[1] এরপর প্রভু আরও বাহাত্তর জনকে নিযুক্ত করলেন এবং যে সমস্ত নগরে ও স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তার আগেই তিনি দুজন দুজন করে তাঁদের সেইসব স্থানে পাঠিয়ে দিলেন।
[2] তিনি তাঁদের বললেন, “শস্যের প্রাচুর্য রয়েছে, কিন্তু মজুরের সংখ্যা অল্প। তাই শস্যের মালিকের কাছে মিনতি জানাও, তিনি যেন তাঁর শস্যক্ষেত্রে মজুরদের পাঠিয়ে দেন।
[3] তোমরা যাও! নেকড়ের পালের মধ্যে যেমন মেষশাবক, তেমনই আমি তোমাদের পাঠাচ্ছি।
[4] তোমাদের সঙ্গে টাকার থলি, ঝুলি, অথবা চটিজুতো নিয়ো না; পথে কাউকে অভিবাদন জানিয়ো না।
[5] “কোনো বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, প্রথমে তোমরা বোলো, ‘এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক।’
[6] সেখানে কোনো শান্তিপ্রিয় মানুষ থাকলে, তোমাদের শান্তি তার উপর বিরাজ করবে, না থাকলে তোমাদের কাছেই তা ফিরে আসবে।
[7] তোমরা সেই বাড়িতে থেকো, তাঁরা যা দেবেন, তা ভোজন ও পান কোরো, কারণ মজুর তার পারিশ্রমিকের অধিকারী। তোমরা এক বাড়ি থেকে অন্য কোনো বাড়িতে আশ্রয় নিয়ো না।
[8] “তোমরা কোনো নগরে প্রবেশ করলে সেখানকার লোক যদি তোমাদের স্বাগত জানিয়ে কিছু আহার করতে দেয়, তবে তা ভোজন কোরো।
[9] সেখানকার পীড়িতদের নিরাময় কোরো। তাদের বোলো, ‘ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের সন্নিকট।’
[10] কিন্তু কোনো নগরে প্রবেশ করার পর লোকে যদি তোমাদের স্বাগত না জানায়, তবে পথে বেরিয়ে পড়ে বোলো,
[11] ‘তোমাদের নগরের যে ধুলো আমাদের পায়ে লেগেছিল, তাও আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে ফেললাম। তবুও তোমরা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জেনো, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট।’
[12] আমি তোমাদের বলছি, সেই মহাবিচারের দিন সেই নগরের যে অবস্থা হবে, তার চেয়ে সদোমের অবস্থা বরং আরও বেশি সহনীয় হবে।
[13] “কোরাসীন, ধিক্ তোমাকে! বেথসৈদা, ধিক্ তোমাকে! কারণ তোমাদের মধ্যে যেসব অলৌকিক কাজ করা হয়েছে, টায়ার ও সীদোনের মধ্যে তা করা হলে, বহু আগেই তারা চট পরে ও ভস্মে বসে অনুতাপ করত।
[14] কিন্তু বিচারে তোমাদের চেয়ে বরং টায়ার ও সীদোনের অবস্থা সহনীয় হবে।
[15] আর তুমি কফরনাহূম, তুমি না-কি ঊর্ধ্বলোকে উন্নীত হবে? না, তুমি অধোলোকে তলিয়ে যাবে।
[16] “যারা তোমাদের কথা শোনে, তারা আমারই কথা শোনে; যারা তোমাদের প্রত্যাখ্যান করে, তারা আমাকেই প্রত্যাখ্যান করে; কিন্তু যে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে, সে প্রত্যাখ্যান করে তাঁকেই, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।”
[17] সেই বাহাত্তর জন শিষ্য সানন্দে ফিরে এসে বললেন, “প্রভু, আপনার নামে ভূতেরাও আমাদের অধীনতা স্বীকার করে।”
[18] তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আকাশ থেকে বিদ্যুতের মতো শয়তানকে পতিত হতে দেখেছি।
[19] আমি তোমাদের সাপ ও কাঁকড়াবিছে পদতলে দলিত করার এবং শত্রুর সমস্ত ক্ষমতার উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার দান করেছি। কোনো কিছুই তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
[20] কিন্তু আত্মারা তোমাদের বশীভূত হয় বলে উল্লসিত হোয়ো না, বরং স্বর্গে তোমাদের নাম লেখা হয়েছে বলে উল্লসিত হও।”
[21] সেই সময় যীশু পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে বললেন, “পিতা, স্বর্গ ও মর্ত্যের প্রভু, আমি তোমার বন্দনা করি। কারণ জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের কাছে তুমি এই সমস্ত বিষয় গোপন করে রেখেছ এবং ছোট শিশুদের কাছে সেসব প্রকাশ করেছ। হ্যাঁ পিতা, এতেই ছিল তোমার পরম আনন্দ।
[22] “আমারই কাছে পিতা সবকিছু সমর্পণ করেছেন। পিতা ছাড়া পুত্রের পরিচয় আর কেউ জানে না এবং পুত্র ব্যতিরেকে পিতার পরিচয় আর কেউ জানে না, আর জানে তারা, পুত্র যাদের মনোনীত করে পিতাকে তাদের কাছে প্রকাশ করেন।”
[23] তারপর তিনি শিষ্যদের দিকে ফিরে একান্তে বললেন, “তোমরা যা দেখছ, যারা তা দেখে, ধন্য তাদের নয়ন।
[24] কারণ আমি তোমাদের বলছি, বহু ভাববাদী ও রাজা তা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তা দেখতে পাননি। তোমরা যা শুনছ, তাঁরা তা শুনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শুনতে পাননি।”
[25] একদিন এক শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি যীশুকে পরীক্ষা করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন, “গুরুমহাশয়, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
[26] তিনি উত্তর দিলেন, “বিধান-শাস্ত্রে কী লেখা আছে? তুমি কি পাঠ করছ?”
[27] তিনি উত্তরে বললেন, “ ‘তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, সমস্ত প্রাণ এবং সমস্ত শক্তি ও সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসবে’; এবং, ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।’”
[28] যীশু উত্তরে বললেন, “তুমি যথার্থ উত্তর দিয়েছ। তাই করো এবং এতেই তুমি জীবন লাভ করবে।”
[29] কিন্তু তিনি নিজের সততা প্রতিপন্ন করতে যীশুকে প্রশ্ন করলেন, “বেশ, আমার প্রতিবেশী কে?”
[30] প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “এক ইহুদি ব্যক্তি জেরুশালেম থেকে যিরীহোতে নেমে যাচ্ছিল। পথে সে দস্যুদের কবলে পড়ল। তারা তার পোশাক খুলে নিয়ে তাকে মেরে আধমরা ফেলে রেখে চলে গেল।
[31] ঘটনাক্রমে একজন যাজক সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটিকে দেখে তিনি রাস্তার অন্য প্রান্ত দিয়ে চলে গেলেন।
[32] সেভাবে একজন লেবীয়ও সেখানে এসে তাকে দেখে অন্য দিক দিয়ে চলে গেল।
[33] কিন্তু একজন শমরীয় পথ চলতে চলতে, মানুষটি যেখানে ছিল, সেখানে এসে পৌঁছাল; তাকে দেখে সে তার প্রতি করুণাবিষ্ট হল।
[34] সে তার কাছে গিয়ে ক্ষতস্থানে তেল ও দ্রাক্ষারস লেপন করে বেঁধে দিল। তারপর লোকটিকে তার নিজের গাধায় চাপিয়ে একটি পান্থশালায় নিয়ে এসে তার সেবাযত্ন করল।
[35] পরদিন পান্থশালার মালিককে সে দুটি রৌপ্যমুদ্রা দিল। সে বলল, ‘ওর সেবাযত্ন কোরো। এর অতিরিক্ত কিছু ব্যয় হলে, ফেরার পথে আমি পরিশোধ করে দেব।’
[36] “এই তিনজনের মধ্যে কে দস্যুদের হাতে পড়া ওই লোকটির কাছে প্রতিবেশী হয়ে উঠল? তোমার কী মনে হয়?”
[37] শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি উত্তর দিলেন, “লোকটির প্রতি যে করুণা দেখিয়েছিল, সেই।” যীশু তাঁকে বললেন, “যাও, ফিরে গিয়ে তুমিও সেরকম করো।”
[38] যীশু শিষ্যদের নিয়ে পথ চলতে চলতে একটি গ্রামে এসে পৌঁছালেন। সেখানে মার্থা নামে এক স্ত্রীলোক তাঁর গৃহে তাঁকে স্বাগত জানালেন।
[39] মরিয়ম নামে তাঁর এক বোন ছিলেন। প্রভুর মুখনিঃসৃত বাণী শোনার জন্য তিনি প্রভুর পায়ের কাছে বসলেন।
[40] কিন্তু মার্থা আপ্যায়নের আয়োজন করতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি যীশুর কাছে এসে বললেন, “প্রভু, আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, আমার বোন আমার একার উপর সমস্ত কাজের ভার ছেড়ে দিয়েছে? আপনি ওকে বলুন, আমাকে সাহায্য করতে।”
[41] প্রভু উত্তর দিলেন, “মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আর বিচলিত হয়ে পড়েছ।
[42] কিন্তু প্রয়োজন একটিমাত্র বিষয়ের। মরিয়ম সেই উত্তম বিষয়টিই মনোনীত করেছে, যা তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে না।”