Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:57

[1] রোমান সম্রাট তিবিরীয় কৈসরের রাজত্বের পনেরোতম বছরে, যখন পন্তীয় পীলাত ছিলেন যিহূদিয়ার শাসনকর্তা, হেরোদ ছিলেন গালীল প্রদেশের সামন্তনৃপতি, তাঁর ভাই ফিলিপ ছিলেন ইতুরিয়া ও ত্রাখোনীতিয়া প্রদেশের সামন্ত-নৃপতি ও লুসানিয় ছিলেন অবিলিনীর সামন্ত-নৃপতি

[2] এবং হানন ও কায়াফা ছিলেন মহাযাজক, সেই সময় সখরিয়ের পুত্র যোহনের কাছে মরুপ্রান্তরে ঈশ্বরের বাক্য উপস্থিত হল।

[3] তিনি জর্ডন অঞ্চলের চতুর্দিক পরিভ্রমণ করে পাপক্ষমার জন্য মন পরিবর্তনের বাপ্তিষ্মের কথা প্রচার করলেন।

[4] ভাববাদী যিশাইয়ের বচন-গ্রন্থে যেমন লেখা আছে: “মরুপ্রান্তরে ঘোষণা একটি কণ্ঠস্বর করছে, ‘তোমরা প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করো, তাঁর জন্য রাজপথগুলি সরল করো।

[5] প্রত্যেক উপত্যকা ভরিয়ে তোলা হবে, পাহাড়-পর্বতগুলি অবনত করা হবে। বক্র পথগুলি সরল হবে, বন্ধুর পথগুলি মসৃণ হবে।

[6] আর সমস্ত মানুষ ঈশ্বরের পরিত্রাণ প্রত্যক্ষ করবে।’ ”

[7] যে লোকেরা যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম নিতে আসছিল, তিনি তাঁদের বললেন, “কালসাপের বংশধর তোমরা। সন্নিকট রোষ থেকে পালানোর জন্য কে তোমাদের সতর্ক করল?

[8] তোমরা যে মন পরিবর্তন করেছ, তার ফল দেখাও। তোমরা মনে মনে এরকম বোলো না, ‘অব্রাহাম আমাদের পিতা।’ কারণ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বর এই পাথরগুলি থেকেও অব্রাহামের জন্য সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন।

[9] কুড়ুল ইতিমধ্যেই গাছগুলির মূলে লাগানো রয়েছে, আর যেসব গাছ উৎকৃষ্ট ফল দেবে না, সেগুলি কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হবে।”

[10] লোকেরা প্রশ্ন করল, “আমরা তাহলে কী করব?”

[11] যোহন উত্তর দিলেন, “যার দুটি পোশাক আছে সে, যার একটিও নেই, তার সঙ্গে ভাগ করে নিক; আর যার কাছে কিছু খাদ্যসামগ্রী আছে, সে-ও তাই করুক।”

[12] কর আদায়কারীরাও এল বাপ্তিষ্ম নিতে। তারা বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা কী করব?”

[13] তিনি তাদের বললেন, “তোমরা নিরূপিত পরিমাণের অতিরিক্ত কর আদায় কোরো না।”

[14] তখন কয়েকজন সৈন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আর আমরা কী করব?” তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরা বলপ্রয়োগ করে লোকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কোরো না, মিথ্যা অভিযোগে কাউকে অভিযুক্ত কোরো না; যা বেতন পাও, তাতে সন্তুষ্ট থেকো।”

[15] সকলে অধীর প্রতীক্ষায় ছিল এবং সবারই মনে প্রশ্ন জাগছিল, হয়তো যোহনই বা সেই খ্রীষ্ট।

[16] যোহন তাদের সবাইকে উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের বাপ্তিষ্ম দিই জলে; কিন্তু আমার চেয়েও পরাক্রমী একজন আসছেন। তাঁর পাদুকার বন্ধনী খোলারও যোগ্যতা আমার নেই। তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মায় ও আগুনে বাপ্তিষ্ম দেবেন।

[17] খামার পরিষ্কার করার কুলো রয়েছে তাঁরই হাতে, তিনি তা দিয়ে গম গোলাঘরে সংগ্রহ করবেন এবং তুষ অনির্বাণ অগ্নিতে ভস্মীভূত করবেন।”

[18] যোহন লোকসমূহকে আরও অনেক শিক্ষা দিয়ে সতর্ক করলেন এবং তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করলেন।

[19] কিন্তু সামন্তরাজ হেরোদ আপন ভ্রাতৃবধূ হেরোদিয়ার বিষয়ে এবং নিজের সমস্ত দুষ্কর্মের জন্য যোহন দ্বারা তিরস্কৃত হলে,

[20] দুষ্কর্মের বিষয়ে এটিও যোগ করলেন, তিনি যোহনকে কারারুদ্ধ করলেন।

[21] অন্য সকলে যখন বাপ্তিষ্ম নিচ্ছিল, তখন যীশুও বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করলেন। তিনি যখন প্রার্থনা করছিলেন, স্বর্গলোক খুলে গেল

[22] এবং পবিত্র আত্মা কপোতের আকৃতি নিয়ে তাঁর উপর অবতীর্ণ হলেন। আর স্বর্গ থেকে একটি বাণী শোনা গেল, “তুমি আমার প্রিয় পুত্র, তোমার উপরে আমি পরম প্রসন্ন।”

[23] পরে যীশুর বয়স যখন প্রায় ত্রিশ বছর, তিনি তাঁর পরিচর্যা শুরু করলেন। লোকেরা যেমন মনে করত, যীশু ছিলেন যোষেফের পুত্র, যোষেফ। এলির পুত্র,

[24] এলি মত্ততের পুত্র, মত্তত লেবির পুত্র, লেবি মল্কির পুত্র, মল্কি যান্নায়ের পুত্র, যান্নায় যোষেফের পুত্র,

[25] যোষেফ মত্তথিয়ের পুত্র, মত্তথিয় আমোষের পুত্র, আমোষ নহূমের পুত্র, নহূম ইষলির পুত্র, ইষলি নগির পুত্র,

[26] নগি মাটের পুত্র, মাট মত্তথিয়ের পুত্র, মত্তথিয় শিমিয়ির পুত্র, শিমিয়ি যোষেফের পুত্র, যোষেফ জোদার পুত্র,

[27] জোদা যোহানার পুত্র, যোহানা রীষার পুত্র, রীষা সরুব্বাবিলের পুত্র, সরুব্বাবিল শল্টীয়েলের পুত্র, শল্টীয়েল নেরির পুত্র,

[28] নেরি মল্কির পুত্র, মল্কি অদ্দীর পুত্র, অদ্দী কোষণের পুত্র, কোষণ ইলমাদমের পুত্র, ইলমাদম এরের পুত্র,

[29] এর যিহোশূয়ের পুত্র, যিহোশূয় ইলীয়েষরের পুত্র, ইলীয়েষর যোরীমের পুত্র, যোরীম মত্ততের পুত্র, মত্তত লেবির পুত্র,

[30] লেবি শিমিয়োনের পুত্র, শিমিয়োন যিহূদার পুত্র, যিহূদা যোষেফের পুত্র, যোষেফ যোনমের পুত্র, যোনম ইলিয়াকীমের পুত্র,

[31] ইলিয়াকীম মিলেয়ার পুত্র, মিলেয়া মিন্নার পুত্র, মিন্না মত্তথের পুত্র, মত্তথ নাথনের পুত্র, নাথন দাউদের পুত্র,

[32] দাউদ যিশয়ের পুত্র, যিশয় ওবেদের পুত্র, ওবেদ বোয়সের পুত্র, বোয়স সলমনের পুত্র, সলমন নহশোনের পুত্র,

[33] নহশোন অম্মীনাদবের পুত্র, অম্মীনাদব রামের পুত্র, রাম হিষ্রোণের পুত্র, হিষ্রোণ পেরসের পুত্র, পেরস যিহূদার পুত্র,

[34] যিহূদা যাকোবের পুত্র, যাকোব ইস্‌হাকের পুত্র, ইসহাক অব্রাহামের পুত্র, অব্রাহাম তেরহের পুত্র, তেরহ নাহোরের পুত্র,

[35] নাহোর সরূগের পুত্র, সরূগ রিয়ূর পুত্র, রিয়ূ পেলগের পুত্র, পেলগ এবরের পুত্র, এবর শেলহের পুত্র,

[36] শেলহ কৈননের পুত্র, কৈনন অর্ফকষদের পুত্র, অর্ফকষদ শেমের পুত্র, শেম নোহের পুত্র, নোহ লেমকের পুত্র,

[37] লেমক মথূশেলহের পুত্র, মথূশেলহ হনোকের পুত্র, হনোক যেরদের পুত্র, যেরদ মহললেলের পুত্র, মহললেল কৈননের পুত্র,

[38] কৈনন ইনোশের পুত্র, ইনোশ শেথের পুত্র, শেথ আদমের পুত্র, আদম ঈশ্বরের পুত্র।

লূক — Chapters