[1] পৌল ডার্বিতে গেলেন ও পরে লুস্ত্রায় এলেন। সেখানে তিমথি নামে একজন শিষ্য বসবাস করতেন। তাঁর মাতা ছিলেন একজন বিশ্বাসী ইহুদি, কিন্তু পিতা ছিলেন গ্রিক।
[2] লুস্ত্রা ও ইকনিয়ের ভাইরা তাঁর সম্পর্কে সুখ্যাতি করতেন।
[3] পৌল চাইলেন যাত্রায় তাঁকেও সঙ্গে নিতে। তাই সেই অঞ্চলে বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য তিনি তাঁর সুন্নত করালেন, কারণ তারা সকলে জানত যে, তাঁর পিতা ছিলেন একজন গ্রিক।
[4] এক নগর থেকে অন্য নগরে পরিভ্রমণকালে, তাঁরা জেরুশালেমের প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি অবহিত করলেন, যেন তারা সেগুলি পালন করে।
[5] এভাবে মণ্ডলীগুলি বিশ্বাসে বলীয়ান হতে ও প্রতিদিন সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকল।
[6] পবিত্র আত্মা তাঁদের এশিয়া প্রদেশে সুসমাচার প্রচার করতে বাধা দেওয়ায়, পৌল ও তাঁর সঙ্গীরা ফরুগিয়া ও গালাতিয়া অঞ্চলের সর্বত্র পরিভ্রমণ করলেন।
[7] মুশিয়া-প্রদেশের সীমান্তে এসে তাঁরা বিথুনিয়ায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু যীশুর আত্মা তাঁদের অনুমতি দিলেন না।
[8] তাই তাঁরা মুশিয়াকে পাশ কাটিয়ে ত্রোয়াতে গিয়ে পৌঁছালেন।
[9] রাত্রিবেলা পৌল এক দর্শন পেলেন, তিনি দেখলেন ম্যাসিডোনিয়ার একজন মানুষ দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে অনুনয় করছেন, “আপনি ম্যাসিডোনিয়ায় এসে আমাদের সাহায্য করুন।”
[10] পৌলের এই দর্শন লাভের পর আমরা তখনই ম্যাসিডোনিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত হলাম। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার জন্য ঈশ্বর আমাদের আহ্বান করেছেন।
[11] ত্রোয়া থেকে আমরা সরাসরি সামোথ্রেসের উদ্দেশে সমুদ্রপথে পাড়ি দিলাম। পরের দিন সেখান থেকে গেলাম নিয়াপলিতে।
[12] সেখান থেকে আমরা যাত্রা করলাম ফিলিপীতে। ফিলিপী নগরটি ছিল একটি রোমীয় উপনিবেশ এবং ম্যাসিডোনিয়া জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগর। আমরা বেশ কিছু দিন সেখানে অবস্থিতি করলাম।
[13] বিশ্রামদিনে আমরা নগরদ্বারের বাইরে নদীতীরে গেলাম। সেখানে প্রার্থনা করার কোনও স্থানের আমরা আশা করছিলাম। আমরা সেখানে বসে পড়লাম ও সমবেত মহিলাদের সঙ্গে কথা বললাম।
[14] শ্রোতৃমণ্ডলীর মধ্যে লিডিয়া নামে এক মহিলা ছিলেন। থুয়াতীরা নগরের বেগুনি বস্ত্রের ব্যবসায়ী এই মহিলাটি ছিলেন ঈশ্বরের উপাসক। পৌলের বার্তায় মনোনিবেশ করার জন্য প্রভু তাঁর হদয় খুলে দিলেন।
[15] যখন তিনি ও তাঁর পরিজনেরা বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করলেন, তিনি আমাদের তাঁর গৃহে আমন্ত্রণ জানালেন। তিনি বললেন, “আপনারা যদি আমাকে প্রভুতে বিশ্বাসী বলে মনে করেন, তাহলে এসে আমার বাড়িতে থাকুন।” তিনি আমাদের বুঝিয়ে রাজি করালেন।
[16] একদিন যখন আমরা প্রার্থনা-স্থানে যাচ্ছিলাম, এক ক্রীতদাসীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হল। সে ভবিষ্যৎ-কথনের আত্মার প্রভাবে ভাবীকালের কথা পূর্বঘোষণা করত। ভাগ্য-কথনের দ্বারা সে তার মনিবদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জন করত।
[17] এই মেয়েটি পৌল ও অবশিষ্ট আমাদের অনুসরণ করতে লাগল। সে চিৎকার করে বলতে লাগল, “এই লোকেরা পরাৎপর ঈশ্বরের দাস, আপনাদের কাছে পরিত্রাণের উপায়ের কথা বলছেন।”
[18] বহুদিন যাবৎ সে এরকম করতে থাকল। শেষে পৌল এত উত্যক্ত হয়ে উঠলেন যে, তিনি ফিরে সেই আত্মার উদ্দেশে বললেন, “আমি যীশু খ্রীষ্টের নামে তোমাকে আদেশ দিচ্ছি, ওর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসো।” সেই মুহূর্তেই সেই আত্মা তাকে ছেড়ে চলে গেল।
[19] সেই ক্রীতদাসীর মনিবেরা যখন বুঝতে পারল যে, তাদের অর্থ উপার্জনের আশা শেষ হয়েছে, তারা পৌল ও সীলকে ধরে টানতে টানতে বাজার-চত্বরে কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থিত করল।
[20] তারা নগর-প্রশাসকদের সামনে তাঁদের নিয়ে এসে বলল, “এই লোকগুলি ইহুদি। এরা আমাদের নগরে গণ্ডগোলের সৃষ্টি করেছে।
[21] এরা এমন সব রীতিনীতির কথা বলছে, যা আমাদের, রোমীয়দের গ্রহণ বা পালন করা ন্যায়সঙ্গত নয়।”
[22] জনতা পৌল ও সীলের বিরুদ্ধে আক্রমণে যোগ দিল। প্রশাসকেরা তাঁদের পোশাক খুলে তাঁদের চাবুক মারার আদেশ দিলেন।
[23] তাঁদের প্রচণ্ডরূপে বেত্রাঘাত করার পর কারাগারে নিক্ষেপ করা হল। কারারক্ষককে আদেশ দেওয়া হল যেন তাঁদের সতর্কভাবে পাহারা দেওয়া হয়।
[24] এই ধরনের আদেশ পেয়ে, তিনি তাঁদের ভেতরের কারাকক্ষে নিয়ে গেলেন এবং কাঠের বেড়ির মধ্যে তাঁদের পা আটকে দিলেন।
[25] প্রায় মধ্যরাত্রে পৌল ও সীল প্রার্থনা এবং ঈশ্বরের উদ্দেশে স্তবগান করছিলেন। অন্য সব কারাবন্দি তা শুনছিল।
[26] হঠাৎই সেখানে এমন এক ভয়ংকর ভূকম্পন হল যে, কারাগারের ভিত্তিমূলগুলি কেঁপে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের সব দরজা খুলে গেল এবং বন্দিদের শিকল খসে পড়ল।
[27] কারারক্ষক জেগে উঠলেন। তিনি যখন কারাগারের দরজাগুলি খোলা দেখলেন, তিনি তাঁর তরোয়াল কোষমুক্ত করে আত্মহত্যায় উদ্যত হলেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন, কারাবন্দিরা পলায়ন করেছে।
[28] কিন্তু পৌল চিৎকার করে বললেন, “আপনি নিজের ক্ষতি করবেন না! আমরা সবাই এখানেই আছি!”
[29] কারারক্ষক আলো আনতে বলে দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি কাঁপতে কাঁপতে পৌল ও সীলের সামনে লুটিয়ে পড়লেন।
[30] তারপর তিনি তাঁদের বাইরে এনে জিজ্ঞাসা করলেন, “মহাশয়েরা, পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
[31] তাঁরা উত্তর দিলেন, “আপনি প্রভু যীশুতে বিশ্বাস করুন, তাহলে আপনি ও আপনার পরিজন পরিত্রাণ পাবেন।”
[32] তারপর তাঁরা তাঁর কাছে ও তাঁর গৃহের অন্য সকলের কাছে প্রভুর বাক্য প্রচার করলেন।
[33] রাত্রির সেই প্রহরেই, কারারক্ষক তাঁদের নিয়ে গিয়ে ক্ষত ধুয়ে দিলেন। তারপর অনতিবিলম্বে তিনি ও তাঁর সমস্ত পরিবার বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করলেন।
[34] সেই কারারক্ষক তাঁর গৃহের অভ্যন্তরে তাঁদের নিয়ে গেলেন ও তাঁদের সামনে আহার্য-দ্রব্য রাখলেন। তিনি আনন্দে পরিপূর্ণ হলেন, কারণ তিনি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে পেরেছিলেন।
[35] দিনের আলো দেখা দিলে, প্রশাসকেরা কারারক্ষকের কাছে তাঁদের কর্মচারীদের প্রেরণ করে আদেশ দিলেন, “ওই লোকদের মুক্ত করে দাও।”
[36] কারারক্ষক পৌলকে বললেন, “প্রশাসকেরা আপনাকে ও সীলকে মুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। এখন আপনারা চলে যেতে পারেন। শান্তিতে প্রস্থান করুন।”
[37] কিন্তু পৌল সেই কর্মচারীদের বললেন, “আমরা রোমীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিনা বিচারে আমাদের প্রহার করিয়েছেন ও কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন। এখন তাঁরা গোপনে আমাদের থেকে অব্যাহতি পেতে চাইছেন? না, তাঁরা নিজেরা এখানে এসে আমাদের বের করে নিয়ে যান।”
[38] কর্মচারীরা একথা গিয়ে প্রশাসকদের জানাল। তাঁরা যখন শুনলেন যে, পৌল ও সীল রোমীয় নাগরিক, তাঁরা আতঙ্কিত হলেন।
[39] তাঁরা এসে তাঁদের শান্ত করলেন এবং কারাগার থেকে সঙ্গে করে তাঁদের বের করে এনে অনুরোধ করলেন, তাঁরা যেন নগর ছেড়ে চলে যান।
[40] পৌল ও সীল কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর, তাঁরা লিডিয়ার বাড়ি চলে গেলেন। সেখানে তাঁরা ভ্রাতৃবৃন্দের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁদের উত্সাহিত করলেন। তারপর তাঁরা প্রস্থান করলেন।