[1] যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর দেওয়ান ধনসম্পত্তি অপচয় করার অপরাধে অভিযুক্ত হল।
[2] তাই তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি তোমার সম্পর্কে এ কী কথা শুনছি? তোমার হিসেব পত্র দাখিল করো, কারণ তুমি আর কখনোই দেওয়ান থাকতে পারো না।’
[3] “দেওয়ান স্বগতোক্তি করল, ‘আমি এখন কী করব? আমার মনিব আমাকে কর্মচ্যুত করেছেন। মাটি কাটার মতো শারীরিক সামর্থ্য আমার নেই, ভিক্ষা করতেও আমার লজ্জা হয়।
[4] আমি এখানে কর্মচ্যুত হলে লোকেরা যেন আমাকে তাদের গৃহে স্বাগত জানায়, এজন্য আমি জানি আমাকে কী করতে হবে।’
[5] “তাই সে মনিবের প্রত্যেক খাতককে ডেকে পাঠাল। সে প্রথমজনকে বলল, ‘আমার মনিবের কাছে তোমার ঋণ কত?’
[6] “সে উত্তর দিল, ‘তিন হাজার লিটার জলপাই তেল।’ “দেওয়ান তাকে বলল, ‘তোমার ঋণপত্রে শীঘ্র বসে এক হাজার পাঁচশো লিটার লেখ।’
[7] “তারপর সে দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার ঋণ কত?’ “ ‘হাজার বস্তা গম,’ সে উত্তর দিল। “সে তাকে বলল, ‘তোমার ঋণপত্র নিয়ে আটশো করো।’
[8] “সেই অসাধু দেওয়ান বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করেছিল বলে মনিব তাঁর প্রশংসা করলেন। এই জগতের লোকেরা তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণে আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থেকে বেশি বিচক্ষণ।
[9] আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের নিজেদের জন্য বন্ধুত্ব অর্জনের উদ্দেশে জাগতিক সম্পদ ব্যবহার করো, যেন সব ধন নিঃশেষ হয়ে গেলে তোমাদের চিরায়ত আবাসে স্বাগত জানানো হয়।
[10] “অল্প বিষয়ে যার উপরে নির্ভর করা যায়, বহু বিষয়েও তার উপর নির্ভর করা যায়। আবার অতি অল্প বিষয়ে যে অসৎ, বহু বিষয়েও সে অসৎ হবে।
[11] তাই, জাগতিক ধনসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তোমরা যদি বিশ্বাসযোগ্য না হও, তাহলে কে বিশ্বাস করে তোমাদের হাতে প্রকৃত সম্পদ গচ্ছিত রাখবে?
[12] আর অন্যের সম্পত্তি সম্পর্কে যদি তোমরা বিশ্বস্ত না হও, তবে তোমাদের নিজেদের সম্পত্তির দায়িত্ব তোমাদের হাতে কে ছেড়ে দেবে?
[13] “কোনো দাস দুজন মনিবের সেবা করতে পারে না। হয় সে একজনকে ঘৃণা করবে ও অন্যজনকে ভালোবাসবে, নয়তো সে একজনের অনুগত হবে এবং অপরজনকে অবজ্ঞা করবে। তোমরা ধন ও ঈশ্বর, উভয়েরই সেবা করতে পারো না।”
[14] এই সমস্ত কথা শুনে ধনাসক্ত ফরিশীরা যীশুকে ব্যঙ্গ করতে লাগল।
[15] তিনি তাদের বললেন, “তোমরাই সেই লোক, যারা মানুষের চোখে নিজেদের ন্যায়পরায়ণ বলে প্রতিপন্ন করতে চাও, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের হৃদয় জানেন। মানুষের কাছে যার মূল্য অপরিসীম, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তা ঘৃণ্য।
[16] “যোহনের আমল পর্যন্ত বিধিবিধান ও ভাববাদীদের বাণী ঘোষিত হয়েছিল। সেই সময় থেকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচারিত হয়ে আসছে এবং প্রত্যেকেই সেখানে সবলে প্রবেশ করছে।
[17] কিন্তু বিধানের একটি আঁচড়ও লোপ হওয়ার চেয়ে বরং আকাশ ও পৃথিবী বিলুপ্ত হওয়া আরও সহজ।
[18] “নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে যে অন্য নারীকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে এবং যে পুরুষ কোনও বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীকে বিবাহ করে, সে-ও ব্যভিচার করে।
[19] “এক ধনী ব্যক্তি ছিল। সে বেগুনি রঙের মিহি মসিনার পোশাক পরত। প্রতিদিন সে বিলাসব্যসনে জীবনযাপন করত।
[20] তার গৃহের প্রবেশপথে এক ভিখারি সর্বাঙ্গে ক্ষত নিয়ে শুয়ে থাকত। তার নাম ছিল লাসার।
[21] ধনী ব্যক্তির টেবিল থেকে যা কিছু উচ্ছিষ্ট পড়ত, তাই সে খেতে চাইত। এমনকি, কুকুরেরাও এসে তার ক্ষত লেহন করত।
[22] “কালক্রমে ভিখারিটির মৃত্যু হল। স্বর্গদূতেরা তাকে নিয়ে এল অব্রাহামের পাশে। পরে ধনী ব্যক্তির মৃত্যু হলে, তাকেও সমাধি দেওয়া হল।
[23] সে পাতালে নিদারুণ যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছিল। সেখান থেকে সে দৃষ্টি ঊর্ধ্বে তুলে দূরে অব্রাহামের পাশে লাসারকে দেখতে পেল।
[24] তাই সে তাঁকে ডাকল, ‘পিতা অব্রাহাম, আমার প্রতি কৃপা করুন; লাসারকে পাঠিয়ে দিন, সে যেন আঙুলের ডগায় জল নিয়ে আমার জিহ্বা শীতল করে দেয়। কারণ এই আগুনে আমি ভীষণ যন্ত্রণা পাচ্ছি।’
[25] “কিন্তু অব্রাহাম উত্তর দিলেন, ‘বৎস, স্মরণ করে দেখো, তোমার জীবনকালে তুমি সব উৎকৃষ্ট জিনিসগুলি পেয়েছ, লাসার পেয়েছে মন্দ জিনিসগুলি। কিন্তু এখন সে এখানে লাভ করছে সান্ত্বনা, আর তুমি পাচ্ছ যন্ত্রণা।
[26] তা ছাড়া, এখান থেকে তোমাদের কাছে যেতে চাইলে কেউ যেন যেতে না পারে বা ওখান থেকে কেউ যেন পার হয়ে আমাদের কাছে আসতে না পারে, সে-জন্য তোমাদের ও আমাদের মধ্যে রয়েছে বিরাট এক ব্যবধান।’
[27] “সে উত্তর দিল, ‘তাহলে পিতা, আপনার কাছে অনুনয় করছি, আমার পিতার আবাসে লাসারকে পাঠিয়ে দিন,
[28] কারণ আমার পাঁচটি ভাই আছে। সে তাদের সতর্ক করে দিক, যেন তারাও এই যন্ত্রণাময় স্থানে না আসে।’
[29] “অব্রাহাম উত্তর দিলেন, ‘তাদের জন্য আছেন মোশি ও ভাববাদীরা। তাঁদেরই কথায় তারা কর্ণপাত করুক।’
[30] “সে বলল, ‘না, পিতা অব্রাহাম, মৃতলোক থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায়, তাহলেই তারা মন পরিবর্তন করবে।’
[31] “তিনি তাকে বললেন, ‘তারা যদি মোশি ও ভাববাদীদের বাণীতে কর্ণপাত না করে, তাহলে মৃতদের মধ্য থেকে কেউ উপস্থিত হলেও তারা বিশ্বাস করবে না।’ ”