Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:23

[1] তারপর যীশু এক রূপক কাহিনির মাধ্যমে তাঁর শিষ্যদের বোঝাতে চাইলেন, তারা যেন সব সবময়ই প্রার্থনা করে, নিরাশ না হয়।

[2] তিনি বললেন, “কোনো এক নগরে একজন বিচারক ছিলেন। তিনি ঈশ্বরকে ভয় করতেন না, কোনো মানুষকেও গ্রাহ্য করতেন না।

[3] সেই নগরে একজন বিধবা ছিল। সে বারবার এসে তাঁর কাছে মিনতি করত, ‘আমার বিবাদীর বিরুদ্ধে আমার প্রতি ন্যায়বিচার করুন।’

[4] “কিছু দিন তিনি সম্মত হলেন না। কিন্তু শেষে চিন্তা করলেন, ‘যদিও আমি ঈশ্বরকে ভয় করি না,

[5] তবুও, এই বিধবা যেহেতু আমাকে উত্যক্ত করে চলেছে, তাই সে যেন ন্যায়বিচার পায়, তা আমি দেখব, যেন সে বারবার এসে আমাকে বিরক্ত না করে।’ ”

[6] প্রভু বললেন, “শোনো তোমরা, ওই ন্যায়হীন বিচারক কী বলে।

[7] তাহলে ঈশ্বরের যে মনোনীত জনেরা তাঁর কাছে দিবারাত্রি ক্রন্দন করে, তাদের বিষয়ে তিনি কি ন্যায়বিচার করবেন না? তিনি কি তাদের দূরে সরিয়ে রাখবেন?

[8] আমি তোমাদের বলছি, তিনি দ্রুত তাদের ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু মনুষ্যপুত্রের আবির্ভাবকালে, তিনি কি পৃথিবীতে বিশ্বাস খুঁজে পাবেন?”

[9] যাদের নিজেদের ধার্মিকতার প্রতি আস্থা ছিল ও অন্যদের যারা হীনদৃষ্টিতে দেখত, যীশু এই রূপক কাহিনিটি তাদের বললেন:

[10] “দুই ব্যক্তি প্রার্থনার জন্য মন্দিরে গেল; একজন ফরিশী ও অন্যজন কর আদায়কারী।

[11] ফরিশী দাঁড়িয়ে নিজের বিষয়ে প্রার্থনা করল, ‘ঈশ্বর, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ আমি কোনো দস্যু, দুর্বৃত্ত, ব্যভিচারী, এমনকি, ওই কর আদায়কারী, বা অন্য লোকের মতো নই।

[12] আমি সপ্তাহে দুদিন উপবাস করি এবং যা আয় করি, তার এক-দশমাংশ দান করি।’

[13] “কিন্তু কর আদায়কারী দূরে দাঁড়িয়ে রইল। এমনকি, সে স্বর্গের দিকে দৃষ্টিও করতে পারল না। সে তার বক্ষে করাঘাত করে বলল, ‘ও ঈশ্বর, আমার প্রতি, এই পাপীর প্রতি কৃপা করো।’

[14] “আমি তোমাদের বলছি, এই লোকটি ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক পরিগণিত হয়ে ঘরে ফিরে গেল, অন্যজন নয়। কারণ যে নিজেকে উন্নীত করে, সে অবনত হবে এবং যে নিজেকে অবনত করে, সে উন্নীত হবে।”

[15] যীশুর স্পর্শলাভের জন্য লোকেরা শিশু সন্তানদের তাঁর কাছে নিয়ে আসছিল। এই দেখে শিষ্যেরা তাদের তিরস্কার করলেন।

[16] কিন্তু যীশু শিষ্যদের তাঁর কাছে ডাকলেন ও বললেন, “শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, তাদের বাধা দিয়ো না, কারণ ঐশ-রাজ্য এদের মতো মানুষদেরই।

[17] আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা শিশুর মতো ঐশ-রাজ্যকে গ্রহণ করবে না, তারা সেখানে কোনোদিনই প্রবেশ করতে পারবে না।”

[18] একজন সমাজভবনের অধ্যক্ষ তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “সৎ গুরু, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”

[19] যীশু উত্তর দিলেন, “আমাকে সৎ বলছ কেন? ঈশ্বর ছাড়া তো আর কেউ সৎ নেই!

[20] তুমি আজ্ঞাগুলি নিশ্চয় জানো: ব্যভিচার কোরো না, নরহত্যা কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না, তোমার পিতামাতাকে সম্মান কোরো।”

[21] তিনি বললেন, “আমি আ-শৈশব এগুলি পালন করে আসছি।”

[22] একথা শুনে যীশু তাঁকে বললেন, “এখনও একটি বিষয়ে তোমার ঘাটতি আছে। তুমি তোমার সর্বস্ব বিক্রি করে দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে স্বর্গে ঐশ্বর্য লাভ করবে। তারপর এসো, আমাকে অনুসরণ করো।”

[23] একথা শুনে তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণ হয়ে উঠলেন, কারণ তিনি প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন।

[24] যীশু তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, “ধনীর পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কষ্টসাধ্য!

[25] প্রকৃতপক্ষে, ধনী ব্যক্তির ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে বরং সুচের ছিদ্রপথে উটের প্রবেশ করা সহজ।”

[26] একথা শুনে শ্রোতারা জিজ্ঞাসা করল, “তাহলে কে পরিত্রাণ পেতে পারে?”

[27] যীশু উত্তর দিলেন, “মানুষের পক্ষে যা-অসম্ভব, ঈশ্বরের কাছে তা সম্ভবপর।”

[28] পিতর তাঁকে বললেন, “আপনার অনুগামী হওয়ার জন্য আমরা আমাদের সর্বস্ব ত্যাগ করেছি।”

[29] যীশু তাঁদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এমন কেউ নেই, যে ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য নিজের ঘরবাড়ি, অথবা স্ত্রী, ভাই, কি পিতামাতা, বা সন্তানসন্ততি ত্যাগ করে,

[30] সে ইহকালে তার বহুগুণ এবং অনাগতকালে অনন্ত জীবন লাভ করবে না।”

[31] যীশু সেই বারোজনকে একান্তে ডেকে বললেন, “আমরা জেরুশালেম পর্যন্ত যাব; আর মনুষ্যপুত্র সম্পর্কে ভাববাদীদের সমস্ত ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হবে।

[32] তিনি অইহুদিদের হাতে সমর্পিত হবেন। তারা তাঁকে বিদ্রুপ করবে, অপমান করবে, তাঁর গায়ে থুতু দেবে, তাঁকে কশাঘাত করবে ও হত্যা করবে।

[33] আবার তৃতীয় দিবসে তিনি পুনরুত্থিত হবেন।”

[34] শিষ্যেরা এসব কথার কিছুই উপলব্ধি করতে পারলেন না। তাঁদের কাছে এর অর্থ গুপ্ত ছিল এবং তিনি কোন বিষয়ে আলোচনা করছেন, তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না।

[35] যীশু যখন যিরীহোর নিকটবর্তী হলেন, একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি পথের পাশে বসে ভিক্ষা করছিল।

[36] পথে চলা লোকদের কলরোল শুনে সে তার কারণ জানতে চাইল।

[37] তারা তাকে বলল, “নাসরতের যীশু সেখান দিয়ে যাচ্ছেন।”

[38] সে চিৎকার করে উঠল, “যীশু, দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।”

[39] সামনের লোকেরা তাকে ভর্ত্সনা করে নীরব হতে বলল। কিন্তু সে আরও বেশি চিৎকার করে বলল, “দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।”

[40] যীশু থেমে সেই মানুষটিকে তাঁর কাছে নিয়ে আসার জন্য আদেশ দিলেন। সে কাছে এলে যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,

[41] “আমার কাছে তুমি কী চাও? তোমার জন্য আমি কী করব?” সে উত্তর দিল, “প্রভু, আমি যেন দেখতে পাই।”

[42] যীশু তাকে বললেন, “তুমি দৃষ্টি লাভ করো; তোমার বিশ্বাস তোমাকে আরোগ্যতা দান করেছে।”

[43] তখনই সে তার দৃষ্টিশক্তি লাভ করল ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে যীশুর অনুগমন করল। এই দেখে সমস্ত লোকও ঈশ্বরের বন্দনা করতে লাগল।

লূক — Chapters