Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:03

[1] সপ্তাহের প্রথম দিনে খুব ভোরবেলা, সেই মহিলারা তাদের প্রস্তুত করা মশলা নিয়ে সমাধিস্থানে গেলেন।

[2] তাঁরা দেখলেন, সমাধির মুখ থেকে পাথরখানি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

[3] কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা প্রভু যীশুর দেহটি দেখতে পেলেন না।

[4] তাঁরা এ বিষয়ে যখন অবাক বিস্ময়ে ভাবছিলেন, তখন বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল পোশাক পরা দুজন মানুষ চকিতে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।

[5] আতঙ্কে মহিলারা মাটির দিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিন্তু পুরুষ দুজন তাঁদের বললেন, “তোমরা মৃতদের মধ্যে জীবিতের সন্ধান করছ কেন?

[6] তিনি এখানে নেই, কিন্তু উত্থাপিত হয়েছেন। তোমাদের সঙ্গে গালীলে থাকার সময়ে তিনি কী বলেছিলেন, স্মরণ করো।

[7] তিনি বলেছিলেন, ‘মনুষ্যপুত্রকে পাপী মানুষদের হাতে অবশ্যই সমর্পিত হতে হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ ও তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হতে হবে।’ ”

[8] তখন তাঁর কথাগুলি তাঁদের মনে পড়ে গেল।

[9] সমাধিস্থান থেকে ফিরে এসে তাঁরা এ সমস্ত বিষয় সেই এগারোজন ও অন্য সবাইকে বললেন।

[10] এঁরা হলেন মাগ্দালাবাসী মরিয়ম, যোহান্না ও যাকোবের মা মরিয়ম। তাঁদের সঙ্গে আরও অনেকে এই ঘটনার কথা প্রেরিতশিষ্যদের জানালেন।

[11] কিন্তু তাঁরা মহিলাদের কথা বিশ্বাস করলেন না। কারণ তাঁদের এই সমস্ত কথা তাঁরা আজগুবি বলে মনে করলেন।

[12] কিন্তু পিতর উঠে সমাধিস্থানের দিকে দৌড়ে গেলেন। তিনি নত হয়ে দেখলেন, ক্ষৌমবস্ত্রের খণ্ডগুলি পড়ে রয়েছে। বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে কী ঘটেছে ভাবতে ভাবতে তিনি ফিরে গেলেন।

[13] সেদিন, তাঁদের মধ্যে দুজন জেরুশালেম থেকে এগারো কিলোমিটার দূরের ইম্মায়ুস নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন।

[14] তাঁরা পরস্পর বিগত ঘটনাবলি সম্পর্কে পূর্বাপর আলোচনা করছিলেন।

[15] তাঁরা যখন পরস্পরের মধ্যে এ সমস্ত আলোচনা করছিলেন, তখন যীশু স্বয়ং উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে পথ চলতে লাগলেন;

[16] কিন্তু দৃষ্টি রুদ্ধ থাকায় তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন না।

[17] তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “পথ চলতে চলতে তোমরা পরস্পর কী আলোচনা করছিলে?” তাঁরা বিষণ্ণ মুখে থমকে দাঁড়ালেন।

[18] তাঁদের মধ্যে ক্লিয়োপা নামে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি জেরুশালেমে কেবলমাত্র পরিদর্শক যে, এই কয় দিনে সেখানে যা ঘটেছে, তা আপনি জানেন না?”

[19] তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কী সব ঘটেছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “নাসরতের যীশু সম্পর্কিত ঘটনা। তিনি ছিলেন একজন ভাববাদী, ঈশ্বর ও সব মানুষের সাক্ষাতে বাক্যে ও কর্মে এক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।

[20] প্রধান যাজকেরা ও আমাদের সমাজভবনের অধ্যক্ষরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশে সমর্পিত করেছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করেছেন।

[21] কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করতে চলেছেন। আর বেশি কী, তিনদিন হল এ সমস্ত ঘটেছে।

[22] এছাড়াও, আমাদের কয়েকজন মহিলা আমাদের হতবাক করে দিয়েছেন। তাঁরা আজ খুব ভোরবেলা সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন,

[23] কিন্তু তাঁর দেহের সন্ধান পাননি। তাঁরা এসে আমাদের বললেন যে, তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন লাভ করেছেন। তাঁরা আরও বললেন যে, যীশু জীবিত আছেন।

[24] তারপর আমাদের কয়েকজন সঙ্গী সমাধিস্থলে গিয়ে মহিলারা যেমন বলেছিলেন, ঠিক সেইমতো দেখলেন, কিন্তু তাঁকে তাঁরা দেখতে পাননি।”

[25] যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা কত অবোধ! আর ভাববাদীরা যেসব কথা বলে গেছেন, সেগুলি বিশ্বাস করতে তোমাদের মন কেমন শিথিল!

[26] এই প্রকার দুঃখ বরণ করার পরই কি খ্রীষ্ট স্বমহিমায় প্রবেশ করতেন না?”

[27] এরপর মোশি ও সমস্ত ভাববাদী গ্রন্থ থেকে শুরু করে সমগ্র শাস্ত্রে তাঁর সম্পর্কে যা কথিত হয়েছে, সে সমস্ত তিনি তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করলেন।

[28] যে-গ্রামে তাঁরা যাচ্ছিলেন, সেখানে উপস্থিত হলে যীশু আরও দূরে এগিয়ে যাওয়ার ভাব দেখালেন।

[29] কিন্তু তাঁরা তাঁকে সাধ্য-সাধনা করে বললেন, “সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, দিনও প্রায় শেষ হয়ে এল, আপনি আমাদের সঙ্গে থাকুন।” তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকার জন্য ভেতরে গেলেন।

[30] তাঁদের সঙ্গে আহারে বসে তিনি রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন এবং তা ভেঙে তাঁদের হাতে দিলেন।

[31] সেই মুহূর্তে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন। কিন্তু যীশু তাঁদের চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

[32] তাঁরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের সঙ্গে পথ চলতে চলতে তিনি যখন আমাদের কাছে শাস্ত্রের মর্মোদ্ঘাটন করছিলেন, তখন আমাদের কি আবেগ জনিত উত্তাপ অনুভব হচ্ছিল না?”

[33] সেই মুহূর্তে তাঁরা উঠে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন। সেখানে সেই এগারোজন এবং তাঁদের সঙ্গীদের তাঁরা দেখতে পেলেন।

[34] তাঁরা এক স্থানে মিলিত হয়ে বলাবলি করছিলেন, “সত্যিই, প্রভু উত্থিত হয়ে শিমোনকে দর্শন দিয়েছেন।”

[35] তখন সেই দুজন, পথে কী ঘটেছিল এবং যীশু রুটি ভেঙে দেওয়ার পর তাঁরা কেমনভাবে তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন, তা জানালেন।

[36] তাঁরা তখনও এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, যীশু স্বয়ং তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন এবং তাঁদের বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।”

[37] কোনও ভূত দেখছেন ভেবে তাঁরা ভয়ে বিহ্বল হয়ে পড়লেন।

[38] তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হচ্ছো কেন? তোমাদের মনে সংশয়ই বা জাগছে কেন?

[39] আমার হাত ও পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখো! এ স্বয়ং আমি! আমাকে স্পর্শ করো, দেখো! ভূতের এরকম অস্থি মাংস নেই। তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আমার তা আছে।”

[40] এই কথা বলার পর তিনি তাঁদের তাঁর হাত পা দেখালেন।

[41] আনন্দে ও বিস্ময়ে তাঁরা তখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না দেখে, যীশু তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে?”

[42] তাঁরা তাঁকে আগুনে ঝলসানো এক টুকরো মাছ দিলেন।

[43] তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনেই আহার করলেন।

[44] তিনি তাঁদের বললেন, “তোমাদের সঙ্গে থাকার সময়েই আমি এই কথা বলেছিলাম, মোশির বিধানে, ভাববাদীদের গ্রন্থে ও গীতসংহিতায় আমার সম্পর্কে যা লেখা আছে, তার সবকিছুই পূর্ণ হবে।”

[45] তারপর তিনি তাঁদের মনের দ্বার খুলে দিলেন, যেন তাঁরা শাস্ত্র বুঝতে পারেন।

[46] তিনি তাঁদের বললেন, “একথা লিখিত আছে, খ্রীষ্ট কষ্টভোগ করবেন ও তৃতীয় দিবসে মৃতলোক থেকে উত্থিত হবেন

[47] এবং জেরুশালেম থেকে শুরু করে সমস্ত জাতির কাছে তাঁরই নামে মন পরিবর্তন ও পাপক্ষমার কথা প্রচারিত হবে।

[48] আর তোমরাই এ সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী।

[49] আর দেখো, পিতার প্রতিশ্রুত দান আমি তোমাদের জন্য পাঠিয়ে দিতে যাচ্ছি; কিন্তু ঊর্ধ্বলোক থেকে আগত শক্তি পরিবৃত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা এই নগরেই অবস্থান করো।”

[50] তারপর তিনি তাঁদের বেথানির কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে, তাঁদের হাত তুলে আশীর্বাদ করলেন।

[51] আশীর্বাদরত অবস্থাতেই তিনি তাঁদের ত্যাগ করলেন ও স্বর্গে নীত হলেন।

[52] তাঁরা তখন তাঁকে প্রণাম জানিয়ে মহা আনন্দে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন

[53] এবং মন্দিরে নিরন্তর ঈশ্বরের বন্দনায় ব্যাপৃত থাকলেন।

লূক — Chapters