[1] হট্টগোল সমাপ্ত হলে পৌল শিষ্যদের ডেকে পাঠালেন। তাদের উত্সাহিত করে তিনি বিদায়-সম্ভাষণ জানালেন ও ম্যাসিডোনিয়ার পথে যাত্রা শুরু করলেন।
[2] সেই অঞ্চল অতিক্রম করার সময় তিনি লোকদের উৎসাহ প্রদানকারী অনেক কথাবার্তা বলে শেষে গ্রীসে উপস্থিত হলেন।
[3] সেখানে তিনি তিন মাস অবস্থিতি করলেন। তিনি জলপথে সিরিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র রচনা করায়, তিনি ম্যাসিডোনিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
[4] তাঁর সহযাত্রী হলেন বিরয়া থেকে পুর্হের পুত্র সোপাত্র, থিষলনিকা নিবাসী আরিষ্টার্খ ও সিকুন্দ, ডার্বি নগর থেকে গায়ো, সেই সঙ্গে তিমথি, এশিয়া প্রদেশের তুখিক ও ত্রফিম।
[5] এঁরা আমাদের আগেই যাত্রা করে ত্রোয়াতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করলেন।
[6] কিন্তু খামিরশূন্য রুটির পর্বের পর আমরা ফিলিপী থেকে জলপথে যাত্রা করলাম এবং পাঁচদিন পরে অন্যান্যদের সঙ্গে ত্রোয়াতে মিলিত হলাম। সেখানে আমরা সাতদিন অবস্থিতি করলাম।
[7] সপ্তাহের প্রথম দিনে আমরা রুটি-ভাঙার জন্য একত্র মিলিত হলাম। পৌল লোকদের কাছে কথা বললেন। পরদিন তিনি সে স্থান ত্যাগ করার মনস্থ করেছিলেন বলে, তিনি মধ্যরাত্রি পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বললেন।
[8] উপরতলার যে কক্ষে আমরা সমবেত হয়েছিলাম, সেখানে অনেক প্রদীপ জ্বলছিল।
[9] উতুখ নামে একজন যুবক জানালায় বসেছিল। পৌল যখন ক্রমেই কথা বলে গেলেন, সে গভীর নিদ্রায় মগ্ন হয়ে পড়ল। সে যখন ঘোর নিদ্রামগ্ন ছিল, সে তিনতলা থেকে নিচে, মাটিতে পড়ে গেল। লোকেরা তাকে মৃত তুলে নিল।
[10] পৌল নিচে গেলেন, আনত হয়ে তিনি তাঁর দু-হাত দিয়ে যুবকটিকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বললেন, “আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, এর মধ্যে প্রাণ আছে!”
[11] পরে তিনি আবার উপরতলায় গিয়ে রুটি ভেঙে ভোজন করলেন। তারপর অরুণোদয় পর্যন্ত কথা বলে তিনি বিদায় নিলেন।
[12] লোকেরা যুবকটিকে জীবিত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে গেল ও মহা আশ্বাসপ্রাপ্ত হল।
[13] আমরা আগেই গিয়ে জাহাজে উঠলাম এবং আসোস অভিমুখে যাত্রা করলাম। সেখানে আমাদের পৌলকে জাহাজে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। তিনিই এই ব্যবস্থাপনা করেছিলেন, কারণ তিনি সেখানে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
[14] তিনি যখন আসোসে আমাদের সঙ্গে মিলিত হলেন, আমরা তাঁকে জাহাজে তুলে নিলাম ও মিতুলিনীতে গেলাম।
[15] পরের দিন আমরা সেখান থেকে জাহাজে যাত্রা করে খী-দ্বীপের অনতিদূরে পৌঁছালাম। তার পরদিন আমরা সমুদ্র অতিক্রম করে সামো-দ্বীপে এবং পরের দিন মিলেতা-য় পৌঁছালাম।
[16] পৌল মনস্থির করেছিলেন জলপথে ইফিষ-কে পাশ কাটিয়ে যাবেন, যেন এশিয়া প্রদেশে সময় নষ্ট না হয়। কারণ তিনি জেরুশালেমে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন, যেন সম্ভব হলে পঞ্চাশত্তমীর দিনে জেরুশালেমে উপস্থিত থাকতে পারেন।
[17] পৌল মিলেতা থেকে ইফিষে লোক পাঠিয়ে মণ্ডলীর প্রাচীনদের ডেকে পাঠালেন।
[18] তাঁরা এসে পৌঁছালে তিনি তাঁদের বললেন, “আপনারা জানেন, এশিয়া প্রদেশে আমি উপস্থিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই আপনাদের মধ্যে থাকাকালীন আমি কীভাবে জীবনযাপন করেছি।
[19] আমি অত্যন্ত নতনম্রতার সঙ্গে ও সজল নয়নে প্রভুর সেবা করে গেছি, যদিও ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের কারণে আমি ভীষণভাবে পরীক্ষিত হয়েছিলাম।
[20] আপনারা জানেন, আমি আপনাদের পক্ষে কল্যাণকর কোনো কিছুই প্রচার করতে ইতস্তত করিনি, বরং প্রকাশ্যে, অথবা প্রতি গৃহে গিয়ে শিক্ষাদান করেছি।
[21] ইহুদি ও গ্রিক, উভয়েরই কাছে আমি ঘোষণা করেছি যে, মন পরিবর্তনের মাধ্যমে তাঁদের অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের প্রভু যীশুর উপরে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
[22] “আর এখন পবিত্র আত্মার দ্বারা বাধ্য হয়ে আমি জেরুশালেমে যাচ্ছি, জানি না, সেখানে আমার প্রতি কী ঘটবে।
[23] আমি শুধু জানি যে, পবিত্র আত্মা আমাকে সচেতন করছেন, প্রতিটি নগরে আমাকে বন্দিত্ব ও ক্লেশের সম্মুখীন হতে হবে।
[24] কিন্তু, আমি আমার প্রাণকেও নিজের কাছে মূল্যবান বিবেচনা করি না, শুধু চাই, আমি যেন সেই দৌড় সমাপ্ত করতে পারি এবং প্রভু যীশু যে কর্মভার আমাকে দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ করতে পারি—সেই কর্মটি হল, ঈশ্বরের অনুগ্রহের সুসমাচার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া।
[25] “এখন আমি জানি, আমি যাঁদের মধ্যে সেই রাজ্যের কথা প্রচার করেছি, সেই আপনারা কেউই আর আমাকে দেখতে পাবেন না।
[26] সেই কারণে, আমি আপনাদের কাছে আজ ঘোষণা করছি যে, সব মানুষের রক্তের দায় থেকে আমি নির্দোষ।
[27] কারণ আপনাদের কাছে ঈশ্বর যা চান, আমি সেই সমস্ত ইচ্ছা ঘোষণা করতে দ্বিধাবোধ করিনি।
[28] আপনারা নিজেদের বিষয়ে সাবধান থাকুন ও পবিত্র আত্মা যে মেষদের উপরে আপনাদের তত্ত্বাবধায়করূপে নিযুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। ঈশ্বরের যে মণ্ডলীকে তিনি তাঁর রক্তের দ্বারা ক্রয় করেছেন, তার প্রতিপালন করুন।
[29] আমি জানি, আমার প্রস্থানের পর, আপনাদের মধ্যে হিংস্র নেকড়েদের আবির্ভাব হবে, তারা পালকে নিষ্কৃতি দেবে না।
[30] এমনকি, আপনাদের নিজেদের মধ্য থেকেই লোকেরা উত্থিত হবে। তারা সত্যকে বিকৃত করবে, যেন তাদের অনুগামী হওয়ার জন্য শিষ্যদের টেনে নিয়ে যেতে পারে।
[31] তাই আপনারা সতর্ক থাকুন! স্মরণে রাখবেন যে, সেই তিন বছর আমি আপনাদের প্রত্যেকজনকে দিনরাত চোখের জলে সাবধান করে এসেছি, কখনও ক্ষান্ত হইনি।
[32] “এখন আমি ঈশ্বর ও তাঁর অনুগ্রহের বাক্যের কাছে আপনাদের সমর্পণ করছি, যা আপনাদের গঠন করতে ও পবিত্রীকৃত সব মানুষের মধ্যে অধিকার প্রদান করতে সমর্থ।
[33] আমি কোনো মানুষের রৌপ্য, স্বর্ণ বা বস্ত্রের প্রতি লোভ করিনি।
[34] আপনারা নিজেরা জানেন যে, আমার এই দু-হাত আমার ও আমার সঙ্গীদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছে।
[35] আমার সমস্ত কাজের মাধ্যমে আমি আপনাদের দেখিয়েছি যে, এই ধরনের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই দুর্বলদের সাহায্য করতে হবে। স্বয়ং প্রভু যীশুর কথিত বাক্য আমাদের স্মরণে রাখতে হবে, ‘গ্রহণ করার চেয়ে দান করাই বেশি আশিস ধন্য হওয়ার বিষয়।’ ”
[36] একথা বলার পর তিনি তাঁদের সবার সঙ্গে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করলেন।
[37] তাঁরা সবাই তাঁকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করে কাঁদতে লাগলেন।
[38] যে জন্য তাঁরা ভীষণ দুঃখ পেয়েছিলেন, তা তাঁর কথিত এই উক্তির জন্য যে, তাঁরা আর কখনও তাঁর মুখ দেখতে পারবেন না। এরপর তাঁরা জাহাজ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে গেলেন।