[1] যীশু দৃষ্টিপাত করে মন্দিরের ধন-ভাণ্ডারে উপহার দান করতে দেখলেন।
[2] তিনি এক দরিদ্র বিধবাকেও অতি ক্ষুদ্র দুটি তাম্রমুদ্রা রাখতে দেখলেন।
[3] তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই দীনদরিদ্র বিধবাটি অন্য সবার চেয়ে বেশি দান করেছে।
[4] এসব লোক তাদের প্রাচুর্যের মধ্য থেকে দান দিয়েছে, কিন্তু সে দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও, তার প্রাণধারণের জন্য যা কিছু ছিল, সবই দিয়ে দিয়েছে।”
[5] তাঁর কয়েকজন শিষ্য মন্তব্য করছিলেন, সুন্দর সুন্দর পাথর ও ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত সব বস্তুতে মন্দিরটি কেমন সুশোভিত! কিন্তু যীশু বললেন,
[6] “তোমরা এখানে যা দেখছ, এমন এক সময় আসবে, যখন এর একটি পাথর, অন্য পাথরের উপরে থাকবে না; তাদের প্রত্যেকটি ভূমিতে নিক্ষিপ্ত হবে।”
[7] তাঁরা জানতে চাইলেন, “গুরুমহাশয়, এ সমস্ত কখন ঘটবে? তার লক্ষণই বা কী, যা দেখে আমরা বুঝব যে, সে সমস্ত ঘটতে চলেছে?”
[8] তিনি উত্তর দিলেন, “সতর্ক থেকো, তোমরা যেন প্রতারিত না হও। কারণ আমার নাম নিয়ে অনেকেই আসবে। তারা দাবি করে বলবে, ‘আমিই তিনি,’ আর ‘সেই কাল সন্নিকট।’ তোমরা তাদের অনুগামী হোয়ো না।
[9] যুদ্ধ ও বিপ্লবের কথা শুনে তোমরা আতঙ্কিত হোয়ো না। প্রথমে এসব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনই সমাপ্তি হবে না।”
[10] এরপর তিনি তাদের বললেন, “জাতির বিরুদ্ধে জাতি ও রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্যের অভ্যুত্থান ঘটবে।
[11] দিকে দিকে শুরু হবে প্রলয়ংকর ভূকম্প, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি, মহাকাশে দেখা যাবে বহু ভীতিকর দৃশ্য ও বড় বড় নিদর্শন।
[12] “কিন্তু এসবের পূর্বে তারা তোমাদের পীড়ন করবে ও নির্যাতন করবে। তারা তোমাদের সমাজভবনের কর্তৃপক্ষের হাতে সমর্পণ করবে, নিক্ষেপ করবে কারাগারে। রাজা ও প্রদেশপালদের দরবারে তোমাদের হাজির করানো হবে, আর আমার নাম স্বীকার করার কারণেই সে সমস্ত ঘটবে।
[13] এর পরিণামে, তোমরা তাদের কাছে সাক্ষ্যদানের সুযোগ লাভ করবে।
[14] কিন্তু কীভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে, সে বিষয়ে পূর্বেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হওয়ার জন্য মনস্থির করবে।
[15] কারণ আমি তোমাদের এমন বাক্য ও বিজ্ঞতা দান করব, যা তোমাদের প্রতিপক্ষ প্রতিরোধ ও খণ্ডন করতে ব্যর্থ হবে।
[16] এমনকি, তোমাদের পিতামাতা, ভাই, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব তোমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তারা তোমাদের কাউকে কাউকে মৃত্যুমুখে সমর্পণ করবে।
[17] আর আমার কারণে তোমরা সকলের কাছে ঘৃণিত হবে।
[18] কিন্তু তোমাদের মাথার একটি চুলও বিনষ্ট হবে না।
[19] তোমরা যদি অবিচলিত থাকো, তাহলে লাভ করবে জীবন।
[20] “যখন তোমরা দেখবে জেরুশালেম সৈন্য পরিবেষ্টিত হয়েছে, জানবে, অচিরেই তা হবে জনমানবহীন।
[21] তখন যারা যিহূদিয়ায় থাকবে, তারা যেন পার্বত্য অঞ্চলে পলায়ন করে, যারা নগরে থাকে, তারা যেন বাইরে চলে যায়; আর যারা গ্রামাঞ্চলে থাকবে, তারা যেন নগরের ভেতরে প্রবেশ না করে।
[22] কারণ সেসময় হবে সব শাস্ত্রলিপির পূর্ণতায় শাস্তিদানের সময়।
[23] সেই দিনগুলি অন্তঃসত্ত্বা রমণী ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের কাছে কী ভয়াবহই না হবে! দেশের উপর ঘনিয়ে আসবে চরম দুর্গতি, এই জাতির উপরে নেমে আসবে ঈশ্বরের ক্রোধ।
[24] তারা তরোয়ালের আঘাতে পতিত হবে, বন্দিরূপে অন্য সব জাতির কাছে নির্বাসিত হবে। অইহুদিদের জন্য নিরূপিত কাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জেরুশালেম পরজাতিদের দ্বারা পদদলিত হবে।
[25] “আর সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্রে বিভিন্ন অদ্ভুত চিহ্ন দেখা যাবে। উত্তাল সমুদ্রতরঙ্গের গর্জনে পৃথিবীর সমস্ত জাতি মনস্তাপগ্রস্ত ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে।
[26] পৃথিবীতে যা কিছু ঘটবে, সেই কথা ভেবে মানুষ আতঙ্কে মৃতকল্প হয়ে পড়বে, কারণ জ্যোতিষ্কমণ্ডল তখন হবে প্রকম্পিত।
[27] সেই সময়ে তারা দেখতে পাবে, মনুষ্যপুত্র পরাক্রম ও মহাপ্রতাপের সঙ্গে মেঘযোগে আবির্ভূত হচ্ছেন।
[28] এই সমস্ত ঘটনা যখন সংঘটিত হতে থাকবে, তখন তোমরা ঊর্ধ্বদৃষ্টি কোরো ও মাথা উঁচু কোরো, কারণ তোমাদের মুক্তির সময় সন্নিকট।”
[29] তিনি তাঁদের এই রূপকটিও বললেন: “ডুমুর গাছ ও অন্য সব গাছের দিকে তাকিয়ে দেখো।
[30] সেগুলি যখন নবপল্লবে সজ্জিত হয়ে ওঠে, তা দেখে তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারো, গ্রীষ্মকাল সন্নিকট।
[31] সেইরকম, তোমরা যখন এই সমস্ত ঘটতে দেখবে, তখন জেনো যে, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট।
[32] “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এসব না ঘটা পর্যন্ত এই প্রজন্মের অবলুপ্তি কিছুতেই হবে না।
[33] আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্য কোনোদিনই লুপ্ত হবে না।
[34] “সতর্ক থেকো, নইলে উচ্ছৃঙ্খলতা, মত্ততা ও জীবনের দুশ্চিন্তা তোমাদের হৃদয়কে ভারগ্রস্ত করে তুলবে।
[35] আর সেদিনটি ফাঁদের মতো অপ্রত্যাশিতভাবে তোমাদের উপরে ঘনিয়ে আসবে। কারণ সমগ্র পৃথিবীর প্রত্যেক অধিবাসীর উপরেই তা নেমে আসবে।
[36] সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রেখো ও প্রার্থনা কোরো, যেন সন্নিকট সব ঘটনা থেকে তোমরা অব্যাহতি পাও এবং মনুষ্যপুত্রের সামনে দাঁড়াবার সামর্থ্য লাভ করো।”
[37] যীশু প্রতিদিন মন্দিরে গিয়ে শিক্ষা দিতেন এবং প্রতি সন্ধ্যায় রাত্রিযাপন করার জন্য জলপাই নামের পর্বতের অভিমুখে বেরিয়ে পড়তেন।
[38] তাঁর বাণী শোনার জন্য লোকেরা খুব ভোরবেলাতেই মন্দিরে এসে উপস্থিত হত।