[1] প্রায় এরকম সময়ে রাজা হেরোদ মণ্ডলীর কয়েকজনকে নির্যাতন করার অভিপ্রায়ে গ্রেপ্তার করলেন।
[2] তিনি যোহনের ভাই যাকোবকে তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করলেন।
[3] এতে ইহুদিরা সন্তুষ্ট হল দেখে তিনি পিতরকেও বন্দি করতে গেলেন। খামিরশূন্য রুটির পর্বের সময়ে এই ঘটনা ঘটল।
[4] তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিনি কারাগারে রাখলেন। এক-একটি দলে চারজন করে সৈন্য, এমন চারটি দলের উপরে তিনি তাঁর প্রহরার ভার অর্পণ করলেন। হেরোদের অভিপ্রায় ছিল, নিস্তারপর্বের পরে তাঁকে নিয়ে এসে প্রকাশ্যে তাঁর বিচার করবেন।
[5] এভাবে পিতরকে কারাগারে রেখে দেওয়া হল, কিন্তু মণ্ডলী আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিল।
[6] হেরোদ যেদিন তাঁর বিচার করার জন্য নিয়ে আসবেন, তার পূর্বরাত্রিতে পিতর দুজন সৈন্যের মাঝখানে দুটি শিকলে আবদ্ধ হয়ে ঘুমিয়েছিলেন। শান্ত্রীরা প্রবেশপথে প্রহরা দিচ্ছিল।
[7] হঠাৎই প্রভুর এক দূত সেখানে আবির্ভূত হলেন এবং কারাকক্ষে এক আলো প্রদীপ্ত হয়ে উঠল। তিনি পিতরের বুকের পাশে আঘাত করে তাঁকে জাগিয়ে তুললেন। তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি করো, উঠে পড়ো!” তখন পিতরের দুহাতের কব্জি থেকে শিকল খসে পড়ল।
[8] তারপর সেই দূত তাঁকে বললেন, “তুমি তোমার জামাকাপড় ও চটিজুতো পরে নাও।” পিতর তাই করলেন। দূত তাঁকে বললেন, “তোমার বহির্বাস তোমার গায়ে জড়িয়ে নাও ও আমাকে অনুসরণ করো।”
[9] পিতর তাঁকে অনুসরণ করে কারাগারের বাইরে এলেন, কিন্তু দূত যা করছেন, তা সত্যিই বাস্তবে ঘটছে কি না, সে বিষয়ে কোনও ধারণা করতে পারছিলেন না। তিনি ভাবছিলেন, তিনি কোনো দর্শন দেখছেন।
[10] তাঁরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রহরীদলকে অতিক্রম করে নগর-অভিমুখী লৌহদ্বারের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। তা আপনা-আপনি তাঁদের জন্য খুলে গেল, তাঁরা তার মধ্য দিয়ে পার হয়ে গেলেন। তাঁরা যখন একটি পথের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে পার হলেন, হঠাৎই দূত তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।
[11] তখন পিতর তাঁর চেতনা ফিরে পেলেন ও বললেন, “এখন আমি নিঃসন্দেহে বুঝতে পারছি যে, প্রভুই তাঁর দূত পাঠিয়ে আমাকে হেরোদের কবল থেকে এবং ইহুদি জনসাধারণের সমস্ত প্রত্যাশা থেকে উদ্ধার করেছেন।”
[12] এই বিষয় তাঁর উপলব্ধি হওয়ার পর, তিনি মার্ক নামে অভিহিত, যোহনের মা মরিয়মের গৃহে গেলেন। সেখানে বহু মানুষ একত্র হয়ে প্রার্থনা করছিল।
[13] পিতর বাইরের প্রবেশদ্বারে করাঘাত করলে রোদা নামে এক পরিচারিকা সাড়া দিতে দরজার কাছে এল।
[14] সে যখন পিতরের কণ্ঠস্বর চিনতে পারল, আনন্দের আতিশয্যে দরজা না খুলেই দৌড়ে ফিরে গেল ও চিৎকার করে বলে উঠল, “পিতর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।”
[15] তাঁরা তাকে বললেন, “তোমার মাথা খারাপ হয়েছে।” কিন্তু যখন সে জোর দিয়ে বলতে লাগল যে তার কথাই সত্যি, তাঁরা বললেন, “এ নিশ্চয়ই তাঁর দূত।”
[16] পিতর কিন্তু ক্রমাগত দরজায় করাঘাত করে যাচ্ছিলেন। তাঁরা দরজা খুলে যখন তাঁকে দেখতে পেলেন, তাঁরা বিস্মিত হলেন।
[17] পিতর হাতের ইশারায় তাঁদের শান্ত হতে বললেন। তারপর বর্ণনা করলেন, প্রভু কীভাবে তাঁকে কারাগার থেকে বাইরে এনেছেন। তিনি বললেন, “তোমরা এই ঘটনার কথা যাকোবকে ও সেই ভাইদের বোলো,” একথা বলে তিনি অন্য স্থানের উদ্দেশে চলে গেলেন।
[18] সকালবেলা, পিতরের কী হল, ভেবে সৈন্যদের মধ্যে উত্তেজনার ঝড় বয়ে গেল।
[19] তাঁর জন্য হেরোদ তন্নতন্ন অনুসন্ধান করার পরেও তাঁকে খুঁজে না পেয়ে তিনি প্রহরীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন ও তাদের প্রাণদণ্ডের আদেশ দিলেন। এরপরে হেরোদ যিহূদিয়া থেকে কৈসরিয়ায় চলে গেলেন ও সেখানে কিছুকাল অবস্থিতি করলেন।
[20] টায়ার ও সীদোনের জনগণের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। তারা এসময় জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর কাছে এল যেন তিনি তাদের কথা শোনেন। রাজার শয়নাগারের একজন পরিচারক ব্লাস্ত-এর সমর্থন আদায় করে তারা সন্ধির প্রস্তাব করল, কারণ তাদের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য তারা রাজার দেশের উপরে নির্ভর করত।
[21] পরে, এক নির্ধারিত দিনে হেরোদ, তাঁর রাজকীয় পোশাক পরিহিত হয়ে তাঁর সিংহাসনে উপবিষ্ট হলেন। তিনি প্রকাশ্যে জনগণের উদ্দেশে এক ভাষণ দিলেন।
[22] তারা চিৎকার করে বলল, “এ তো এক দেবতার কণ্ঠস্বর, মানুষের নয়।”
[23] হেরোদ ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান না-করায়, সেই মুহূর্তেই, প্রভুর এক দূত তাঁকে আঘাত করলেন, ফলে তিনি কীটভক্ষিত হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন।
[24] কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে ও প্রসার লাভ করতে লাগল।
[25] যখন বার্ণবা ও শৌল তাঁদেরকে দেওয়া কর্মভার সম্পন্ন করলেন, তাঁরা জেরুশালেম থেকে ফিরে এলেন। সঙ্গে তাঁরা মার্ক নামে অভিহিত যোহনকেও নিয়ে এলেন।