Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 14:21

[1] তখন মহাযাজক স্তিফানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এসব অভিযোগ কি সত্যি?”

[2] এর উত্তরে তিনি বললেন, “ভাইরা ও পিতৃসম ব্যক্তিরা, আমার কথা শুনুন। আমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম, হারণে বসবাস করার পূর্বে তিনি যখন মেসোপটেমিয়ায় অবস্থিতি করছিলেন, তখন প্রতাপের ঈশ্বর তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

[3] ঈশ্বর বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার স্বদেশ ও তোমার আপনজনদের ত্যাগ করো এবং আমি যে দেশ তোমাকে দেখাব, সেই দেশে যাও।’

[4] “তাই তিনি কলদীয়দের ভূমি ত্যাগ করে হারণে গিয়ে বসতি স্থাপন করলেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ঈশ্বর তাঁকে এই দেশে প্রেরণ করলেন, যেখানে এখন আপনারা বসবাস করছেন।

[5] তিনি তাঁকে এখানে কোনও অধিকার, এমনকি, পা রাখার মতো একখণ্ড জমিও দান করেননি। কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ও তাঁর পরে তাঁর উত্তরপুরুষেরা সেই দেশের অধিকারী হবেন, যদিও সেই সময় অব্রাহামের কোনো সন্তান ছিল না।

[6] ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে এভাবে কথা বলেছিলেন, ‘তোমার উত্তরপুরুষেরা এমন এক দেশে প্রবাসী হবে, যা তাদের নিজস্ব নয়। তারা সেখানে দাসত্ব শিকলে আবদ্ধ হবে ও চারশো বছর তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা হবে।

[7] কিন্তু যে জাতির তারা দাসত্ব করবে, আমি সেই জাতিকে শাস্তি দেব।’ ঈশ্বর বলেছিলেন, ‘এরপর তারা সেই দেশ থেকে বহির্গত হবে ও এই স্থানে এসে আমার আরাধনা করবে।’

[8] তারপর তিনি অব্রাহামকে নিয়মের চিহ্নস্বরূপ সুন্নতের সংস্কার দান করলেন। আর অব্রাহাম, তাঁর পুত্র ইস্‌হাকের জন্ম দিলেন ও আট দিন পারে তাঁর সুন্নত করলেন। পরে ইসহাক যাকোবের জন্ম দিলেন ও যাকোব সেই বারোজন পিতৃকুলপতির জন্ম দিলেন।

[9] “যেহেতু পিতৃকুলপতিরা যোষেফের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন, তাঁরা তাঁকে মিশরে ক্রীতদাসরূপে বিক্রয় করে দিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তাঁর সহবর্তী ছিলেন।

[10] তিনি তাঁকে সমস্ত সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তিনি যোষেফকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং মিশরের রাজা ফরৌণের আনুকূল্য অর্জন করতে সক্ষমতা দিলেন। সেই কারণে, ফরৌণ তাঁকে মিশর ও তাঁর সমস্ত প্রাসাদের উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করলেন।

[11] “তারপরে সমস্ত মিশরে ও কনানে এক দুর্ভিক্ষ হল এবং ভীষণ কষ্ট উপস্থিত হল। আমাদের পিতৃপুরুষেরা খাদ্যের সন্ধান পেলেন না।

[12] যাকোব যখন শুনলেন যে মিশরে শস্য সঞ্চিত আছে, তিনি প্রথমবারের যাত্রায় আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রেরণ করলেন।

[13] তাঁদের দ্বিতীয় যাত্রায় যোষেফ তাঁর ভাইদের কাছে আত্মপরিচয় দিলেন, আর ফরৌণ যোষেফের পরিবারের বিষয়ে জানতে পারলেন।

[14] এরপরে যোষেফ, তাঁর পিতা যাকোব ও তাঁর সমগ্র পরিবারের সর্বসুদ্ধ পঁচাত্তর জনকে তাঁর কাছে ডেকে পাঠালেন।

[15] তারপরে যাকোব মিশরে গেলেন। সেখানে তাঁর ও আমাদের পিতৃপুরুষদের মৃত্যু হল।

[16] তাঁদের শবদেহগুলি শিখিমে নিয়ে আসা হল এবং অব্রাহাম শিখিমে, হমোরের পুত্রদের কাছ থেকে কিছু অর্থের বিনিময়ে যে কবর ক্রয় করেছিলেন, সেখানে তাঁদের সমাহিত করা হল।

[17] “ঈশ্বর অব্রাহামের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূর্ণ হওয়ার সময় সন্নিকট হলে, মিশরে আমাদের লোকদের সংখ্যা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেল।

[18] তারপর অন্য একজন রাজা মিশরের শাসক হলেন, যিনি যোষেফের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

[19] তিনি আমাদের জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা পূর্ণ আচরণ করলেন এবং তিনি বলপ্রয়োগ করে তাঁদের নবজাত সন্তানদের বাইরে নিক্ষেপ করতে বললেন, যেন তারা মারা যায়, এভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের উপরে অত্যাচার করলেন।

[20] “সেই সময়ে মোশির জন্ম হয়। তিনি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সুন্দর ছিলেন। তিন মাস পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতৃগৃহে প্রতিপালিত হলেন।

[21] তাঁকে যখন বাইরে রেখে দেওয়া হল, ফরৌণের কন্যা তাঁকে তুলে নিলেন ও তাঁর নিজের পুত্রের মতো তাঁকে প্রতিপালন করলেন।

[22] মোশি মিশরীয় সমস্ত জ্ঞান-বিদ্যায় শিক্ষিত হয়ে উঠলেন। কথায় ও কাজে তিনি পরাক্রমী ছিলেন।

[23] “মোশির বয়স যখন চল্লিশ বছর, তিনি তাঁর সহ-ইস্রায়েলীদের পরিদর্শন করবেন বলে স্থির করলেন।

[24] তিনি দেখলেন, তাদের একজনের প্রতি এক মিশরীয় অন্যায় আচরণ করছে। তাই তিনি তার প্রতিরক্ষায় গেলেন এবং সেই মিশরীয়কে হত্যা করে তার প্রতিশোধ নিলেন।

[25] মোশি ভেবেছিলেন যে, তাঁর স্বজাতির লোকেরা উপলব্ধি করতে পারবে যে, তাদের উদ্ধারের জন্য ঈশ্বর তাঁকে ব্যবহার করছেন, কিন্তু তারা বুঝতে পারল না।

[26] পরের দিন, দুজন ইস্রায়েলী যখন পরস্পর মারামারি করছিল, মোশি তাঁদের কাছে এলেন। তিনি এই কথা বলে তাদের পুনর্মিলনের চেষ্টা করলেন, ‘ওহে, তোমরা পরস্পর ভাই ভাই, কেন তোমরা একজন অন্যজনকে আহত করতে চাইছ?’

[27] “কিন্তু যে লোকটি অপরজনের প্রতি অন্যায় আচরণ করছিল, সে মোশিকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলল, ‘কে তোমাকে আমাদের উপরে শাসক ও বিচারকর্তারূপে নিযুক্ত করেছে?

[28] গতকাল সেই মিশরীয়টিকে যেমন হত্যা করেছিলে, আমাকেও কি তেমনই হত্যা করতে চাও?’

[29] মোশি যখন একথা শুনলেন, তিনি মিদিয়ন দেশে পলায়ন করলেন। সেখানে তিনি প্রবাসী হয়ে বসবাস করে দুই পুত্রের জন্ম দিলেন।

[30] “চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সীনয় পর্বতের নিকটবর্তী মরুপ্রান্তরে এক প্রজ্বলিত ঝোপের অগ্নিশিখায় এক স্বর্গদূত মোশিকে চাক্ষুষ দর্শন দিলেন।

[31] তিনি যখন তা দেখলেন, সেই দৃশ্যে তিনি চমৎকৃত হলেন। আরও নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করার জন্য যেই তিনি এগিয়ে গেলেন, তিনি প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন:

[32] ‘আমি তোমার পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের ঈশ্বর।’ মোশি ভয়ে কাঁপতে লাগলেন, তাকানোর মতো সাহস তাঁর রইল না।

[33] “তখন প্রভু তাঁকে বললেন, ‘তোমার চটিজুতো খুলে ফেলো; কারণ যে স্থানে তুমি দাঁড়িয়ে আছো, সেটি পবিত্র ভূমি।

[34] আমি প্রকৃতই মিশরে আমার প্রজাদের উপরে নিগ্রহ লক্ষ্য করেছি। আমি তাদের আর্তনাদ শুনেছি ও তাদের মুক্ত করার জন্যই নেমে এসেছি। এখন এসো, আমি তোমাকে মিশরে ফেরত পাঠাই।’

[35] “ইনিই সেই মোশি, যাঁকে তারা এই কথা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, ‘কে তোমাকে শাসক ও বিচারকর্তারূপে নিযুক্ত করেছে’? স্বয়ং ঈশ্বর তাঁকে তাদের শাসক ও উদ্ধারকারীরূপে প্রেরণ করেছিলেন সেই স্বর্গদূতের মাধ্যমে, যিনি ঝোপের মধ্যে তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন।

[36] তিনি তাদের মিশর থেকে বের করে আনলেন এবং মিশরে, লোহিত সমুদ্রে ও চল্লিশ বছর যাবৎ মরুপ্রান্তরে বিভিন্ন বিস্ময়কর কর্ম ও অলৌকিক চিহ্নকর্ম সম্পন্ন করলেন।

[37] “ইনিই সেই মোশি, যিনি ইস্রায়েলীদের বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর তোমাদের স্বজাতির মধ্য থেকে আমারই সদৃশ এক ভাববাদীকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করবেন।’

[38] তিনি সেই মরুপ্রান্তরে মণ্ডলীর মধ্যে ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই স্বর্গদূতের সঙ্গে, যিনি সীনয় পর্বতের উপরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং যিনি আমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গেও ছিলেন। তিনি জীবন্ত ব্যক্যসমূহ আমাদের কাছে দেওয়ার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।

[39] “কিন্তু আমাদের পিতৃপুরুষেরা মোশির আদেশ পালন করতে চাইলেন না। পরিবর্তে, তাঁরা তাঁকে অগ্রাহ্য করলেন ও মনে মনে মিশরের প্রতি ফিরেছিলেন।

[40] তাঁরা হারোণকে বললেন, ‘আমাদের আগে আগে যাওয়ার উদ্দেশে আমাদের জন্য দেবমূর্তিদের নির্মাণ করুন। এই যে মানুষটি মোশি, যিনি আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন, তাঁর কী হয়েছে, তা আমরা জানি না!’

[41] সেই সময় তাঁরা বাছুরের আকৃতিবিশিষ্ট একটি মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। তাঁরা তার কাছে বিভিন্ন নৈবেদ্য নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের হস্তনির্মিত বস্তুর সম্মানে এক আনন্দোত্সব পালন করলেন।

[42] কিন্তু ঈশ্বর বিমুখ হলেন এবং আকাশের সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজির উপাসনা করার জন্য তাঁদের সমর্পণ করলেন। ভাববাদীদের গ্রন্থে যা লেখা আছে, এ তারই সঙ্গে সহমত পোষণ করে: “ ‘হে ইস্রায়েলের কুল, মরুভূমিতে চল্লিশ বছর যাবৎ তোমরা কি আমার উদ্দেশে বলিদান ও নৈবেদ্য উত্সর্গ করেছিলে?

[43] তোমরা তুলে ধরেছিলে মোলকের সেই তাঁবু ও তোমাদের দেবতা রিফনের প্রতীক, তারকা— যে দুই মূর্তি তোমরা উপাসনার জন্য করেছিলে নির্মাণ। আমি তাই তোমাদের প্রেরণ করব নির্বাসনে,’ ব্যাবিলনের সীমানার ওপারে।

[44] “মরুপ্রান্তরে আমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে ছিল সেই সাক্ষ্য-তাঁবু। মোশি যে ছাঁচ দেখেছিলেন, সেই অনুযায়ী তাঁর প্রতি ঈশ্বরের নির্দেশমতো তা নির্মিত হয়েছিল।

[45] সেই শিবির প্রাপ্ত হওয়ার পর, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যিহোশূয়ের অধীনে তা নিয়ে এলেন, সেই দেশে, যে দেশে তাঁরা সেই ভূমি, সেখানকার ভুমিপুত্রদের কাছ থেকে অধিকার করলেন, যাদের ঈশ্বর তাঁদের সামনে থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। দাউদের আমল পর্যন্ত সেটি সেই দেশেই ছিল।

[46] তিনি ঈশ্বরের অনুগ্রহ ভোগ করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন যেন যাকোবের ঈশ্বরের জন্য একটি আবাস-স্থানের ব্যবস্থা করেন।

[47] কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শলোমন তাঁর জন্য সেই আবাস-গৃহ নির্মাণ করেন।

[48] “যাই হোক, পরাৎপর মানব-নির্মিত গৃহে বসবাস করেন না। ভাববাদী যেমন বলেন,

[49] “ ‘স্বর্গ আমার সিংহাসন ও পৃথিবী আমার পাদপীঠ। প্রভু বলেন, তোমরা আমার জন্য কী ধরনের আবাস নির্মাণ করবে? অথবা, আমার বিশ্রামস্থানই বা হবে কোথায়?

[50] আমার হস্তই কি এই সমস্ত নির্মাণ করেনি?’

[51] “শক্তগ্রীব মানুষ আপনারা, অচ্ছিন্নত্বক আপনাদের হৃদয় ও কান! আপনারাও আপনাদের পিতৃপুরুষদের মতো; আপনারা সবসময়ই পবিত্র আত্মাকে প্রতিরোধ করে থাকেন!

[52] আপনাদের পিতৃপুরুষেরা নিগ্রহ করেননি, এমন কোনও ভাববাদী কি আছেন? তাঁরা এমনকি, তাঁদেরও হত্যা করেছিলেন, যাঁরা সেই ধর্মময় পুরুষের আগমনবার্তা ঘোষণা করেছিলেন। আর এখন আপনারাও বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করেছেন—

[53] আপনারা, যাঁরা বিধান গ্রহণ করেছিলেন, যা স্বর্গদূতদের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয়েছিল, কিন্তু তা পালন করেননি।”

[54] তারা যখন একথা শুনল, তারা ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে তাঁর প্রতি দন্তঘর্ষণ করতে লাগল।

[55] কিন্তু স্তিফান, পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে স্বর্গের প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন। তিনি ঈশ্বরের মহিমা প্রত্যক্ষ করলেন ও দেখলেন, যীশু ঈশ্বরের দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

[56] তিনি বললেন, “দেখুন, আমি স্বর্গ খোলা দেখতে পাচ্ছি ও মনুষ্যপুত্র ঈশ্বরের দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।”

[57] এতে তারা তাদের কর্ণ রুদ্ধ করল এবং উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে, তারা সকলে তাঁর দিকে এগিয়ে গেল।

[58] তারা তাঁকে নগরের বাইরে টেনে নিয়ে গেল ও তাঁকে প্রস্তরাঘাত করতে লাগল। এর মধ্যে, সাক্ষীরা শৌল নামে এক যুবকের পায়ের কাছে তাদের পোশাকগুলি খুলে রাখল।

[59] তারা যখন তাঁকে প্রস্তরাঘাত করছিল, স্তিফান প্রার্থনা করলেন, “প্রভু যীশু, আমার আত্মাকে তুমি গ্রহণ করো।”

[60] তারপর তিনি নতজানু হয়ে চিৎকার করে বললেন, “প্রভু, এদের বিরুদ্ধে তুমি এই পাপ ধরো-না।” একথা বলার পর তিনি নিদ্রাগত হলেন।

প্রেরিত — Chapters