Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:28

[1] সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,

[2] “রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে তার আনুষ্ঠানিক শুচি হওয়ার সময় নিয়মাবলি এই প্রকার, যখন তাকে যাজকের নিকটে আনা হয়:

[3] যাজক শিবিরের বাইরে যাবে ও তাকে পরীক্ষা করবে। যদি সেই ব্যক্তির সংক্রামক চর্মরোগ নিরাময় হয়ে থাকে,

[4] তাহলে তার শুচিকরণের নিমিত্তে দুটি জীবিত শুচি পাখি কিছু দেবদারু কাঠ, লাল রঙের সুতো ও উগ্রগন্ধের উদ্ভিদ আনতে যাজক আদেশ দেবেন।

[5] পরে যাজক মাটির পাত্রে টাটকা জলের উপরে একটি পাখিকে হত্যা করতে আদেশ দেবে।

[6] এবারে যাজক জীবিত পাখি নেবে এবং দেবদারু কাঠ, লাল রঙের সুতো ও এসোবের সঙ্গে ওই পাখি টাটকা জলের উপরে বধ করা পাখির রক্তে ডুবিয়ে রাখবে।

[7] সংক্রামক ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিকে শুচি করণার্থে যাজক সাতবার রক্ত প্রক্ষেপ করবে ও তাকে শুচি ঘোষণা করবে। পরে যাজক জীবিত পাখি মুক্তাঙ্গনে মুক্তি দেবে।

[8] “ওই রোগী শুচি হওয়ার জন্য অবশ্যই তার পরিধান ধৌত করবে, তার মস্তকের সমস্ত কেশ মুণ্ডন করবে ও জলে স্নাত হবে। এবারে সে আনুষ্ঠানিকভাবে শুচি হবে। এরপরে সে শিবিরে আসতে পারে, কিন্তু সাতদিনের জন্য তাকে তাঁবুর বাইরে থাকতে হবে।

[9] সপ্তম দিনে সে তার সর্বাঙ্গের কেশ চেঁচে ফেলবে; সে মস্তকের কেশ, দাড়ি, ভ্রূণে ও সর্বাঙ্গের সমস্ত লোম চেঁচে ফেলবে। সে তার পরিধান অবশ্যই ধৌত করবে, নিজেও জলে স্নান করবে ও শুচি হবে।

[10] “অষ্টম দিনে দুটি মদ্দা মেষশাবক এবং একটি এক বছরের মেষী সে অবশ্যই আনবে, যেগুলির প্রত্যেকটি হবে নিখুঁত, সঙ্গে থাকবে শস্য-নৈবেদ্যর জন্য তেলমিশ্রিত মিহি ময়দার এক ঐফার দশ অংশের তৃতীয়াংশ ও এক লোগ তৈল।

[11] যে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে, সে তাকে ও তার নৈবেদ্য উভয়কে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে উপস্থাপন করবে।

[12] “পরে যাজক একটি মদ্দা মেষশাবক নেবে ও এক লোগ তৈলের সঙ্গে দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে তা উৎসর্গ করবে। দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে বলিদান নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে যাজক সেগুলি দোলাবে।

[13] যাজক পবিত্রস্থানে সেই মেষশাবক বধ করবে, যেখানে পাপার্থক বলি ও হোমবলি বধ করা হয়। পাপার্থক বলির মতো দোষার্থক-নৈবেদ্য যাজকের; এটি অত্যন্ত পবিত্র।

[14] যাজক দোষার্থক-নৈবেদ্যের কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে যে শুচি হবে তার দক্ষিণে কানের লতি, তার দক্ষিণ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে ও তার দক্ষিণ চরণের বড় আঙ্গুলে রক্তের প্রলেপ দেবে শুচি হবার জন্য।

[15] এবারে যাজক এক লোগ তৈলের কিঞ্চিৎ নেবে এবং আপন বাম হস্তের তালুতে ঢালবে,

[16] তার হস্তে ঢালা তৈলের মধ্যে তার তর্জনী ডোবাবে এবং সদাপ্রভুর সামনে আঙুল দিয়ে সাতবার তৈল প্রক্ষেপ করবে।

[17] যাজক তার হস্তের অবশিষ্ট তৈলের কিঞ্চিৎ তৈল নেবে, এবং শুচিকরণ প্রার্থীর দক্ষিণ কর্ণের লতিতে, তার দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে, দক্ষিণ চরণের বড় আঙ্গুলে দোষার্থক-নৈবেদ্যের রক্তের উপরে দেবে।

[18] যাজক তার হস্তের অবশিষ্ট তৈল শুচিকরণ প্রার্থীর মস্তকে ঢালবে ও সদাপ্রভুর সামনে তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।

[19] “পরে যাজক পাপার্থক বলি উৎসর্গ করবে ও অশুচিতা থেকে শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর নিমিত্তে প্রায়শ্চিত্ত করবে। এরপরে যাজক হোমবলির পশু হত্যা করবে।

[20] এরপরে শস্য-নৈবেদ্যের সঙ্গে যাজক বেদিতে ওই প্রার্থীর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং সে শুচি হবে।

[21] “অন্যদিকে, যদি সে দরিদ্র হয় ও বলিদানের সামগ্রী যোগাতে অসমর্থ হয়, তবুও দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে একটি মদ্দা মেষশাবক তাকে আনতেই হবে এবং শস্য-নৈবেদ্যরূপে তেলমিশ্রিত মিহি ময়দার এক ঐফার দশমাংশ ও এক লোগ তৈলসহযোগে প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে নৈবেদ্য দোলাতে হবে।

[22] সে তার সঙ্গতি অনুসারে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক আনবে এবং পাপার্থক বলিদানার্থে একটি ও হোমবলিদানার্থে অন্যটি উৎসর্গ করবে।

[23] “সে তার শুচিকরণের নিমিত্তে অষ্টম দিনে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে যাজকের নিকটে উল্লিখিত ঘুঘু অথবা কপোত আনবে।

[24] যাজক এক লোগ তৈলসহযোগে দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের পক্ষে মেষশাবক গ্রহণ করবে ও দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সেগুলি সদাপ্রভুর সাক্ষাতে দোলাবে।

[25] দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের নিমিত্তে যাজক মেষশাবককে বধ করবে ও কিঞ্চিৎ রক্ত নিয়ে শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর দক্ষিণ কর্ণের লতিতে, তার দক্ষিণ হস্তের বৃন্ধাঙ্গুষ্ঠে ও তার দক্ষিণ চরণের বড় অঙ্গুলিতে রক্তের প্রলেপ দেবে।

[26] যাজক তার বাম হস্তের তালুতে কিঞ্চিৎ তৈল ঢালবে

[27] এবং তার হস্তের তালু থেকে দক্ষিণ তর্জনীতে কিঞ্চিৎ তৈল নিয়ে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে সাতবার প্রক্ষেপ করবে।

[28] দোষার্থক-নৈবেদ্যের রক্ত যেখানে ঢালা হয়েছিল সেখানে, শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর দক্ষিণ কর্ণের লতিতে, তার দক্ষিণ হস্তের বিন্ধাঙ্গুষ্ঠে ও তার দক্ষিণ চরণের বড় অঙ্গুলিতে যাজক তার হস্তের তালু থেকে কিঞ্চিৎ তৈল ঢালবে।

[29] যাজক তার হস্তের তালুর অবশিষ্ট তৈল ওই প্রার্থীর মস্তকে ঢালবে, এবং এইভাবে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে তার নিমিত্তে প্রায়শ্চিত্ত করবে।

[30] পরে সে তার সঙ্গতি অনুসারে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবককে উৎসর্গ করবে।

[31] ঘুঘু অথবা কপোতশাবকের একটি পাপার্থক বলিরূপে এবং অন্যটি হোমবলিরূপে শস্য-নৈবেদ্য সহকারে সে উৎসর্গ করবে। এইভাবে শুচিকৃত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির পক্ষে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে।”

[32] যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিয়মাবলি এই প্রকার, যার সংক্রামক চর্মরোগ হয়েছে এবং যে তার শুচিতার জন্য নিয়মিত বলিদান দিতে অসমর্থ।

[33] সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,

[34] “তোমরা যখন কনানদেশে প্রবেশ করবে, যে দেশ আমি তোমাদের অধিকার করতে দিচ্ছি, সেই দেশের একটি গৃহে আমি বিস্তৃত ছাতারোগ উৎপন্ন করব,

[35] তখন গৃহস্বামী যাজকের নিকটে গিয়ে বলবে, ‘আমার গৃহে ছাতা-রোগের মতো কলঙ্ক আমার নজরে এসেছে।’

[36] যাজক ওই ছাতারোগ পরীক্ষা করার পূর্বে গৃহটি খালি করতে আদেশ দেবে, যেন গৃহের কোনো বস্তুকে অশুচি না বলা হয়। এরপরে যাজক গৃহমধ্যে প্রবেশ ও পরীক্ষা করবে।

[37] যাজক দেওয়ালগুলির ছাতারোগ পরীক্ষা করবে এবং যদি ঈষৎ সবুজ অথবা ঈষৎ রক্তিম দাগ দেওয়ালের বহির্ভাগ অপেক্ষা গভীরতর মনে হয়,

[38] যাজক গৃহের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবে এবং তা সাতদিন বন্ধ রাখবে।

[39] সপ্তম দিনে গৃহটি পরীক্ষা করার জন্য যাজক ফিরে আসবে। যদি সমস্ত দেওয়ালে ছাতারোগ বিস্তৃত দেখা যায়,

[40] তাহলে তার আদেশে কলঙ্কিত প্রস্তর খুড়ে বের করতে হবে ও নগরের বাইরের অশুচি স্থানে ছুঁড়ে ফেলতে হবে।

[41] সে গৃহের ভেতরের দেওয়ালগুলি অবশ্যই ঘর্ষণ করাবে ও ঘর্ষিত উপাদানের ধুলা নগরের বাইরে অশুচি স্থানে ফেলবে।

[42] পরে তারা অন্য প্রস্তর নিয়ে পূর্বে গাঁথা প্রস্তরের স্থানে বসাবে ও নতুন লেপনী দিয়ে গৃহ লেপন করবে।

[43] “কলঙ্কিত প্রস্তর বহিষ্করণ, গৃহ ঘর্ষণ ও লেপন করার পর যদি গৃহে ছাতারোগ পুনর্বার দেখা যায়,

[44] তাহলে যাজক গিয়ে তা পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতারোগ গৃহে ব্যপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ধ্বংসাত্মক ছাতারোগ; ওই গৃহ অশুদ্ধ।

[45] প্রভাবিত সমস্ত প্রস্তর, কাঠ ও লেপনী তুলে নগরের বাইরে অশুচি স্থানে ফেলে দিতে হবে।

[46] “যদি বন্ধ গৃহে কেউ প্রবেশ করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ ঘোষিত হবে।

[47] যে কেউ সেই গৃহে নিদ্রা যায় অথবা খাদ্য খায়, সে তার পরিচ্ছদ অবশ্যই ধৌত করবে।

[48] “যদি যাজক তা পরীক্ষা করতে আসে ও সেই গৃহ লেপন করার পর ছাতারোগ বিস্তৃত না দেখা যায়, তাহলে সেই গৃহকে সে শুচি আখ্যা দেবে, কারণ ছাতারোগ নিরসন হয়েছে।

[49] ওই গৃহ পবিত্র করণার্থে যাজক দুটি পাখি, কিছু দেবদারু কাঠ, উজ্জ্বল লাল রঙের পাকানো সুতো ও এসোব নেবে।

[50] মৃন্ময় পাত্রে টাটকা জলের ওপরে সে একটি পাখিকে বধ করবে।

[51] এবারে সে দেবদারু কাঠ, এসোব, উজ্জ্বল লাল রঙের পাকানো সুতো নিয়ে মৃত পাখির রক্তে ও টাটকা জলে ডোবাবে এবং সাতবার সেই গৃহে প্রক্ষেপ করবে।

[52] পাখির রক্ত, টাটকা জল, জীবিত পাখি, দেবদারু কাঠ, এসোব ও উজ্জ্বল লাল রঙের পাকানো সুতো দিয়ে সে গৃহটি শুদ্ধ করবে।

[53] পরে নগরের বাইরে উন্মুক্ত ক্ষেত্রে সে জীবিত পাখিকে মুক্ত করবে। এইভাবে গৃহটির জন্য সে প্রায়শ্চিত্ত করবে ও সেই গৃহ শুদ্ধ হবে।”

[54] এই নিয়মাবলি যে কোনো সংক্রামক চর্মরোগ, চুলকানি,

[55] বস্ত্রে অথবা গৃহে ছাতারোগ,

[56] এবং কোনো আব, ফুসকুড়ি অথবা উজ্জ্বল দাগের নিমিত্তে,

[57] যেন কোনো কিছুর শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা নির্ণয় করা যায়। এসব নিয়মাবলি সংক্রামক চর্মরোগ ও ছাতা-রোগের নিমিত্তে।

লেবীয় পুস্তক — Chapters