Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:41

[1] সেই সময়, সম্রাট অগাস্টাস, এক হুকুম জারি করলেন যে, সমগ্র রোমীয় জগতে লোকগণনা করা হবে।

[2] সিরিয়ার শাসনকর্তা কুরিণিয়ের সময় এটিই ছিল প্রথম জনগণনা।

[3] আর নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রত্যেকেই নিজের নিজের নগরে গেল।

[4] যোষেফও দাউদের কুল ও বংশজাত পুরুষ হিসেবে, গালীলের নাসরৎ নগর থেকে যিহূদিয়ার অন্তর্গত দাউদের নগর বেথলেহেমের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।

[5] তিনি তাঁর বাগদত্তা বধূ মরিয়মকে নিয়ে সেখানে নাম তালিকাভুক্তির জন্য গেলেন। মরিয়ম তখন সন্তানের জন্মের প্রতীক্ষায় ছিলেন।

[6] তাঁরা যখন সেখানে ছিলেন, তখন সন্তানের জন্মলগ্ন ঘনিয়ে এল।

[7] মরিয়ম তাঁর প্রথম সন্তান, এক পুত্রের জন্ম দিলেন এবং শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে জাবপাত্রে শুইয়ে রাখলেন, কারণ পান্থনিবাসে তাঁদের জন্য স্থান ছিল না।

[8] নিকটবর্তী মাঠে কয়েকজন মেষপালক অবস্থিতি করছিল। তারা রাত্রিবেলা তাদের মেষপাল পাহারা দিচ্ছিল।

[9] প্রভুর এক দূত তাঁদের সামনে আবির্ভূত হলেন, ও প্রভুর প্রতাপ তাদের চারপাশে উজ্জ্বল হওয়ায় তারা ভীতচকিত হয়ে উঠল।

[10] কিন্তু দূত তাদের বললেন, “ভয় কোরো না, আমি তোমাদের কাছে এক মহা আনন্দের সুসমাচার নিয়ে এসেছি—এই আনন্দ হবে সব মানুষেরই জন্য।

[11] আজ দাউদের নগরে তোমাদের জন্য এক উদ্ধারকর্তা জন্মগ্রহণ করেছেন, তিনি খ্রীষ্ট প্রভু।

[12] তোমাদের কাছে এই হবে চিহ্ন: তোমরা কাপড়ে জড়ানো এক শিশুকে জাবপাত্রে শায়িত অবস্থায় দেখতে পাবে।”

[13] হঠাৎই বিশাল এক স্বর্গীয় দূতবাহিনী ওই দূতের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে ঈশ্বরের বন্দনা করে বলতে লাগলেন,

[14] “ঊর্ধ্বতমলোকে ঈশ্বরের মহিমা, আর পৃথিবীতে তাঁর প্রীতির পাত্র সব মানুষের মাঝে শান্তি।”

[15] স্বর্গদূতেরা মেষপালকদের ছেড়ে স্বর্গে ফিরে গেল। তারা পরস্পর বলাবলি করল, “চলো, প্রভু আমাদের যে-ঘটনার কথা জানালেন, আমরা বেথলেহেমে গিয়ে তা দেখে আসি।”

[16] তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে মরিয়ম, যোষেফ ও জাবপাত্রে শায়িত শিশুটিকে দেখতে পেল।

[17] তারা শিশুটিকে দর্শন করার পর তাঁর সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছিল, সেই কথা চারদিকে ছড়িয়ে দিল।

[18] যারা মেষপালকদের এই কথা শুনল, তারা সবাই হতচকিত হল।

[19] কিন্তু মরিয়ম এসব বিষয় তাঁর হৃদয়ের মধ্যে সঞ্চয় করে রাখলেন, আর এ নিয়ে চিন্তা করে গেলেন।

[20] যেমন তাঁদের সদ্য বলা হয়েছিল, তেমনই সব দেখেশুনে মেষপালকেরা ঈশ্বরের গৌরব ও বন্দনা করতে করতে ফিরে গেল।

[21] অষ্টম দিনে, তাঁর সুন্নতের সময়ে, তাঁর নাম রাখা হল যীশু। গর্ভে আগমনের পূর্বেই স্বর্গদূত তাঁর এই নাম দিয়েছিলেন।

[22] মোশির বিধান অনুসারে তাঁদের শুদ্ধিকরণের সময় পূর্ণ হওয়ার পর, যোষেফ ও মরিয়ম যীশুকে জেরুশালেমের মন্দিরে প্রভুর সান্নিধ্যে উপস্থিত করার জন্য নিয়ে গেলেন, যেমন

[23] প্রভুর বিধান লেখা আছে, “প্রত্যেক প্রথমজাত পুরুষ-সন্তান প্রভুর কাছে উত্সর্গীকৃত হবে,” এবং

[24] প্রভুর বিধান অনুযায়ী তাঁরা যেন “এক জোড়া ঘুঘু পাখি বা দুটি কপোতশাবক” বলির জন্য উত্সর্গ করেন।

[25] সেই সময় জেরুশালেমে শিমিয়োন নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক ও ভক্তিপরায়ণ। তিনি ইস্রায়েলের সান্ত্বনাপ্রাপ্তির প্রতীক্ষায় ছিলেন এবং পবিত্র আত্মা তাঁর উপর অধিষ্ঠিত ছিলেন।

[26] পবিত্র আত্মা তাঁর কাছে প্রকাশ করেছিলেন যে, প্রভুর মশীহকে দর্শন না করা পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হবে না।

[27] আত্মার চালনায় তিনি মন্দির-প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হলেন। বিধানের প্রথা অনুযায়ী সেই পিতামাতা যখন শিশু যীশুকে নিয়ে এলেন,

[28] শিমিয়োন তাঁকে দুহাতে তুলে নিয়ে ঈশ্বরের স্তুতি করতে লাগলেন এবং বললেন,

[29] “সর্বাধিপতি প্রভু, তোমার প্রতিশ্রুতিমতো এবার তুমি তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও।

[30] কারণ আমার দুই নয়ন তোমার পরিত্রাণ দেখেছে,

[31] যা তুমি সমস্ত জাতির দৃষ্টিগোচরে প্রস্তুত করেছ,

[32] পরজাতিদের কাছে প্রকাশিত হওয়ার জন্য ইনিই সেই জ্যোতি এবং তোমার প্রজা ইস্রায়েল জাতির জন্য গৌরব।”

[33] যীশুর সম্পর্কে যে কথা বলা হল, তা শুনে তাঁর পিতামাতা চমৎকৃত হলেন।

[34] তখন শিমিয়োন তাঁদের আশীর্বাদ করে যীশুর মা মরিয়মকে বললেন, “পূর্ব-নির্ধারণ অনুযায়ী এই শিশু হবেন ইস্রায়েলের অনেকের পতন ও উত্থানের কারণ এবং ইনি হবেন এক চিহ্নস্বরূপ, যার বিরুদ্ধতা করবে অনেকে,

[35] ফলে অনেকের হৃদয় হবে উদ্ঘাটিত; আর একটি তরোয়াল তোমারও প্রাণকে করবে বিদ্ধ।”

[36] সেখানে হান্না নামে এক মহিলা-ভাববাদী ছিলেন। তিনি ছিলেন আশের বংশীয় পনূয়েলের কন্যা। তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল। বিবাহের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে সাত বছর জীবনযাপন করেছিলেন।

[37] পরে চুরাশি বছর পর্যন্ত তিনি বৈধব্য জীবনযাপন করেন। তিনি কখনও মন্দির পরিত্যাগ করে যাননি, বরং তিনি উপবাস ও প্রার্থনার সঙ্গে দিনরাত আরাধনা করতেন।

[38] তিনি সেই মুহূর্তে তাঁদের কাছে এগিয়ে এসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। আর যারা জেরুশালেমের মুক্তির অপেক্ষায় ছিল, তাদের সকলের কাছে শিশুটির বিষয়ে বলতে লাগলেন।

[39] প্রভুর বিধান অনুযায়ী সমস্ত কর্ম সম্পাদন করে যোষেফ ও মরিয়ম তাঁদের নিজেদের নগর গালীল প্রদেশের নাসরতে ফিরে গেলেন।

[40] আর শিশুটি বেড়ে উঠতে থাকলেন ও বলবান হয়ে উঠলেন; তিনি বিজ্ঞতায় পূর্ণ হলেন এবং তাঁর উপরে ঈশ্বরের অনুগ্রহ রইল।

[41] যীশুর পিতামাতা প্রতি বছর নিস্তারপর্ব পালন করতে জেরুশালেমে যেতেন।

[42] তাঁর যখন বারো বছর বয়স, প্রথানুসারে তাঁরা পর্বে যোগ দিতে গেলেন।

[43] পর্ব শেষে তাঁর পিতামাতা যখন ঘরে ফিরে আসছিলেন, কিশোর যীশু জেরুশালেমে রয়ে গেলেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতে পারলেন না।

[44] যীশু তাঁদের দলের সঙ্গেই আছেন, ভেবে নিয়ে তাঁরা একদিনের পথ অতিক্রম করলেন। তারপর তাঁরা তাঁদের আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন।

[45] যীশুর সন্ধান না পেয়ে, তাঁকে খুঁজতে তাঁরা জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।

[46] তিনদিন পর তাঁরা তাঁকে মন্দির-প্রাঙ্গণে খুঁজে পেলেন এবং দেখলেন, যীশু শাস্ত্রগুরুদের মাঝে বসে তাঁদের কথা শুনছেন, আর বহু প্রশ্ন করছেন।

[47] তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও উত্তরদানের ক্ষমতায় প্রত্যেক শ্রোতাই বিস্মিত হচ্ছিলেন।

[48] তাঁর পিতামাতা তাঁকে দেখতে পেয়ে আশ্চর্য হলেন। তাঁর মা তাঁকে বললেন, “বৎস, তুমি আমাদের সঙ্গে এরকম আচরণ করলে কেন? তোমার পিতা আর আমি কত ব্যাকুল হয়ে তোমাকে খুঁজছিলাম!”

[49] তিনি বললেন, “তোমরা আমার সন্ধান কেন করছিলে? তোমরা কি জানতে না যে, আমাকে আমার পিতার গৃহে থাকতে হবে?”

[50] যীশু তাঁদের যে কী বলছিলেন, তা তাঁরা কিন্তু বুঝতে পারলেন না।

[51] এরপর তিনি তাঁদের সঙ্গে নাসরতে ফিরে গেলেন ও তাঁদের বাধ্য হয়ে রইলেন। তাঁর মা কিন্তু এই সমস্ত কথা হৃদয়ে সঞ্চয় করে রাখলেন।

[52] আর যীশু বিজ্ঞতায় ও বয়সে বেড়ে উঠতে লাগলেন এবং ঈশ্বর ও মানুষের অনুগ্রহে সমৃদ্ধ হতে থাকলেন।

লূক — Chapters