Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:11

[1] হে থিয়ফিল, আমার পূর্বতন গ্রন্থে আমি সেইসব বিষয় লিখেছি, যেগুলি যীশু কার্যায়িত করতে ও শিক্ষা দিতে শুরু করেছিলেন,

[2] সেদিন পর্যন্ত, যখন তিনি তাঁর মনোনীত প্রেরিতশিষ্যদের পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশদান করার পর ঊর্ধ্বে নীত হন।

[3] তাঁর কষ্টভোগের পর, তিনি এসব মানুষের কাছে নিজেকে প্রদর্শন করলেন এবং বহু বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিলেন যে, তিনি জীবিত আছেন। চল্লিশ দিন অবধি তিনি তাঁদের কাছে দর্শন দিলেন এবং ঈশ্বরের রাজ্য সম্পর্কে কথা বললেন।

[4] এক উপলক্ষে, যখন তিনি তাঁদের সঙ্গে ভোজন করছিলেন, তিনি তাঁদের এই আদেশ দিলেন, “তোমরা জেরুশালেম ছেড়ে যেয়ো না, কিন্তু আমার পিতার প্রতিশ্রুত যে দানের কথা আমাকে বলতে শুনেছ, তার অপেক্ষায় থেকো।

[5] কারণ যোহন জলের মধ্যে বাপ্তিষ্ম দিতেন ঠিকই, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজিত হবে।”

[6] পরে তাঁরা যখন একত্র মিলিত হলেন, তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কি এই সময়ে ইস্রায়েলীদের কাছে রাজ্য ফিরিয়ে দিতে চলেছেন?”

[7] তিনি তাঁদের বললেন, “পিতা তাঁর নিজস্ব অধিকারে যেসব সময় ও দিন নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, সেগুলি তোমাদের জানার কথা নয়।

[8] কিন্তু পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে এলে পর তোমরা শক্তি লাভ করবে, আর তোমরা জেরুশালেমে ও সমস্ত যিহূদিয়া ও শমরিয়ায় এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত আমার সাক্ষী হবে।”

[9] একথা বলার পর তাঁকে তাঁদের দৃষ্টিগোচরেই ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হল ও একখণ্ড মেঘ তাঁকে তাঁদের দৃষ্টিপথ থেকে অন্তরালে নিয়ে গেল।

[10] তিনি যখন যাচ্ছিলেন, তাঁরা অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন, তখন হঠাৎ-ই শুভ্র বসন পরিহিত দুজন পুরুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।

[11] তাঁরা বললেন, “হে গালীলীয়রা, তোমরা এখানে কেন আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছো? এই একই যীশু, যাঁকে তোমাদের মধ্য থেকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হল, তাঁকে যেভাবে স্বর্গে যেতে দেখলে, ঠিক সেভাবেই তিনি ফিরে আসবেন।”

[12] এরপর তাঁরা “জলপাই পর্বত” নামক পাহাড় থেকে জেরুশালেমে ফিরে এলেন। নগর থেকে তা ছিল এক বিশ্রামদিনের হাঁটাপথ।

[13] তাঁরা যখন এলেন, তাঁরা উপরতলার সেই কক্ষে গেলেন, যেখানে তাঁরা অবস্থান করছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন: পিতর, যোহন, যাকোব ও আন্দ্রিয়, ফিলিপ ও থোমা, বর্থলময় ও মথি, আলফেয়ের পুত্র যাকোব এবং জিলট দলভুক্ত শিমোন ও যাকোবের পুত্র যিহূদা।

[14] তাঁরা সকলে এবং কয়েকজন মহিলা, যীশুর মা মরিয়ম ও তাঁর ভাইরা একযোগে প্রার্থনায় নিরবচ্ছিন্নভাবে লেগে রইলেন।

[15] সেই সময় একদিন পিতর ভাইদের (প্রায় একশো কুড়ি জনের একটি দল) মধ্যে উঠে দাঁড়ালেন।

[16] তিনি বললেন, “ভাইরা, যীশুকে যারা গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের পথপ্রদর্শক যে যিহূদা, তাঁর সম্পর্কে বহুপূর্বে দাউদের মাধ্যমে পবিত্র আত্মা যে কথা বলেছিলেন, সেই শাস্ত্রবাণী পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল।

[17] সে আমাদেরই একজন ছিল এবং আমাদের এই পরিচর্যায় অংশগ্রহণ করেছিল।”

[18] তার দুষ্টতার জন্য সে যে পুরস্কার পেয়েছিল, তার দ্বারা যিহূদা একটি ক্ষেত্র ক্রয় করল। সেখানেই সে নিচের দিকে মাথা করে পতিত হলে তার শরীর ফেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল ও তার সমস্ত অন্ত্র বেরিয়ে পড়ল।

[19] জেরুশালেমের সকলে একথা শুনতে পেল, তাই তারা তাদের ভাষায় সেই ক্ষেত্রটির নাম দিল হকলদামা, যার অর্থ, শোণিতক্ষেত্র।

[20] পিতর বললেন, “বস্তুত, গীতসংহিতায় লেখা আছে, “ ‘তার বাসস্থান শূন্য হোক; সেখানে বসবাস করার জন্য, এমন কেউ না থাকুক,’ আবার, “ ‘অন্য কেউ তার তত্ত্বাবধায়কের পদ গ্রহণ করুক।’

[21] অতএব, প্রভু যীশু যতদিন আমাদের মধ্যে গমনাগমন করেছিলেন, সেই আমাদের মধ্যে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদেরই একজনকে মনোনীত করা আবশ্যক,

[22] অর্থাৎ, যোহনের বাপ্তিষ্মদানকাল থেকে শুরু করে আমাদের মধ্য থেকে যীশুর ঊর্ধ্বে নীত হওয়ার সময় পর্যন্ত। কারণ এঁদেরই মধ্যে একজন পুরুষকে আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হতে হবে।”

[23] তখন তাঁরা দুজনের নাম প্রস্তাব করলেন: বার্শব্বা নামে আখ্যাত যোষেফ (ইনি যুষ্ট নামেও পরিচিত ছিলেন), ও মত্তথিয়।

[24] তারপর তাঁরা প্রার্থনা করলেন, “প্রভু, তুমি সকলের অন্তর জানো। আমাদের দেখিয়ে দাও, এই দুজনের মধ্যে তুমি কাকে মনোনীত করেছ,

[25] যে এই প্রৈরিতিক পরিচর্যার ভার গ্রহণ করবে, যা যিহূদা ত্যাগ করে তার যেখানে যাওয়া উচিত ছিল, সেখানে গিয়েছে।”

[26] পরে তাঁরা গুটিকাপাত করলেন ও মত্তথিয়ের নামে গুটি উঠল। এইভাবে তিনি সেই এগারোজন প্রেরিতশিষ্যের সঙ্গে যুক্ত হলেন।

প্রেরিত — Chapters