Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:44

[1] এরপর জনগণ সদাপ্রভুর শ্রুতিগোচরে তাদের ক্লেশের জন্য অভিযোগ করল এবং তিনি যখন তা শুনলেন তখন তিনি রুষ্ট হলেন। তখন সদাপ্রভুর নিকট থেকে অগ্নি নির্গত হয়ে ছাউনির প্রান্তসীমার কিছু অংশ দগ্ধ করল।

[2] যখন সেই লোকেরা মোশির নিকট ক্রন্দন করল, তিনি সদাপ্রভুর নিকট বিনতি করলেন এবং অগ্নি নির্বাপিত হল।

[3] এজন্য সেই স্থানের নাম তবেরা রাখা হল, কারণ সদাপ্রভুর নিকট থেকে অগ্নি নির্গত হয়ে তাদের দগ্ধ করেছিল।

[4] তাদের মধ্য বসবাসকারী উচ্ছৃঙ্খল লোকেরা, বিকল্প আহারের জন্য অনুনয় করল এবং ইস্রায়েলীরা পুনরায় বিলাপ করে বলতে লাগল, “আমাদের আহারের জন্য যদি একটু মাংস পেতাম!

[5] স্মরণে আসছে, মিশরে আমরা বিনামূল্যে মাছ আহার করতাম, সেই সঙ্গে শসা, তরমুজ, সবজি, পিঁয়াজ ও রসুন।

[6] কিন্তু এখন আমাদের ক্ষুধাপ্রবৃত্তির অবলুপ্তি হয়েছে; এই মান্না ব্যতিরেকে অন্য কিছু দৃশ্যমান হয় না।”

[7] মান্না, ধনে বীজের মতো আকৃতি এবং দেখতে কিশমিশের মতো ছিল।

[8] লোকেরা চতুর্দিকে ভ্রমণ করে তা সংগ্রহ করত, তারপর যাঁতায় পেষণ অথবা হামানদিস্তায় চূর্ণ করত। তারা কোনও পাত্রে সেই মান্না রন্ধন করত, নতুবা তা দিয়ে পিঠে তৈরি করত। জলপাই তেলে প্রস্তুত কোনো পদের মতোই তার স্বাদ ছিল।

[9] রাত্রিবেলা, ছাউনিতে শিশিরের সঙ্গে মান্না পতিত হত।

[10] মোশি প্রত্যেক পরিবারের বিলাপ শুনতে পেলেন। তারা প্রত্যেকে নিজেদের তাঁবুর প্রবেশ মুখে ছিল। সদাপ্রভু ভয়ঙ্কর রুষ্ট হওয়াতে, মোশি উদ্বিগ্ন হলেন।

[11] তিনি সদাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার ভৃত্যকে এই সমস্যার সম্মুখীন কেন করেছ? আমি কোনো কার্য করতে তোমাকে অসন্তুষ্ট করেছি যে তুমি এই সমস্ত লোকদের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছ?

[12] এদের সকলকে কি আমি গর্ভে ধারণ করেছিলাম? আমি কি তাদের জন্ম দিয়েছি? ধাত্রী যেমন শিশুসন্তান বহন করে, সেইভাবে, কেন তুমি আমাকে বলেছিলে, তাদের বহন করে, পূর্বপুরুষদের নিকট কৃত শপথ অনুসারে প্রতিজ্ঞাত দেশে নিয়ে যেতে?

[13] এই সমস্ত লোকদের জন্য আমি এখন কোথায় মাংস পাব? তারা আমার নিকট ক্রন্দন করে বলছে, ‘আমাদের আহারের জন্য মাংস দাও!’

[14] আমি এককভাবে, এই সমস্ত লোকদের দায়িত্ব বহন করতে পারি না। তা আমার শক্তির অতিরিক্ত।

[15] আমার সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার যদি তোমার অভিপ্রেত হয়, তাহলে এই মুহূর্তেই আমাকে নিধন করো, যদি তোমার দৃষ্টিতে কৃপা লাভ করে থাকি, আমাকে আত্ম-বিনাশ অবলোকন করতে দিয়ো না।”

[16] সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আমার নিকট ইস্রায়েলের সত্তরজন প্রবীণ ব্যক্তিকে, যারা জনসমাজের নেতা ও কর্মকর্তারূপে তোমার নিকট পরিচিত, তাদের নিয়ে এসো। তারা সমাগম তাঁবুতে সমাগত হোক, যেন তারা সেই স্থানে তোমার সঙ্গে দণ্ডায়মান হয়।

[17] আমি নেমে এসে তোমার সঙ্গে আলাপ করব এবং তোমার উপরে যে আত্মা বিদ্যমান, সেই আত্মা আমি তাদের উপরেও অধিষ্ঠান করাব। তারা তোমার সঙ্গে জনসমাজের দায়িত্ব বহন করবে, যেন তোমাকে এককভাবে সমস্ত ভারবহন করতে না হয়।

[18] “লোকদের বলো, ‘আগামীকালের জন্য প্রস্তুত হও, নিজেদের পবিত্র করো, যখন তোমরা মাংস আহার করতে পারবে। তোমরা যখন বিলাপ করে বলেছিলে, “যদি আহার করার জন্য মাংস পেতাম! মিশরেই আমরা অপেক্ষাকৃত ভালো ছিলাম!” সেই কথা সদাপ্রভু শুনেছিলেন। এইবার, সদাপ্রভু তোমাদের মাংস যোগাবেন, তোমরা তা আহার করবে।

[19] মাত্র একদিন, দুদিন, পাঁচ, দশ কি কুড়ি দিনের জন্য তোমরা আহার করবে, তা নয়;

[20] সম্পূর্ণ এক মাস অবধি, যতক্ষণ না মাংস তোমাদের নাক থেকে বহির্গত হয় ও তোমাদের বিরাগ জন্মে, কারণ যিনি তোমাদের মধ্যে অবস্থানকারী, তোমরা সেই সদাপ্রভুকে প্রত্যাখ্যান করেছ, বলেছ, “কেন আমরা সম্পূর্ণরূপে মিশর পরিত্যাগ করে এলাম?” ’ ”

[21] কিন্তু মোশি বললেন, “এখানে আমি ছয় লক্ষ পদাতিকের মধ্যে অবস্থান করছি এবং তুমি বলছ, ‘আমি তাদের এক মাস পর্যন্ত মাংস আহার করতে দেব!’

[22] যদি পাল পাল গবাদি পশু ও মেষ হনন করা হয়, তা হলেও তাদের জন্য পরিমাণে কি তা পর্যাপ্ত হবে? যদি সমুদ্রের সমস্ত মৎস্য ধরা হয়, তাও কি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে?”

[23] সদাপ্রভু মোশিকে উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর হস্ত কি নিতান্তই সংকুচিত হয়েছে? তুমি এইবার প্রত্যক্ষ করবে, আমি যা বলি, তা তোমাদের জন্য বাস্তব হয় কি না!”

[24] অতএব মোশি বাইরে গিয়ে সদাপ্রভু যে সমস্ত কথা বলেছিলেন, তা লোকদেরকে বললেন। তাদের সত্তরজন প্রবীণকে একত্র করে, সেই শিবিরের চতুর্দিকে দাঁড় করালেন।

[25] তখন সদাপ্রভু মেঘের মধ্যে অবতীর্ণ হলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন; তিনি তাঁর উপর অবস্থানকারী আত্মা নিয়ে, ঈশ্বরের সেই আত্মা সত্তরজন প্রবীণের উপর অধিষ্ঠান করালেন। যখন আত্মা তাঁদের উপর অধিষ্ঠান করলেন, তাঁরা ভাববাণী বলতে লাগলেন, অবশ্য পরে তাঁরা পুনরায় তা করেননি।

[26] কিন্তু, ইল্‌দদ ও মেদদ নামে দুইজন ব্যক্তি ছাউনিতেই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁরাও প্রবীণদের মধ্যে গণিত হয়েছিলেন, যদিও বহির্গত হয়ে সেই শিবিরের নিকট যাননি। তা সত্ত্বেও আত্মা তাদের উপরে অধিষ্ঠিত হলেন এবং তাঁরা ছাউনির মধ্যেই ভাববাণী বলা শুরু করলেন।

[27] একজন যুবক দৌড়ে গিয়ে মোশিকে বলল, “ইল্‌দদ ও মেদদ, ছাউনির মধ্যেই ভাববাণী বলছেন।”

[28] নূনের পুত্র যিহোশূয়, যিনি যৌবনকাল থেকে মোশির পরিচারক ছিলেন, তিনি বললেন, “আমার প্রভু, মোশি, ওদের বারণ করুন!”

[29] কিন্তু মোশি উত্তরে বললেন, “আমার উদ্দেশে তুমি কি ঈর্ষান্বিত হয়েছ? আমার বাসনা, সদাপ্রভুর প্রত্যেকজন ব্যক্তি ভাববাদী হোন এবং তিনি তাদের সকলের উপর আত্মাকে অধিষ্ঠিত করুন।”

[30] তারপর মোশি ও ইস্রায়েলের প্রবীণেরা ছাউনিতে ফিরে গেলেন।

[31] তখন সদাপ্রভুর নিকট থেকে এক ঝড় নির্গত হয়ে সমুদ্র থেকে ভারুই পাখিদের তুলে নিয়ে এল। সেই ঝড়, ছাউনির চতুর্দিকে তাদের উড়িয়ে নিয়ে এল। তারা ভূমি থেকে তিন ফুট উচ্চে অবস্থান করল এবং যে কোনো দিশায়, একদিনের চলার পথ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে রইল।

[32] সেইদিন, সম্পূর্ণ দিন ও রাত্রি এবং তার পরেরও সম্পূর্ণ দিন সকলেই ভারুই পাখি সংগ্রহ করল। কোনো ব্যক্তিই দশ হোমারের কম সংগ্রহ করল না। তারা সেই সমস্ত পাখি ছাউনির চতুর্দিকে ছড়িয়ে রাখল।

[33] মাংস তাদের দন্তে থাকতে এবং সব সমাপ্ত হবার পূর্বেই লোকেদের বিপক্ষে সদাপ্রভুর রোষ বহ্নিমান হল। তিনি ভয়ঙ্কর এক মহামারির দ্বারা তাদের আঘাত করলেন।

[34] অতএব সেই স্থানের নাম রাখা হল কিব্রোৎ-হত্তাবা, কারণ যারা ভিন্নতর আহারের জন্য লোভাতুর হয়েছিল, তাদের সেখানেই তারা সমাধি দিল।

[35] কিব্রোৎ-হত্তাবা থেকে সেই জনতা, হৎসেরোতে যাত্রা করল এবং সেই স্থানে অবস্থান করল।

গণনা পুস্তক — Chapters