[1] তিনি যখন সপ্তম সিলমোহরটি খুললেন, তখন স্বর্গে প্রায় আধ ঘণ্টা পর্যন্ত নিস্তব্ধতা পরিলক্ষিত হল।
[2] আর আমি দেখলাম ঈশ্বরের সামনে দণ্ডায়মান সেই সাতজন স্বর্গদূতকে দেখলাম, তাঁদেরকে সাতটি তূরী দেওয়া হল।
[3] অন্য একজন স্বর্গদূত এসে বেদির কাছে দাঁড়ালেন। তাঁর কাছে ছিল একটি সোনার ধূপদানী। তাঁকে প্রচুর ধূপ দেওয়া হল, যেন তিনি সিংহাসনের সামনে সব সন্তজনের প্রার্থনার সময় তা সোনার বেদিতে উত্সর্গ করেন।
[4] সন্তজনেদের প্রার্থনার সঙ্গে মিশ্রিত সেই ধূপের ধোঁয়া, সেই স্বর্গদূতের হাত থেকে ঊর্ধ্বে ঈশ্বরের কাছে উঠে গেল।
[5] তারপরে সেই স্বর্গদূত ধূপদানীটি নিয়ে বেদি থেকে আগুন নিয়ে তা পূর্ণ করলেন এবং পৃথিবীতে তা নিক্ষেপ করলেন; এতে বজ্রনিনাদ, গুরুগম্ভীর গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি ও ভূমিকম্প হল।
[6] পরে সপ্ত তূরীধারী সেই সাতজন স্বর্গদূত তূরীগুলি বাজাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।
[7] প্রথম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর রক্তমিশ্রিত শিলা ও আগুন উপস্থিত হল ও তা পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হল। এতে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ অগ্নিদগ্ধ হল, এক-তৃতীয়াংশ গাছ অগ্নিদগ্ধ হল ও সমস্ত সবুজ ঘাস অগ্নিদগ্ধ হল।
[8] দ্বিতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর প্রজ্বলিত বিশাল পর্বতের মতো একটি বস্তু সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হল। এতে সমুদ্রের এক-তৃতীয়াংশ রক্তে পরিণত হল,
[9] সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের এক-তৃতীয়াংশ মারা গেল ও জাহাজসমূহের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হল।
[10] তৃতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর মশালের মতো প্রজ্বলিত এক বৃহৎ তারা আকাশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ নদনদীর ও জলের সমস্ত উৎসের উপরে পতিত হল।
[11] এই তারাটির নাম সোমরাজ। এতে এক-তৃতীয়াংশ জল তিক্ত হয়ে গেল এবং সেই তিক্ত জলের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হল।
[12] চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন। এতে সূর্যের এক-তৃতীয়াংশ, চন্দ্রের এক-তৃতীয়াংশ ও তারকারাজির এক-তৃতীয়াংশ আঘাতপ্রাপ্ত হল, এইভাবে তাদের প্রত্যেকের এক-তৃতীয়াংশ অন্ধকারময় হল। ফলে দিনের এক-তৃতীয়াংশ ও রাতের এক-তৃতীয়াংশ আলোকশূন্য হল।
[13] আমি যখন দেখছিলাম, আমি মধ্যাকাশে উড়ে যাওয়া এক ঈগল পাখির রব শুনলাম, সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “আরও তিনজন স্বর্গদূত, যাঁরা তূরী বাজাতে উদ্যত, তাঁদের তূরীধ্বনির জন্য পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দুর্দশা, দুর্দশা, দুর্দশাই হবে!”