[1] তারপর আমি এক নতুন আকাশ ও এক নতুন পৃথিবী দেখলাম, কারণ প্রথম আকাশ ও প্রথম পৃথিবী লুপ্ত হয়েছিল এবং কোনো সমুদ্র আর ছিল না।
[2] আর আমি দেখলাম, পবিত্র নগরী, সেই নতুন জেরুশালেম, স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছে। সে তার বরের জন্য সুন্দর কনের বেশে সজ্জিত হয়েছিল।
[3] আর আমি সেই সিংহাসন থেকে এক উচ্চ রব শুনতে পেলাম, তা বলছিল, “দেখো, এখন মানুষদের মাঝে ঈশ্বরের আবাস, তিনি তাদের সঙ্গে বসবাস করবেন। তারা তাঁর প্রজা হবে এবং ঈশ্বর স্বয়ং তাদের সঙ্গে থাকবেন ও তাদের ঈশ্বর হবেন।
[4] তিনি তাদের চোখ থেকে সমস্ত অশ্রু মুছিয়ে দেবেন। আর কোনো শোক বা মৃত্যু বা কান্না বা ব্যথা-বেদনা হবে না, কারণ পূর্বতন সমস্ত বিষয় বিগত হয়েছে।”
[5] যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি বললেন, “আমি সবকিছুই নবায়িত করছি!” তারপর তিনি বললেন, “এটি লিখে নাও, কারণ এসব কথা বিশ্বাসযোগ্য ও সত্যি।”
[6] তিনি আমাকে বললেন: “সম্পন্ন হল। আমিই আলফা ও ওমেগা, প্রারম্ভ ও সমাপ্তি। যে তৃষ্ণার্ত, তাকে আমি জীবন-জলের প্রস্রবণ থেকে বিনামূল্যে পান করতে দেব।
[7] যে জয়ী হয়, সে এসবের অধিকারী হবে, আর আমি তার ঈশ্বর হব ও সে আমার পুত্র বা কন্যা হবে।
[8] কিন্তু যারা কাপুরুষ, বা অবিশ্বাসী বা ঘৃণ্য স্বভাববিশিষ্ট বা খুনি বা অবৈধ যৌনাচারী, যারা তন্ত্রমন্ত্র-মায়াবিদ্যা অভ্যাস করে, প্রতিমাপূজক এবং যত মিথ্যাবাদী, তাদের স্থান হবে প্রজ্বলিত গন্ধকের অগ্নিহ্রদে। এই হল দ্বিতীয় মৃত্যু।”
[9] যে সাতজন স্বর্গদূতের কাছে সাতটি অন্তিম আঘাতে পূর্ণ সাতটি বাটি ছিল, তাঁদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন, “এসো, আমি তোমাকে সেই কনে, মেষশাবকের বধূকে দেখাই।”
[10] আর তিনি আমাকে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ করে এক বিশাল ও সুউচ্চ মহাপর্বতে নিয়ে গেলেন ও সেই পবিত্র নগরী জেরুশালেমকে দেখালেন, যা স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছিল।
[11] সেটি ছিল ঈশ্বরের মহিমায় ভাস্বর, আর তার ঔজ্জ্বল্য ছিল বহুমূল্য মণির, স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, সূর্যকান্ত মণির সদৃশ।
[12] তার ছিল বিশাল, সুউচ্চ প্রাচীর ও বারোটি পুরদ্বার। বারোজন স্বর্গদূত ওই দ্বারগুলিতে থাকেন। দ্বারগুলির উপরে লেখা ছিল ইস্রায়েলের দ্বাদশ গোষ্ঠীর নাম।
[13] তিনটি দ্বার ছিল পূর্বদিকে, তিনটি উত্তর দিকে, তিনটি দক্ষিণ দিকে ও তিনটি পশ্চিমদিকে।
[14] নগরের প্রাচীরের ছিল বারোটি ভিত্তি, আর সেগুলির উপরে লেখা ছিল মেষশাবকের বারোজন প্রেরিতশিষ্যের নাম।
[15] যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর হাতে ওই নগর, তার দ্বারগুলি ও তার প্রাচীরগুলি পরিমাপ করার জন্য ছিল সোনার এক মাপকাঠি।
[16] নগরটির আকৃতি ছিল বর্গাকার, তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান। তিনি ওই মাপকাঠি দিয়ে নগরটি পরিমাপ করলেন এবং তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা একই হল, অর্থাৎ 2,220 কিলোমিটার।
[17] তিনি তার প্রাচীর পরিমাপ করলে, তা মানুষের পরিমাপ অনুসারে উচ্চতা 65 মিটার হল, এই মাপকাঠিই সেই স্বর্গদূত ব্যবহার করেছিলেন।
[18] সেই প্রাচীর সূর্যকান্তমণি দ্বারা ও নগর বিশুদ্ধ কাচের মতো নির্মল সোনায় নির্মিত।
[19] নগর-প্রাচীরের ভিত্তিগুলি সব ধরনের মণিমাণিক্যে সুশোভিত। প্রথম ভিত্তিমূল সূর্যকান্ত মণির, দ্বিতীয় নীলকান্তের, তৃতীয় তাম্রমণির, চতুর্থ মরকতের,
[20] পঞ্চম বৈদুর্য্যের, ষষ্ঠ সার্দীয় মণির, সপ্তম হেমকান্তমণির, অষ্টম গোমেদের, নবম পদ্মরাগমণির, দশম লশুনিয়ের, একাদশ পেরোজের ও দ্বাদশ জামিরা মণির।
[21] আর বারোটি দ্বার ছিল বারোটি মুক্তার, প্রত্যেকটি দ্বার এক-একটি মুক্তায় নির্মিত। নগরের রাজপথ ছিল স্বচ্ছ কাচের মতো বিশুদ্ধ সোনার।
[22] আমি নগরের মধ্যে কোনো মন্দির দেখলাম না, কারণ সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর ও মেষশাবক এর মন্দিরস্বরূপ।
[23] নগরটি আলোকিত করার জন্য সূর্যের বা চাঁদের কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ ঈশ্বরের মহিমা সেখানে আলো প্রদান করে এবং মেষশাবকই তার প্রদীপের মতো।
[24] জাতিবৃন্দ তার আলোয় চলাফেরা করবে এবং পৃথিবীর রাজারা এর মধ্যে তাদের বৈভব নিয়ে আসবে।
[25] ওই নগরের দ্বারগুলি কোনোদিন কখনও বন্ধ হবে না, কারণ সেখানে কোনো রাত্রিই হবে না।
[26] জাতিবৃন্দের প্রতাপ ও সম্মান এর মধ্যে নিয়ে আসা হবে।
[27] কোনও অশুদ্ধ কিছু কিংবা লজ্জাজনক মূর্তিপূজক বা প্রতারণাকারী, কেউই এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; কেবলমাত্র যাদের নাম মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লিখিত আছে, তারাই প্রবেশ করবে।