে।”

[18] তাঁরা তখন আবার তাঁদের ভেতরে ডেকে পাঠালেন ও আদেশ দিলেন, তাঁরা যেন যীশুর নামে আদৌ আর কোনো কথা না বলেন, বা শিক্ষা না দেন।

[19] কিন্তু পিতর ও যোহন উত্তর দিলেন, “আপনারা নিজেরাই বিচার করুন, ঈশ্বরের কথা শোনার চেয়ে আপনাদের কথা শোনা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ন্যায়সঙ্গত কি না।

[20] কারণ আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি, তা না বলে থাকতে পারি না।”

[21] পরে আরও কিছু ভীতি প্রদর্শনের পর তাঁরা তাঁদের যেতে দিলেন। তাঁরা স্থির করতে পারলেন না, কীভাবে তাঁদের শাস্তি দেবেন, কারণ যা ঘটেছিল, সেই কারণে সব মানুষই ঈশ্বরের প্রশংসা-স্তব করছিল।

[22] আর যে মানুষটি অলৌকিকভাবে আরোগ্য লাভ করেছিল, তার বয়স ছিল চল্লিশ বছরেরও বেশি।

[23] তাঁরা মুক্তিলাভের পর, পিতর ও যোহন, তাঁদের নিজেদের লোকজনের কাছে ফিরে গেলেন এবং প্রধান যাজকেরা ও প্রাচীনবর্গ, যা কিছু তাঁদের বলেছিলেন, সেই সংবাদ তাঁদের দিলেন।

[24] তাঁরা যখন একথা শুনলেন, তাঁরা সম্মিলিতভাবে উচ্চকণ্ঠে প্রার্থনায় ঈশ্বরের উদ্দেশে বলতে লাগলেন, “হে সর্বাধিপতি প্রভু, তুমিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং সমুদ্র ও সেগুলির মধ্যে স্থিত সমস্ত কিছু তৈরি করেছ।

[25] তুমি, তোমার দাস, আমাদের পিতৃপুরুষ দাউদের মাধ্যমে, পবিত্র আত্মার দ্বারা বলেছিলে, “ ‘কেন জাতিগণ চক্রান্ত করে আর লোকেরা কেন বৃথাই সঙ্কল্প করে?

[26] পৃথিবীর রাজারা উদিত হয় এবং শাসকেরা সংঘবদ্ধ হয়, সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ও তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।’

[27] সত্যিই হেরোদ ও পন্তীয় পীলাত পরজাতিদের ও ইস্রায়েলী জনগণের সঙ্গে এই নগরে মিলিত হয়ে তোমার সেই পবিত্র সেবক যীশুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, যাঁকে তুমি অভিষিক্ত করেছিলে।

[28] তারা তাই করেছিল, যা তোমার পরাক্রম ও ইচ্ছা অবশ্যই ঘটবে বলে পূর্ব থেকে স্থির করেছিল।

[29] এখন প্রভু, ওদের ভীতি প্রদর্শনের কথা বিবেচনা করে অসমসাহসিকতার সঙ্গে তোমার বাক্য বলার জন্য তোমার এই দাসেদের সক্ষমতা দাও।

[30] তোমার পবিত্র সেবক যীশুর নামের মাধ্যমে রোগনিরাময় ও অলৌকিক সব নিদর্শন এবং বিস্ময়কর কর্মগুলি সম্পন্ন করতে তোমার হস্ত প্রসারিত করো।”

[31] তাঁদের প্রার্থনা সমাপ্ত হলে, তাঁরা যে-স্থানে মিলিত হয়েছিলেন, তা কেঁপে উঠল। আর তাঁরা সকলেই পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন এবং সাহসের সঙ্গে ঈশ্বরের বাক্য বলতে লাগলেন।

[32] বিশ্বাসীরা সকলেই ছিলেন একচিত্ত ও সমমনা। কেউই তাঁর সম্পত্তির কোনো অংশ নিজের বলে দাবি করতেন না। কিন্তু তাঁদের যা কিছু ছিল, তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।

[33] প্রেরিতশিষ্যেরা মহা-পরাক্রমের সঙ্গে প্রভু যীশুর পুনরুত্থান সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে লাগলেন এবং তাঁদের সকলের উপরে প্রচুর অনুগ্রহ বিরাজমান ছিল।

[34] তাঁদের মধ্যে অভাবগ্রস্ত কেউই ছিল না। কারণ, সময়ে সময়ে, যাদের ভূসম্পত্তি বা বাড়িঘর ছিল, তারা সেগুলি বিক্রি করে, সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ এনে

[35] প্রেরিতশিষ্যদের চরণে রাখত। পরে যার যেমন প্রয়োজন হত, তাকে সেই অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হত।

[36] আর যোষেফ নামে সাইপ্রাসের একজন লেবীয়, যাঁকে প্রেরিতশিষ্যেরা বার্ণবা (নামটির অর্থ, উৎসাহের সন্তান) নামে অভিহিত করতেন,

[37] তাঁর মালিকানাধীন একটি ক্ষেত্র তিনি বিক্রি করে সেই অর্থ নিয়ে এলেন ও প্রেরিতশিষ্যদের চরণে তা রাখলেন।

প্রেরিত — Chapters