[1] কৈসরিয়াতে কর্ণীলিয় নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ইতালীয় সৈন্যবাহিনী নামে পরিচিত এক সৈন্যদলের শতসেনাপতি ছিলেন।
[2] তিনি ও তাঁর পরিবারের সকলে ভক্তিপরায়ণ ও ঈশ্বর-ভয়শীল ছিলেন। তিনি অভাবী লোকদের উদারহস্তে দান করতেন এবং নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন।
[3] একদিন অপরাহ্নে, প্রায় তিনটের সময়, তিনি এক দর্শন লাভ করলেন। তিনি স্পষ্টরূপে ঈশ্বরের এক দূতকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর কাছে এসে বললেন, “কর্ণীলিয়!”
[4] কর্ণীলিয় সভয়ে তাঁর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, কী হয়েছে?” দূত উত্তর দিলেন, “তোমার প্রার্থনাসকল ও দরিদ্রদের প্রতি সব দান, স্মরণীয় নৈবেদ্যরূপে ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হয়েছে।
[5] এখন জোপ্পায় লোক পাঠিয়ে শিমোন নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসো, যাকে পিতরও বলা হয়।
[6] সে শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়িতে আছে, যার বাড়ি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত।”
[7] তাঁর সঙ্গে যিনি কথা বলছিলেন, সেই দূত চলে যাওয়ার পর, কর্ণীলিয় তাঁর দুজন দাস ও একজন অনুগত সৈন্যকে ডেকে পাঠালেন, যে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত পরিচারক।
[8] তিনি তাঁদের কাছে সব ঘটনার কথা বলে তাদের জোপ্পায় পাঠিয়ে দিলেন।
[9] পরের দিন, প্রায় মধ্যাহ্নকালে, তারা যখন পথ চলতে চলতে সেই নগরের কাছাকাছি উপস্থিত হল, সেই সময়, পিতর প্রার্থনা করার জন্য ছাদের উপরে উঠে গেলেন।
[10] তাঁর খিদে পেল এবং তিনি কিছু আহার করতে চাইলেন। যখন আহার প্রস্তুত হচ্ছে, তিনি ভাবাবিষ্ট হলেন।
[11] তিনি দেখলেন, স্বর্গ খুলে গেছে এবং বিশাল চাদরের মতো একটি কিছু, তার চার প্রান্ত ধরে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
[12] তার মধ্যে ছিল সব ধরনের চতুষ্পদ প্রাণী, সেই সঙ্গে পৃথিবীর যত সরীসৃপ ও আকাশের বিভিন্ন পাখি।
[13] তখন একটি কণ্ঠস্বর তাঁকে বলল, “পিতর ওঠো, মারো ও খাও।”
[14] পিতর উত্তর দিলেন, “কিছুতেই তা হয় না প্রভু! অশুদ্ধ বা অশুচি কোনো কিছু আমি কখনও ভোজন করিনি।”
[15] সেই কণ্ঠস্বর দ্বিতীয়বার তাঁকে বলল, “ঈশ্বর যা শুচিশুদ্ধ করেছেন, তুমি তাকে অশুদ্ধ বোলো না।”
[16] এরকম তিনবার হল, আর সঙ্গে সঙ্গে সেই চাদরখানা স্বর্গে ফিরিয়ে নেওয়া হল।
[17] সেই দর্শনের কী অর্থ হতে পারে, ভেবে পিতর যখন বিস্মিত হচ্ছিলেন, কর্ণীলিয়ের প্রেরিত সেই লোকেরা শিমোনের বাড়ির সন্ধান পেল এবং দুয়ারের সামনে এসে দাঁড়াল।
[18] তারা ডাকাডাকি করে জিজ্ঞাসা করল, পিতর নামে পরিচিত শিমোন সেখানে থাকেন কি না।
[19] পিতর তখনও সেই দর্শনের বিষয়ে চিন্তা করছিলেন পবিত্র আত্মা তাঁকে বললেন, “শিমোন, তিনজন মানুষ তোমার খোঁজ করছে।
[20] তাই উঠে নিচে নেমে যাও। তাদের সঙ্গে যেতে ইতস্তত বোধ কোরো না, কারণ আমি-ই তাদের পাঠিয়েছি।”
[21] পিতর নিচে নেমে সেই লোকদের বললেন, “তোমরা যাঁর খোঁজ করছ, আমি-ই তিনি। তোমরা কেন এসেছ?”
[22] সেই লোকেরা উত্তর দিল, “আমরা শতসেনাপতি কর্ণীলিয়ের কাছ থেকে এসেছি। তিনি একজন ধার্মিক ও ঈশ্বর-ভয়শীল মানুষ। সব ইহুদিই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এক পবিত্র দূত তাঁকে বলেছেন, তিনি যেন আপনাকে তাঁর গৃহে ডাকেন ও আপনি এসে যা বলতে চান, তিনি সেকথা শোনেন।”
[23] তখন পিতর তাঁদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলেন ও তাদের আতিথ্য করলেন। পরের দিন পিতর তাদের সঙ্গে যাত্রা শুরু করলেন। জোপ্পার কয়েকজন ভাই-ও তাঁদের সঙ্গে গেলেন।
[24] তার পরদিন তিনি কৈসরিয়ায় পৌঁছালেন। কর্ণীলিয় তাঁদের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও ডেকে একত্র করেছিলেন।
[25] পিতর গৃহে প্রবেশ করা মাত্র কর্ণীলিয় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ও সম্ভ্রমবশত তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়লেন।
[26] কিন্তু পিতর তাঁকে তুলে ধরলেন ও বললেন, “উঠে দাঁড়ান, আমিও স্বয়ং একজন মানুষমাত্র!”
[27] তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পিতর ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন বহু মানুষ একত্র হয়েছে।
[28] তিনি তাদের বললেন, “আপনারা ভালোভাবেই জানেন যে, অইহুদি কোনো মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা বা তাকে পরিদর্শন করা, কোনো ইহুদির পক্ষে আমাদের বিধান-বিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে দেখিয়েছেন, আমি যেন কোনো মানুষকে অশুদ্ধ বা অশুচি না-বলি।
[29] তাই যখন আমাকে ডেকে পাঠানো হল, কোনোরকম আপত্তি না করে আমি চলে এলাম। আমি কি জিজ্ঞাসা করতে পারি, কেন আপনারা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন?”
[30] কর্ণীলিয় উত্তর দিলেন, “চারদিন আগে, এরকম সময়ে, বেলা তিনটের সময়, আমি আমার বাড়িতে প্রার্থনা করছিলাম। হঠাৎই উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
[31] তিনি বললেন, ‘কর্ণীলিয়, ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা শুনেছেন এবং দরিদ্রদের প্রতি তোমার দানসকল স্মরণ করেছেন।
[32] তুমি পিতর নামে পরিচিত শিমোনকে ডেকে আনার জন্য জোপ্পাতে লোক পাঠাও। সে শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়িতে অতিথি হয়ে আছে। তার বাড়ি সমুদ্রের তীরে।’
[33] তাই আমি সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাছে লোক পাঠালাম, আর আপনিও এসে ভালোই করেছেন। এখন আমরা সকলে এই স্থানে ঈশ্বরের সাক্ষাতে উপস্থিত হয়েছি। প্রভু আমাদের কাছে বলার জন্য আপনাকে যে আদেশ দিয়েছেন, সেই সমস্ত শোনার জন্য আমরা একত্র হয়েছি।”
[34] তখন পিতর কথা বলা শুরু করলেন: “এখন আমি বুঝতে পারছি যে, একথা কেমন সত্যি, ঈশ্বর পক্ষপাতিত্ব করেন না,
[35] কিন্তু যারাই তাঁকে ভয় করে ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করে, সেইসব জাতির মানুষকে তিনি গ্রহণ করেন।
[36] ইস্রায়েল জাতির কাছে এই হল সুসমাচারের বার্তা যে যীশু খ্রীষ্ট, যিনি সকলের প্রভু, তাঁর মাধ্যমে, ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের শান্তি স্থাপিত হয়েছে।
[37] যোহন বাপ্তিষ্মের বিষয়ে প্রচার করার পর গালীল থেকে শুরু করে সমস্ত যিহূদিয়ায় যা যা ঘটেছে, তা আপনাদের অজানা নেই—
[38] ঈশ্বর কীভাবে নাসরতের যীশুকে পবিত্র আত্মায় ও পরাক্রমে অভিষিক্ত করেছিলেন এবং কীভাবেই বা তিনি বিভিন্ন স্থানে হিতকর্ম করে বেড়াতেন ও দিয়াবলের ক্ষমতাধীন ব্যক্তিদের নিরাময় করতেন, কারণ ঈশ্বর তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
[39] “ইহুদিদের দেশে ও জেরুশালেমে তিনি যা যা করেছিলেন, আমরা সেই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী। তারা তাঁকে গাছে টাঙিয়ে হত্যা করেছিল।
[40] কিন্তু ঈশ্বর তৃতীয় দিবসে তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছিলেন এবং তাঁকে প্রত্যক্ষ হতে দিয়েছিলেন।
[41] সব মানুষই তাঁকে দেখতে পায়নি, কিন্তু ঈশ্বর যাদের পূর্ব থেকেই সাক্ষীরূপে মনোনীত করে রেখেছিলেন, সেই আমরাই মৃতলোক থেকে তাঁর উত্থাপিত হওয়ার পর তাঁকে দেখেছি ও তাঁর সঙ্গে পানাহার করেছি।
[42] তিনি সব জাতির কাছে প্রচার করতে ও সাক্ষ্য দিতে আমাদের এই আদেশ দিয়েছেন যে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যাঁকে ঈশ্বর জীবিত ও মৃতদের বিচারক হওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
[43] ভাববাদীরা সকলে তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে তাঁকে বিশ্বাস করে, সে তাঁর নামের মাধ্যমে পাপসমূহের ক্ষমা লাভ করে।”
[44] পিতর যখন এসব কথা বলছিলেন, সেই সময়, যত লোক সেই বাণী শুনছিল, তাদের উপরে পবিত্র আত্মা নেমে এলেন।
[45] সুন্নতপ্রাপ্ত যে বিশ্বাসীরা পিতরের সঙ্গে এসেছিলেন, তাঁরা অইহুদিদের উপরে পবিত্র আত্মার বরদান বর্ষিত হতে দেখে স্তম্ভিত হলেন।
[46] কারণ তাঁরা তাদের বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে ও ঈশ্বরের মহিমাকীর্তন করতে শুনলেন। তখন পিতর বললেন,
[47] “এই সমস্ত মানুষকে জলের বাপ্তিষ্ম গ্রহণে কেউ কি বাধা দিতে পারে? আমাদেরই মতো এরাও পবিত্র আত্মা লাভ করেছে।”
[48] তাই তিনি যীশু খ্রীষ্টের নামে তাদের বাপ্তাইজিত হওয়ার আদেশ দিলেন। পরে তারা পিতরকে অনুনয় করলেন, যেন তিনি আরও কিছু দিন তাদের সঙ্গে থেকে যান।