Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:53

[1] এখন কর আদায়কারী ও পাপীরা, তাঁর কথা শোনার জন্য তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছিল।

[2] কিন্তু ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা ফিসফিস করে বলতে লাগল, “এই মানুষটি পাপীদের গ্রহণ করে, তাদের সঙ্গে আহার করে।”

[3] যীশু তখন তাঁদের এই রূপকটি বললেন,

[4] “মনে করো, তোমাদের কারও একশোটি মেষ আছে। তার মধ্যে একটি হারিয়ে গেল। সে কি নিরানব্বইটি মেষকে প্রান্তরে রেখে, যে পর্যন্ত হারানো মেষটি খুঁজে না পায়, তার সন্ধান করবে না?

[5] সেটি খুঁজে পেলে সে সানন্দে তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে।

[6] পরে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে সে বলবে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ করো; আমি আমার হারানো মেষটি খুঁজে পেয়েছি।’

[7] আমি তোমাদের বলছি, একইভাবে নিরানব্বইজন ধার্মিক ব্যক্তি, যাদের অনুতাপের প্রয়োজন নেই, তাদের চেয়ে একজন পাপী মন পরিবর্তন করলে স্বর্গে অনেক বেশি আনন্দ হবে।

[8] “আবার মনে করো, কোনো স্ত্রীলোকের দশটি রৌপ্যমুদ্রা আছে, তার একটি হারিয়ে গেল। সেটিকে না পাওয়া পর্যন্ত, সে কি প্রদীপ জ্বেলে, ঘর ঝাঁট দিয়ে, তন্নতন্ন করে খুঁজবে না?

[9] মুদ্রাটি খুঁজে পেলে, সে তার বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের একসঙ্গে ডেকে বলবে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ করো, আমি আমার হারিয়ে যাওয়া মুদ্রাটি খুঁজে পেয়েছি।’

[10] একইভাবে, আমি তোমাদের বলছি, একজন পাপী মন পরিবর্তন করলে ঈশ্বরের দূতদের সাক্ষাতে আনন্দ হয়।”

[11] যীশু আরও বললেন, “এক ব্যক্তির দুই পুত্র ছিল।

[12] কনিষ্ঠ পুত্র তার পিতাকে বলল, ‘পিতা, সম্পত্তির যে অংশ আমার, তা আমাকে দিয়ে দাও।’ তাই তিনি পুত্রদের মধ্যে তাঁর সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন।

[13] “অল্পদিন পরেই, কনিষ্ঠ পুত্র তার সবকিছু নিয়ে এক দূরবর্তী দেশের উদ্দেশে যাত্রা করল। সেখানে সে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে, তার ধনদৌলতের অপচয় করে ফেলল।

[14] তার সর্বস্ব ব্যয় হলে পর, সেই দেশের সর্বত্র ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল; সে অভাবের মধ্যে পড়ল।

[15] তাই সে, সেই দেশের এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাঁর অধীনে কাজে নিযুক্ত হল। তিনি তাকে শূকর চরানোর কাজে মাঠে পাঠিয়ে দিলেন।

[16] শূকরেরা যে শুঁটি খেত, তাই খেয়ে সে তার ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে চাইত, কেউ তাকে কিছুই দিত না।

[17] “কিন্তু যখন তার চেতনার উদয় হল, সে মনে মনে বলল, ‘আমার পিতার কত মজুরই তো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার পাচ্ছে, আর আমি এখানে অনাহারে মৃত্যুর মুখে পড়ে আছি!

[18] আমি বাড়ি ফিরে আমার পিতার কাছে যাব; তাঁকে বলব, “পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি,

[19] তোমার পুত্ররূপে আখ্যাত হওয়ার যোগ্যতা আর আমার নেই; আমাকে তোমার এক মজুরের মতো করে নাও।” ’

[20] তাই সে উঠে তার পিতার কাছে ফিরে গেল। “সে তখনও অনেক দূরে, তার পিতা তাকে দেখতে পেলেন। তার জন্য তাঁর অন্তর করুণায় ভরে উঠল। তিনি দৌড়ে তাঁর পুত্রের কাছে গেলেন, তার গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুম্বন করলেন।

[21] “পুত্র তাঁকে বলল, ‘পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। তোমার পুত্ররূপে আখ্যাত হওয়ার কোনো যোগ্যতা আমার নেই।’

[22] “কিন্তু পিতা তাঁর দাসদের বললেন, ‘শীঘ্র, সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পোশাক এনে ওকে পরিয়ে দাও। ওর আঙুলে আংটি পরিয়ে দাও, পায়ে চটিজুতো দাও।

[23] আর ভোজের জন্য একটি প্রাণী এনে মারো। এসো আমরা ভোজ ও আনন্দ উৎসবের আয়োজন করি।

[24] কারণ আমার এই পুত্রটি মারা গিয়েছিল, এখন সে আবার বেঁচে উঠেছে। সে হারিয়ে গিয়েছিল, তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।’ তাই তারা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠল।

[25] “এদিকে জ্যেষ্ঠ পুত্রটি মাঠে ছিল। সে বাড়ির কাছে এসে নৃত্য-গীতের শব্দ শুনতে পেল।

[26] সে একজন দাসকে ডেকে কি হচ্ছে জানতে চাইল?

[27] সে উত্তর দিল, ‘আপনার ভাই ফিরে এসেছেন এবং আপনার পিতা তাঁকে নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়েছেন বলে একটি প্রাণী মেরেছেন।’

[28] “জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্রোধে ভেতরে প্রবেশ করতে রাজি হল না। তাই তার পিতা বাইরে গিয়ে তাকে অনুনয়-বিনয় করলেন।

[29] কিন্তু সে তার পিতাকে উত্তর দিল, ‘দেখুন, এত বছর ধরে আমি আপনার দাস্যবৃত্তি করছি, আপনার আদেশের কখনও অবাধ্য হইনি। তবুও আমার বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উত্সব করার জন্য আপনি আমাকে কখনও একটি ছাগবৎসও দেননি।

[30] কিন্তু আপনার এই পুত্র, যে বেশ্যাদের পেছনে আপনার সম্পত্তি উড়িয়ে দিয়েছে, সে বাড়ি ফিরে এলে, আপনি হৃষ্টপুষ্ট প্রাণীটি তারই জন্য মারলেন!’

[31] “পিতা বললেন, ‘পুত্র আমার, তুমি সবসময়ই আমার সঙ্গে আছো। আর আমার যা কিছু আছে, সব তোমার।

[32] কিন্তু তোমার এই ভাই মরে গিয়েছিল, এখন সে আবার বেঁচে উঠেছে; সে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই আমাদের উচিত আনন্দ উত্সব করা ও খুশি হওয়া।’ ”

লূক — Chapters