Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:39

[1] যা কিছু ঘটে গেছে, আমাদের মধ্যে অনেকেই তার একটি বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

[2] যাঁরা প্রথম থেকেই সবকিছু চাক্ষুষ দেখেছেন ও বাক্যের পরিচর্যা করেছেন, তাঁরাই সে সমস্ত আমাদের কাছে সমর্পণ করেছেন।

[3] মহামান্য থিয়ফিল, সেইজন্য আমি প্রথম থেকে সবকিছু সযত্নে অনুসন্ধান করে আপনার জন্য একটি সুবিন্যস্ত বিবরণ রচনা করা সংগত বিবেচনা করলাম,

[4] যেন আপনি যে শিক্ষা লাভ করেছেন, সে বিষয়ে আপনার জ্ঞান সুনিশ্চিত হয়।

[5] যিহূদিয়ার রাজা হেরোদের রাজত্বকালে সখরিয় নামে একজন যাজক ছিলেন। তিনি ছিলেন অবিয়ের পুরোহিত অধীনস্থ যাজক-সম্প্রদায়ভুক্ত। তাঁর স্ত্রী ইলিশাবেতও ছিলেন হারোণ বংশীয়।

[6] তাঁরা উভয়েই ছিলেন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ধার্মিক। তাঁরা প্রভুর সমস্ত আজ্ঞা ও বিধিনিয়ম নির্দোষরূপে পালন করতেন।

[7] কিন্তু তাঁরা ছিলেন নিঃসন্তান, কারণ ইলিশাবেত বন্ধ্যা ছিলেন এবং তাঁদের দুজনেরই বেশ বয়স হয়েছিল।

[8] এক সময় সখরিয়ের দলের পালা ছিল এবং তিনি ঈশ্বরের সম্মুখে যাজকরূপে পরিচর্যা করছিলেন।

[9] যাজনতন্ত্রের রীতি অনুসারে, প্রভুর মন্দিরে গিয়ে ধূপ জ্বালাবার জন্য তিনিই গুটিকাপাতের দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন।

[10] সেই ধূপ জ্বালাবার সময় উপস্থিত হলে, সমবেত উপাসকেরা বাইরে প্রার্থনা করছিলেন।

[11] সেই সময় প্রভুর এক দূত ধূপ জ্বালাবার বেদির ডানদিকে দাঁড়িয়ে তাঁকে দর্শন দিলেন।

[12] তাঁকে দেখে সখরিয় বিস্ময়ে বিহ্বল ও ভীত হলেন।

[13] কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, “সখরিয়, ভয় পেয়ো না, তোমার প্রার্থনা শোনা হয়েছে। তোমার স্ত্রী ইলিশাবেত তোমার জন্য এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবে। তুমি তার নাম রাখবে, যোহন।

[14] সে তোমার আনন্দ ও উল্লাসের কারণস্বরূপ হবে এবং তাঁর জন্মে বহু মানুষ উল্লসিত হবে,

[15] কারণ প্রভুর দৃষ্টিতে সে হবে মহান। সে কখনও দ্রাক্ষারস, বা অন্য কোনো উত্তেজক পানীয় গ্রহণ করবে না এবং জন্মমুহূর্ত থেকেই সে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হবে।

[16] ইস্রায়েলের বহু মানুষকে সে তাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে আনবে।

[17] পুরোনো সময়ের ভাববাদী এলিয়ের আত্মা ও পরাক্রমে সে প্রভুর অগ্রগামী হবে; সকল পিতৃহৃদয়কে ফিরিয়ে আনবে তাঁদের সন্তানদের দিকে, অবাধ্যদের নিয়ে আসবে ধার্মিকদের প্রজ্ঞাপথে—প্রভুর জন্য এক প্রজাসমাজকে করে তুলবে প্রস্তুত।”

[18] সখরিয় দূতকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কী করে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হব? কারণ আমি বৃদ্ধ, আমার স্ত্রীরও অনেক বয়স হয়েছে।”

[19] দূত উত্তর দিলেন, “আমি গ্যাব্রিয়েল, ঈশ্বরের সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকি। এই শুভবার্তা ব্যক্ত করার জন্য ও তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে তোমার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

[20] কিন্তু তুমি আমার কথা বিশ্বাস করলে না, যদিও সেকথা যথাসময়ে সত্য হয়ে উঠবে। এজন্য তুমি বোবা হয়ে যাবে এবং যতদিন না এই ঘটনা ঘটে, তুমি কথা বলতে পারবে না।”

[21] এদিকে সখরিয়ের জন্য অপেক্ষায় লোকেরা অবাক হয়ে ভাবছিল, তিনি মন্দিরে কেন এত দেরি করছেন।

[22] বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারলেন না। তারা উপলব্ধি করল, তিনি মন্দিরে কোনো দর্শন লাভ করেছেন, কারণ তিনি ক্রমাগত ইঙ্গিতে তাদের সব কথা বোঝাচ্ছিলেন, কিন্তু কথা বলতে পারছিলেন না।

[23] তাঁর পরিচর্যার কাজ সম্পূর্ণ হলে তিনি ঘরে ফিরে গেলেন।

[24] এরপরে তাঁর স্ত্রী ইলিশাবেত অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং পাঁচ মাস গোপনে অবস্থান করলেন।

[25] তিনি বললেন, “প্রভু আমার জন্য এ কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি আমার প্রতি করুণা প্রদর্শন করেছেন, লোকসমাজ থেকে আমার অপবাদ দূর করেছেন।”

[26] ষষ্ঠ মাসে ঈশ্বর তাঁর দূত গ্যাব্রিয়েলকে গালীল প্রদেশের নাসরৎ-নগরে এক কুমারীর কাছে প্রেরণ করলেন।

[27] তিনি দাউদ বংশের যোষেফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বাগদত্তা হয়েছিলেন। সেই কুমারী কন্যার নাম ছিল মরিয়ম।

[28] দূত তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “মহান অনুগ্রহের অধিকারিণী, তোমাকে অভিনন্দন! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।”

[29] তাঁর কথা শুনে মরিয়ম অত্যন্ত বিচলিত হলেন এবং অবাক হয়ে ভাবলেন, এ কী ধরনের অভিবাদন হতে পারে!

[30] কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, “মরিয়ম, ভয় পেয়ো না। তুমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছ।

[31] তুমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এক পুত্রের জন্ম দেবে, আর তুমি তাঁর নাম যীশু রাখবে।

[32] তিনি মহান হবেন ও পরাৎপরের পুত্র নামে আখ্যাত হবেন। প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতা দাউদের সিংহাসন তাঁকে দেবেন

[33] এবং তিনি যাকোব বংশে চিরকাল রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বের অবসান কখনও হবে না।”

[34] মরিয়ম দূতকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তা কী করে হবে? আমি যে কুমারী!”

[35] উত্তর দিয়ে দূত তাঁকে বললেন, “পবিত্র আত্মা তোমার উপরে অবতরণ করবেন ও পরাৎপরের শক্তি তোমাকে আবৃত করবে। তাই যে পবিত্র পুরুষ জন্মগ্রহণ করবেন, তিনি ঈশ্বরের পুত্ররূপে আখ্যাত হবেন।

[36] আর তোমার আত্মীয় ইলিশাবেতও বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের জননী হতে চলেছে। যাকে সকলে বন্ধ্যা বলে জানত, এটি তার ষষ্ঠ মাস।

[37] কারণ ঈশ্বর যা বলেন তা সবসময় সত্যি হয়।”

[38] মরিয়ম উত্তর দিলেন, “আমি প্রভুর দাসী। আপনি যে রকম বললেন, আমার প্রতি সেইরকমই হোক।” এরপর দূত তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।

[39] তখন মরিয়ম যিহূদিয়ার পার্বত্য অঞ্চলের এক নগরের দিকে দ্রুত বেরিয়ে পড়লেন।

[40] সেখানে এসে তিনি সখরিয়ের গৃহে প্রবেশ করে ইলিশাবেতকে অভিনন্দন জানালেন।

[41] ইলিশাবেত যখন মরিয়মের অভিনন্দন শুনলেন, তাঁর গর্ভে শিশুটি লাফ দিয়ে উঠল এবং ইলিশাবেত পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন।

[42] তিনি উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলে উঠলেন, “নারীকুলে তুমি ধন্য, আর যে-শিশুকে তুমি গর্ভে ধারণ করবে, সে-ও ধন্য।

[43] আর আমার প্রতিই বা এত অনুগ্রহের কারণ কী যে, আমার প্রভুর জননী এসেছে আমার কাছে?

[44] তোমার অভিনন্দন আমার কানে প্রবেশ করা মাত্র, আমার গর্ভের শিশুটি আনন্দে নেচে উঠল।

[45] ধন্য সেই নারী, যে বিশ্বাস করেছে, প্রভুর উক্তি তার জীবনে সার্থক হয়ে উঠবে।”

[46] তখন মরিয়ম বললেন, “আমার প্রাণ প্রভুর মহিমাকীর্তন করে,

[47] আমার পরিত্রাতা ঈশ্বরে আমার আত্মা উল্লাস করে।

[48] কারণ তিনি তাঁর এই দীন-দরিদ্র দাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন। এখন থেকে পুরুষ-পরম্পরা আমাকে ধন্য বলে অভিহিত করবে।

[49] কারণ যিনি পরাক্রমী, যিনি আমার জন্য কত মহৎ মহৎ কর্ম সাধন করেছেন— তাঁর নাম পবিত্র।

[50] যারা তাঁকে ভয় করে, তাদেরই জন্য পুরুষ-পরম্পরায় তাঁর করুণার হস্ত প্রসারিত।

[51] তাঁর বাহু সব পরাক্রম কার্য সাধন করেছে; যারা অন্তরের গভীরতম ভাবনায় গর্বিত, তিনি তাদের ছত্রভঙ্গ করেছেন।

[52] শাসকদের তিনি সিংহাসনচ্যূত করেছেন, কিন্তু বিনম্রদের উন্নত করেছেন।

[53] তিনি উত্তম দ্রব্যে ক্ষুধার্তদের তৃপ্ত করেছেন, কিন্তু ধনীদের রিক্ত হস্তে বিদায় করেছেন।

[54] আপন করুণার কথা স্মরণ করে, তিনি তাঁর সেবক ইস্রায়েলকে সহায়তা দান করেছেন।

[55] যেমন আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলেছিলেন, অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি চিরতরে করুণা প্রদান করেছেন।”

[56] মরিয়ম প্রায় তিন মাস ইলিশাবেতের কাছে রইলেন, তারপর তিনি ঘরে ফিরে এলেন।

[57] প্রসবের সময় পূর্ণ হলে, ইলিশাবেত এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন।

[58] তাঁর প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-পরিজনেরা শুনল যে, প্রভু তাঁর প্রতি মহৎ করুণা প্রদর্শন করেছেন, তারাও তাঁর আনন্দের অংশীদার হল।

[59] অষ্টম দিনে তারা শিশুটির সুন্নতের জন্য এসে তার পিতার নাম অনুসারে শিশুটির নাম সখরিয় রাখতে চাইল।

[60] কিন্তু তার মা বলে উঠলেন, “না, এর নাম হবে যোহন।”

[61] তারা তাঁকে বলল, “কেন? তোমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কারও তো এই নাম নেই!”

[62] তখন তারা তার পিতার কাছে ইশারায় জানতে চাইল, তিনি শিশুটির কী নাম রাখতে চান।

[63] তিনি একটি লিপিফলক চেয়ে নিলেন এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে লিখলেন, “ওর নাম যোহন।”

[64] সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মুখ খুলে গেল, জিভের জড়তা চলে গেল, আর তিনি কথা বলতে লাগলেন ও ঈশ্বরের প্রশংসায় মুখর হলেন।

[65] প্রতিবেশীরা সবাই ভীত হল এবং যিহূদিয়ার সমস্ত পার্বত্য অঞ্চলের লোকেরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে লাগল।

[66] যারা শুনল, তারা প্রত্যেকেই বিস্মিত হয়ে বলাবলি করল, “এই শিশুটি তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে?” কারণ প্রভুর হাত ছিল তার সহায়।

[67] তখন তার পিতা সখরিয় পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে ভাববাণী বললেন। তিনি বললেন:

[68] “প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নাম প্রশংসিত হোক, কারণ তিনি এসে তাঁর প্রজাদের মুক্ত করেছেন।

[69] তিনি তাঁর দাস দাউদের বংশে আমাদের জন্য তুলে ধরেছেন এক ত্রাণশৃঙ্গ,

[70] (বহুকাল আগে তাঁর পবিত্র ভাববাদীদের মাধ্যমে তিনি যেমন বলেছিলেন),

[71] যেন আমরা আমাদের সব শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার পাই, তাদের হাত থেকে রক্ষা পাই, যারা আমাদের ঘৃণা করে,

[72] আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রতি করুণা প্রদর্শন এবং তাঁর পবিত্র নিয়ম স্মরণ করার জন্য,

[73] আমাদের পিতা অব্রাহামের কাছে তিনি যা শপথ করেছিলেন:

[74] তিনি আমাদের নিস্তার করবেন আমাদের সব শত্রুর হাত থেকে, যেন নির্ভয়ে তাঁর সেবা করতে আমাদের সক্ষম করেন,

[75] যেন তাঁর সম্মুখে পবিত্রতায় ও ধার্মিকতায় আমরা তাঁর সেবা করে যাই।

[76] “আর তুমি, আমার শিশুসন্তান, তুমি পরাৎপরের ভাববাদীরূপে আখ্যাত হবে, কারণ প্রভুর পথ-প্রস্তুতির জন্য তুমি তাঁর অগ্রগামী হবে;

[77] তাঁর প্রজাবৃন্দকে, তাদের পাপসমূহ ক্ষমার মাধ্যমে পরিত্রাণের জ্ঞান দিতে।

[78] আমাদের ঈশ্বরের স্নেহময় করুণার গুণে, স্বর্গ থেকে আমাদের মাঝে নবারুণের উদয় হবে।

[79] যারা অন্ধকারে, মৃত্যুচ্ছায়ায় বসবাস করছে, তাদের উপর আলো বিকীর্ণ করত, আমাদের চরণ শান্তি পথে চালিত করতে।”

[80] আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি আত্মাতে বলীয়ান হয়ে উঠল এবং ইস্রায়েলের জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত, সে মরুপ্রান্তরে বসবাস করল।

লূক — Chapters