Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:02

[1] যীশু যিরীহোয় প্রবেশ করে তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

[2] সেখানে সক্কেয় নামে এক ব্যক্তি ছিল, সে ছিল প্রধান কর আদায়কারী ও একজন ধনী ব্যক্তি।

[3] কে যীশু, সে তা দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু সে খর্বাকৃতি হওয়ার দরুন ও ভিড়ের জন্য, তাঁকে দেখতে পেল না।

[4] তাই তাঁকে দেখার জন্য সে দৌড়ে গিয়ে সামনের একটি সিকামোর-ডুমুর গাছে উঠল। কারণ যীশু সেই পথ ধরেই আসছিলেন।

[5] যীশু সেই স্থানে উপস্থিত হয়ে উপর দিকে তাকালেন ও তাকে বললেন, “সক্কেয়, এখনই নেমে এসো, আজ আমাকে অবশ্যই তোমার ঘরে থাকতে হবে।”

[6] তাই সে তখনই নেমে এসে সানন্দে তাঁকে স্বাগত জানাল।

[7] এই দেখে লোকেরা গুঞ্জন করতে লাগল, “ইনি একজন ‘পাপীর’ ঘরে অতিথি হতে যাচ্ছেন।”

[8] কিন্তু সক্কেয় দাঁড়িয়ে প্রভুকে বলল, “প্রভু দেখুন, আমি এখনই আমার সম্পত্তির অর্ধাংশ দীন-দুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছি। আর কাউকে প্রতারণা করে যদি কিছু নিয়েছি, তাহলে তার চারগুণ অর্থ আমি তাকে ফিরিয়ে দেব।”

[9] যীশু তাকে বললেন, “আজই এই পরিবারে পরিত্রাণ উপস্থিত হল, কারণ এই মানুষটিও অব্রাহামের সন্তান।

[10] বস্তুত, যা হারিয়ে গিয়েছিল, তার অন্বেষণ ও পরিত্রাণ করতে মনুষ্যপুত্র উপস্থিত হয়েছেন।”

[11] তারা যখন একথা শুনছিল, তিনি তাদের একটি রূপক কাহিনিও বললেন, কারণ তিনি জেরুশালেমের নিকটে এসে পড়েছিলেন এবং লোকেরা মনে করছিল, ঈশ্বরের রাজ্যের আবির্ভাব তখনই হবে।

[12] তিনি বললেন, “সম্ভ্রান্তবংশীয় এক ব্যক্তি রাজপদ লাভের পর স্বদেশে ফিরে আসবেন, এই উদ্দেশ্যে-কোনো এক সুদূর দেশে গেলেন।

[13] তাই তিনি তাঁর দশজন দাসকে ডেকে তাদের দশটি মিনা দিয়ে বললেন, ‘আমি যতদিন ফিরে না-আসি, এই অর্থ ব্যবসায়ে নিয়োগ করো।’

[14] “কিন্তু তাঁর প্রজারা তাঁকে ঘৃণা করত। তারা তাই তার পেছনে এক প্রতিনিধি মারফত বলে পাঠাল, ‘আমরা চাই না, এই লোকটি আমাদের রাজা হোক।’

[15] “যাই হোক, তিনি রাজপদ লাভ করে স্বদেশে ফিরে এলেন। তারপর তিনি যে দাসদের অর্থ দিয়ে গিয়েছিলেন, তারা কী লাভ করেছে, জানবার জন্য তাদের ডেকে পাঠালেন।

[16] “প্রথমজন এসে বলল, ‘হুজুর, আপনার মুদ্রা দিয়ে আমি আরও দশটি মুদ্রা অর্জন করেছি।’

[17] “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘উত্তম দাস আমার, তুমি ভালোই করেছ। যেহেতু অত্যন্ত ক্ষুদ্র বিষয়ে তুমি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছ, সে-জন্য তুমি দশটি নগরের দায়িত্ব গ্রহণ করো।’

[18] “দ্বিতীয়জন এসে বলল, ‘হুজুর, আপনার মুদ্রা দিয়ে আমি আরও পাঁচটি মুদ্রা অর্জন করেছি।’

[19] “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘তুমি পাঁচটি নগরের দায়িত্ব গ্রহণ করো।’

[20] “তখন অন্য একজন দাস এসে বলল, ‘হুজুর, এই নিন আপনার মুদ্রা, আমি এটি কাপড়ে জড়িয়ে রেখে দিয়েছিলাম।

[21] আমি আপনাকে ভয় করেছিলাম, কারণ আপনি কঠোর-হৃদয় বিশিষ্ট মানুষ। আপনি যা রাখেননি, তাই নিয়ে নেন, যা বোনেননি, তাও কাটেন।’

[22] “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘দুষ্ট দাস, তোমার নিজের কথা দিয়েই আমি তোমার বিচার করব! তুমি না জানতে, আমি কঠোর প্রকৃতির মানুষ, যা আমি রাখিনি, তা নিয়ে থাকি, আর যা বুনিনি, তা কেটে থাকি?

[23] আমার অর্থ তুমি কেন মহাজনের কাছে রাখোনি, তাহলে ফিরে এসে আমি তা সুদ-সমেত আদায় করতে পারতাম?’

[24] “তারপর তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্দেশে বললেন, ‘ওর কাছ থেকে মুদ্রাটি নিয়ে নাও, আর যার দশটি মুদ্রা আছে, তাকে দাও।’

[25] “তারা বলল, ‘মহাশয়, ওর তো দশটি মুদ্রা আছেই!’

[26] “তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি তোমাদের বলছি, যার আছে, তাকে আরও বেশি দেওয়া হবে; কিন্তু যে কিছু করে না, তার যেটুকু আছে, তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।

[27] আর যারা চায়নি যে, আমি তাদের অধিপতি হই, আমার সেইসব শত্রুকে এখানে নিয়ে এসে আমার সামনে বধ করো।’ ”

[28] এসব কথা বলার পর যীশু সামনে, জেরুশালেমের দিকে এগিয়ে চললেন।

[29] জলপাই পর্বত নামের পাহাড়ে, বেথফাগে ও বেথানি গ্রামের কাছে এসে তিনি তাঁর দুজন শিষ্যকে এই কথা বলে পাঠালেন,

[30] “তোমরা সামনের ওই গ্রামে যাও। সেখানে প্রবেশ করা মাত্র একটি গর্দভ-শাবক বাঁধা আছে দেখতে পাবে। তার উপর কেউ কখনও বসেনি। সেটির বাঁধন খুলে এখানে নিয়ে এসো।

[31] কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে, ‘এর বাঁধন খুলছ কেন?’ তাহলে তাকে বোলো, ‘এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।’ ”

[32] যাঁদের আগে পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা গিয়ে যীশু যেমন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই দেখতে পেলেন।

[33] তাঁরা যখন গর্দভ শাবকটির বাঁধন খুলছিলেন, শাবকটির মালিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কেন এর বাঁধন খুলছ?”

[34] তাঁরা উত্তর দিলেন, “এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।”

[35] তাঁরা শাবকটি যীশুর কাছে নিয়ে এসে তার উপর তাঁদের পোশাক বিছিয়ে দিলেন, আর তার উপর যীশুকে বসালেন।

[36] তাঁর যাওয়ার পথের উপর জনসাধারণ তাদের পোশাক বিছিয়ে দিতে লাগল।

[37] পথ যেখানে জলপাই পর্বতের দিকে নেমে গেছে, যীশু সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর সমস্ত শিষ্য, যীশুর সাধিত যেসব অলৌকিক কর্ম দেখেছিলেন, সেগুলির উল্লেখ করে উচ্চকণ্ঠে ঈশ্বরের মহিমা-কীর্তন করে বলতে লাগলেন:

[38] “ধন্য সেই রাজাধিরাজ, যিনি আসছেন প্রভুরই নামে।” “স্বর্গলোকে হোক শান্তি, আর মহিমা ঊর্ধ্বতমলোকে!”

[39] লোকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরিশী যীশুকে বললেন, “গুরুমহাশয়, আপনার শিষ্যদের ধমক দিন!”

[40] তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আপনাদের বলছি, ওরা যদি নীরব হয়, তাহলে পাথরগুলি চিৎকার করে উঠবে।”

[41] জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে নগরটিকে দেখে তিনি কেঁদে ফেললেন, আর বললেন,

[42] “তুমি, শুধুমাত্র তুমি যদি জানতে, আজকের দিনে শান্তির জন্য তোমার কী প্রয়োজন! কিন্তু এখন তা তোমার দৃষ্টির অগোচর হয়ে রইল।

[43] তোমার উপরে এমন একদিন ঘনিয়ে আসবে, যেদিন তোমার শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে অবরোধের প্রাচীর তুলবে, তোমাকে বেষ্টন করে সবদিক থেকে তোমাকে ঘিরে ধরবে।

[44] তারা তোমাকে ও তোমার চার দেওয়ালের মধ্যবর্তী সন্তানদের ভূমিসাৎ করবে। তারা একটি পাথরের উপর আর একটি পাথর রাখবে না। কারণ তোমার কাছে ঈশ্বরের আগমনকালকে তুমি চিনতে পারোনি।”

[45] তারপর তিনি মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বলিদানের পশু বিক্রেতাদের তাড়িয়ে দিতে লাগলেন।

[46] তিনি তাদের বললেন, “এরকম লিখিত আছে, ‘আমার গৃহ হবে প্রার্থনার গৃহ,’ কিন্তু তোমরা একে দস্যুদের গহ্বরে পরিণত করেছ।”

[47] প্রতিদিন তিনি মন্দিরে শিক্ষা দিতেন। কিন্তু প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও জননেতারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছিলেন।

[48] তবুও তা কার্যে পরিণত করার পথ তাঁরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, কারণ লোকসকল মুগ্ধ হয়ে তাঁর বাক্য শুনত।

লূক — Chapters