[1] যীশু সকলের কর্ণগোচরে এই সমস্ত কথা বলার পর কফরনাহূমে ফিরে গেলেন।
[2] সেখানে এক শতসেনাপতির দাস, যে ছিল তাঁর প্রিয়পাত্র, রোগে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।
[3] শতসেনাপতি যীশুর কথা শুনেছিলেন। তিনি ইহুদি-সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রাচীনকে যীশুর কাছে পাঠিয়ে অনুরোধ জানালেন, তিনি যেন এসে তাঁর দাসকে সুস্থ করেন।
[4] তাঁরা যীশুর কাছে এসে তাঁকে কাতর মিনতি জানালেন, “এই ব্যক্তি আপনার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য,
[5] কারণ তিনি আমাদের জাতিকে ভালোবাসেন, আর আমাদের সমাজভবনটি নির্মাণ করে দিয়েছেন।”
[6] তাই যীশু তাঁদের সঙ্গে গেলেন। যীশু শতসেনাপতির বাড়ির কাছাকাছি এলে, তিনি তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে যীশুর কাছে বলে পাঠালেন, “প্রভু, আপনি নিজে কষ্ট করবেন না। আপনি যে আমার ছাদের নিচে আসবেন, এমন যোগ্যতা আমার নেই।
[7] তাই আমি নিজেকেও আপনার কাছে যাওয়ার যোগ্য মনে করিনি। আপনি শুধু মুখে বলুন, তাহলেই আমার দাস সুস্থ হবে।
[8] কারণ আমি নিজেও কর্তৃত্বের অধিকারী, আবার আমার অধীনেও সেনারা আছে। আমি তাদের কাউকে যেতে আদেশ করলে, সে যায়; কাউকে আসতে আদেশ করলে, সে আসে। আর আমার পরিচারককে যখন বলি, ‘এই কাজটি করো,’ সে তা করে।”
[9] একথা শুনে যীশু তার সম্পর্কে চমৎকৃত হলেন। তাঁকে অনুসরণরত লোকের দিকে ফিরে তিনি বললেন, “আমি তোমাদের বলছি, ইস্রায়েলের মধ্যেও আমি এমন প্রগাঢ় বিশ্বাস দেখতে পাইনি।”
[10] তখন যে লোকদের তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল, তারা বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখল, দাসটি সুস্থ হয়ে উঠেছে।
[11] এর কিছুকাল পরেই যীশু নায়িন নামে এক নগরে গেলেন। তাঁর শিষ্যেরা ও বিস্তর লোক তাঁর সঙ্গী হল।
[12] তিনি নগরদ্বারের কাছে এসে পৌঁছালেন। তখন দেখলেন, লোকেরা এক মৃত ব্যক্তিকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মা ছিল বিধবা এবং সে ছিল তার একমাত্র পুত্র। নগরের বিস্তর লোক তাদের সঙ্গে ছিল।
[13] তাকে দেখে প্রভুর হৃদয় তার প্রতি বিগলিত হয়ে উঠল। তিনি তাকে বললেন, “কেঁদো না।”
[14] তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে শবাধারটি স্পর্শ করলেন। শববাহকেরা দাঁড়িয়ে পড়ল। তিনি বললেন, “যুবক, আমি তোমাকে বলছি, তুমি ওঠো!”
[15] মৃত মানুষটি উঠে বসে কথা বলতে লাগল। যীশু তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
[16] এই দেখে তারা সকলে ভয়ে ও ভক্তিতে অভিভূত হল, ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল এবং তারা বলতে লাগল, “আমাদের মধ্যে এক মহান ভাববাদীর উদয় হয়েছে। ঈশ্বর তাঁর প্রজাদের সাহায্য করতে এসেছেন।”
[17] যীশুর এই কীর্তির কথা যিহূদিয়ার সর্বত্র এবং সন্নিহিত অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল।
[18] যোহনের শিষ্যেরা তাঁকে এই সমস্ত কথা জানাল।
[19] তিনি তাদের দুজনকে ডেকে প্রভুর কাছে জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন, “যে মশীহের আবির্ভাবের কথা ছিল, সে কি আপনি, না আমরা অন্য কারও প্রতীক্ষায় থাকব?”
[20] তারা যখন যীশুর কাছে এল, তারা বলল, “বাপ্তিষ্মদাতা যোহন আপনার কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা করতে পাঠিয়েছেন, ‘যে মশীহের আবির্ভাবের কথা ছিল, সে কি আপনি, না আমরা অন্য কারও প্রতীক্ষায় থাকব?’ ”
[21] ঠিক সেই সময়ে যীশু বহু রোগগ্রস্ত, পীড়িত ও মন্দ-আত্মাগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিরাময় করছিলেন; বহু অন্ধকেও দৃষ্টিশক্তি দান করছিলেন।
[22] তাই তিনি সেই বার্তাবহদের উত্তর দিলেন, “তোমরা যা দেখলে, যা শুনলে, ফিরে গিয়ে সেসব যোহনকে জানাও। অন্ধ দেখতে পাচ্ছে, খঞ্জ হেঁটে বেড়াচ্ছে, যাদের কুষ্ঠরোগ ছিল, তারা শুচিশুদ্ধ হচ্ছে, বধিরেরা শুনতে পাচ্ছে, মৃতেরা উত্থাপিত হচ্ছে এবং দীনদরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচারিত হচ্ছে।
[23] আর ধন্য সেই মানুষ, যে আমার কারণে বিঘ্নিত না হয়।”
[24] যোহনের বার্তাবাহকেরা চলে গেলে, যীশু উপস্থিত সকলকে যোহন সম্পর্কে বললেন, “তোমরা প্রান্তরে কী দেখতে গিয়েছিলে? বাতাসে দোদুল্যমান একটি নল-খাগড়াকে?
[25] তা না হলে, তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? মোলায়েম পোশাক পরিহিত কোনো মানুষকে? তা নয়, যারা মূল্যবান পোশাক পরে, বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, তারা থাকে রাজপ্রাসাদে।
[26] কিন্তু তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? একজন ভাববাদীকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, তিনি ভাববাদীর চেয়েও মহান।
[27] ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে লিখিত আছে: “ ‘আমি আমার বার্তাবাহককে পাঠাব, যে তোমার আগে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে।’
[28] আমি তোমাদের বলছি, নারীর গর্ভে জন্মেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যোহনের চেয়ে মহান আর কেউই নেই; তবুও ঈশ্বরের রাজ্যের ক্ষুদ্রতম ব্যক্তিও তাঁর চেয়ে মহান।”
[29] সব লোক, এমনকি, কর আদায়কারীরাও, যীশুর শিক্ষা শুনে ঈশ্বরের পথকে সঠিক বলে স্বীকার করল, কারণ তারা বুঝতে পারল, যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম নিয়ে তারা ভুল করেনি।
[30] কিন্তু ফরিশীরা ও শাস্ত্রবিদরা তাঁদের বিষয়ে ঈশ্বরের পরিকল্পনা অগ্রাহ্য করল, কারণ তাঁরা যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেননি।
[31] “তাহলে, কার সঙ্গে আমি এই প্রজন্মের লোকদের তুলনা করতে পারি? তারা কাদের মতো?
[32] তারা সেইসব ছেলেমেয়ের মতো, যারা হাটেবাজারে বসে পরস্পরকে সম্বোধন করে বলে, “ ‘আমরা তোমাদের জন্য বাঁশি বাজালাম, কিন্তু তোমরা নৃত্য করলে না; আমরা শোকগাথা গাইলাম, কিন্তু তোমরা বিলাপ করলে না।’
[33] বাপ্তিষ্মদাতা যোহন এসে রুটি ভোজন, বা দ্রাক্ষারস পান, কিছুই করলেন না, কিন্তু তোমরা বললে, ‘তিনি ভূতগ্রস্ত।’
[34] মনুষ্যপুত্র এলেন, ভোজনপান করলেন, কিন্তু তোমরা বললে, ‘তিনি পেটুক ও মদ্যপ, কর আদায়কারী ও “পাপীদের” বন্ধু।’
[35] কিন্তু প্রজ্ঞা তার অনুসরণকারীদের জীবনাচরণের দ্বারাই সঠিক প্রমাণিত হয়।”
[36] আর একজন ফরিশী আহার করার জন্য যীশুকে নিমন্ত্রণ করল। যীশু তার বাড়িতে গেলেন এবং আহারের সময় আসনে হেলান দিয়ে বসলেন।
[37] সেই নগরে একজন পাপীষ্ঠা নারী ছিল। যীশু ফরিশীর বাড়িতে আহার করছেন শুনে, সে একটি শ্বেতস্ফটিকের পাত্রে সুগন্ধি আতর নিয়ে এল।
[38] সে যীশুর পেছনে তাঁর পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে চোখের জলে তাঁর পা-দুটি ভিজিয়ে দিতে লাগল। তারপর সে তার কেশরাশি দিয়ে তাঁর পা দুটিকে মুছিয়ে দিয়ে চুম্বন করল এবং সেই সুগন্ধি নির্যাস ঢেলে দিল।
[39] এই ঘটনা দেখে আমন্ত্রণকর্তা ফরিশী মনে মনে ভাবল, “এই লোকটি যদি ভাববাদী হত, তাহলে বুঝতে পারত, কে তাকে স্পর্শ করছে এবং সে কী-প্রকৃতির নারী! সে তো পাপীষ্ঠা!”
[40] যীশু তাঁকে উত্তর দিলেন, “শিমোন, তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।” শিমোন বলল, “গুরুমহাশয়, বলুন।”
[41] “এক মহাজনের কাছে দুজন ব্যক্তি ঋণ নিয়েছিল। একজন নিয়েছিল পাঁচশো দিনার, অন্যজন পঞ্চাশ দিনার।
[42] তাদের কারোরই সেই পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না, তাই তিনি দুজনেরই ঋণ মকুব করে দিলেন। এখন তাদের মধ্যে কে তাকে বেশি ভালোবাসবে?”
[43] শিমোন উত্তর দিল, “আমার মনে হয়, যার বেশি ঋণ মকুব করা হয়েছিল, সেই।” যীশু বললেন, “তুমি যথার্থ বিচার করেছ।”
[44] তারপর তিনি সেই নারীর দিকে ফিরে শিমোনকে বললেন, “তুমি এই স্ত্রীলোককে দেখতে পাচ্ছ, আমি তোমার বাড়িতে প্রবেশ করলাম, অথচ তুমি আমাকে পা-ধোওয়ার জল দিলে না। কিন্তু এ তার চোখের জলে আমার পা ভিজিয়ে দিল, আর তার চুল দিয়ে তা মুছিয়ে দিল।
[45] তুমি আমাকে একবারও চুম্বন করলে না, কিন্তু আমি এই গৃহে প্রবেশ করার সময় থেকেই এই নারী আমার পদচুম্বনে বিরত হয়নি।
[46] তুমি আমার মাথায় তেল দিয়ে অভিষেক করলে না, কিন্তু এ আমার পায়ে সুগন্ধি নির্যাস ঢেলে অভিষেক করল।
[47] তাই আমি তোমাকে বলছি, যেহেতু তার অজস্র পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, সে বেশি ভালোবেসেছে। কিন্তু যাকে অল্প ক্ষমা করা হয়, সে অল্পই ভালোবাসে।”
[48] তারপর যীশু সেই নারীকে বললেন, “তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হয়েছে।”
[49] অন্য অতিথিরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল “ইনি কে, যে পাপও ক্ষমা করেন?”
[50] যীশু সেই নারীকে বললেন, “তোমার বিশ্বাসই তোমাকে পরিত্রাণ দিয়েছে, শান্তিতে চলে যাও।”