Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:44

[1] রূবেণ ও গাদ গোষ্ঠীর অতি বৃহৎ গোপাল ও মেষপাল ছিল। তারা দেখল যে যাসের ও গিলিয়দ অঞ্চল পশুপালনের জন্য উপযোগী।

[2] তারা মোশি, ও যাজক ইলীয়াসর এবং সমাজের নেতৃবর্গের নিকটে এল এবং বলল,

[3] “অটারোৎ, দীবোন, যাসের, নিম্রা, হিষ্‌বোন, ইলিয়ালী, সেবাম, নেবো ও বিয়োন,

[4] সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সম্মুখে যে সমস্ত অঞ্চলের পতন ঘটিয়েছেন, তা পশুপালের জন্য উপযোগী এবং আপনাদের সেবকদের নিকটে পশুপাল আছে।

[5] যদি আমরা আপনাদের দৃষ্টিতে কৃপা লাভ করে থাকি,” তারা বলল, “তাহলে স্বত্বাধিকাররূপে এই ভূমি আমাদের দান করা হোক। আমাদের জর্ডনের অপর পারে যেতে বাধ্য করবেন না।”

[6] গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠীর সকলকে মোশি বললেন, “তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইয়েরা যুদ্ধে যাবে আর তোমরা সকলে এখানে বসে থাকবে?

[7] সদাপ্রভু যে দেশ ইস্রায়েলীদের দান করেছেন, তোমরা সেখানে যেতে কেন তাদের নিরুৎসাহ করছ?

[8] অনুরূপ কর্ম তোমাদের পিতৃগণ করেছিলেন, যখন আমি কাদেশ-বর্ণেয় থেকে তাদের দেশ পর্যবেক্ষণ করতে পাঠিয়েছিলাম।

[9] তারা ইষ্কোল উপত্যকা পর্যন্ত উঠে গিয়ে দেশ নিরীক্ষণ করে এসে, যে দেশ সদাপ্রভু তাদের দান করেছিলেন, সেই দেশে প্রবেশ করতে ইস্রায়েলীদের হতোদ্যম করেছিল।

[10] সেদিন সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়েছিল এবং তিনি শপথ করে বলেছিলেন,

[11] ‘যেহেতু সর্বান্তঃকরণে আমার অনুগমন করেনি, তাই তাদের মধ্যে যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা মিশর থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তাদের মধ্যে একজনও সেই দেশে প্রবেশ করবে না, যে দেশ আমি অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের নিকট দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।

[12] কেবলমাত্র, কনিষীয়, যিফূন্নির পুত্র কালেব ও নূনের পুত্র যিহোশূয় ব্যতিরেকে, অন্য একজনও নয়, কারণ তারা সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর অনুগমন করেছিল।’

[13] ইস্রায়েলের বিপক্ষে সদাপ্রভুর রোষ বহ্নিমান হয়েছিল, তিনি চল্লিশ বছর তাদের প্রান্তরে পরিভ্রমণ করিয়েছিলেন, যতদিন না সেই সম্পূর্ণ প্রজন্ম, যারা তার দৃষ্টিতে কুকর্ম করেছিল, প্রয়াণ করল।

[14] “এখন, পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের সন্তান তোমরা সকলে, যারা তোমাদের পিতৃগণের স্থলে দণ্ডায়মান হয়েছে, ইস্রায়েলীদের বিপক্ষে সদাপ্রভুকে আরও বেশি রুষ্ট করছ।

[15] যদি তোমরা তাঁর অনুগমন থেকে ফিরে আসো, তিনি এই সমস্ত লোকদের প্রান্তরে পরিত্যাগ করবেন এবং তোমরাই তাদের বিনাশের কারণ হবে।”

[16] তারা তখন তাঁর নিকটে এসে বলল, “আমরা এখানে আমাদের পশুপালের জন্য খোঁয়াড় ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য নগর নির্মাণ করতে চাই।

[17] তা সত্ত্বেও, আমরা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে, ইস্রায়েলের পুরোভাগে যাব, যতদিন না তাদের গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাই। এসময়, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা, দেশবাসীদের থেকে নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষিত নগরে বাস করবে।

[18] যতক্ষণ না প্রত্যেক ইস্রায়েলী তাদের অধিকার লাভ করে, আমরা আমাদের গৃহে ফিরে যাব না,

[19] জর্ডনের অপর পাশে, আমরা তাদের সঙ্গে আর কোনো স্বত্বাধিকার গ্রহণ করব না, কারণ আমাদের স্বত্বাধিকার জর্ডনের পূর্ব পাশে আমরা প্রাপ্ত হয়েছি।”

[20] তখন মোশি তাদের বললেন, “যদি তোমরা সেরকম করো, সদাপ্রভুর সম্মুখে যুদ্ধের জন্য যদি নিজেদের অস্ত্রসজ্জা গ্রহণ করো,

[21] যদি তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি সদাপ্রভুর সম্মুখে, সশস্ত্র হয়ে জর্ডনের অন্য পাশে যাও, যতক্ষণ না তিনি তাঁর শত্রুদের তাঁর সম্মুখ থেকে বিতাড়িত করেন,

[22] যখন দেশ, সদাপ্রভুর সম্মুখে পরাহত হবে, তখন তোমরা ফিরে আসতে পারো এবং সদাপ্রভু ও ইস্রায়েলীদের প্রতি বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হতে পারো। তখন সদাপ্রভুর সম্মুখে এই ভূমির স্বত্বাধিকার, তোমাদের হবে।

[23] “কিন্তু এই কর্ম করতে যদি অক্ষম হও, তোমরা সদাপ্রভুর বিপক্ষে পাপ করবে। তাহলে নিশ্চিত জেনো, তোমাদের পাপ তোমাদের ধরবে।

[24] তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নগর ও পশুপালের জন্য খোঁয়াড় নির্মাণ করো, কিন্তু যা শপথ করেছ, কার্যেও তা পূর্ণ করবে।”

[25] গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠী মোশিকে বলল, “আমদের প্রভু যেমন আদেশ দিলেন, আপনার দাস আমরা তাই করব।

[26] আমাদের স্ত্রী ও সন্তানগণ, মেষপাল ও গোপালসমূহ, গিলিয়দ অঞ্চলের এই সমস্ত নগরে অবস্থান করবে।

[27] কিন্তু আপনার ভৃত্যেরা, যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র প্রত্যেক পুরুষ, সদাপ্রভুর সম্মুখে যুদ্ধের জন্য জর্ডন পার হয়ে যাবে, যেমন আমাদের প্রভু বলেছেন।”

[28] মোশি তখন তাদের সম্বন্ধে, যাজক ইলীয়াসর, নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং ইস্রায়েল গোষ্ঠীর বংশ-প্রধানদের আদেশ দিলেন।

[29] তিনি তাদের বললেন, “যদি গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠীর প্রত্যেক পুরুষ যুদ্ধের জন্য সসজ্জ হয়, সদাপ্রভুর সম্মুখে তোমাদের সঙ্গে জর্ডন অতিক্রম করে, তাহলে দেশ যখন তোমাদের সম্মুখে পরাহত হবে, তখন স্বত্বাধিকারস্বরূপ তাদের গিলিয়দের ভূমি দান করবে।

[30] কিন্তু সশস্ত্র হয়ে তারা যদি তোমাদের সঙ্গে জর্ডন অতিক্রম না করে, তাহলে তারা অবশ্যই তাদের স্বত্বাধিকার, কনানে, তোমাদের সঙ্গে গ্রহণ করবে।”

[31] গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠী উত্তর দিল, “সদাপ্রভু যে রকম বলেছেন, আপনার ভৃত্যেরা সেরকমই করবে।

[32] আমরা সদাপ্রভুর সম্মুখে, সশস্ত্র হয়ে কনানে পার হব, কিন্তু আমাদের অধিকারস্বরূপ স্বত্ব, জর্ডনের এই পারে থাকবে।”

[33] তখন মোশি, গাদ গোষ্ঠী, রূবেণ গোষ্ঠী ও যোষেফের পুত্র মনঃশির অর্ধগোষ্ঠীকে, ইমোরীয় রাজা সীহোনের রাজ্য ও বাশনের রাজা ওগের রাজ্য দান করলেন। তাদের নগর সমেত সমস্ত দেশ ও তাদের সন্নিহিত অঞ্চলসমূহও দিলেন।

[34] গাদ গোষ্ঠী দীবোন, অটারোৎ, অরোয়ের,

[35] অটারোৎ শোফন, যাসের, যগ্‌বিহ,

[36] বেথ-নিম্রা ও বেত-হারণ, সুরক্ষিত নগর এবং পশুপালের খোঁয়াড় নির্মাণ করল।

[37] আবার রূবেণ গোষ্ঠী হিষ্‌বোন, ইলিয়ালী ও কিরিয়াথয়িম,

[38] সেই সঙ্গে নেবো, বায়াল-মিয়োন (এই নামগুলি পরিবর্তিত হয়েছিল) এবং সিব্‌মা। এসব নগর তারা পুনর্নির্মাণ করে তাদের নামকরণ করল।

[39] মনঃশির পুত্র মাখীরের বংশধরেরা গিলিয়দে গিয়ে তা দখল করল ও যারা সেখানে ছিল, সেই ইমোরীয়দের বিতাড়িত করল।

[40] তাই মোশি, মনঃশির বংশধর মাখীরীয়দের গিলিয়দ দান করলেন। তারা সেখানেই উপনিবেশ স্থাপন করল।

[41] মনঃশির বংশধর যায়ীরও তাদের উপনিবেশ সকল দখল করে তার নাম হব্বোথ-যায়ীর রাখলেন।

[42] নোবহ, কনাৎ ও তার সন্নিহিত অঞ্চলসমূহ দখল করে তার নিজের নামানুসারে তার নাম নোবহ রাখল।

গণনা পুস্তক — Chapters