Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:20

[1] আমাকে মাপকাঠির মতো একটি নল-খাগড়া দেওয়া হল ও বলা হল, “তুমি যাও, গিয়ে ঈশ্বরের মন্দির ও তার বেদি পরিমাপ করো ও সেখানকার উপাসকদের সংখ্যা গণনা করো।

[2] কিন্তু বাইরের প্রাঙ্গণটি বাদ দেবে; সেটির পরিমাপ কোরো না, কারণ তা অবিশ্বাসীদের দেওয়া হয়েছে। তারা 42 মাস পর্যন্ত পবিত্র নগরকে পদদলিত করবে।

[3] আর আমি আমার দুই সাক্ষীকে ক্ষমতা দেব। তারা চটের পোশাক পরিহিত হয়ে 1,260 দিন ভাববাণী বলবে।”

[4] তারাই সেই দুই জলপাইবৃক্ষ ও দুই দীপাধার, যারা পৃথিবীর প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।

[5] কেউ যদি তাদের কোনো ক্ষতি করতে চায়, তাদের মুখ থেকে আগুন বেরিয়ে এসে তাদের শত্রুদের গ্রাস করে। এভাবে, যারা তাদের ক্ষতি করতে চায়, অবশ্যই তাদের মৃত্যু হবে।

[6] এই মানুষদের ক্ষমতা থাকবে আকাশ রুদ্ধ করার, যেন যতদিন তাঁরা ভাববাণী বলেন, কোনও বৃষ্টি না হয়। জলকে রক্তে পরিণত করার এবং তারা যতবার যখনই চায়, সব প্রকার মহামারিতে পৃথিবীকে আঘাত করার ক্ষমতা তাদের আছে।

[7] তারা নিজেদের সাক্ষ্য সমাপ্ত করলে পরে, যে পশু সেই অতল-গহ্বর থেকে উঠে আসবে, সে তাদের আক্রমণ করবে, বিজয়ী হবে ও তাদের হত্যা করবে।

[8] তাদের মৃতদেহগুলি মহানগরীর পথে শায়িত পড়ে থাকবে। এই নগরীকেই আলংকারিকরূপে সদোম ও মিশর বলে, যেখানে তাদের প্রভুও ক্রুশার্পিত হয়েছিলেন।

[9] সাড়ে তিনদিন যাবৎ প্রত্যেক জাতি, গোষ্ঠী, ভাষাভাষী ও দেশের মানুষ তাদের মৃতদেহগুলির দিকে চেয়ে থাকবে ও তাদের কবর দেওয়ার অনুমতি দেবে না।

[10] পৃথিবীর অধিবাসীরা তাদের কারণে উল্লসিত হবে এবং পরস্পরকে উপহার পাঠিয়ে আনন্দ উদযাপন করবে, কারণ এই দুই ভাববাদী পৃথিবী নিবাসীদের যন্ত্রণা দিত।

[11] কিন্তু সাড়ে তিনদিন অতীত হলে ঈশ্বরের কাছ থেকে আগত প্রাণবায়ু তাদের মধ্যে প্রবিষ্ট হল। তারা তাদের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল; যারা তাদের দেখল, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল।

[12] এরপর তারা শুনল, স্বর্গ থেকে কেউ উচ্চকণ্ঠে তাদের বলছেন, “এখানে উঠে এসো।” আর তারা তাদের শত্রুদের দৃষ্টিগোচরেই এক মেঘযোগে স্বর্গে উঠে গেল।

[13] আর সেই মুহূর্তে এক তীব্র ভূমিকম্প হল এবং সেই নগররীর এক-দশমাংশ ধসে পড়ল। সেই ভূমিকম্পে সাত হাজার মানুষ নিহত হল, আর যারা রক্ষা পেল, তারা আতঙ্কিত হয়ে স্বর্গের ঈশ্বরের গৌরব করল।

[14] দ্বিতীয় দুর্দশার অবসান হল; সত্বর তৃতীয় দুর্দশা এসে উপস্থিত হবে।

[15] সপ্তম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর স্বর্গে উচ্চনাদে এই বাণী শোনা গেল: “জগতের রাজ্য পরিণত হল, আমাদের প্রভু ও তাঁর খ্রীষ্টের রাজ্যে, আর তিনি যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব করবেন।”

[16] আর যে চব্বিশজন প্রাচীন ঈশ্বরের সামনে নিজেদের সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁরা অধোমুখে প্রণিপাত করে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন:

[17] তাঁরা বললেন, “হে সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, যিনি আছেন ও ছিলেন, আমরা তোমাকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি তোমার মহাপরাক্রম গ্রহণ করেছ ও রাজত্ব করা শুরু করেছ।

[18] জাতিবৃন্দ ক্রুদ্ধ হয়েছিল; তাই তোমার রোষও উপস্থিত হয়েছে। মৃতদের বিচার করার সময় এবং তোমার দাসরূপী, সেই ভাববাদীদের ও সন্তজনেদের, আর যতজন তোমার নামে সম্ভ্রম প্রকাশ করে, ক্ষুদ্র ও মহান নির্বিশেষে সবাইকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য—এবং পৃথিবী-বিনাশকদের ধ্বংস করার সময় উপস্থিত হল।”

[19] তারপরে স্বর্গে ঈশ্বরের মন্দির খোলা হল এবং মন্দিরের ভেতরে তাঁর নিয়ম-সিন্দুকটি পরিদৃশ্যমান হল। আর সেখানে বিদ্যুতের ঝলক, গুরুগম্ভীর গর্জন, বজ্রনিনাদ, ভূমিকম্প ও বড় বড় শিলাবৃষ্টি হতে লাগল।

প্রকাশিত বাক্য — Chapters