Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:33

[1] একদিন যীশু মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সুসমাচার প্রচার করছিলেন। সেই সময় প্রধান যাজকবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা, প্রাচীনদের সঙ্গে একযোগে তাঁর কাছে এলেন।

[2] তাঁরা বললেন, “আমাদের বলো, কোন অধিকারে তুমি এ সমস্ত কাজ করছ? কে তোমাকে এই অধিকার দিয়েছে?”

[3] তিনি উত্তর দিলেন, “আমিও আপনাদের একটি প্রশ্ন করব। আপনারা আমাকে বলুন,

[4] যোহনের বাপ্তিষ্ম কোথা থেকে হয়েছিল? স্বর্গ থেকে, না মানুষের কাছ থেকে?”

[5] তাঁরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বললেন, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ তাহলে এ প্রশ্ন করবে, ‘তবে আপনারা কেন তাঁকে বিশ্বাস করেননি?’

[6] কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষের কাছে থেকে,’ তাহলে লোকেরা আমাদের পাথর ছুঁড়ে মারবে, কারণ তারা নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করে যে, যোহন একজন ভাববাদী ছিলেন।”

[7] তাই তাঁরা উত্তর দিলেন, “কোথা থেকে, আমরা তা জানি না।”

[8] যীশু বললেন, “তাহলে, কোন অধিকারে আমি এ সমস্ত কাজ করছি, আপনাদেরও বলব না।”

[9] তিনি সকলকে এই রূপক আখ্যানটি বলে চললেন: “এক ব্যক্তি একটি দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করে কয়েকজন চাষিকে ইজারা দিয়ে দীর্ঘকালের জন্য অন্যত্র চলে গেলেন।

[10] ফল সংগ্রহের সময় তিনি এক দাসকে ভাগচাষিদের কাছে পাঠালেন, তারা যেন তাঁকে দ্রাক্ষাক্ষেতের ফলের কিছু অংশ দেয়। কিন্তু ভাগচাষিরা তাকে প্রহার করে রিক্ত হস্তে বিদায় দিল।

[11] তিনি আর একজন দাসকে পাঠালেন, কিন্তু তাকেও তারা প্রহার করল এবং অপমানজনক ব্যবহার করে তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিল।

[12] এবার তিনি তৃতীয় জনকে পাঠালেন। তারা তাকে ক্ষতবিক্ষত করল এবং ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিল।

[13] “তখন দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক বললেন, ‘আমি কী করি? আমি আমার প্রিয় পুত্রকে পাঠাব, তারা হয়তো তাকে সম্মান করবে।’

[14] “কিন্তু ভাগচাষিরা তাকে দেখে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল। তারা বলল, ‘এই ব্যক্তিই উত্তরাধিকারী। এসো আমরা একে হত্যা করি, তাহলে উত্তরাধিকার আমাদের হবে।’

[15] তাই তারা তাকে দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করল। “দ্রাক্ষাকুঞ্জের মালিক তখন তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন?

[16] তিনি এসে ওইসব ভাগচাষিকে হত্যা করবেন এবং দ্রাক্ষাক্ষেতটি অন্যদের দেবেন।” লোকেরা এই কাহিনি শুনে বলল, “এরকম যেন কখনও না হয়।”

[17] যীশু তাদের দিকে সরাসরি তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, “তাহলে, এই লিখিত বাক্যের অর্থ কী? “ ‘স্থপতিরা যে প্রস্তর অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল শীর্ষপ্রস্তর!’

[18] সেই প্রস্তরের উপরে যে পড়বে, সে খণ্ডবিখণ্ড হবে, কিন্তু সেই প্রস্তরটি যার উপরে পড়বে, সে হবে চূর্ণবিচূর্ণ।”

[19] শাস্ত্রবিদরা ও প্রধান যাজকবর্গ আর দেরি না করে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পথ খুঁজতে লাগলেন। কারণ তাঁরা জানতেন, এই রূপক কাহিনিটি তাঁদেরই বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, কিন্তু তাঁরা লোকদের ভয় পেয়েছিলেন।

[20] যীশুর উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে তাঁরা কয়েকজন গুপ্তচর পাঠালেন। তারা যীশুর সঙ্গে সততার ভান করল। তাঁরা আশা করছিলেন, যীশুর কথায় খুঁত ধরে তাঁকে দেশাধ্যক্ষের ক্ষমতা ও বিচারাধীনে আনতে পারবেন।

[21] তাই গুপ্তচরেরা তাঁকে প্রশ্ন করল, “গুরুমহাশয়, আমরা জানি, আপনি ন্যায়সঙ্গত কথা বলেন ও শিক্ষা দেন, আপনি পক্ষপাতিত্ব করেন না, কিন্তু ঈশ্বরের পথ সম্বন্ধে যথার্থ শিক্ষা দেন।

[22] কৈসরকে কর দেওয়া আমাদের পক্ষে যথার্থ, কি না?”

[23] তিনি তাদের দুমুখো আচরণ বুঝতে পেরে বললেন,

[24] “আমাকে একটি দিনার দেখাও। এর উপরে কার মূর্তি আর নাম আছে?” তারা উত্তর দিল, “কৈসরের।”

[25] তিনি তাদের বললেন, “তাহলে, যা কৈসরের প্রাপ্য, তা কৈসরকে দাও, আর ঈশ্বরের যা প্রাপ্য, তা ঈশ্বরকে দাও।”

[26] তিনি সেখানে যে কথা প্রকাশ্যে বললেন, সেই কথায় তারা তাঁকে ফাঁদে ফেলতে পারল না। তাঁর উত্তরে তারা চমৎকৃত হয়ে নির্বাক হয়ে গেল।

[27] যে সদ্দূকীরা বলে, পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, তাদের কয়েকজন একটি প্রশ্ন নিয়ে যীশুর কাছে এল।

[28] তারা বলল, “গুরুমহাশয়, মোশি আমাদের জন্য লিখে গেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে সন্তানহীন রেখে মারা যায়, তবে তার ভাই, তার বিধবা পত্নীকে বিবাহ করবে এবং সে তার অগ্রজের জন্য সন্তানের জন্ম দেবে।

[29] এখন, সাতটি ভাই ছিল। প্রথমজন, এক নারীকে বিবাহ করে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল।

[30] দ্বিতীয়জন ও তৃতীয়জন তাকে বিবাহ করল এবং

[31] একইভাবে নিঃসন্তান অবস্থায় সেই সাতজনই মারা গেল।

[32] সবশেষে, সেই নারীরও মৃত্যু হল।

[33] তাহলে, পুনরুত্থানে সে কার স্ত্রীরূপে গণ্য হবে, সাতজনই তো তাকে বিবাহ করেছিল?”

[34] যীশু উত্তর দিলেন, “বর্তমানকালের মানুষ বিবাহ করে এবং তাদের বিবাহ দেওয়া হয়।

[35] কিন্তু যারা সেই যুগের ও মৃতলোক থেকে পুনরুত্থানে অংশীদার হওয়ার যোগ্যরূপে বিবেচিত হয়েছে, তারা বিবাহ করবে না বা তাদের বিবাহও দেওয়া হবে না।

[36] তাদের কখনও মৃত্যু হবে না, কারণ তারা হবে স্বর্গদূতের মতো। পুনরুত্থানজাত বলে তারা ঈশ্বরের সন্তান।

[37] কিন্তু ঝোপসংক্রান্ত বিবরণীতে মোশিও দেখিয়েছেন যে, মৃতেরা উত্থাপিত হয়, কারণ তিনি প্রভুকে ‘অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর,’ বলে অভিহিত করেছেন।

[38] তিনি মৃতদের নন, জীবিতদের ঈশ্বর, কারণ তাঁর কাছে সকলেই জীবিত।”

[39] তখন কয়েকজন শাস্ত্রবিদ উত্তর দিলেন, “গুরুমহাশয়, আপনি বেশ ভালোই বলেছেন।”

[40] সেই থেকে কেউ তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে সাহস পেল না।

[41] এরপর যীশু তাদের বললেন, “লোকে বলে, ‘মশীহ, দাউদের পুত্র,’ এ কেমন কথা?

[42] গীতসংহিতা পুস্তকে দাউদ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন— “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বলেন, “তুমি আমার ডানদিকে বসো,

[43] যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠে পরিণত করি।” ’

[44] সুতরাং, দাউদ যাঁকে ‘প্রভু’ রূপে অভিহিত করলেন, তিনি কীভাবে তাঁর পুত্র হতে পারেন?”

[45] লোকেরা যখন শুনছিল, যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন,

[46] “শাস্ত্রবিদদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। তারা লম্বা লম্বা পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে ও হাটে-বাজারে সম্ভাষিত হতে ভালোবাসে; সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলি পেতে ও ভোজসভায় সব থেকে সম্মানজনক আসন লাভ করতে ভালোবাসে।

[47] তারা বিধবাদের বাড়িশুদ্ধ গ্রাস করে এবং লোক-দেখানো লম্বা লম্বা প্রার্থনা করে। এই ধরনের লোকেরা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।”

লূক — Chapters