Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:51

[1] যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “যেসব কারণ মানুষকে পাপে প্ররোচিত করে, সেগুলি আসবেই, কিন্তু ধিক্ তাকে, যার মাধ্যমে সেগুলি আসবে।

[2] যে এই ক্ষুদ্রজনদের একজনকে পাপে প্রলুব্ধ করে, তার গলায় জাঁতা বেঁধে তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করাই বরং তার পক্ষে ভালো।

[3] তাই নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। “তোমার ভাই পাপ করলে তাকে তিরস্কার কোরো এবং সে অনুতপ্ত হলে, তাকে ক্ষমা কোরো।

[4] সে যদি দিনে সাতবার তোমার বিরুদ্ধে পাপ করে এবং সাতবারই ফিরে এসে বলে, ‘আমি অনুতপ্ত,’ তাহলে তাকে ক্ষমা কোরো।”

[5] প্রেরিতশিষ্যেরা প্রভুকে বললেন, “আমাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি করুন।”

[6] তিনি বললেন, “যদি তোমাদের সর্ষে বীজের মতো অতি সামান্য বিশ্বাস থাকে, তাহলে এই তুঁত গাছটিকে তোমরা বলতে পারো, ‘যাও, সমূলে উৎপাটিত হয়ে সমুদ্রে রোপিত হও,’ তাহলে সেইরকমই হবে।

[7] “মনে করো, তোমাদের কোনো একজনের এক পরিচারক আছে। সে চাষবাস, বা মেষপালের তত্ত্বাবধান করে। সে মাঠ থেকে ফিরে এলে তার মনিব কি তাকে বলবেন, ‘এখন এসে খেতে বসো’?

[8] বরং, তিনি কি বলবেন না, ‘আমার আহারের আয়োজন করো; আমি যতক্ষণ পানাহার করব, আমার সেবাযত্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকো, তারপর তুমি পানাহার করতে পারো’?

[9] তাঁর কথামতো কাজ করার জন্য তিনি কি পরিচারকটিকে ধন্যবাদ দেবেন?

[10] সেইরকমই, তোমাদের যা করতে বলা হয়েছিল, তার সবকিছু সমাধা করার পর তোমরাও বোলো, ‘আমরা অযোগ্য দাস, যা করতে বাধ্য ছিলাম শুধুমাত্র তাই করেছি।’ ”

[11] জেরুশালেম অভিমুখে যাওয়ার সময় যীশু শমরিয়া ও গালীল প্রদেশের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে পরিভ্রমণ করছিলেন।

[12] তিনি যখন একটি গ্রামে প্রবেশ করছেন, দশজন কুষ্ঠরোগাক্রান্ত মানুষ তাঁর কাছে এল। তারা দূরে দাঁড়িয়ে রইল

[13] এবং উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “যীশু, প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।”

[14] তাদের দেখে তিনি বললেন, “যাও, যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেদের দেখাও।” আর যেতে যেতেই তারা শুচিশুদ্ধ হয়ে গেল।

[15] তাদের মধ্যে একজন যখন দেখল, সে সুস্থ হয়ে গেছে, সে ফিরে এসে উচ্চকণ্ঠে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।

[16] সে যীশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাল। সে ছিল একজন শমরীয়।

[17] যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “দশজনই কি শুচিশুদ্ধ হয়নি? অন্য নয়জন কোথায়?

[18] ফিরে এসে ঈশ্বরের প্রশংসা করার জন্য এই বিদেশি ছাড়া আর কাউকে কি পাওয়া গেল না?”

[19] তারপর তিনি তাকে বললেন, “ওঠো, চলে যাও। তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।”

[20] এক সময় ফরিশীরা ঈশ্বরের রাজ্যের আগমনকাল সম্বন্ধে জানতে চাইল। যীশু উত্তর দিলেন, “সতর্ক দৃষ্টি রাখলেই যে ঈশ্বরের রাজ্যের আগমন দেখতে পাওয়া যাবে, তেমন নয়।

[21] লোকেরা বলবেও না, ‘ঈশ্বরের রাজ্য এখানে’ বা ‘ওখানে,’ কারণ ঈশ্বরের রাজ্য বিরাজ করছে তোমাদের মধ্যেই।”

[22] তারপর তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এমন এক সময় আসছে, যখন তোমরা মনুষ্যপুত্রের দিনগুলির একটিকে দেখার আকাঙ্ক্ষা করবে, কিন্তু তোমরা দেখতে পাবে না।

[23] লোকেরা তোমাদের বলবে, ‘ওই যে, তিনি ওখানে’ অথবা ‘এখানে!’ তোমরা তাদের পেছনে ছুটে বেড়িয়ো না।

[24] কারণ বিদ্যুৎ রেখা যেমন আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে উদ্ভাসিত হয়ে আকাশকে আলোকিত করে, তেমনই মনুষ্যপুত্রও তাঁর দিনে হবেন।

[25] কিন্তু প্রথমে তাঁকে অবশ্যই বহু যন্ত্রণাভোগ করতে হবে এবং এই প্রজন্মের মানুষদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হতে হবে।

[26] “নোহের সময় যেমন ঘটেছিল, মনুষ্যপুত্রের সময়েও সেইরকম হবে।

[27] নোহ জাহাজে প্রবেশ করা পর্যন্ত লোকেরা পানাহারে মত্ত ছিল, বিবাহ করছিল ও তাদের বিবাহ দেওয়া হচ্ছিল। তারপর মহাপ্লাবন এসে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিল।

[28] “লোটের সময়েও একই ঘটনা ঘটেছিল। লোকেরা পানাহার করছিল, ক্রয়-বিক্রয়, কৃষিকর্ম ও গৃহ নির্মাণে ব্যাপৃত ছিল।

[29] কিন্তু লোট যেদিন সদোম ত্যাগ করলেন, সেদিন আকাশ থেকে আগুন ও গন্ধকের বৃষ্টি নেমে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিল।

[30] “মনুষ্যপুত্র যেদিন প্রকাশিত হবেন, সেদিনও ঠিক এরকমই হবে।

[31] সেদিন কেউ যদি তার ঘরের ছাদে থাকে, আর জিনিসপত্র ঘরের ভেতরে থাকে, সেগুলি নেওয়ার জন্য সে যেন নিচে নেমে না আসে। সেইরকমই, যে মাঠে থাকবে, কোনো কিছুই নেওয়ার জন্য সে যেন ফিরে না আসে।

[32] লোটের স্ত্রীর কথা স্মরণ করো!

[33] যে নিজের জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে; আবার যে তার জীবন হারায়, সে তা রক্ষা করবে।

[34] আমি তোমাদের বলছি, সেই রাত্রে একই শয্যায় দুজন শায়িত থাকবে; তাদের একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।

[35] দুজন স্ত্রীলোক একত্রে জাঁতা পেষণ করবে, একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।

[36] দুজন থাকবে মাঠে; একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।”

[37] তারা জিজ্ঞাসা করল, “কোথায় প্রভু?” তিনি বললেন, “যেখানে মৃতদেহ, শকুনিরা সেখানেই জড়ো হবে।”

লূক — Chapters