[1] তারপর আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে সিয়োন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়েছিলেন সেই মেষশাবক ও তাঁর সঙ্গে ছিল সেই 1,44,000 জন মানুষ, যাদের কপালে তাঁর নাম ও তাঁর পিতার নাম লেখা ছিল।
[2] আর আমি স্বর্গ থেকে প্রচণ্ড সমুদ্রতরঙ্গের মতো গর্জন ও মহা বজ্রনাদ শুনতে পেলাম। যে শব্দ আমি শুনলাম, মনে হল যেন কোনো বীণাবাদকের দল তাদের বীণা বাজাচ্ছে।
[3] আর তারা সেই সিংহাসনের সামনে এবং চারজন সজীব প্রাণীর ও প্রাচীনদের সামনে এক নতুন গীত গাইল। পৃথিবী থেকে মুক্ত করা সেই 1,44,000 জন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই সেই গান শিখতে পারল না।
[4] এরা তারাই, যারা নারী-সংসর্গে নিজেদের কলুষিত করেনি, কারণ তারা নিজেদের শুচিশুদ্ধরূপে রক্ষা করেছিল। মেষশাবক যেখানেই যান, তারা তাঁর অনুসরণ করে। তারা মানুষদের মধ্য থেকে ক্রীত হয়েছিল এবং ঈশ্বর ও সেই মেষশাবকের উদ্দেশে প্রথম ফসলরূপে নিবেদিত হয়েছিল।
[5] তাদের মুখে কোনও মিথ্যা কথা পাওয়া যায়নি, তারা ছিল নিষ্কলঙ্ক।
[6] এরপর আমি অন্য এক স্বর্গদূতকে মধ্যাকাশে উড়ে যেতে দেখলাম। তাঁর কাছে ছিল শাশ্বতকালীন সুসমাচার, যেন তিনি প্রত্যেক দেশ, গোষ্ঠী, ভাষাভাষী ও জাতির, পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীর কাছে তা ঘোষণা করেন।
[7] তিনি উচ্চকণ্ঠে বললেন, “ঈশ্বরকে ভয় করো ও তাঁকে সম্মান দাও, কারণ তাঁর বিচারের সময় এসে উপস্থিত হয়েছে। যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র ও জলের সব উৎস উৎপন্ন করেছেন, তাঁর উপাসনা করো।”
[8] দ্বিতীয় এক স্বর্গদূত তাঁকে অনুসরণ করে এসে বললেন, “পতন হল! বিশাল সেই ব্যাবিলনের পতন হল, যে তার ব্যভিচারের উন্মাদনাময় সুরা সমস্ত জাতিকে পান করিয়েছে।”
[9] তৃতীয় এক স্বর্গদূত তাঁদের অনুসরণ করে এসে উচ্চকণ্ঠে বললেন: “যদি কেউ সেই পশুর ও তার মূর্তির পূজা করে এবং কপালে বা হাতে তার চিহ্ন গ্রহণ করে,
[10] সে-ও ঈশ্বরের রোষের সুরা অবশ্যই পান করবে, যা ঈশ্বরের ক্রোধের পানপাত্রে পূর্ণ শক্তির সঙ্গে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সে পবিত্র দূতদের ও মেষশাবকের সাক্ষাতে প্রজ্বলিত গন্ধকে যন্ত্রণা পাবে।
[11] আর তাদের যন্ত্রণাভোগের ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল উত্থিত হবে। যারা সেই পশু ও তার মূর্তিকে পূজা করে, বা যে কেউ তার নামের চিহ্ন গ্রহণ করে, দিনরাত কখনও সে বিশ্রাম পাবে না।”
[12] এর জন্য সেই সন্তজনেদের প্রয়োজন হয় ধৈর্যশীল সহিষ্ণুতার, যারা ঈশ্বরের আদেশগুলি পালন করে ও যীশুর কাছে বিশ্বস্ত থাকে।
[13] তখন আমি স্বর্গ থেকে এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, “তুমি লেখ, ধন্য সেই মৃতজনেরা, যারা এখন থেকে প্রভুতে মৃত্যুবরণ করে।” পবিত্র আত্মা বলছেন, “হ্যাঁ, তারা তাদের শ্রম থেকে বিশ্রাম পাবে, কারণ তাদের কর্মগুলি তাদের অনুসরণ করে।”
[14] আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে ছিল এক শুভ্রবর্ণ মেঘ। সেই মেঘের উপরে “মনুষ্যপুত্রের মতো” একজনকে উপবিষ্ট দেখলাম, যাঁর মাথায় ছিল সোনার মুকুট ও হাতে ছিল এক ধারালো কাস্তে।
[15] তারপর মন্দির থেকে অন্য এক স্বর্গদূত বের হয়ে, যিনি মেঘের উপরে উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁকে উচ্চকণ্ঠে বললেন, “আপনার কাস্তে নিন ও শস্যচ্ছেদন করুন, কারণ শস্যচ্ছেদনের সময় উপস্থিত হয়েছে, যেহেতু পৃথিবীর শস্য পক্ব হয়েছে।”
[16] তাই মেঘের উপরে উপবিষ্ট সেই ব্যক্তি পৃথিবীর উপরে তাঁর কাস্তে চালালেন, আর পৃথিবীর শস্যচ্ছেদন করা হল।
[17] স্বর্গের মন্দির থেকে আর একজন স্বর্গদূত বেরিয়ে এলেন, তাঁর কাছেও ছিল ধারালো এক কাস্তে।
[18] আরও একজন স্বর্গদূত বেদি থেকে বেরিয়ে এলেন। এঁর আগুনের উপরে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা ছিল। যাঁর কাছে ধারালো কাস্তে ছিল, তিনি তাঁকে উচ্চকণ্ঠে ডেকে বললেন, “আপনার ধারালো কাস্তে নিন ও পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার দ্রাক্ষাগুচ্ছগুলি সংগ্রহ করুন, কারণ তার দ্রাক্ষাগুলি পরিপক্ব হয়েছে।”
[19] সেই স্বর্গদূত পৃথিবীতে তাঁর কাস্তে চালালেন, তার দ্রাক্ষাগুলি সংগ্রহ করলেন ও সেগুলি ঐশ-ক্রোধের বিশাল দ্রাক্ষাপেষণকুণ্ডে নিক্ষেপ করলেন।
[20] সেগুলি নগরের বাইরে দ্রাক্ষাপেষণকুণ্ডে পদদলিত করা হল এবং কুণ্ড থেকে রক্তস্রোত প্রবাহিত হল। তা অশ্বদের বলগা পর্যন্ত উঠে 300 কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাপ্ত হল।