[1] এক বিশ্রামদিনে যীশু এক বিশিষ্ট ফরিশীর গৃহে আহার করতে গেলেন। লোকেরা তাঁর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিল।
[2] সেখানে তাঁর সামনে ছিল শোথ রোগগ্রস্ত এক ব্যক্তি।
[3] যীশু ফরিশী ও শাস্ত্রবিদদের প্রশ্ন করলেন, “বিশ্রামদিনে রোগনিরাময় করা বৈধ, না অবৈধ?”
[4] তারা কিন্তু নিরুত্তর রইল। তাই যীশু তাকে ধরে সুস্থ করে বিদায় দিলেন।
[5] তারপর তিনি তাদের প্রশ্ন করলেন, “তোমাদের কারও পুত্র বা বলদ যদি বিশ্রামদিনে কূপের মধ্যে পড়ে যায়, তোমরা কি তখনই তাকে তুলে আনবে না?”
[6] প্রত্যুত্তরে তাদের কিছু বলার ছিল না।
[7] আর আমন্ত্রিতদের বিশিষ্ট আসনগুলি দখল করে নিতে লক্ষ্য করে তিনি তাদের একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে পরামর্শ দিলেন:
[8] “কেউ যখন তোমাকে বিবাহভোজে নিমন্ত্রণ করে, তখন তুমি সম্মানিত ব্যক্তির আসন গ্রহণ কোরো না। কারণ তোমার চেয়ে বেশি সম্মানিত কোনো ব্যক্তি হয়তো নিমন্ত্রিত হয়ে থাকতে পারেন।
[9] যদি তাই হয়, তাহলে যিনি তোমাদের দুজনকেই নিমন্ত্রণ করেছেন, তিনি এসে তোমাকে বলবেন, ‘এই ভদ্রলোককে আপনার আসনটি ছেড়ে দিন।’ তখন লজ্জিত হয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ আসনে তোমাকে বসতে হবে।
[10] কিন্তু তুমি নিমন্ত্রিত হলে, নিকৃষ্টতম আসনে গিয়ে বোসো, তাহলে তোমার আমন্ত্রণকর্তা তোমাকে বলবেন, ‘বন্ধু, এর চেয়ে ভালো আসনে উঠে বসো।’ তখন অন্যান্য সহ নিমন্ত্রিতদের সামনে তুমি সম্মানিত হবে।
[11] কারণ যে নিজেকে উন্নীত করবে, সে অবনত হবে এবং যে নিজেকে অবনত করবে, সে উন্নীত হবে।”
[12] যীশু তখন তাঁর নিমন্ত্রণকর্তাকে বললেন, “আপনি যখন দুপুরের, বা রাতের ভোজ আয়োজন করবেন, আপনার বন্ধুবান্ধব, ভাইদের অথবা আত্মীয়স্বজন, বা আপনার ধনী প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করবেন না; তাহলে তারা তার প্রতিদানে আবার আপনাকে নিমন্ত্রণ করবে। আর তাই হবে আপনার কেবলমাত্র পুরস্কার।
[13] পরিবর্তে, দীনদরিদ্র, পঙ্গু, খঞ্জ ও দৃষ্টিহীনদের নিমন্ত্রণ করুন।
[14] তখনই আপনি আশীর্বাদধন্য হবেন। তারা আপনাকে প্রতিদান দিতে না পারলেও, ধার্মিকদের পুনরুত্থানকালে আপনি প্রতিদান লাভ করবেন।”
[15] তাঁর সঙ্গে ভোজনরত এক ব্যক্তি একথা শুনে যীশুকে বলল, “ধন্য সেই মানুষ, যে ঈশ্বরের রাজ্যের ভোজে আহার করবে।”
[16] যীশু উত্তর দিলেন, “কোনো ব্যক্তি এক বিশাল ভোজের আয়োজন করে বহু অতিথিকে নিমন্ত্রণ করলেন।
[17] ভোজের সময় তিনি তাঁর পরিচারক মারফত নিমন্ত্রিতদের বলে পাঠালেন, ‘সব আয়োজনই এখন সম্পূর্ণ, আপনারা আসুন।’
[18] “কিন্তু তারা সবাই একইভাবে অজুহাত দেখাতে লাগল। প্রথম ব্যক্তি বলল, ‘আমি সবেমাত্র একটি জমি ক্রয় করেছি, আমাকে গিয়ে সেটি দেখতেই হবে। আমাকে মার্জনা করুন।’
[19] “আর একজন বলল, ‘আমি এইমাত্র পাঁচজোড়া বলদ ক্রয় করেছি। সেগুলি পরখ করে দেখার জন্য আমি পথে বেরিয়ে পড়েছি। দয়া করে আমাকে মার্জনা করুন।’
[20] “আর এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি সবেমাত্র বিবাহ করেছি, তাই আমি যেতে পারছি না।’
[21] “পরিচারক ফিরে এসে তার মনিবকে এসব কথা জানাল। তখন গৃহকর্তা ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর পরিচারককে আদেশ দিলেন, ‘নগরের পথে পথে ও অলি-গলিতে শীঘ্র বেরিয়ে পড়ো এবং কাঙাল, পঙ্গু, অন্ধ ও খঞ্জদের নিয়ে এসো।’
[22] “পরিচারক বলল, ‘মহাশয়, আপনার আদেশমতোই কাজ হয়েছে, কিন্তু এখনও স্থান খালি আছে।’
[23] “গৃহকর্তা তখন তাঁর পরিচারককে বললেন, ‘বড় রাস্তাগুলিতে ও গ্রামের অলিগলিতে গিয়ে তাদের আসার জন্য অনুনয় করো, যেন আমার বাসভবন ভরে যায়।
[24] আমি তোমাকে বলছি, পূর্বে আমন্ত্রিত সেইসব লোকের কেউই আমার ভোজের আস্বাদ পাবে না।’ ”
[25] অনেক লোক যীশুর সঙ্গে সঙ্গে চলছিল। তিনি তাদের দিকে ফিরে বললেন,
[26] “কেউ যদি আমার কাছে আসে এবং তার পিতামাতা, তার স্ত্রী ও সন্তান, ভাই ও বোন, এমনকি, নিজের প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।
[27] যে আমার অনুগামী হতে চায়, আর নিজের ক্রুশ বহন না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।
[28] “মনে করো, তোমাদের মধ্যে একজন একটি মিনার তৈরি করতে চাইল। সে কি প্রথমেই খরচের হিসেব করে দেখে নেবে না, যে তা শেষ করার মতো তার যথেষ্ট আর্থিক সংগতি আছে, কি না?
[29] কারণ ভিত্তিমূল স্থাপন করে তা শেষ করতে না পারলে, যে দেখবে, সেই তাকে বিদ্রুপ করে বলবে,
[30] ‘এই লোকটি নির্মাণ করতে শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ করতে পারেনি।’
[31] “অথবা, মনে করো, এক রাজা আর এক রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানে উদ্যত হলেন। তিনি কি প্রথমেই বসে বিবেচনা করে দেখবেন না, যে বিশ সহস্র সৈন্য নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যিনি এগিয়ে আসছেন, দশ সহস্র সৈন্য নিয়ে তিনি তাঁর প্রতিরোধ করতে পারবেন, কি না?
[32] তিনি সক্ষম না হলে, প্রতিপক্ষ অনেক দূরে থাকতে থাকতেই তিনি এক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে সন্ধির শর্তাদি জেনে নেবেন।
[33] একইভাবে, তোমাদের মধ্যে কেউ তার সর্বস্ব পরিত্যাগ না করলে আমার শিষ্য হতে পারে না।
[34] “লবণ তো উত্তম, কিন্তু লবণ যদি তার লবণত্ব হারায়, তাহলে কেমনভাবে আবার তা লবণাক্ত করা যাবে?
[35] সেগুলি জমি, অথবা সারঢিবি, কোনো কিছুরই যোগ্য নয় বলে বাইরে নিক্ষেপ করা হবে। “শোনবার কান যার আছে, সে শুনুক।”