Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:25

[1] বিলিয়ম যখন দেখল যে ইস্রায়েলীদের আশীর্বাদ করা সদাপ্রভুর সন্তুষ্টজনক, তখন অন্য সময়ের মতো সে প্রত্যাদেশ লাভ করতে অন্যত্র গেল না, কিন্তু তার মুখ প্রান্তরের দিকে করল।

[2] বিলিয়ম দেখল, গোষ্ঠী অনুসারে ইস্রায়েল ছাউনি স্থাপন করে আছে, তখন ঈশ্বরের আত্মা তার উপরে এলেন

[3] এবং সে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “বিয়োরের পুত্র বিলিয়মের প্রত্যাদেশ, যার চক্ষু স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করে, তার প্রত্যাদেশ,

[4] তার প্রত্যাদেশ, যে ঐশ বাণী শ্রবণ করে, যে সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে দর্শন পায়, যে সাষ্টাঙ্গ প্রণত হয়, ও যার চক্ষু উন্মীলিত থাকে।

[5] “হে যাকোব, তোমার তাঁবুসকল, হে ইস্রায়েল, তোমার নিবাসস্থান কেমন মনোহর!

[6] “উপত্যকার মতন সে সকল বিস্তৃত হয়, নদী-তীরস্থ উদ্যানের ন্যায়; সদাপ্রভুর রোপিত সকল অগুরু বৃক্ষের মতন, জল পার্শ্বে সকল দেবদারু বৃক্ষের সদৃশ।

[7] তাদের বালতি সমূহে জল উপচে উঠবে, তাদের বীজ প্রচুর জল পাবে। “তাদের রাজা হবেন অগাগ থেকেও মহৎ, উন্নত হবে তাদের রাজ্য।

[8] “ঈশ্বর মিশর থেকে তাদের নির্গত করেছেন, তারা বন্য বৃষের ন্যায় শক্তিশালী। বৈরী জাতিগণকে তারা ছিন্নভিন্ন করে, খণ্ডবিখণ্ড করে তাদের অস্থি সকল, তীরসমূহ দিয়ে তাদের বিদ্ধ করে।

[9] সিংহের মতোই তারা হামাগুড়ি দেয়, সিংহীর মতোই শয়ন করে; কোনো সাহসী তাকে উঠাতে পারে? “যে তোমাকে আশীর্বাদ করে তারা আশিস ধন্য হবে, যে তোমাকে অভিশাপ দেয় তারা অভিশপ্ত হবে!”

[10] তখন বিলিয়মের প্রতি বালাকের রোষ বহ্নিমান হল। তিনি হাতে করাঘাত করে, তাকে বললেন, “আমি আপনাকে ডেকে এনেছিলাম যেন আপনি আমার শত্রুদের অভিশাপ দেন, কিন্তু এই তিনবার আপনি তাদের আশীর্বাদ করলেন।

[11] এখন এই মুহূর্তে, প্রস্থান করুন ও গৃহে ফিরে যান! আমি বলেছিলাম, আপনাকে উদারভাবে পুরস্কৃত করব, কিন্তু সদাপ্রভুই আপনাকে পুরস্কার নিতে দিলেন না।”

[12] বালাককে বিলিয়ম উত্তর দিল, “আপনি যে বার্তাবাহকদের পাঠিয়েছিলেন, আমি কি তাদের বলিনি,

[13] ‘বালাক যদিও তাঁর প্রাসাদের সমস্ত সোনা ও রুপো দেন, আমি স্বেচ্ছায়, ভালো অথবা মন্দ, সদাপ্রভুর আদেশের অতিরিক্ত, কিছুই করতে পারি না। আমি শুধু সেই কথা বলব, যা সদাপ্রভু আমাকে বলে দেবেন।’

[14] এখন আমি আমার স্বজাতির নিকট ফিরে যাই, কিন্তু এই লোকেরা ভবিষ্যতে আপনার লোকদের প্রতি কী করবে, আসুন, সে বিষয়ে আপনাকে সচেতন করে দিই।”

[15] পরে সে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “বিয়োরের পুত্র বিলিয়মের প্রত্যাদেশ, যার চক্ষু স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করে, তার প্রত্যাদেশ,

[16] তার প্রত্যাদেশ, যে ঐশ বাণী শ্রবণ করে, যিনি পরাৎপরের নিকটে হইতে জ্ঞান লাভ করেছে, যে সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে দর্শন পায়, যে সাষ্টাঙ্গ প্রণত হয় ও যার চক্ষু উন্মীলিত থাকে।

[17] “আমি তাঁকে দেখব, কিন্তু এখন নয়, আমি দর্শন করব, কিন্তু নিকট হতে নয়; যাকোব থেকে উদিত হবেন এক তারকা, ইস্রায়েল থেকে এক রাজদণ্ডের উত্থান হবে। তিনি মোয়াবের ললাট সকল ও শেথের সমস্ত সন্তানদের করোটি চূর্ণ করবেন।

[18] ইদোম বিজিত হবে, তার শত্রু সেয়ীর বিজিত হবে, কিন্তু ইস্রায়েল উত্তরোত্তর শক্তিমান হবে।

[19] যাকোব থেকে এক প্রশাসকের আগমন হবে, তিনি নগরের অবশিষ্ট ব্যক্তিদের বিনাশ করবেন।”

[20] পরে বিলিয়ম অমালেকের প্রতি দৃষ্টি করে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “অমালেক জাতিসমূহের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিল, কিন্তু বিনাশই হবে তার পরিণতি।”

[21] তারপর তিনি কেনীয়দের প্রতি দৃষ্টি করে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “তোমার নিবাস স্থল সুরক্ষিত, তোমার নীড় শৈল মধ্যে স্থাপিত,

[22] তৎসত্ত্বেও কেনীয়েরা, তোমার হবে বিধ্বংস যখন আসিরীয়রা বন্দি করে তোমাদের নিয়ে যাবে।”

[23] তারপর তিনি তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “হায়! ঈশ্বর যখন এই কর্ম করেন, তখন কে রক্ষা পেতে পারে?

[24] কিত্তীমের সৈকত থেকে জাহাজ সকল আসবে, তারা আসিরিয়া ও এবরকে দমন করবে; কিন্তু তাদের নিজেদেরও বিনাশ হবে।”

[25] এরপরে বিলিয়ম উঠে স্বগৃহে ফিরে গেল এবং বালাকও নিজ পথে প্রস্থান করলেন।

গণনা পুস্তক — Chapters