[1] মোয়াবের সমতলে, যিরীহোর অপর পাশে, জর্ডন সন্নিহিত অঞ্চলে, সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
[2] “ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও যেন তারা যে স্বত্বাধিকার গ্রহণ করবে, তার মধ্য থেকে যেন কয়েকটি নগর লেবীয়দের বাস করার জন্য দান করে। সেই সকল নগর সন্নিহিত চারণভূমিও যেন তাদের দেওয়া হয়।
[3] তাহলে তারা সেই সমস্ত নগরে বাস করবে এবং তাদের গবাদি পশু, মেষপাল ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য চারণভূমিও প্রাপ্ত হবে।
[4] “তোমরা লেবীয়দের জন্য নগরের চতুর্দিকে যে চারণভূমি দান করবে, তা নগরের প্রাচীর থেকে পরের শত হস্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
[5] নগরের বাহিরে, পূর্বদিকে দুই সহস্র হস্ত, দক্ষিণ দিকে দুই সহস্র হস্ত, পশ্চিমদিকে দুই সহস্র হস্ত ও উত্তর দিকে দুই সহস্র হস্ত, মধ্যস্থলে নগরটি থাকবে। তারা এই এলাকা, নগরের সকলের চারণভূমি হিসেবে প্রাপ্ত হবে।
[6] “যে সমস্ত নগর তোমরা লেবীয়দের দেবে, তার মধ্যে ছয়টি আশ্রয়-নগর হবে। কোনো ব্যক্তি কাউকে বধ করে থাকলে সেখানে পলায়ন করতে পারবে। তার অতিরিক্ত তাদের আরও বিয়াল্লিশটি নগর দেবে।
[7] তোমরা লেবীয়দের জন্য চারণভূমি সমেত মোট আটচল্লিশটি নগর দেবে।
[8] ইস্রায়েলিয়দের অধিকৃত অংশ থেকে যে সমস্ত নগর তোমরা লেবীয়দের দেবে, তা প্রত্যেক গোষ্ঠীর প্রাপ্ত অধিকার অনুসারে হবে। যে গোষ্ঠীর বেশি সংখ্যা আছে, তাদের থেকে বেশি সংখ্যক নগর নেবে, কিন্তু যাদের কম আছে, তাদের থেকে কম সংখ্যক নগর নেবে।”
[9] তারপর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
[10] “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘যখন তোমরা জর্ডন পার হয়ে কনানদেশে যাবে,
[11] তখন কয়েকটি নগর মনোনীত করবে যেগুলি আশ্রয়-নগর হবে, যেন কেউ ভ্রান্তি বশত কারোর প্রাণ নিলে সেখানে পলায়ন করতে পারে।
[12] সেইগুলি প্রতিশোধলিপ্সু ব্যক্তির নিকট রক্ষাকারী আশ্রয়স্থল হবে, যেন নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, মণ্ডলীর সম্মুখে বিচারিত হওয়ার পূর্বেই মারা না পড়ে।
[13] এই যে ছয়টি নগর তোমরা দান করবে, সেগুলি তোমাদের আশ্রয়-নগর হবে।
[14] জর্ডনের এই পাশে তিনটি এবং কনানে তিনটি আশ্রয়-নগর দান করবে।
[15] ইস্রায়েলী এবং যে সকল বিদেশি তোমাদের মধ্যে বাস করছে তাদের জন্য এই ছয়টি নগর আশ্রয়স্থল হবে, যেন কেউ যদি ভ্রান্তি বশত কারোর প্রাণ নেয় তাহলে সেখানে পলায়ন করতে পারে।
[16] “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি, অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো লৌহ পদার্থ দিয়ে এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
[17] অথবা যদি কোনো ব্যক্তির হস্তে একটি প্রস্তর থাকে এবং সে অন্য এক ব্যক্তিকে তার দ্বারা এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
[18] অথবা নিধন হতে পারে এমন কোনো কাঠের বস্তু কারোর হস্তে থাকে এবং তার দ্বারা সে কোনো ব্যক্তিকে এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
[19] রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে বধ করবে; যখনই সে হত্যাকারীর সাক্ষাৎ পাবে, তাকে বধ করবে।
[20] যদি কেউ পূর্ব থেকে বিদ্বেষবশত কাউকে সজোরে ধাক্কা দেয়, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু কারোর প্রতি নিক্ষেপ করে, যার ফলে সে মারা যায়,
[21] অথবা শত্রুতার কারণে সে তাকে এমন মুষ্ট্যাঘাত করে, যার ফলে সেই ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী। রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি তাকে দেখামাত্র সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে বধ করবে।
[22] “ ‘কিন্তু শত্রুতার মনোভাব ব্যতিরেকে, যদি কোনো ব্যক্তি হঠাৎ কাউকে ধাক্কা দেয়, অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু তার প্রতি নিক্ষেপ করে
[23] অথবা তার প্রতি লক্ষ না করে যদি কোনো ভারী প্রস্তর তার ওপর নিক্ষেপ করে যার দ্বারা মৃত্যু হতে পারে এবং সে মারা যায়, তাহলে যেহেতু সে তার শত্রু ছিল না এবং তার ক্ষতিসাধন করার কোনো মনোবাসনা সেই ব্যক্তির ছিল না
[24] মণ্ডলী অবশ্যই সেই ব্যক্তির এবং রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তির মধ্যে এই সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বিধির পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করবে।
[25] মণ্ডলী অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তির হাত থেকে নিস্তার করবে এবং সেই আশ্রয়-নগরে তাকে পুনরায় প্রেরণ করবে, যেখানে সে পলায়ন করেছিল। যে পর্যন্ত পবিত্র তেলে অভিষিক্ত প্রধান যাজকের মৃত্যু না হয়, সেই পর্যন্ত সে ওই স্থানে অবস্থিতি করবে।
[26] “ ‘কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি, যেখানে সে পলায়ন করেছিল, সেই আশ্রয় নগরের সীমানার বাইরে যদি কখনও যায়
[27] এবং রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি সেই নগর সীমানার বাইরে তার সাক্ষাৎ পায়, তাহলে সে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বধ করতে পারবে। নরহত্যার কোনো অপরাধ তার হবে না।
[28] অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্যই তার আশ্রয়-নগরে অবস্থান করবে, যতদিন না প্রধান যাজকের মৃত্যু হয়; কেবলমাত্র প্রধান যাজকের মৃত্যু হলেই সে তার নিজস্ব অধিকারে ফিরে যেতে পারবে।
[29] “ ‘তোমরা যেখানে বাস করো, সেখানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মপরম্পরায় এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
[30] “ ‘কোনও ব্যক্তি, অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে, চাক্ষুষ সাক্ষীদের সাক্ষ্যদানের ভিত্তিতে, হত্যাকারী হিসেবে তাকে বধ করতে হবে। কিন্তু শুধুমাত্র একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।
[31] “ ‘মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোনো হত্যাকারীর জীবনের বিনিময়ে কোনো মুক্তির মূল্য গ্রহণ করবে না। তাকে নিশ্চিতরূপেই বধ করতে হবে।
[32] “ ‘যে ব্যক্তি আশ্রয়-নগরে পলায়ন করেছে, তার নিকট থেকে কোনো মুক্তি মূল্য নেবে না এবং প্রধান যাজকের মৃত্যু হওয়ার পূর্বেই তাকে ফিরে যেতে ও নিজস্ব নিবাস ভূমিতে বসবাস করার অনুমতি দেবে না।
[33] “ ‘যে দেশে তোমরা বাস করো, সেই দেশকে কলুষিত করবে না। রক্তপাত দেশকে কলুষিত করে এবং যেখানে রক্তপাত হয় সেখানে রক্তপাতকারীর রক্তপাত ব্যতিরেকে দেশের প্রায়শ্চিত্ত হতে পারে না।
[34] যেখানে তোমরা জীবনযাপন করো ও যেখানে আমি বাস করি, সেই দেশকে কলুষিত করবে না। কারণ আমি, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলীদের মধ্যে বাস করি।’ ”