Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 14:05

[1] সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে মোশিকে বললেন,

[2] “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তুমি কথা বলো, তাদের জানাও, ‘আমি যে দেশ তাদের দিতে যাচ্ছি, যখন তারা সেই দেশে প্রবেশ করবে, তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে যেন ভূমি বিশ্রাম ভোগ করে।

[3] ছয় বছর কাল তোমরা ক্ষেত্রে বীজবপন করবে এবং ছয় বছর যাবৎ দ্রাক্ষাক্ষেত্রের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কাটবে ও দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে।

[4] কিন্তু সপ্তম বছরে ভূমি বিশ্রাম ভোগ করবে আপনা হতে প্রভু সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক বিশ্রামদিন। এই বছরে তোমাদের ক্ষেত্রগুলি বীজবপন করবে না, অথবা দ্রাক্ষাক্ষেত্রের অনর্থক ডালপালাগুলি কেটে ফেলবে না।

[5] ক্ষেত্রগুলি থেকে যে শস্য এমনি এমনি উৎপন্ন হয়েছে তা কাটবে না, অথবা অনভিপ্রেত দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে না। ভূমির জন্য বিশ্রামের বছর রাখতে হবে।

[6] বিশ্রাম বছর চলাকালীন ভূমির খাদ্যশস্য তোমাদের জন্য—তোমার নিজের, তোমার দাসদাসী, বেতনজীবী কর্মী, তোমার মাঝে অস্থায়ী বাসকারী মানুষের জন্য

[7] এবং তোমার গৃহপালিত সমস্ত পশু ও তোমার দেশের বন্য পশুরাও এই খাদ্যশস্যের অংশীদার। ভূমিতে উৎপন্ন যাবতীয় খাদ্যশস্য ভোজন করতে হবে।

[8] “ ‘সাতটি বিশ্রাম বছর—সাতগুণ সাত বছর—গণনা করবে, যেন সাত বিশ্রাম বছরের মোট সংখ্যা উনপঞ্চাশ বছর হয়।

[9] এরপর সপ্তম মাসের দশম দিনে সর্বত্র তূরী বাজাতে হবে; প্রায়শ্চিত্ত দিনে তোমার সারা দেশে তূরী বাজবে।

[10] পঞ্চাশ বছরে পবিত্র করবে ও সারা দেশে সকল বসবাসকারীদের জন্য মুক্তি ঘোষণা করবে। তোমাদের পক্ষে এটি অর্ধশতবার্ষিক মহোৎসব হবে; তোমরা প্রত্যেকজন আপন পারিবারিক অধিকারে ও গোষ্ঠীতে ফিরে যাবে।

[11] পঞ্চাশতম বছরটি তোমাদের পক্ষে আনন্দ উৎসবের বছর হবে। এসময় কোনো বীজবপন করবে না, ভূমিতে আপনা-আপনি উৎপন্ন শস্যচয়ন অথবা অনভিপ্রেত দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে না।

[12] কেননা তখন মহোৎসবের সময়, যা তোমাদের জন্য পবিত্র হবে; কেবল ক্ষেত্রগুলি থেকে সরাসরি তুলে আনা ভক্ষ্য তোমরা ভোজন করবে।

[13] “ ‘এই অর্ধশতবার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রত্যেকজনকে নিজ অধিকারে ফিরে আসতে হবে।

[14] “ ‘যদি তোমার কোনো দেশবাসীর নিকটে তুমি জমি বিক্রয় অথবা তার নিকট থেকে জমি ক্রয় করো, তাহলে পরস্পর সুযোগ নিও না।

[15] অর্ধশতবর্ষের পরে বছর অতিবাহিত হওয়ার ভিত্তিতে তুমি দেশবাসীর নিকট থেকে ক্রয় করবে এবং শস্য সংগ্রহের জন্য অবশিষ্ট বছরগুলির ভিত্তিতে সে বিক্রয় করবে।

[16] বছর-সংখ্যার আধিক্য অনুসারে তুমি মূল্য বৃদ্ধি করবে ও বছর সংখ্যা কম হলে তুমি মূল্য কম করবে, কারণ আসলে সে তোমার নিকটে ফলৎপাদক সংখ্যা অনুসারে বিক্রয় করবে।

[17] তোমরা পরস্পর সুযোগ নিও না, কিন্তু ঈশ্বরকে ভয় কোরো। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।

[18] “ ‘আমার ব্যাবস্থার অনুসারী হও এবং আমার সকল বিধান মেনে চলতে যত্নশীল থেকো, তাহলে তোমরা দেশে নিরাপদে বাস করবে।

[19] ভূমি ফল উৎপন্ন করবে এবং তৃপ্তি অবধি তোমরা ভোজন করবে ও তোমাদের নিরাপত্তা থাকবে।

[20] তোমাদের প্রশ্ন থাকতে পারে, “সপ্তম বছরে আমরা কী ভোজন করব, যদি আমরা বীজবপন ও শস্য সংগ্রহ না করি?”

[21] ষষ্ঠ বছরে আমি এমন আশিস বর্ষণ করব যে তিন বছরের জন্য জমিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হবে।

[22] অষ্টম বছরে বীজ বপনকালের পূর্বে সংগৃহীত ফসল থেকে তোমরা ভোজন করবে এবং নবম বছরে ফসল সংগৃহীত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা পুরোনো খাদ্য ভোজন করবে।

[23] “ ‘চিরদিনের জন্য ভূমি বিক্রয় করা যাবে না, কেননা ভূমি আমার এবং তোমরা প্রবাসী ও ভাড়াটিয়া ব্যতীত আর কিছু নও।

[24] সারা দেশে তোমরা যে ভূমির অধিকারী হয়েছ, তা মুক্ত করতে তোমরা অবশ্যই সুযোগ দিও।

[25] “ ‘যদি তোমার স্বদেশবাসীর কেউ দরিদ্র হয় এবং সে তার কিছু জমি বিক্রয় করে, তাহলে তার নিকটতম আত্মীয় আসবে ও স্বদেশবাসীর বিক্রীত ভূমি মুক্ত করবে।

[26] অন্যদিকে, যদি এমন কেউ থাকে, যার ভূমির মুক্তিকর্তা কেউ নেই, কিন্তু সে নিজে সমৃদ্ধিশালী হয় এবং ভূমি মুক্ত করতে তার যথেষ্ট অবলম্বন থাকে,

[27] তাহলে বিক্রয় করার সময় থেকে পরবর্তী বছরগুলির জন্য সে মূল্য নির্ধারণ করবে ও বিক্রীত মূল্য ক্রেতাকে ফেরৎ দেবে; পরে সে নিজ অধিকারে ফিরে যাবে।

[28] কিন্তু ক্রেতার পাওনা মেটাতে যদি তার সামর্থ না থাকে, তাহলে অর্ধশতবার্ষিক পর্যন্ত বিক্রীত সম্পদ ক্রেতার নিকটে থাকবে। অর্ধশতবার্ষিকীর সময় তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সে নিজ অধিকারে ফিরে যাবে।

[29] “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি প্রাচীরবেষ্টিত নগরে তার গৃহ বিক্রয় করে তাহলে বিক্রয়ের সময় থেকে সম্পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত তার মুক্ত করার অধিকার থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে বিক্রেতা মুক্ত করতে পারবে।

[30] যদি সম্পূর্ণ এক বছরের পূর্বে সে মুক্ত করা না হয়, তাহলে প্রাচীরবেষ্টিত নগরের গৃহটি চিরদিনের জন্য ক্রেতার ও তার বংশধরদের হয়ে যাবে। অর্ধশতবর্ষে এই সম্পত্তি ফেরৎ দেওয়া হবে না।

[31] কিন্তু প্রাচীরহীন গ্রামগুলিতে নির্মিত গৃহগুলি দেশের সার্বিক সম্পত্তিরূপে বিবেচিত হবে। এগুলি মুক্ত করা যাবে এবং অর্ধশতবর্ষে ফেরৎ দেওয়া হবে।

[32] “ ‘লেবীয় অধ্যুষিত নগরগুলিতে নির্মিত লেবীয়দের গৃহগুলি মুক্ত করতে লেবীয়দের সর্বদা অধিকার থাকবে, যেগুলি তাদের অধিকৃত।

[33] সুতরাং লেবীয়দের সম্পত্তি মুক্তিযোগ্য অর্থাৎ যে কোনো নগরে তাদের অধিকৃত গৃহ বিক্রীত হলে অর্ধশতবর্ষে তা ফেরৎ দিতে হবে, কারণ লেবীয়দের নগরগুলিতে নির্মিত গৃহগুলি ইস্রায়েলীদের মাঝে লেবীয়দের সম্পত্তি।

[34] কিন্তু তাদের নগরগুলির চারণভূমি বিক্রয় করা যাবে না; এটি তাদের চিরস্থায়ী অধিকার।

[35] “ ‘যদি তোমাদের দেশবাসীর কেউ দরিদ্র ও তোমাদের মাঝে নিজের ভরণ-পোষণ চালাতে অসমর্থ হয়, তাহলে তাকে সাহায্য করো, যেমন তোমরা বিদেশি এবং অপরিচিতদের প্রতি করে থাকো; যেন তোমাদের মাঝে সে বাস করতে পারে।

[36] তার নিকট থেকে কোনো প্রকার সুদ অথবা সুবিধা গ্রহণ করবে না, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরকে ভয় করবে, যেন তোমাদের দেশবাসী তোমাদের মাঝে বাস করতে পারে।

[37] সুদ গ্রহণের শর্তে তুমি তাকে অর্থ ধার দিতে পারবে না, অথবা লাভের আশায় তার নিকটে খাদ্য বিক্রয় করবে না।

[38] আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন, যেন কনান দেশ তোমাদের দেন ও তোমাদের ঈশ্বর হন।

[39] “ ‘যদি তোমার দেশবাসীর কেউ দরিদ্র হয় ও তোমার নিকটে নিজেকে বিক্রয় করে, এক ক্রীতদাসরূপে তাকে কাজ করতে দিয়ো না।

[40] এক বেতনজীবী কর্মী অথবা তোমার মাঝে এক অস্থায়ী বাসিন্দারূপে তার প্রতি আচরণ করতে হবে। অর্ধশত বছর পর্যন্ত তোমার জন্য সে-কাজটি করবে।

[41] পরে সে ও তার সন্তানেরা মুক্ত হবে এবং সে তার গোষ্ঠীতে ও তার পিতৃপুরুষদের অধিকারে ফিরে যাবে।

[42] যেহেতু ইস্রায়েলীরা আমার ভৃত্য, আমি মিশর থেকে যাদের বের করলাম; তারা কোনোমতে ক্রীতদাসরূপে বিক্রীত হবে না।

[43] নির্দয়ভাবে তাদের শাসন করবে না, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরকে ভয় কোরো।

[44] “ ‘তোমাদের ক্রীতদাস ও দাসীরা তোমাদের চারপাশের দেশ থেকে আসবে; তাদের মধ্যে থেকে তোমরা দাস ও দাসী ক্রয় করতে পারবে।

[45] তোমাদের মাঝে বসবাসকারী অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ও তোমাদের দেশে তাদের গোষ্ঠীজাত সদস্যদের তোমরা ক্রয় করতে পারো এবং তারা তোমাদের সম্পদ হবে।

[46] তোমাদের সন্তানদের পক্ষে অধিকৃত সম্পদরূপে তোমরা তাদেরকে দিতে পারো এবং সারা জীবনের জন্য তাদের ক্রীতদাস করে রাখতে পারো, কিন্তু তোমাদের সঙ্গী ইস্রায়েলীদের ওপরে নির্দয়ভাবে শাসন করতে পারবে না।

[47] “ ‘তোমাদের মাঝে বসবাসকারী কোনো বিদেশি যদি ধনী হয় এবং তোমাদের কোনো একজন ইস্রায়েলী দেশবাসী দরিদ্র হয় ও সেই বিদেশির অথবা প্রবাসীগোষ্ঠীর কোনো এক সদস্যের নিকটে নিজেকে বিক্রয় করে,

[48] বিক্রীত হওয়ার পরে তার মুক্তিলাভের অধিকার থাকবে; তার কোনো এক আত্মীয় তাকে মুক্ত করতে পারবে।

[49] তার জ্যাঠা, কাকা অথবা জ্ঞাতিভাই বা ভগ্নী কিংবা তার গোষ্ঠীর রক্তের সম্পর্কযুক্ত কেউ তাকে মুক্ত করতে পারবে। অথবা যদি সে সম্পদশালী হয়, তাহলে নিজেই নিজেকে মুক্ত করবে।

[50] বিক্রয়ের বছর থেকে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত সে ও তার ক্রেতা সময় গণনা করবে। বছরগুলির সংখ্যা সাপেক্ষে বেতনজীবী মানুষের প্রতি বেতন দেওয়ার হারের ভিত্তিতে তার মুক্তির মূল্য ধার্য হবে।

[51] যদি অনেক বছর অবশিষ্ট থাকে, তাহলে ক্রয় মূল্য থেকে বেশিরভাগটাই সে নিজের মুক্তির জন্য অবশ্যই দেবে।

[52] যদি অর্ধশত বছর না আসা পর্যন্ত কেবল কয়েক বছর অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সে তা গণনা করবে ও তদানুসারে নিজের মুক্তির জন্য মূল্য দেবে।

[53] বছরের পর বছর থেকে এক ভাড়া করা মানুষরূপে তার প্রতি আচরণ করা হবে; তুমি অবশ্যই নজর রাখবে, যেন তার মালিক তাকে নির্দয়ভাবে শাসন না করে।

[54] “ ‘যদি এই উপায়গুলির কোনো উপায়ে সে মুক্তি না পায়, তাহলে সে ও তার সন্তানেরা পঞ্চাশতম বছরে মুক্ত হবে,

[55] কেননা ইস্রায়েলীরা দাসরূপে আমার অধিকার। ওরা আমার দাসদাসী, আমি মিশর থেকে যাদের বের করে আনলাম। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।

লেবীয় পুস্তক — Chapters