Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 15:01

[1] সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,

[2] “যদি কারোর ফোঁড়া অথবা ফুসকুড়ি কিংবা উজ্জ্বল দাগ চর্মে দেখা যায়, তা সংক্রামক চর্মরোগ হতে পারে, তাহলে তাকে অবশ্যই হারোণ যাজকের নিকটে অথবা তার কোনো ছেলেদের সম্মুখে আনতে হবে এবং সেই ছেলে যেন যাজক হয়।

[3] যাজক ওই ব্যক্তির চর্মের ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষতের লোম শ্বেতবর্ণ হয়ে থাকে ও ক্ষতটির আকার চর্মের গভীরতা অপেক্ষা গভীর মনে হয়, তাহলে তা এক সংক্রামক চর্মরোগ। সেটি পরীক্ষা করে যাজক তাকে অশুচি বলবে।

[4] যদি তার চর্মের ক্ষতস্থান শ্বেতবর্ণ হয়, কিন্তু চর্মের গভীর অপেক্ষা ক্ষতস্থান অধিকতর গভীরতায় এবং ক্ষতস্থানের লোম শ্বেতবর্ণ হয়নি, তাহলে যাজক তাকে সাতদিন পৃথক স্থানে রাখবে।

[5] সপ্তম দিবসে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার নজরে ক্ষত অপরিবর্তিত থাকে ও চর্মে তা প্রসারিত না হয়, তাহলে আরও সাতদিন যাজক তাকে পৃথক স্থানে রাখবে।

[6] সপ্তম দিবসে যাজক পুনরায় তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষত মুছে যায় ও চর্মে প্রসারিত না হয় তাহলে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে। মানুষটির শুধু ফুসকুড়ি হয়েছে। সে অবশ্যই তার পরিধান ধৌত করবে ও শুচি হবে।

[7] নিজে শুচি ঘোষিত হওয়ার জন্য যাজকের নিকটে নিজেকে দেখানোর পরে যদি সেই ফুসকুড়ি তার চর্মে প্রসারিত হয়, তাহলে সে পুনরায় যাজকের সামনে উপস্থিত হবে।

[8] যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার চর্মে ফুসকুড়ি প্রসারিত হয়ে থাকে তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি এক সংক্রামক রোগ।

[9] “যখন কারোর সংক্রামক চর্মরোগ হয়, যাজকের নিকটে তাকে আনতেই হবে।

[10] যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চর্মে শ্বেতবর্ণের ফোঁড়া হয় ও লোম শ্বেতবর্ণ ধারণ করে এবং ফোঁড়াতে কাঁচা মাংস থাকে,

[11] তাহলে এটি এক দুরারোগ্য চর্মরোগ এবং যাজক তাকে অশুচি বলবে ও তাকে পৃথক স্থানে রাখবে না, কারণ ইতিমধ্যে সে অশুচি হয়েছে।

[12] “যদি তার সর্বাঙ্গে রোগ প্রসারিত হয় এবং যাজকের নজরে পড়ে যে সংক্রামিত মানুষটি আপাদমস্তক রোগাক্রান্ত,

[13] তাহলে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার সর্বাঙ্গ রোগে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে, তাহলে যাজক তাকে শুচি বলবে। যেহেতু তার সর্বাঙ্গ শুক্লবর্ণ হয়, তাই সে শুচি।

[14] কিন্তু যখনই তার দেহে কাঁচা মাংস দেখা যায়, সে অশুচি হবে।

[15] কাঁচা মাংস যাজকের গোচরীভূত হলে যাজক তাকে অশুচি বলবে। কাঁচা মাংস অশুচি; তার সংক্রামিত রোগ হয়েছে।

[16] কাঁচা মাংস অপরিবর্তিত হয়ে যদি শ্বেতবর্ণ ধারণ করে, তাহলে সে অবশ্যই যাজকের নিকটে যাবে।

[17] যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষতস্থানগুলি শ্বেতবর্ণ হয়, তাহলে সংক্রামিত মানুষটিকে যাজক শুচি বলবে; এইভাবে সে শুচি হবে।

[18] “যখন কারোর চর্মে একটি ফোঁড়া থাকে এবং তা নিরাময় হয়,

[19] আর ফোঁড়ার স্থানে শ্বেতবর্ণের অথবা ঈষৎ লাল শ্বেতবর্ণের ছাপ দেখা যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই যাজকের নিকটে আনতে হবে।

[20] যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চর্মের গভীরতা অপেক্ষা তা অধিকতর গভীর দেখায় ও সংক্রামিত স্থানের লোম শ্বেতবর্ণ ধারণ করে, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে। এটি এক সংক্রামক চর্মরোগ, যা স্ফোটকরূপে উৎপাদিত হয়েছে।

[21] কিন্তু যাজকের পরীক্ষায় যদি দেখা যায়, তাতে শ্বেতবর্ণের লোম নেই এবং চর্মের গভীরতা অপেক্ষা তা বেশি গভীর নয়, দাগ মুছে গিয়েছে, তাহলে যাজক সাতদিনের জন্য তাকে পৃথক রাখবে।

[22] যদি চর্মে দাগ প্রসারিত হতে থাকে, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; রোগটি সংক্রামক।

[23] কিন্তু যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং প্রসারিত না হয়, এটি ফোঁড়ার ক্ষতচিহ্নমাত্র ও যাজক তাকে শুচি বলবে।

[24] “যখন কারও চর্ম দগ্ধ হয় এবং দগ্ধ কাঁচা মাংসে ঈষৎ রক্তিম শুভ্র অথবা শুভ্র দাগ দেখা যায়,

[25] তাহলে যাজক সেই দাগ পরীক্ষা করবে এবং যদি ওই স্থানের লোম শ্বেতবর্ণ ধারণ করে ও চর্ম থেকে অংশটি নিম্নতর মনে হয়, তাহলে এটি এক সংক্রামক ব্যাধি, যা অগ্নিদাগে উৎপন্ন। যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি সংক্রামক এক চর্মরোগ।

[26] কিন্তু যদি যাজক দ্বারা পরীক্ষা করার পর ক্ষতস্থানে শ্বেতবর্ণে লোম না দেখা যায় ও চর্মাপেক্ষা নিম্ন স্তরে না থাকে, দাগ মুছে যায়, তাহলে যাজক সাতদিনের জন্য তাকে পৃথক স্থানে রাখবে।

[27] সপ্তম দিনে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার চর্মরোগ ছড়িয়ে যায়, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি সংক্রামক এক চর্মরোগ।

[28] অন্যদিকে, যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং চর্মে ছড়িয়ে না যায়, কিন্তু দাগ দেখা না যায়, তাহলে তা অগ্নিদগ্ধ এক ফোলা অংশ এবং যাজক তাকে শুচি বলবে; এটি কেবল অগ্নিকৃত এক ক্ষতচিহ্ন।

[29] “যদি কোনো নর বা নারীর মস্তকে কিংবা চিবুকে ক্ষত থাকে,

[30] তাহলে যাজক সেই ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি সেই ক্ষত চর্মপেক্ষা নিম্ন স্তরে থাকে এবং ক্ষতস্থানের লোম পীতবর্ণ ও রুগ্ন হয়, তাহলে ওই মানুষকে যাজক অশুচি ঘোষণা করবে; এটি মস্তকের অথবা চিবুকের এক সংক্রামক ব্যাধি।

[31] কিন্তু যদি যাজক দ্বারা এই ধরনের ক্ষত পরীক্ষা করার পর তা চর্মাপেক্ষা বেশি নিম্নে না থাকে এবং সেখানে কৃষ্ণবর্ণের লোম দেখা না যায়, তাহলে রোগাক্রান্ত মানুষটিকে যাজক সাতদিনের জন্য পৃথক স্থানে রাখবে।

[32] সপ্তম দিনে যাজক তার ক্ষতস্থান পরীক্ষা করবে এবং যদি সেটি প্রসারিত না হয় ও সেখানে পীতবর্ণের লোম না থাকে এবং চর্মাপেক্ষা নিম্নে এর অবস্থান না থাকে,

[33] তাহলে রোগাক্রান্ত নর বা নারীর ক্ষতস্থান ব্যতিরেকে সর্বত্র লোম চেঁচে ফেলবে এবং যাজক সাতদিনের জন্য তাকে পৃথক স্থানে রাখবে।

[34] সপ্তম দিনে যাজক তার ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি চর্মে ক্ষতের প্রসারণ না দেখা যায় ও চর্মাপেক্ষা নিম্নে এর অবস্থান না হয়, তাহলে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে। সে তার পরিধান অবশ্যই ধৌত পরিষ্কৃত করবে ও নিজে শুদ্ধ হবে।

[35] কিন্তু যদি যাজক দ্বারা তাকে শুচি ঘোষণা করার পর তার চর্মে ক্ষত প্রসারিত হয়,

[36] তাহলে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চর্মে প্রসারিত ক্ষত দেখা যায়, তাহলে যাজকের প্রয়োজন নেই পীতবর্ণের লোম দেখার; মানুষটি অশুচি।

[37] অন্যদিকে, তার বিচারে যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং সেখানে কৃষ্ণবর্ণের লোম উৎপন্ন হয়, তাহলে ক্ষত নিরাময় হয়। সে শুচি এবং যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে।

[38] “যখন কোনো নর বা নারীর চর্মে শ্বেতবর্ণ দাগ দেখা যায়,

[39] তাহলে যাজক সমস্ত দাগ পরীক্ষা করবে এবং যদি দাগগুলি ঈষৎ শ্বেতবর্ণ থাকে, তাহলে তা ক্ষতিহীন ফুসকুড়ি, যা চর্মে ফুটে উঠেছে; সেই ব্যক্তি শুচি।

[40] “যদি কোনো মানুষের কেশহীন মস্তক থাকে ও তার টাক পড়ে, সে শুচি।

[41] যদি তার মস্তকের সম্মুখভাগে কেশ না থাকে এবং টাকপড়া কপাল পরিলক্ষিত হয়, তাহলে সে শুচি।

[42] কিন্তু যদি তার কেশহীন মস্তকে বা ললাটে ঈষৎ রক্তিম শুভ্র ক্ষত থাকে, তাহলে তা মস্তকে বা ললাটে অঙ্কুরিত এক সংক্রামক ব্যাধি।

[43] যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার মস্তকে অথবা ললাটে ফুলে ওঠা ক্ষত এবং সংক্রামক চর্মরোগের মতো ঈষৎ রক্তিম শুভ্রবর্ণ হয়,

[44] তাহলে মানুষটি রোগগ্রস্ত ও অশুচি। তার মস্তকে ক্ষত হেতু যাজক তাকে অশুচি ঘোষণা করবে।

[45] “এমন এক সংক্রামক ব্যধিগ্রস্ত মানুষ অবশ্যই ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করবে, তার কেশ এলোমেলো থাকুক; সে তার মুখমণ্ডলের নিম্ন ভাগ আবৃত রাখবে ও তারস্বরে বলবে ‘অশুচি! অশুচি!’

[46] যতদিন তার ক্ষত থাকবে, তাকে অশুচি বলা হবে। সে অবশ্যই একলা থাকবে; সে অবশ্যই শিবিরের বাইরে দিন কাটাবে।

[47] “ছাতারোগ দ্বারা যদি কোনো বস্ত্র কলঙ্কিত হয়, হতে পারে তা পশমি বা মসিনা বস্ত্র,

[48] তাঁতের বস্ত্র, অথবা মসিনা কিংবা পশমের বয়ন, যে কোনো চর্মজাত উপাদান অথবা চর্মজাত দ্রব্য,

[49] যদি বস্ত্রে অথবা চর্মে, কিংবা তাঁত বস্ত্রে বা বোনা উপাদানে অথবা চর্মজাত দ্রব্যে কলঙ্ক থাকে, সবুজ অথবা ঈষৎ রক্তিম বর্ণ পায়, তাহলে প্রসারিত ছাতারোগ এবং অবশ্যই তা যাজককে দেখাতে হবে।

[50] যাজক ওই ছাতারোগ পরীক্ষা করবে ও সাতদিনের জন্য রোগাক্রান্ত উপাদান বিচ্ছিন্ন রাখবে।

[51] সপ্তম দিনে সে সেটি পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতারোগ বস্ত্রে, অথবা কোনো বয়নে, কিংবা বোনা পরিধানে, অথবা চর্মে, কিংবা ব্যবহৃত যে কোনো দ্রব্যে প্রসারিত হয়ে থাকে, তাহলে তা এক মারাত্মক ছাতারোগ, অশুচি দ্রব্য।

[52] সে ওই বস্ত্র, অথবা তাঁতের বস্ত্র, কিংবা পশম বা মসিনার বস্ত্র অথবা কলঙ্কিত যে কোনো চর্মজাত দ্রব্য দগ্ধ করবে, কেননা ছাতারোগ ধ্বংসাত্মক। ওই দ্রব্য অবশ্যই পুড়িয়ে দিতে হবে।

[53] “কিন্তু যাজক দ্বারা পরীক্ষার পর যদি দেখা যায় ছাতারোগ বস্ত্রে কিংবা কোনো বয়ন শিল্পে বা বোনা উপাদানে অথবা চর্মজাত দ্রব্যে প্রসারিত না হয়,

[54] তাহলে সেই কলঙ্কিত দ্রব্য ধৌত করতে তাকে আদেশ দেওয়া হবে। পরে আরও সাতদিনের জন্য সে ওই দ্রব্য দূরে রাখবে।

[55] প্রভাবিত দ্রব্য ধৌত করার পরে যাজক সেটি পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতা-রোগের ছাপ পরিবর্তিত না হয় ও তার প্রসারণ নজরে না পড়ে, তবুও এটি অশুদ্ধ। একদিকে বা অন্যদিকে প্রভাবিত ছাতা অগ্নিতে দগ্ধ করতে হবে।

[56] যদি যাজক দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে দ্রব্যটি ধৌত করার পরে ছাতারোগ না দেখা যায়, তাহলে কলঙ্কিত বস্ত্রখণ্ড অথবা চর্ম কিংবা বয়ন শিল্প বা বোনা উপাদান সে ছিঁড়ে ফেলবে।

[57] কিন্তু যদি তা বস্ত্রে অথবা বয়ন শিল্পে কিংবা বোনা উপাদানে বা চর্মজাত দ্রব্যে পুনরায় দেখা যায়, তাহলে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং অল্পবিস্তর ছাতারোগ অবশ্যই অগ্নিতে দগ্ধ করতে হবে।

[58] বস্ত্র অথবা বয়ন শিল্প কিংবা বোনা উপাদান অথবা চর্মজাত দ্রব্য যা ধৌত করা হয়েছে ও সেটি ছাতারোগ মুক্ত দেখা যায়, তাহলে ওই দ্রব্য অবশ্যই পুনরায় ধৌত করতে হবে, তাহলে সেটি শুদ্ধ হবে।”

[59] পশমি বা মসিনার বস্ত্র, বয়ন শিল্প কিংবা বোনা উপাদান অথবা চর্মজাত যে কোনো দ্রব্যের মলিনতা সম্বন্ধে নিয়মাবলি রয়েছে যেগুলি শুদ্ধ অথবা অশুদ্ধ বলা যেতে পারে।

লেবীয় পুস্তক — Chapters