Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:35

[1] যীশু সেই বারোজনকে আহ্বান করে তাদের দুষ্টাত্মা বিতাড়নের এবং রোগনিরাময় করার ক্ষমতা ও অধিকার দিলেন।

[2] তিনি তাঁদের ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রচার ও পীড়িতদের আরোগ্য দান করার জন্য প্রেরণ করলেন।

[3] তিনি তাঁদের বললেন, “যাত্রাপথে তোমরা সঙ্গে কিছুই নিয়ো না; ছড়ি, থলি, খাদ্য, অর্থ, অতিরিক্ত পোশাক, কোনো কিছুই না।

[4] যে বাড়িতে তোমরা প্রবেশ করবে, নগর ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত সেখানেই থেকো।

[5] লোকে তোমাদের স্বাগত না জানালে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ, তাদের নগর পরিত্যাগ করার সময় তোমাদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলো।”

[6] সেইমতো তাঁরা যাত্রা করলেন এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে সুসমাচার প্রচার করলেন, সর্বত্র করলেন লোকদের রোগনিরাময়।

[7] সামন্তরাজ হেরোদ এসব ঘটনার কথা শুনতে পেলেন। তিনি খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন, কারণ কেউ কেউ বলছিল যে, যোহন মৃত্যুলোক থেকে উত্থিত হয়েছেন।

[8] অন্যেরা বলছিল, এলিয় আবির্ভূত হয়েছেন; আবার কেউ কেউ বলছিল, প্রাচীনকালের কোনো ভাববাদী পুনর্জীবিত হয়েছেন।

[9] কিন্তু হেরোদ বললেন, “আমিই তো যোহনের শিরশ্ছেদ করেছি, তাহলে কে এই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে আমি এত কথা শুনছি?” তিনি যীশুকে দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন।

[10] প্রেরিতশিষ্যেরা ফিরে এসে যীশুকে তাঁদের কাজের বিবরণ দিলেন। তিনি তখন তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বেথসৈদা নগরের দিকে একান্তে যাত্রা করলেন।

[11] কিন্তু লোকেরা সেকথা জানতে পেরে তাঁর অনুসরণ করল। তিনি তাদের স্বাগত জানিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে কথা বললেন এবং যাদের সুস্থতা লাভের প্রয়োজন ছিল, তাঁদের সুস্থ করলেন।

[12] পড়ন্ত বিকেলে সেই বারোজন তাঁর কাছে এসে বললেন, “লোকদের চলে যেতে বলুন, তারা যেন চারদিকের গ্রামে এবং পল্লিতে গিয়ে আহার ও রাত্রিবাসের সন্ধান করতে পারে, কারণ আমরা এখানে এক প্রত্যন্ত স্থানে আছি।”

[13] তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরাই ওদের কিছু খেতে দাও।” তাঁরা বললেন, “আমাদের কাছে শুধু পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ আছে—সব লোককে খাওয়াতে হলে আমাদের গিয়ে খাবার কিনতে হবে।”

[14] (সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল) তিনি কিন্তু শিষ্যদের বললেন, “প্রত্যেক সারিতে কমবেশি পঞ্চাশ জন করে ওদের বসিয়ে দাও।”

[15] শিষ্যেরা তাই করলেন, প্রত্যেকে বসে পড়ল।

[16] সেই পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ নিয়ে যীশু স্বর্গের দিকে ঊর্ধ্বদৃষ্টি করে ধন্যবাদ জানালেন ও সেগুলি ভেঙে টুকরো করলেন। তারপর পরিবেশন করার জন্য তিনি সেগুলি শিষ্যদের কাছে দিলেন।

[17] তারা সবাই আহার করে তৃপ্ত হল। শিষ্যেরা অবশিষ্ট পূর্ণ বারো ঝুড়ি খাবারের টুকরো তুলে নিলেন।

[18] এক সময়ে যীশু একান্তে প্রার্থনা করছিলেন। তাঁর শিষ্যেরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কে, এ বিষয়ে জনসাধারণ কী বলে?”

[19] তাঁরা উত্তর দিলেন, “কেউ কেউ বলে, আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, অন্যেরা বলে এলিয় এবং আরও অনেকে বলে, প্রাচীনকালের কোনও একজন ভাববাদী পুনর্জীবিত হয়েছেন।”

[20] তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কিন্তু তোমাদের অভিমত কী? তোমরা কী বলো, আমি কে?” পিতর উত্তর দিলেন, “আপনি ঈশ্বরের সেই খ্রীষ্ট।”

[21] একথা কারও কাছে প্রকাশ না করার জন্য যীশু দৃঢ়ভাবে তাঁদের সতর্ক করে দিলেন।

[22] তিনি বললেন, “মনুষ্যপুত্রকে বিভিন্ন বিষয়ে দুঃখভোগ করতে হবে; প্রাচীনবর্গ, মহাযাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবেন। তাঁকে নিহত হতে হবে এবং তৃতীয় দিবসে হবে তাঁর পুনরুত্থান।”

[23] তারপর তিনি তাঁদের সবাইকে বললেন, “কেউ যদি আমার অনুসারী হয়, তাকে নিজেকে অস্বীকার করতে হবে এবং প্রতিদিন তার ক্রুশ বহন করে আমার অনুসরণ করতে হবে।

[24] কারণ যে তার জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে, কিন্তু যে আমার জন্য তার প্রাণ হারায়, সে তা রক্ষা করবে।

[25] মানুষ যদি সমস্ত জগতের অধিকার অর্জন করে ও তার নিজের প্রাণ হারায়, বা বিসর্জন দেয়, তাতে তার কী লাভ হবে?

[26] কেউ যদি আমার ও আমার বাক্যের জন্য লজ্জাবোধ করে, মনুষ্যপুত্র যখন তাঁর নিজের মহিমায় এবং তাঁর পিতা ও পবিত্র স্বর্গদূতদের মহিমায় আসবেন, তিনিও তার জন্য লজ্জাবোধ করবেন।

[27] “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈশ্বরের রাজ্যের দর্শন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ লাভ করবে না।”

[28] একথা বলার প্রায় আট দিন পরে যীশু পিতর, যোহন ও যাকোবকে সঙ্গে নিয়ে প্রার্থনা করার জন্য এক পর্বতে আরোহণ করলেন।

[29] প্রার্থনাকালে তাঁর মুখের রূপ পরিবর্তিত হল এবং তাঁর পোশাক বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

[30] দুজন পুরুষ, মোশি ও এলিয়, হঠাৎই আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।

[31] তাঁরা মহিমাময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে তাঁর সত্বর প্রস্থানের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, যা তিনি জেরুশালেমে সম্পন্ন করতে চলেছিলেন।

[32] পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু যখন তাঁরা পূর্ণরূপে জাগরিত হলেন, তাঁরা যীশুর মহিমান্বিত রূপ এবং তাঁর সঙ্গে দণ্ডায়মান দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন।

[33] তাঁরা যীশুকে ছেড়ে বিদায় নিতে উদ্যত হলে, পিতর যীশুকে বললেন, “প্রভু, আমাদের পক্ষে এখানেই থাকা ভালো। এখানে আমরা তিনটি তাঁবু নির্মাণ করি, একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য, আর একটি এলিয়ের জন্য।” (তিনি কী বলছেন, নিজেই বুঝলেন না)

[34] তিনি একথা বলছেন, এমন সময় একখানি মেঘ তাঁদের আবৃত করল। মেঘ তাঁদের আবৃত করলে, তাঁরা অত্যন্ত ভয়ভীত হলেন।

[35] তখন মেঘের অভ্যন্তর থেকে একটি স্বর ধ্বনিত হল, “ইনিই আমার পুত্র, আমার মনোনীত, তোমরা এঁর কথা শোনো।”

[36] সেই স্বর ধ্বনিত হওয়ার পর, তাঁরা দেখলেন যীশু একা দাঁড়িয়ে আছেন। শিষ্যেরা নিজেদের মধ্যেই সেকথা সংগোপনে রাখলেন, তাঁরা কী-দেখেছেন, সেই সময় তা কারও কাছেই প্রকাশ করলেন না।

[37] পরদিন তাঁরা পর্বত থেকে অবতরণ করলে পর একদল লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল।

[38] তাঁর মধ্য থেকে একজন তাঁকে উচ্চকণ্ঠে বলল, “গুরুমহাশয়, মিনতি করছি, আপনি আমার পুত্রটিকে দেখুন, সে আমার একমাত্র সন্তান।

[39] একটি আত্মা তার উপর ভর করেছে। সে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। আত্মাটি তাকে আছড়ে ফেলে এবং এমনভাবে মোচড় দেয় যে, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। সে তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, কিছুতেই ছেড়ে যায় না।

[40] এটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমি আপনার শিষ্যদের কাছে মিনতি করেছিলাম, কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।”

[41] যীশু উত্তর দিলেন, “ওহে অবিশ্বাসী ও বিপথগামী প্রজন্ম, আমি আর কত কাল তোমাদের সঙ্গে থাকব ও তোমাদের সহ্য করব? তোমার ছেলেটিকে এখানে নিয়ে এসো।”

[42] ছেলেটি যখন আসছিল, এমন সময় তাকে ওই ভূত মাটিতে ফেলে দিলে, তার শরীরে প্রবল কম্পন শুরু হল। কিন্তু যীশু মন্দ-আত্মাটিকে ধমক দিলেন এবং ছেলেটিকে সুস্থ করে তার পিতার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।

[43] ঈশ্বরের মাহাত্ম্য দেখে তারা সকলে অভিভূত হয়ে পড়ল। যীশুর কার্যকলাপ যখন সবাইকে বিস্মিত করে দিল, তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন,

[44] “আমি তোমাদের যা বলতে চলেছি, তা মন দিয়ে শোনো। মনুষ্যপুত্র মানুষদের হাতে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে চলেছেন।”

[45] তাঁরা কিন্তু একথার অর্থ বুঝতে পারলেন না। বিষয়টি তাঁদের কাছে গুপ্ত রাখা হয়েছিল বলে, তাঁরা তা উপলব্ধি করতে পারেননি। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেও তাঁরা ভয় পেলেন।

[46] পরে শিষ্যদের মধ্যে এক বিতর্কের সূচনা হল, তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?

[47] যীশু তাঁদের মনোভাব জানতে পেরে একটি শিশুকে কাছে টেনে নিয়ে নিজের পাশে দাঁড় করালেন।

[48] তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “যে আমার নামে এই শিশুটিকে স্বাগত জানায়, সে আমাকেই স্বাগত জানায়। যে আমাকে গ্রহণ করে, আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন সে তাঁকেই গ্রহণ করে। কারণ তোমাদের সকলের মধ্যে যে নগণ্য, সেই হল শ্রেষ্ঠ।”

[49] যোহন বললেন, “প্রভু, আমরা একজনকে আপনার নামে দুষ্টাত্মা দূর করতে দেখে, তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিলাম, কারণ সে আমাদের কেউ নয়।”

[50] যীশু বললেন, “তাকে নিষেধ কোরো না, কারণ যে তোমাদের বিপক্ষে নয়, সে তোমাদের সপক্ষে।”

[51] স্বর্গে নীত হওয়ার কাল সন্নিকট হলে, যীশু স্থিরসংকল্প হয়ে জেরুশালেমের দিকে যাত্রা করলেন।

[52] তিনি তাঁর বার্তাবহদের আগেই পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা যীশুর জন্য সবকিছুর আয়োজন সম্পূর্ণ করতে শমরীয়দের এক গ্রামে প্রবেশ করলেন।

[53] কিন্তু তিনি জেরুশালেম অভিমুখে যাচ্ছিলেন বলে সেখানকার অধিবাসীরা তাঁকে স্বাগত জানাল না।

[54] এই দেখে তাঁর দুজন শিষ্য, যাকোব ও যোহন জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কি চান যে, আমরা ওদের ধ্বংস করার জন্য আকাশ থেকে আগুন নেমে আসতে বলি, যেমন এলিয় করেছিলেন?”

[55] কিন্তু যীশু তাঁদের দিকে ফিরে তিরস্কার করলেন।

[56] এরপর তাঁরা অন্য গ্রামে চলে গেলেন।

[57] তাঁরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, একজন তাঁকে বলল, “আপনি যেখানেই যাবেন, আমি আপনাকে অনুসরণ করব।”

[58] যীশু বললেন, “শিয়ালদের গর্ত আছে, আকাশের পাখিদের বাসা আছে, কিন্তু মনুষ্যপুত্রের মাথা রাখার স্থান কোথাও নেই।”

[59] তিনি অন্য একজনকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।” কিন্তু সে উত্তর দিল, “প্রভু, ফিরে গিয়ে প্রথমে আমার পিতাকে সমাধি দিতে অনুমতি দিন।”

[60] যীশু তাকে বললেন, “মৃতরাই তাদের মৃতদের সমাধি দিক। কিন্তু তুমি গিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের কথা ঘোষণা করো।”

[61] আরও একজন বলল, “প্রভু, আমি আপনার অনুসারী হব। কিন্তু আমাকে ফিরে গিয়ে প্রথমে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিতে অনুমতি দিন।”

[62] যীশু উত্তর দিলেন, “লাঙ্গলে হাত দিয়ে যে পেছনে ফিরে তাকায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের সেবাকর্মের উপযুক্ত নয়।”

লূক — Chapters