Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:14

[1] আর শৌল সেখানে তাঁর মৃত্যুর অনুমোদন করছিলেন। সেদিন, জেরুশালেমের মণ্ডলীর বিরুদ্ধে ভীষণ নির্যাতন শুরু হল। প্রেরিতশিষ্যেরা ছাড়া অন্য সকলে যিহূদিয়া ও শমরিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।

[2] ঈশ্বরভক্ত মানুষেরা স্তিফানের কবর দিল এবং তাঁর জন্য গভীর শোকপ্রকাশ করল।

[3] কিন্তু শৌল মণ্ডলী-ধ্বংসের কাজ শুরু করলেন। গৃহে গৃহে প্রবেশ করে তিনি সব নারী-পুরুষকে টেনে এনে কারাগারে তাদের নিক্ষেপ করলেন।

[4] যারা ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা যেখানেই গেল, বাক্য প্রচার করল।

[5] ফিলিপ শমরিয়ার একটি নগরে গেলেন এবং মশীহকে সেখানে প্রচার করতে লাগলেন।

[6] জনতা যখন ফিলিপের কথা শুনল ও তিনি যেসব অলৌকিক চিহ্নকার্যগুলি করছিলেন, তা দেখল, তারা তাঁর কথায় গভীর মনোনিবেশ করল।

[7] বহু মানুষের মধ্য থেকে অশুচি আত্মারা তীক্ষ্ন চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এল। বহু পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও পঙ্গু ব্যক্তিরা আরোগ্য লাভ করল।

[8] সেই কারণে, সেই নগরে মহা আনন্দ উপস্থিত হল।

[9] এখন কিছুকাল যাবৎ সেই নগরে শিমোন নামে এক ব্যক্তি জাদুবিদ্যা অভ্যাস করত এবং শমরিয়ার সব মানুষকে চমৎকৃত করত। সে নিজেকে একজন মহাপুরুষরূপে জাহির করে গর্ববোধ করত

[10] এবং উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সব মানুষ তাঁর কথা মন দিয়ে শুনত ও বলত, “এই লোকটি সেই দিব্যশক্তি, যা ‘মহাশক্তি’ নামে পরিচিত।”

[11] তারা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত, কারণ সে তার জাদুক্রিয়ার মাধ্যমে বহুদিন ধরে তাদের মুগ্ধ করে রেখেছিল।

[12] কিন্তু ফিলিপ যখন ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার ও যীশু খ্রীষ্টের নাম প্রচার করলেন, তারা তাঁকে বিশ্বাস করল এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে বাপ্তাইজিত হল।

[13] শিমোন নিজেও বিশ্বাস করে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল। আর সে সর্বত্র ফিলিপকে অনুসরণ করতে থাকল এবং মহান সব চিহ্নকর্ম ও অলৌকিক কর্মসমূহ দেখে আশ্চর্যচকিত হল।

[14] জেরুশালেমের প্রেরিতশিষ্যেরা যখন শুনলেন যে, শমরিয়া ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করেছে, তাঁরা পিতর ও যোহনকে তাঁদের কাছে প্রেরণ করলেন।

[15] তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের জন্য প্রার্থনা করলেন, যেন তারা পবিত্র আত্মা প্রাপ্ত হয়,

[16] কারণ তখনও পর্যন্ত পবিত্র আত্মা তাদের কারোরই উপরে আসেননি, তারা প্রভু যীশুর নামে কেবলমাত্র বাপ্তাইজিত হয়েছিল।

[17] তখন পিতর ও যোহন তাদের উপরে হাত রাখলেন, আর তারা পবিত্র আত্মা লাভ করল।

[18] শিমোন যখন দেখল যে প্রেরিত-শিষ্যদের হাত রাখার দ্বারা পবিত্র আত্মা দত্ত হচ্ছেন, সে তাঁদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিল

[19] ও বলল, “আমাকেও এই ক্ষমতা দিন, যেন আমিও যার উপরে হাত রাখি, সে পবিত্র আত্মা পায়।”

[20] পিতর উত্তর দিলেন, “তোমার অর্থ তোমার সঙ্গেই ধ্বংস হোক, কারণ তুমি ভেবেছ, অর্থ দিয়ে তুমি ঈশ্বরের দান ক্রয় করতে পারো!

[21] এই পরিচর্যায় তোমার কোনও ভূমিকা বা অংশ নেই, কারণ তোমার অন্তর ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সরল নয়।

[22] এই দুষ্টতার জন্য অনুতাপ করো এবং প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। হয়তো তোমার অন্তরের এধরনের চিন্তার জন্য তিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন,

[23] কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি তিক্ততায় পূর্ণ ও পাপের কাছে বন্দি আছো।”

[24] তখন শিমোন উত্তর দিল, “আমার জন্য আপনারাই প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন, যেন আপনারা যা বললেন, তার কিছুই আমার প্রতি না ঘটে।”

[25] তাঁদের সাক্ষ্যদান ও প্রভুর বাক্য প্রচার করার পর পিতর ও যোহন বিভিন্ন শমরীয় গ্রামে সুসমাচার প্রচার করলেন ও জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।

[26] ইতিমধ্যে প্রভুর এক দূত ফিলিপকে বললেন, “দক্ষিণ দিকে, জেরুশালেমে থেকে গাজার দিকে যে পথটি গেছে, মরুময় সেই পথটিতে যাও।”

[27] তিনি তখন যাত্রা শুরু করলেন। তাঁর যাওয়ার পথে তিনি এক ইথিয়োপীয় নপুংসক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি ইথিয়োপীয়দের কান্দাকি রানির সমস্ত কোষাগার তত্ত্বাবধানের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন। এই ব্যক্তি উপাসনা করার জন্য জেরুশালেমে গিয়েছিলেন।

[28] তাঁর বাড়ি ফেরার পথে, তিনি তাঁর রথে বসে ভাববাদী যিশাইয়ের পুস্তকটি পাঠ করছিলেন।

[29] পবিত্র আত্মা ফিলিপকে বললেন, “তুমি ওই রথের কাছে গিয়ে তার কাছাকাছি থাকো।”

[30] ফিলিপ তখন রথের দিকে দৌড়ে গেলেন এবং শুনলেন, সেই ব্যক্তি ভাববাদী যিশাইয়ের গ্রন্থ পাঠ করছেন। ফিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি যা পাঠ করছেন, তা কি বুঝতে পারছেন?”

[31] তিনি বললেন, “কেউ আমাকে এর ব্যাখ্যা না করে দিলে, আমি কী করে বুঝতে পারব?” সেই কারণে তিনি ফিলিপকে উঠে এসে তাঁর কাছে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন।

[32] সেই নপুংসক শাস্ত্রের এই অংশটি পাঠ করছিলেন: “তিনি মেষের ন্যায় ঘাতকের কাছে নীত হলেন, মেষশাবক যেমন লোমচ্ছেদনকারীদের সামনে নীরব থাকে, তেমনই তিনি তাঁর মুখ খুললেন না।

[33] তাঁর অবমাননা-কালে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলেন। তাঁর বংশধরদের কথা কে বলতে পারে? কারণ পৃথিবী থেকে তাঁর জীবন অপসৃত হল।”

[34] নপুংসক ফিলিপকে জিজ্ঞাসা করলেন, “অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন, ভাববাদী এখানে কার সম্পর্কে একথা বলেছেন, নিজের বিষয়ে, না অন্য কারও সম্পর্কে?”

[35] তখন ফিলিপ শাস্ত্রের সেই অংশ থেকে শুরু করে তাঁর কাছে যীশুর বিষয়ে সুসমাচার প্রচার করলেন।

[36] তাঁরা যখন পথে যাচ্ছিলেন, তাঁরা এক জলাশয়ের কাছে এসে পৌঁছালেন। নপুংসক বললেন, “দেখুন, এখানে জল আছে। আমার বাপ্তিষ্ম গ্রহণের বাধা কোথায়?”

[37] ফিলিপ বললেন, “আপনি যদি সম্পূর্ণ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, তাহলে নিতে পারেন।” প্রত্যুত্তরে নপুংসক বললেন, “আমি বিশ্বাস করি যে, যীশু খ্রীষ্টই ঈশ্বরের পুত্র।”

[38] তিনি তখন রথ থামানোর আদেশ দিলেন। পরে ফিলিপ ও নপুংসক, উভয়েই জলের মধ্যে নেমে গেলেন এবং ফিলিপ তাঁকে বাপ্তিষ্ম দিলেন।

[39] তাঁরা যখন জলের মধ্য থেকে বের হয়ে এলেন, প্রভুর আত্মা তখন হঠাৎই ফিলিপকে অপসারিত করলেন। নপুংসক তাঁকে আর দেখতে পেলেন না। তখন তিনি আনন্দ করতে করতে তাঁর পথে চলে গেলেন।

[40] ফিলিপকে অবশ্য আজোতাস নগরে দেখতে পাওয়া গেল। তিনি যাওয়ার পথে সর্বত্র পরিভ্রমণ করে নগরগুলিতে সুসমাচার প্রচার করতে করতে অবশেষ কৈসরিয়াতে গিয়ে পৌঁছালেন।

প্রেরিত — Chapters