[1] এক বিশ্রামদিনে যীশু শস্যক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর শিষ্যেরা শস্যের শিষ ছিঁড়ে দুই হাতে ঘষে দানা বের করে খেতে লাগলেন।
[2] কয়েকজন ফরিশী জিজ্ঞাসা করল, “বিশ্রামদিনে যা ন্যায়সঙ্গত নয়, এমন কাজ তোমরা কেন করছ?”
[3] যীশু তাদের বললেন, “দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় কী করেছিলেন, তা কি আপনারা পাঠ করেননি?
[4] তিনি ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করে পবিত্র রুটি নিয়ে নিজে ভোজন করেছিলেন ও তাঁর সঙ্গীদেরও তার কিছু অংশ দিয়েছিলেন, যা একমাত্র যাজকদেরই আহার করা বিধিসঙ্গত ছিল।”
[5] তারপর যীশু তাদের বললেন, “মনুষ্যপুত্রই বিশ্রামদিনের প্রভু।”
[6] আর এক বিশ্রামদিনে তিনি সমাজভবনে গিয়ে শিক্ষাদান করছিলেন। সেখানে একটি লোক ছিল, তার ডান হাত শুকিয়ে গিয়েছিল।
[7] ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা যীশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য সূত্রের সন্ধানে ছিল। সেইজন্য যীশু বিশ্রামদিনে সুস্থ করেন কি না, সেদিকে ছিল তাদের তীক্ষ্ন দৃষ্টি।
[8] কিন্তু যীশু তাঁদের চিন্তার কথা জেনে শুষ্ক হাতবিশিষ্ট লোকটিকে বললেন, “তুমি সকলের সামনে উঠে দাঁড়াও।” তাই সে সেখানে উঠে দাঁড়াল।
[9] যীশু তখন তাদের বললেন, “আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করি, বিশ্রামদিনে কোন কাজ করা বৈধ, ভালো কাজ করা, না মন্দ কাজ করা; জীবন রক্ষা করা, না তা ধ্বংস করা?”
[10] তিনি তাদের সকলের প্রতি চারদিকে তাকালেন। তারপর লোকটিকে বললেন, “তোমার হাতটি বাড়িয়ে দাও।” সে তাই করল। তার হাত একেবারে সুস্থ হল।
[11] তাঁরা কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন এবং যীশুর বিরুদ্ধে আর কী করা যায়, তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা শুরু করলেন।
[12] সেই সময়, একদিন যীশু প্রার্থনা করার জন্য একটি পাহাড়ের ধারে গেলেন। সেখানে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনায় সমস্ত রাত্রিযাপন করলেন।
[13] ভোরবেলায় তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে ডাকলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে বারোজনকে মনোনীত করলেন। তিনি তাঁদের প্রেরিতশিষ্য নামে অভিহিত করলেন:
[14] শিমোন (তিনি যাঁর নাম দিয়েছিলেন পিতর), তাঁর ভাই আন্দ্রিয়, যাকোব, যোহন, ফিলিপ, বর্থলময়,
[15] মথি, থোমা, আলফেয়ের পুত্র যাকোব, জিলট নামে পরিচিত শিমোন,
[16] যাকোবের পুত্র যিহূদা এবং যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ, যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
[17] তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে এসে এক সমভূমিতে দাঁড়ালেন। সেখানে তাঁর অনেক শিষ্য এবং যিহূদিয়া, জেরুশালেম, টায়ার ও সীদোনের উপকূল অঞ্চল থেকে আগত অনেক লোক সমবেত হয়েছিল।
[18] তারা তাঁর শিক্ষা শুনতে ও তাদের সব রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এসেছিল। মন্দ-আত্মার দ্বারা উৎপীড়িতেরা সুস্থ হল।
[19] লোকেরা তাঁকে স্পর্শ করার চেষ্টা করল, কারণ তাঁর ভেতর থেকে শক্তি নির্গত হয়ে সবাইকে রোগমুক্ত করছিল।
[20] যীশু তাঁর শিষ্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ধন্য তোমরা, যারা দীনদরিদ্র, কারণ ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদেরই।
[21] ধন্য তোমরা, যারা এখন ক্ষুধিত, কারণ তোমরা হবে পরিতৃপ্ত। ধন্য তোমরা, যারা এখন ক্রন্দন করছ, কারণ তোমরা হবে হাস্যমুখর।
[22] ধন্য তোমরা, যখন মনুষ্যপুত্রের জন্য মানুষ তোমাদের ঘৃণা করে, তোমাদের বহিষ্কার করে ও তোমাদের অপমান করে, আবার মন্দ অপবাদ দিয়ে তোমাদের নাম বর্জন করে।
[23] “তখন তোমরা উল্লসিত হোয়ো, আনন্দে নৃত্য কোরো, কারণ স্বর্গে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর পুরস্কার। তাদের পূর্বপুরুষেরাও ভাববাদীদের সঙ্গে এরকম আচরণ করেছিল।
[24] “কিন্তু তোমরা যারা ধনী, ধিক্ তোমাদের, কারণ স্বাচ্ছন্দ্য তোমরা ইতিমধ্যে পেয়েই গিয়েছ।
[25] খাদ্য প্রাচুর্যে পরিতৃপ্ত যারা, ধিক্ তোমাদের, কারণ তোমরা হবে ক্ষুধার্ত। যারা এখন হাসছ, ধিক্ তোমাদের, কারণ তোমরা শোক ও ক্রন্দন করবে।
[26] ধিক্ তোমাদের, যখন মানুষেরা তোমাদের প্রশংসা করে, কারণ তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ভণ্ড ভাববাদীদের সঙ্গে এরকমই আচরণ করত।
[27] “কিন্তু তোমরা, যারা আমার কথা শুনছ, তাদের আমি বলছি, তোমরা শত্রুদের ভালোবেসো; যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের মঙ্গল কোরো।
[28] যারা তোমাদের অভিশাপ দেয়, তাদের আশীর্বাদ দিও; যারা তোমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, তাদের জন্য প্রার্থনা কোরো।
[29] কেউ যদি তোমার এক গালে চড় মারে, অন্য গালও তার দিকে ফিরিয়ে দিয়ো। কেউ যদি তোমার বাইরের চাদর নিয়ে নেয়, তাকে তোমার ভেতরের জামাও নিতে বাধা দিয়ো না।
[30] যারা তোমার কাছে চায়, তাদের তুমি দাও। আর কেউ যদি তোমার কাছ থেকে তোমার কোনো জিনিস নিয়ে নেয়, তা ফেরত চেয়ো-না।
[31] তুমি অপরের কাছ থেকে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করো, তাদের প্রতি সেইরকমই আচরণ কোরো।
[32] “যারা তোমাদের ভালোবাসে, তোমরা যদি তাদেরই ভালোবাসো, তাহলে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? এমনকি, পাপীরাও তাদের ভালোবাসে, যারা তাদের ভালোবাসে।
[33] যারা তোমাদের উপকার করে, তোমরা যদি তাদেরই উপকার করো, তাহলে তাতে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? পাপীরাও তো তাই করে।
[34] যাদের কাছে ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা আছে, শুধুমাত্র তাদেরই যদি তোমরা ঋণ দাও, তাহলে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? পাপীরাও তো তাদের সমস্ত ঋণ ফেরত পাওয়ার আশায় পাপীদের ঋণ দেয়।
[35] কিন্তু তোমরা শত্রুদেরও ভালোবেসো, তাদের মঙ্গল কোরো এবং কোনো কিছু ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা না করে, তাদের ঋণ দিয়ো। তাহলে তোমাদের পুরস্কার হবে প্রচুর। আর তোমরা হবে পরাৎপরের সন্তান, কারণ তিনি অকৃতজ্ঞ ও দুর্জনদের প্রতিও কৃপাবান।
[36] অতএব, তোমাদের পিতা যেমন দয়ালু, তোমরাও তেমনই দয়ালু হও।
[37] “বিচার কোরো না, তাহলে তোমরাও বিচারিত হবে না। কাউকে দোষী কোরো না, তাহলে তোমাদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হবে না। ক্ষমা কোরো, তাহলে তোমাদেরও ক্ষমা করা হবে।
[38] দান কোরো, তোমরাও পাবে। প্রচুর পরিমাণে, চেপে, ঝাঁকুনি দিয়ে তোমাদের পাত্র এমনভাবে ভরিয়ে দেওয়া হবে, যে তা উপচে পড়বে। কারণ যে পরিমাপ তোমরা ব্যবহার করবে, সেই পরিমাপেই তোমাদের জন্য ব্যবহার করা হবে।”
[39] পরে তিনি তাদের এই রূপকটি বললেন, “একজন অন্ধ কি আর একজন অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? তারা দুজনেই কি কোনো গর্তে পড়বে না?
[40] শিষ্য তার গুরুর ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ শিক্ষাপ্রাপ্ত হলে প্রত্যেক শিষ্য তার গুরুর সমকক্ষ হয়ে উঠবে।
[41] “তোমার ভাইয়ের চোখে কাঠের গুঁড়ো দেখছ, অথচ নিজের চোখে যে আস্ত কড়িকাঠ আছে, সেদিকে দৃষ্টি নেই কেন?
[42] তুমি যখন নিজের চোখের কড়িকাঠ দেখতে পাও না, তখন কীভাবে তোমার ভাইকে বলতে পারো, ‘ভাই এসো, আমি তোমার চোখ থেকে কাঠের গুঁড়ো বের করে দিই’? ভণ্ড কোথাকার! তোমার নিজের চোখ থেকে কাঠটা বের করো, তাহলেই তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কাঠের গুঁড়ো বের করার স্বচ্ছ দৃষ্টি পাবে।
[43] “কোনো ভালো গাছে মন্দ ফল ধরে না, আবার মন্দ গাছেও ধরে না ভালো ফল।
[44] প্রত্যেক গাছের পরিচয় পাওয়া যায় তার ফলে। লোকে কাঁটাঝোপ থেকে ডুমুর বা শেয়ালকাঁটা থেকে আঙুর আহরণ করে না।
[45] ভালো মানুষ অন্তরের ভালো সঞ্চয় থেকে ভালো সব জিনিস বের করে আনে, আর মন্দ মানুষ তার হৃদয়ের মন্দ সঞ্চয় থেকে আনে সব মন্দ জিনিস। কারণ হৃদয় থেকে যা উপচে উঠে, মানুষ মুখে তাই বলে।
[46] “আমি যা বলি, তা তোমরা করো না, অথচ আমাকে ‘প্রভু, প্রভু,’ বলে সম্বোধন করো, কেন?
[47] যে আমার কাছে এসে আমার কথা শুনে কাজ করে, সে যে কেমন লোক, তা আমি তোমাদের বলি।
[48] সে এমন একজন লোক, যে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে শক্ত পাথরের উপর তার ভিত্তিমূল স্থাপন করল। যখন বন্যা এল, প্রবল স্রোত বাড়িতে এসে আঘাত করল, তাকে টলাতে পারল না, কারণ তা দৃঢ়ভাবে নির্মিত হয়েছিল।
[49] কিন্তু যে আমার কথা শুনেও সেই অনুযায়ী কাজ করে না, সে এমন একজনের মতো, যে ভিত্তিমূল ছাড়াই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করল। প্রবল স্রোত যে মুহূর্তে সেই বাড়িতে আঘাত হানল, বাড়িটি পড়ে গেল, আর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেল।”